25/05/2026
Nobo Anonde Jaago ( নব আনন্দে জাগো)
The Legacy of Thakurbari.
Co-hosted by ICCR, High Commission of India and Fashion Design Council of Bangladesh(FDCB).
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’-এর নন্দিনী চরিত্রটি সবসময়ই আমার কাছে শুধুমাত্র এক সাহিত্যিক চরিত্র নয়—সে যেন মুক্ত আত্মা, প্রতিবাদ, সৌন্দর্য আর জীবনের এক অদম্য স্পন্দনের প্রতীক। সেই অনুভব থেকেই ডিজাইনার হিসেবে আমি চেষ্টা করেছি নন্দিনীকে নতুনভাবে অনুবাদ করতে—রঙে, বুননে, কারুশিল্পে ও নীরব অভিব্যক্তিতে।
এই শাড়ির মূল ভাবনায় ছিল নন্দিনীর সেই অনমনীয় দীপ্তি, যে অন্ধকারের মধ্যেও আলোকে বিশ্বাস করতে জানে।
আমার চোখে নন্দিনী এমন এক চরিত্র—
যে অন্ধকারের মধ্যে আলো।
যে শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা আনে।
যে ভালোবাসা ও প্রতিবাদের মিশ্রণ।
নন্দিনীর দৃঢ়তা থেকেই আমি এর নাম দিয়েছি “বাঁধন ভেঙে জীবন”।
দেশীয় হ্যান্ডলুম ও সূক্ষ্ম নকশিকাঁথার কারুকাজে নির্মিত এই পোশাকে ব্যবহার করেছি গভীর লাল, অফ-হোয়াইট ও মৃদু মাটিরঙা টোন—যেখানে লাল শুধুই প্রেমের নয়, বরং সাহস, স্বাধীনতা ও জীবনের প্রতীক।
শাড়ির অফ-হোয়াইট বেস তুলে ধরে নারীর পবিত্রতা ও সরলতা। প্রাণশক্তি ও প্রতিবাদ প্রকাশ করে চিকন লাল পাড় এ । আর রক্তকরবীকে ধারণ করতে আঁচলে লাল নকশা একটু বেশি।
আমি বিশ্বাস করি, পোশাক কেবল শরীরকে আবৃত করে না, এটি চরিত্র, দর্শন ও অনুভূতিকেও বহন করে। ‘রক্তকরবী’-এর নন্দিনীকে নিয়ে এই কাজটি তাই আমার কাছে শুধু একটি ফ্যাশন প্রজেক্ট নয়; এটি সাহিত্য, নারীসত্তা, প্রতিরোধ ও বাংলার কারুশিল্পের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধার্ঘ্য।
যেখানে নন্দিনীর মতোই, সৌন্দর্য কখনও উচ্চকণ্ঠ নয়, তবু গভীরভাবে আমাদের ভেতর প্রোথিত।
- শ্রাবনী মহলদার
নকশা মিস্ত্রি