Warriors of Light from Darkness

Warriors of Light from Darkness Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Warriors of Light from Darkness, Design & Fashion, University of Dhaka, Dhaka.

15/02/2026

মানুষের জীবনের থেকেও দামি লবঙ্গের গল্প

আজ থেকে ৪০০ বছর আগের কথা। তখন সমুদ্রপথে, বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ায়, পর্তুগালের দাপট একচেটিয়া ছিল। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা থেকে অনেক মসলা ইউরোপে যেত, তাই সমুদ্রপথের গুরুত্ব অনেক বেশি।
পর্তুগালের একজন নাবিক মসলার দেশে যাওয়ার জন্য রাজা থেকে সাহায্য চাইলেন, কিন্তু রাজা পাত্তা দিলেন না। কারণ ইতিমধ্যে আফ্রিকার পথ ধরে পর্তুগিজরা সেখানে যাতায়াত করছিল।
ম্যাজিলান এরপর স্পেনের রাজার কাছে গেলেন। স্পেনের রাজা ও কিছু ধনী ব্যক্তি তাকে ৫টি জাহাজ, ২৭০ জন নাবিক ও প্রয়োজনীয় অর্থ দিলেন এই আশায় যে, ম্যাজিলান মসলা নিয়ে আসবে এবং তা বিক্রি করে তাদের খরচ উঠে আসবে।
ঝুঁকি অবশ্যই ছিল, কারণ জাহাজ ডুবে যেতে পারত, যুদ্ধ চলাকালীন সবাই মারা যেতে পারত ইত্যাদি। তবে এসব ঝুঁকি না নিলে নতুন দেশ আবিষ্কার হতো না, নতুন সম্পদও আসতো না।
১৫১৯ সালে স্পেন থেকে ম্যাজিলানের যাত্রা শুরু হলো। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার উপকূল অতিক্রম করে তারা ফিলিপাইন পৌঁছায়। সেখানে তিনি এক যুদ্ধে নিহত হন। এরপর তার লোকজন ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছে জাহাজ ভর্তি করে মসলা সংগ্রহ করল, মানে অনেক লবঙ্গ নিল।
এরপর তারা আফ্রিকার পথ ধরে ঘুরে স্পেনে পৌঁছালো। যুদ্ধ, নানা রোগ ও নিজেদের মধ্যে সংঘাতের কারণে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৮ জন নাবিক ফিরে এল স্পেনে, একটি জাহাজে করে, ১৫২২ সালে—মানে ৩ বছর পরে। ২৭০ জনের মধ্যে মাত্র ১৮ জন বেঁচে ছিল।
যাই হোক, স্পেনের রাজা এবং যেসব বড় ব্যক্তি এই অভিযানে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, তাদের ক্ষতি হয়নি। কারণ ঐ জাহাজে ছিল ২৬ টন (২৬,০০০ কেজি) লবঙ্গ। তা বিক্রি করে সব খরচ উঠে এসেছিল এবং লাভও হয়। ফিরে আসে নি, ম্যাজিলান সহ ২৫২ জন নাবিকের জীবন।
এই অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—ম্যাজিলানের সেই সঙ্গীরা বিশ্ব ইতিহাসে প্রথমবার পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখেছে।
লবঙ্গ তখন ইউরোপে সবচেয়ে দামি মসলা। এক কেজি লবঙ্গের দাম একজন শ্রমিকের এক মাসের মজুরির সমান ছিল। তাছাড়া সব সময় সহজে কেনা যেত না, এবং এর চাষ সীমিত কিছু অঞ্চলে হতো। ইউরোপে লবঙ্গ রান্নার কাজে, ঔষধ তৈরিতে এবং সুগন্ধির জন্য ব্যবহৃত হতো, এবং এর চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া।
ম্যাজিলানের অনেক সঙ্গী তাকে পছন্দ করতো না। যারা শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছিল, তারা কয়েকজন তার কৃতিত্ব কমানোর চেষ্টা করেছিল। তবে একজন নাবিক যাত্রার পূর্ণ বিবরণ লিখে গিয়েছিলেন, এবং এজন্য আমরা এই কাহিনী জানি।
ম্যাজিলানের মৃত্যুর পরে পর্তুগালের রাজা ও অন্যদের কাছে তিনি বেইমান হিসেবে চিহ্নিত হলেন যেহেতু স্পেনের হয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। আর স্পেনের রাজা এবং লোকজন তার ক্রেডিট পারলে ভ্যানিশ করে স্পেনিশদের ক্রেডিট দিতে অস্থির হল।
যাই হোক, ম্যাজিলান ইতিহাসে অমর হয়ে গেছেন। ৪০০ বছর পরেই তাকেই দুনিয়াতে সবাই চেনে বাকিদের না। তবে ম্যাজিলানের পরিবার সম্ভবত কোন টাকা বা ক্ষতিপূরণ পায় নি।
এরপর লবঙ্গ দিয়ে রান্না করলে বা কোন কিছু খেতে গেলে ম্যাজিলানের কথা মনে হবে আশা করি।
সংগ্রহিত

31/12/2025

Successful হওয়ার জন্য সফল মানুষরা যে ২০টি অভ্যাস অনুশীলন করেন। 🔥
নিচে প্রতিটি অভ্যাসের সাথে বাস্তব উদাহরণ দেওয়া হলো 👇
১. দিনের প্রাইঅরিটি ঠিক করা
📌 রেফারেন্স: Elon Musk
তিনি দিনে কাজকে ৫ মিনিটের ব্লকে ভাগ করেন যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে হয়।
২. সময়কে সম্পদ হিসেবে দেখা
📌 রেফারেন্স: Bill Gates
আজও তিনি সময় বাঁচাতে অপ্রয়োজনীয় মিটিং এড়িয়ে চলেন।
৩. দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া
📌 রেফারেন্স: Jeff Bezos
তিনি বলেন, ৭০% তথ্য পেলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
৪. প্রতিদিন শেখার অভ্যাস
📌 রেফারেন্স: Warren Buffett
তিনি প্রতিদিন ৫–৬ ঘণ্টা পড়াশোনা করেন।
৫. স্কিল আপডেট রাখা
📌 রেফারেন্স: Satya Nadella
মাইক্রোসফটের কালচার বদলে দেন “Learn-it-all” মাইন্ডসেট দিয়ে।
৬. অপ্রয়োজনীয় মানুষ এড়িয়ে চলা
📌 রেফারেন্স: Steve Jobs
তিনি ফোকাসের জন্য বহু প্রজেক্ট নিজেই বাতিল করেছেন।
৭. গভীর ফোকাসে কাজ করা
📌 রেফারেন্স: Mark Zuckerberg
একসময় তিনি সপ্তাহে একই পোশাক পরতেন সিদ্ধান্তের ক্লান্তি কমাতে।
৮. শর্টকাটে বিশ্বাস না করা
📌 রেফারেন্স: Mukesh Ambani
দীর্ঘমেয়াদি ইনফ্রাস্ট্রাকচারে বিনিয়োগই তার সাফল্যের মূল।
৯. ব্যর্থতা থেকে শেখা
📌 রেফারেন্স: Jack Ma
তিনি হার্ভার্ডে ১০ বারের বেশি রিজেক্ট হয়েছেন।
১০. নিজের দায়িত্ব নিজে নেওয়া
📌 রেফারেন্স: Oprah Winfrey
তিনি নিজের জীবন পরিবর্তনের দায়িত্ব নিজেই নিয়েছিলেন।
১১. “না” বলতে জানা
📌 রেফারেন্স: Warren Buffett
তার ক্যালেন্ডারে অধিকাংশ অনুরোধেই তিনি “No” বলেন।
১২. নেটওয়ার্কিংকে গুরুত্ব দেওয়া
📌 রেফারেন্স: Richard Branson
তিনি বিশ্বাস করেন, সম্পর্কই ব্যবসার আসল মূলধন।
১৩. নিজের উপর সময় বিনিয়োগ
📌 রেফারেন্স: Barack Obama
ব্যস্ততার মাঝেও পড়া ও আত্মউন্নয়নে সময় দিতেন।
১৪. ডেডলাইনকে সিরিয়াস নেওয়া
📌 রেফারেন্স: Indra Nooyi
টাইমলাইন ও এক্সিকিউশন ছিল তার লিডারশিপের শক্তি।
১৫. পারফেকশনের অপেক্ষা না করা
📌 রেফারেন্স: Reid Hoffman (LinkedIn)
“পারফেক্ট প্রোডাক্ট মানে আপনি দেরি করে ফেলেছেন।”
১৬. ফিডব্যাক গ্রহণ করা
📌 রেফারেন্স: Sundar Pichai
গুগলে ওপেন ফিডব্যাক কালচার তৈরি করেছেন।
১৭. ফাইনান্সিয়াল ডিসিপ্লিন
📌 রেফারেন্স: Warren Buffett
আজও সাধারণ জীবনযাপন করেন।
১৮. শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
📌 রেফারেন্স: Arianna Huffington
বার্নআউটের পর “Well-being” কে প্রাধান্য দেন।
১৯. লং-টার্ম চিন্তা করা
📌 রেফারেন্স: Jeff Bezos
অ্যামাজন বছরের পর বছর প্রফিট ছাড়াই গ্রোথে বিনিয়োগ করেছে।
২০. নিজের প্রগ্রেস রিভিউ করা
📌 রেফারেন্স: Benjamin Franklin
প্রতিদিন নিজের আচরণ লিখে বিশ্লেষণ করতেন।
সফল মানুষদের অভ্যাস কপি করা যায়।
কপি করা যায় না শুধু অজুহাত।
💬 আপনি আজ কোন অভ্যাসটা শুরু করবেন?
কমেন্টে লিখুন এবং আপনার জন্য থাকছে হেলদি থাকার চমৎকার একটি ই-বুক।

31/12/2025

পৃথিবীতে কেউ প্রোডাক্ট কেনে না, সবাই কেনে ইমোশন। আপনি যদি বিজনেস করে বড় হতে চান, তাহলে প্রোডাক্টের ফিচার বাদ দিয়ে মানুষের সাইকোলজি বুঝুন। ধনী হওয়ার ১৬টি সাইকোলজিক্যাল হ্যাক দেখে নিন।
মার্কেটিং এর বই পড়ে যা শিখবেন, তার চেয়ে বেশি শিখবেন মানুষের নেচার বা স্বভাব পর্যবেক্ষণ করে। সাকসেসফুল বিজনেসম্যানরা কোনো জিনিস বিক্রি করে না, তারা বিক্রি করে ফিলিংস।
এখানে ১৬টি সিক্রেট ট্রিগার দিলাম যা কাজে লাগিয়ে আপনি যে কোনো মার্কেটে ডমিনেট করতে পারবেন:
১. মেয়েদের সৌন্দর্য: বিউটি ইন্ডাস্ট্রি কখনো লস খায় না। মেয়েরা শুধু মেকআপ বা স্কিনকেয়ার কেনে না, তারা কেনে কনফিডেন্স এবং নিজেকে সুন্দর দেখানোর আকাঙ্ক্ষা।
২. ছেলেদের আকর্ষণ: পুরুষদের সাইকোলজি সিম্পল। লাক্সারি কার, স্টাইলিশ মোবাইল বা গ্রুমিং প্রোডাক্টস এগুলোর মূলে কাজ করে অপজিট জেন্ডারকে অ্যাট্রাক্ট করার ইচ্ছা।
৩. মা বাবার শান্তি: বাবা মায়ের কাছে সন্তানের চেয়ে দামী কিছু নেই। আপনি যদি এমন কিছু অফার করেন যা তাদের বাচ্চার সেফটি এনশিওর করে বা তাদের লাইফ সহজ করে, তারা দাম নিয়ে বার্গেইন করবে না।
৪. ছোটদের স্বপ্ন: বাচ্চারা লজিক বোঝে না, তারা ম্যাজিক খোঁজে। ডিজনি বা টয় কোম্পানিগুলো প্লাস্টিক বিক্রি করে না, তারা বিক্রি করে স্বপ্ন এবং ফ্যান্টাসি।
৫. ধনীদের নিরাপত্তা: যাদের অনেক টাকা, তাদের মেইন টেনশন হলো টাকা হারানোর ভয় এবং নিজের নিরাপত্তা। হাই-এন্ড সিকিউরিটি সিস্টেম বা প্রাইভেট ব্যাংকিং সার্ভিস এজন্যই এত এক্সপেন্সিভ।
৬. ভগ্ন আশা: যাদের পকেটে টাকা নেই, তারা সবসময় একটা ম্যাজিক লটারির আশায় থাকে। লটারি টিকেট বা Get rich quick স্কিমগুলো এদের কাছেই বিক্রি হয় Hope হিসেবে।
৭. বয়স্ক যৌবন: কেউ বুড়ো হতে চায় না। অ্যান্টি-এজিং প্রোডাক্টস, হেয়ার কালার বা এনার্জি বুস্টার এগুলো আসলে বিক্রি করছে তারুণ্য ধরে রাখার চেষ্টা।
৮. তরুণদের স্ট্যাটাস: ইয়াং জেনারেশন পাগল স্ট্যাটাসের জন্য। লেটেস্ট আইফোন, ব্র্যান্ডেড স্নিকার্স বা কফি শপের চেক-ইন সবই হলো আমি কুল এটা প্রমাণ করার চেষ্টা।
৯. একাকীদের একাত্মতা: মানুষ একা থাকতে ভয় পায়। এক্সক্লুসিভ ক্লাব বা পেইড কমিউনিটিগুলো বিক্রি করে একাত্মতা বা Belonging.
১০. অসুস্থদের মিরাকল: সুস্থ মানুষ অনেক কিছু চায়, কিন্তু অসুস্থ মানুষ শুধু একটা জিনিসই চায় আর সেটা হলো সুস্থতা। যখন মেডিসিন কাজ করে না, তখন মানুষ অলৌকিক কিছু বা Miracle এর পিছনে ছোটে।
১১. সুস্থদের ভয়: সুস্থ মানুষকে ভয় দেখান ভবিষ্যতে রোগ হতে পারে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা প্রিভেন্টিভ চেকআপ প্যাকেজগুলো দাঁড়িয়ে আছে এই Fear বা ভয়ের ওপর।
১২. স্মার্ট শর্টকাট: যারা বুদ্ধিমান, তারা সময়ের মূল্য বোঝে। তারা খাটতে চায় না, স্মার্টলি কাজ করতে চায়। এদের কাছে প্রোডাক্টিভিটি টুলস বা AI সার্ভিস বিক্রি করুন শর্টকাট হিসেবে।
১৩. বোকাদের বৈধতা: যারা একটু কম বোঝে বা ইনসিকিউরড, তারা চায় কেউ বলুক তুমিই ঠিক। তাদের ইগো মাসাজ করুন, ভ্যালিডেশন দিন তারা আপনার ফ্যান হয়ে যাবে।
১৪. বিশ্বস্ত নিশ্চয়তা: বিশ্বাসীরা চায় নিশ্চয়তা। রিলিজিয়াস গাইডেন্স বা স্পিরিচুয়াল কোর্সগুলো অফার করে নিশ্চয়তা এবং মানসিক প্রশান্তি।
১৫. অবিশ্বাসী বিদ্রোহ: যারা নিয়ম মানতে চায় না, তাদের কাছে বিক্রি করুন বিদ্রোহ। Break the Rules এই স্লোগান দিয়ে অনেক লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড কোটি টাকার ব্যবসা করছে।
১৬. প্রত্যেকের সময়: আর সবার কাছে যা কমন তা হলো সময়। উবার, ফুডপান্ডা বা যেকোনো হোম সার্ভিস আসলে আমাদের কাছে সময় বিক্রি করছে। Time is the ultimate currency.
আপনি এর মধ্যে যেকোনো একটি বা একাধিক ইমোশন পিক করুন এবং সেটাকে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের সাথে কানেক্ট করুন। মানুষ প্রোডাক্ট কিনবে না, কিনবে।
সংগ্রহীত

25/08/2025

14 laws in life

01/08/2025

প্রতিবন্ধীদের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি: বিশ্ব বনাম বাংলাদেশ

রাজনৈতিক অংশগ্রহণ একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা (PWDs) এখনও অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত। জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ (UNCRPD, ২০০৬)-এর ধারা ২৯ প্রতিবন্ধীদের ভোটদান ও নির্বাচিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। তবে বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে কাঠামোগত, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার কারণে তাদের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ সীমিত।

বিশ্বের সেরা অনুশীলন :
কিছু দেশ প্রতিবন্ধীদের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির জন্য কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করেছে:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র Help America Vote Act (HAVA, ২০০২) অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অ্যাক্সেসিবল প্রবেশপথ ও সহায়ক ভোটিং ডিভাইস (ব্রেইল ব্যালট, স্ক্রিন রিডার) বাধ্যতামূলক (Schur et al., 2013)।
কানাডা: Accessible Canada Act (২০১৯)
এর অধীনে ঘরে ভোটদান, সাংকেতিক ভাষা ব্যাখ্যা ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করা হয় (Elections Canada, 2020)।

সুইডেন ও নরওয়ে: সর্বজনীন নকশা নীতির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র, সহজপাঠ্য উপকরণ ও সাংকেতিক ভাষা পরিষেবা নিশ্চিত করা হয় (FRA, 2014)।

দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থা:
ভারত: ব্রেইল-সক্ষম ইভিএম, হুইলচেয়ার-অ্যাক্সেসিবল র‍্যাম্প ও বাড়িতে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় বাস্তবায়ন দুর্বল (ECI, 2019)।
- পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা: ব্রেইল ব্যালট ও অগ্রাধিকার সারির ব্যবস্থা থাকলেও সমন্বিত বাস্তবায়নের অভাব (Lang, 2009; Ghosh, 2018)।

বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ:
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS, 2022) অনুযায়ী, দেশের ৯-১০% মানুষ (প্রায় ১.৬ কোটি) প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন (২০১৩) থাকলেও বাস্তবায়ন সীমিত:
ভোটার সচেতনতা: অনেক প্রতিবন্ধী ভোটার তাদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞাত (Kabir et al., 2018)।
অবকাঠামোগত বাধা : ভোটকেন্দ্রে অ্যাক্সেসিবিলিটি, সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাব।
প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি: সংসদে মাত্র ০.৩% আসনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, স্থানীয় সরকারে কোনো কোটা নেই।
শেষ কথা:
বিশ্বের সফল উদাহরণ থাকলেও বাংলাদেশে নীতি ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক রয়েছে। এই গবেষণা বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রত্যাশা ও অন্তর্ভুক্তির উপায় খুঁজে বের করতে চায়।
key word:
#প্রতিবন্ধী অধিকার (Disability Rights)
#ভোটদানের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি (Political Inclusion)
#ভোটদানের সুবিধা (Voting Accessibility)
বাংলাদেশ (UNCRPD Bangladesh)
#অ্যাক্সেসিবল নির্বাচন (Accessible Elections)

01/08/2025

প্রতিবন্ধীদের রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি (বিশ্ব বনাম বাংলাদেশ)
বিশ্বব্যাপী, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার, তবুও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা (পিডব্লিউডি) অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বঞ্চিত রয়ে গেছে। জাতিসংঘের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ (ইউএনসিআরপিডি, ২০০৬), বিশেষ করে ধারা ২৯, স্পষ্টভাবে তাদের ভোটদান এবং নির্বাচিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে। তা সত্ত্বেও, বাংলাদেশ সহ অনেক উন্নয়নশীল দেশ কাঠামোগত, মনোভাবগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাধার সম্মুখীন হয় যা সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। এই বাধাগুলির মধ্যে রয়েছে দুর্গম ভোটকেন্দ্র, সহায়ক প্রযুক্তির অভাব, অপর্যাপ্ত ভোটার শিক্ষা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত প্রতিনিধিত্ব (জাতিসংঘ, ২০০৬; WHO, ২০১১)।

তুলনামূলক গবেষণা তুলে ধরে যে বেশ কয়েকটি দেশ অ্যাক্সেসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হেল্প আমেরিকা ভোট আইন (HAVA, ২০০২) আদেশ দেয় যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র অ্যাক্সেসযোগ্য এবং কমপক্ষে একটি সহায়ক ভোটদান ডিভাইস সহ সজ্জিত থাকবে, স্বাধীন ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য ব্রেইল ব্যালট এবং স্ক্রিন রিডারের পাশাপাশি (Schur et al., 2013)। কানাডার অ্যাক্সেসিবল কানাডা আইন (২০১৯) ঘরে বসে ভোটদান, সাংকেতিক ভাষা ব্যাখ্যা, বড় আকারের মুদ্রিত উপকরণ এবং বাধ্যতামূলক কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রবর্তন করে বাধামুক্ত ফেডারেল নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয় (ইলেকশনস কানাডা, ২০২০)। একইভাবে, সুইডেন এবং নরওয়ে সকল পাবলিক স্পেসে সার্বজনীন নকশা নীতি বাস্তবায়ন করে - ভোটকেন্দ্র সহ - সহজে পঠনযোগ্য উপকরণ এবং সাংকেতিক ভাষা পরিষেবা প্রদান করে (FRA, ২০১৪)। এই দেশগুলি প্রমাণ করে যে আইনি কাঠামো, যখন শক্তিশালী বাস্তবায়ন কৌশলগুলির সাথে যুক্ত করা হয়, তখন রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সত্যিকার অর্থে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায়, প্রচেষ্টা বিদ্যমান কিন্তু অসঙ্গতিপূর্ণ। ভারতের নির্বাচন কমিশন "অ্যাক্সেসিবল ইলেকশনস" চালু করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্রেইল-সক্ষম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM), হুইলচেয়ার-অ্যাক্সেসিবল র‍্যাম্প, গুরুতরভাবে প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য বাড়িতে ভোটদানের বিকল্প এবং লক্ষ্যবস্তু সচেতনতা প্রচারণা (ECI, ২০১৯)। তবে, গ্রামীণ এলাকাগুলি এখনও অবকাঠামোগত ঘাটতির সম্মুখীন হয় এবং বাস্তবায়ন অঞ্চল অনুসারে পরিবর্তিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ - যেমন পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা - ব্রেইল ব্যালট, অগ্রাধিকার সারি এবং সহায়তার জন্য অনুমতি প্রদান করে, তবুও সমন্বিত ব্যবস্থা বা ধারাবাহিক প্রয়োগের অভাব রয়েছে (ল্যাং, ২০০৯; ঘোষ, ২০১৮)।

বাংলাদেশে এই আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জগুলির অনেকগুলি প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস, ২০২২) অনুসারে, জনসংখ্যার প্রায় ৯-১০% (প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ ব্যক্তি) কোনও না কোনও ধরণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বাস করে। যদিও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন (২০১৩) আইনি প্রতিশ্রুতি প্রতিষ্ঠা করে, বাস্তব প্রয়োগ সীমিত থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে অনেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাদের ভোটাধিকার সম্পর্কে অবগত নন, অন্যদিকে যারা সচেতন তারা প্রায়শই শারীরিকভাবে দুর্গম, সহায়ক সরঞ্জামের অভাব এবং অপর্যাপ্ত নির্বাচনী কর্মী সহায়তার সম্মুখীন হন (কবীর ইত্যাদি, ২০১৮)। প্রতিনিধিত্বও অত্যন্ত কম: সংসদীয় আসনের মাত্র ০.৩% প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দখলে, এবং স্থানীয় শাসন কাঠামোতে কোনও সংরক্ষিত কোটা বিদ্যমান নেই।

এইভাবে, বিশ্বব্যাপী সেরা অনুশীলনগুলি কার্যকর কৌশলগুলি চিত্রিত করলেও, বাংলাদেশ নীতি এবং অনুশীলনের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখায়। বর্তমান সাহিত্যে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করা হয়েছে কিন্তু খুব কমই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক প্রত্যাশাগুলি অন্বেষণ করা হয়েছে - কাঠামোগত এবং অভিজ্ঞতাগত উভয় বাধা মোকাবেলা করে এমন নীতিমালা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় একটি দৃষ্টিভঙ্গি। এই গবেষণাটি বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কীভাবে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে সংজ্ঞায়িত করে এবং তারা কোন নির্দিষ্ট সংস্কার আশা করে তা পরীক্ষা করে সেই শূন্যস্থান পূরণ করার চেষ্টা করে।

key word: #প্রতিবন্ধী অধিকার (Disability Rights)
#রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি (Political Inclusion)
#ভোটদানের সুবিধা (Voting Accessibility)
বাংলাদেশ (UNCRPD Bangladesh)
#অ্যাক্সেসিবল নির্বাচন (Accessible Elections)

11/07/2025

বিখ্যাত একটি আইটি কোম্পানির হেড অফিসে ইন্টারভিউ চলছে। বিশাল কাঁচঘেরা কনফারেন্স রুম। সাদা দেয়াল, দেয়ালে ঝোলানো বিশ্বমানচিত্র, আর সামনে বসা পাঁচজন অভিজ্ঞ বোর্ড মেম্বার। মাঝখানে বসে আছেন চেয়ারম্যান নিজে।

প্রার্থীদের একে একে ডাকা হচ্ছে। পঞ্চম নামটি উচ্চারণ করা হলো— "মুহাম্মদ তাসিন আলী"।

হালকা প্যান্ট-শার্ট পরে, হাতে পুরনো একটা ফাইল নিয়ে ভিতরে ঢুকল ছেলেটা। দেখতে চেহারায় কোন চাকরিপ্রার্থী বলেই মনে হয় না। সাধারণ, কিন্তু চোখদুটো অদ্ভুতভাবে আত্মবিশ্বাসী।

চেয়ারম্যান প্রশ্ন করলেন,
– “তুমি তো খুব সাধারণ একটা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছো। তোমার এই পদের জন্য যোগ্যতা আছে মনে করো?”

ছেলেটা বলল,
– “স্যার, আমি প্রতিদিন রাত ২টা পর্যন্ত দোকানে জুতো পালিশ করেছি। সকাল ৬টায় উঠে ক্লাসে গিয়েছি। হোস্টেলে থাকার টাকাও জোগাড় করতাম জুতো পালিশ করেই। কিন্তু আমার চোখে স্বপ্ন ছিল, আর হাতে ছিল কীবোর্ড। আমি জানি, অন্যদের মতো বড় ডিগ্রি নেই আমার, কিন্তু আমি যা শিখেছি, বাস্তব থেকে শিখেছি।”

বোর্ড মেম্বারদের একজন কৌতূহল নিয়ে প্রশ্ন করলেন,
– “তুমি কবে থেকে জুতো পালিশ শুরু করেছিলে?”

ছেলেটা বলল,
– “আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি। আব্বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। ঘর ভেঙে পড়ল। খাবার জোটানো দায় হয়ে গেল। তখন আমি সিদ্ধান্ত নেই, পড়াশোনা ছাড়বো না। তাই দিনের বেলায় পড়াশোনা, রাতে বা ছুটির দিনে স্টেশনে গিয়ে জুতো পালিশ করতাম। একদিন একজন বিদেশি ভদ্রলোক তার জুতো পালিশ করতে দিতে এসে আমার সঙ্গে কথা বললেন। আমি ইংরেজিতে উত্তর দিলাম, তিনি চমকে উঠলেন। আমাকে একটা পেনড্রাইভ উপহার দিলেন—ভেতরে ছিল কিছু প্রোগ্রামিং টিউটোরিয়াল।”

চেয়ারম্যান এবার একটু সরে বসলেন।
– “তাহলে তুমি স্বশিক্ষিত প্রোগ্রামার?”

– “জি স্যার। স্টেশনের পাশের ছোট একটা সাইবার ক্যাফেতে গিয়েছি সময় পেলে। ইউটিউব দেখে দেখে কোড শিখেছি। আর অনলাইন কোডিং প্ল্যাটফর্মে সমস্যা সলভ করেছি। প্রথমবার প্রাইজ জিতেছিলাম ৭০০ টাকা, সে টাকা দিয়েই আম্মার জন্য একটা শাড়ি কিনেছিলাম।”

বোর্ডে হালকা হাসির ঢেউ বয়ে যায়। এক সদস্য বললেন,
– “তোমার জীবনটাই তো একটা প্রোগ্রাম, যেখানে তুমিই ডেভেলপার!”

ছেলেটা মাথা নিচু করে একটু মুচকি হাসল।

চেয়ারম্যান এবার জিজ্ঞেস করলেন,
– “এই চাকরিটা তুমি কেন পেতে চাও?”

ছেলেটা এবার একটু থেমে বলল,
– “কারণ আমি জানি, এই চেয়ারটা আমার প্রাপ্য না। কিন্তু এই পরিশ্রমটা আমার প্রাপ্য। আমি চাই আমার ছোট ভাইটা যেন কখনো স্টেশনে গিয়ে জুতো পালিশ না করে। আমি চাই আমার মা যেন মাথা উঁচু করে বলতে পারেন, ‘আমার ছেলেটা এখন অফিসে বসে কীবোর্ড চালায়।’”

ঘরে আর কেউ কিছু বলতে পারল না। কয়েক মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা।

চেয়ারম্যান ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠলেন, সামনে গিয়ে ছেলেটার হাতে হাত রেখে বললেন,
– “তোমার মতো ছেলে আমাদের কোম্পানির গর্ব হতে পারে। তুমি নিয়োগপ্রাপ্ত, মুহাম্মদ তাসিন। আর তুমি শুধু কীবোর্ড নয়, অনেক হৃদয় জয় করে নিয়েছো আজ।”

ঘরে করতালির শব্দ উঠল। একেকটা শব্দ যেন সমাজের প্রতিটা দরজায় কড়া নাড়ল।

আর মুহাম্মদ তাসিন—একজন জুতো পালিশ করা ছেলে, সেইদিন অফিস থেকে বের হলো—সেই চোখে স্বপ্ন আর হাতে অফার লেটার নিয়ে।

জীবনের শুরু কোথা থেকে হয়েছে তা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো—তুমি কোথায় পৌঁছাতে চাইছো, আর পৌঁছানোর জন্য তুমি কতটা চেষ্টা করছো। সুযোগ যদি না-ও আসে, প্রস্তুত থাকো—তোমার প্রস্তুতিই একদিন সুযোগ তৈরি করবে।

07/05/2025

Seeability Fellows : Rular Deployment Idea

07/05/2025

বৃদ্ধ, ছেলে ও গাধা

একজন বৃদ্ধ এবং একটি ছেলে একটি গাধার সঙ্গে শহর থেকে শহরে ভ্রমণ করছিল। প্রথম শহর পার হওয়ার সময় তারা শুনতে পেলো মানুষের ফিসফাস:

— “কি বোকা এরা! একটা গাধা সঙ্গে আছে, অথচ নিজেরা হেঁটে যাচ্ছে।”
এই কথা শুনে বৃদ্ধের খারাপ লাগল। তিনি ভাবলেন, লোকেদের কথা গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাই তিনি ছেলেটিকে গাধার পিঠে বসালেন এবং পথ চলা অব্যাহত রাখলেন।

পরবর্তী গ্রামে পৌঁছালে, এক চাষী তাদের দেখে বলল:

— “কি নিস্ঠুর ছেলে! নিজে তরুণ আর সবল, অথচ বৃদ্ধ লোকটিকে হেঁটে যেতে দিচ্ছে!”

বৃদ্ধ এবং ছেলেটি চিন্তা করল এবং এবার তারা জায়গা বদলালো। এখন বৃদ্ধ গাধায় চড়লেন, আর ছেলেটি হেঁটে চললো। তারা তৃতীয় গ্রামে পৌঁছানোর পর লোকেরা ফিসফিস করতে লাগল:

— “কি নিষ্ঠুর, অলস, স্বার্থপর বৃদ্ধ! ছোট্ট ছেলেটিকে রোদে হেঁটে নিয়ে যাচ্ছে!”

তাই এবার তারা দু’জনেই গাধার পিঠে চড়ল এবং এইভাবে চতুর্থ গ্রামে পৌঁছালো। সেখানে একজন ব্যক্তি তাদের জিজ্ঞেস করল:
— “এই গাধাটা কি আপনাদের?”
“হ্যাঁ,” বৃদ্ধ উত্তর দিলেন।

— “তাহলে তো মনে হচ্ছে না! যেভাবে গাধাটিকে অতিরিক্ত বোঝা দিচ্ছেন, তাতে তো মনে হচ্ছে ওকেই তোমাদের টানতে হবে।”

এই কথা শুনে বৃদ্ধ ও ছেলেটি ভাবল এবং সিদ্ধান্ত নিল গাধার পা বেঁধে, একটি লাঠির মাঝে গাধাটিকে ঝুলিয়ে কাঁধে বহন করবে।

মানুষ এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে গেল এবং তাদের পেছনে অনুসরণ করতে লাগল। যখন তারা একটি সেতুর কাছে পৌঁছাল, তখন লোকেদের আওয়াজে গাধাটি ভয় পেয়ে ছটফট করতে লাগল। সে তার দড়ি ছিঁড়ে ফেলল, দুর্ঘটনাক্রমে সেতু থেকে নদীতে পড়ে গেল। গাধাটি সাঁতরে উঠে পালিয়ে গেল।

তখনই বৃদ্ধ বুঝতে পারলেন—সবাইকে খুশি করতে গিয়ে, তিনি বুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি হারালেন।

নৈতিক শিক্ষা:

তুমি যতই চেষ্টাই করো না কেন, সবাইকে খুশি করা কখনো সম্ভব নয়।

ব্যাখ্যা:

এই জনপ্রিয় প্রাচীন গল্পটি আমাদের বেশ কিছু বিষয় শেখায়। একদিকে, আমরা দেখি অনেক সময় মানুষ না জেনে, না বুঝে অন্যের জীবনে মন্তব্য করে বসে—যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তারা পরামর্শ দিতে চায়, যদিও কেউ চায়নি।

অন্যদিকে, বৃদ্ধ এবং ছেলেটি এমন ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব করে যারা অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে নিজের বুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। পৃথিবীতে যত মানুষ, তত মত—তাই সবার মন রক্ষা করা কখনো সম্ভব নয়।
এই গল্প আমাদের শেখায়, নিজের বিবেচনা ও সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

[[ সংগ্রহিত]]

07/05/2025

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক যুদ্ধবিমান সাহারা মরুভূমিতে ভেঙে পড়ে। পাইলট প্রাণে বেঁচে যায়, কিন্তু চারদিকে শুধু ধু-ধু বালির সমুদ্র আর ঝলসানো রোদ। খাবার নেই, পানি নেই — কেবল এক বোতল পানি আর কিছু শুকনো বিস্কুট।
তিনদিনের মাথায় তার পানি ফুরিয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদ, পানির অভাব আর একাকীত্বের ভারে সে প্রায় মৃত্যুর মুখে। ঠিক তখনই মনে পড়ে — পাইলট হওয়ার আগে সে ছিল একজন শিল্পী। পকেটে ছিল একটি পেন্সিল আর ভাঙা একটা চশমা। মরুভূমির বালুর ওপর সে আঁকতে শুরু করে — তার পরিবার, শহর, রাস্তা আর টলমলে পানি!
জানি সে বাঁচবে না, তবু শেষ মুহূর্তগুলোতে সে তার স্মৃতি ধরে রাখতে চায়। অবাক করা বিষয়, ছবি আঁকতে আঁকতে তার তৃষ্ণা কিছুটা কমে যায়, মন শান্ত হয়ে আসে। সে ভাবল, "আমি এখনো বেঁচে আছি। স্বপ্ন দেখতে পারি মানে এখনো হার মানিনি।"
অষ্টম দিনে এক ফরাসি উদ্ধারকারী দল তাকে খুঁজে পায়। তারা দেখে — কঙ্কালসার দেহ, ফেটে যাওয়া ঠোঁট, ক্লান্ত চোখ — কিন্তু সেই পাইলট তখনো বালিতে ছবি আঁকছে, যেন কোনো মন্ত্রমুগ্ধ শিল্পী!
উদ্ধারের পরে পাইলট বলেছিল, "আমি টিকে ছিলাম, কারণ আমি বিশ্বাস হারাইনি। আমার ভাঙা চশমা আর এক টুকরো পেন্সিলও আমাকে মরুভূমিতে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।”
শিক্ষা: জীবন অনেক কিছু কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু আপনার বিশ্বাস কেড়ে নিতে পারে না। যদি আপনি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখেন, কেউ আপনাকে হারাতে পারবে না।

Address

University Of Dhaka
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Warriors of Light from Darkness posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Warriors of Light from Darkness:

Shortcuts

Share