16/05/2020
সকল দুঃখ কষ্ঠে ছায়া হয়ে আগলে রাখতেন যেই চাচা তিনি মৃত্যু শয্যায়। নবীজী সা:শিয়রে বসে অনুনয় করে বললেন ‘ আমার চাচা, আপনি একবার শুধু বলেন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ , তাহলে আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্যে সুপারিশ করতে পারি। চাচা আবু তালিব বলেন নি। রাসূল সা: খুব কষ্ট পান তবুও তিনি বলেন আমি আপনার জন্য দোয়া করবো আল্লাহর কাছে যতক্ষন না তিঁনি আমাকে নিষেধ না করেন। রাসূল সা: এই কথা বলার পরে আল্লাহ পাক কোরআনের এক আয়াত নাজিল করেন,
এটা নবী ও বিশ্বাসীদের জন্য মানানসই নয় যে তারা মুশরিকদের মাগফেরাতের জন্য দোয়া চাইবে।[সুরা তাওবা ১১৩]
তারপরে রাসূল সা: চাচা আবু তালিবের জন্য আর দোয়া করেন নি।(বুখারী, খন্ড-৬, পৃষ্ঠা-১৫৮)
রাসূল সা: বলেন ‘আবু তালিবকে হাল্কা তাপের আগুনে ফেলা হবে, সেই আগুনে উনার মাথার মগজ সেদ্ধ হবে (বুখারী- খন্ড ৫৮, হাদিস-২২৪) ।
নবীর সাহাবীরা উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ও আল্লাহর রাসূল, আপনি আবু তালিবের জন্য কি করেছেন, তিনি তো আপনাকে দেখভাল করতেন এবং আপনার খাতিরে অন্যের সাথে রাগ করতেন ।’
তখন রাসূল সা: বলেন, ‘আবু তালিব কম আগুনে শাস্তি পাবেন। আমাকে অনেক সাহায্য করেছিলেন এই জন্যেই উনাকে জাহান্নামের সবচেয়ে কম শাস্তি দেয়া হবে। (বুখারী, খন্ড-৭৩, হাদিস-২২৭)
…
তাবুক থেকে ফিরে আসার পর ৬৩১ খ্রিষ্টাব্দে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই মারা যায়। তার ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ নবীর সা: সেবায় হাজির হয়ে কাফনে ব্যবহারের জন্য তার কোর্তা চাইলে তিনি কোর্তা দিয়ে দিলেন। তারপর আবদুল্লাহ তাকেই জানাজার নামাজ পড়াবার জন্য অনুরোধ করলেন। তিনি এ জন্যও তৈরি হয়ে গেলেন। হযরত উমর বারবার এ মর্মে আবেদন জানাতে লাগলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি এমন ব্যক্তির জানাজার নামাজ পড়াবেন যে অমুক অমুক কাজ করেছে ? কিন্তু তিনি তার এ সমস্ত কথা শুনেও মুচকি হাসতে লাগলেন৷ এমনকি তার মাগফেরাতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেও ইতস্তত করলেন না। এরপর মুহাম্মাদ (সা.) তার জানাজার সালাত আদায় করেন এবং ফিরে আসেন।এর কিছুক্ষণ পরেই সুরা বারাআতের (সুরা তওবার) এ দুটি আয়াত নাজিল হল,
তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাজার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক।(আয়াত : ৮৪)
এ আয়াতগুলো নাজিল হবার পর নবী (সা.) নিয়ম করে নিয়েছিলেন যে কোনো জানাজার শরিক হবার জন্য তাকে ডাকা হলে তিনি প্রথমে মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। জিজ্ঞেস করতেন, সে কেমন ছিল৷ যদি জানতে পারতেন সে অসৎ চরিত্রের অধিকারী ছিল, তাহলে তার পরিবারের লোকদের বলে দিতেন, তোমরা যেভাবে চাও একে দাফন করে দিতে পারো।
অবিশ্বাসীদের প্রতি আল্লাহ কত কঠোর তা একই সুরার আশি নাম্বার আয়াত পড়লেই বুঝা যায় ।
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তথাপি কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে। [ সুরা তাওবা ৯:৮০ ] ।
…
ইব্রাহিম তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল। এজন্য যে, তিনি তাকে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন এটা তার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেল যে, সে আল্লাহর শক্র তখন ইব্রাহিম (আ.) তার ব্যাপারে নিস্পৃহ হন। ইব্রাহিম (আ.) তো কোমল হৃদয় ও সহনশীল।[ সুরা তাওবা ৯:১১৪ ]
…
আল্লাহর রসুল সা: তাঁর চাচার জন্য দুয়া করার অনুমতি পাননি । ইব্রাহীম আ: অনুমতি পাননি আল্লাহকে অবিশ্বাসী তাঁর পিতা জন্যও । আমরা কারও ভক্ত, শুধু তাই তার মৃত্যুর পর স্ট্যাটাস দেই ‘INNA… RAJIUN, MAY ALLAH FORGIVE…GIVE JANNAT. আর বাকিরা ধুমায়া লাইক দেই । অথচ যে মারা গেল সে ছিল আল্লাহকে প্রকাশ্য অস্বীকারকারী !
আমরা বুঝে শুনে আগাচ্ছি তো ???
আমি কারও নাম বলছি না, কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেও বলছি না । এ কথা গুলো সব সময়ের জন্য আমাদের জেনে থাকা ভাল ।
কেউ আল্লাহকে মানে না, অথচ আপনি আল্লাহর কাছে তার মৃত্যুতে দুয়া করছেন । ব্যাপারটা হাস্যকর, অযৌক্তিক আর আল্লাহর ধৃষ্ঠতার সামিল ।
কেউ অবিশ্বাসী হতেই পারে এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এটা তার ব্যক্তিগত মত স্বাধীনতা, পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার । কারও উপর জোর করে ইসলাম চাপানোর অনুমতি ইসলাম আমাদের দেয়নি । ভয়ানক অপরাধ করছেন আপনি, মৃত্যুর পর জোর করে ইসলামে ঢুকিয়ে । আবার মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে খারাপ কিছু বলার অনুমতিও ইসলাম দেয়নি । সে চলে গেছে মহান রবের কাঠগড়ায় ।
আমরা বড়ই ইমোশনাল, বলে ফেলি আল্লাহ তো মাফ করে দিতে পারেন ।
কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। [ সুরা তাওবা ৯:৮০ ]
না জেনে ভুল করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিতে পারেন । কিন্তু এক্ষেত্রে জেনে ভুল করা মানে ইচ্ছে করে মহান রবের নির্দেশকে উপেক্ষা করা । ইমোশনের ঠেলায় সারা জীবন আল্লাহকে ডেকে শুধু এ কারনেই না কট খেয়ে যাই ।