05/01/2026
আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে রানীর মর্যাদা দিতে পারেন, তবে আপনিও পাবেন রাজার মর্যাদা।
সাফিয়্যা (রাদিআল্লাহু আনহা) ছিলেন নবীজির (ﷺ) অন্যতম স্ত্রী। তিনি কিছুটা খাটো ছিলেন, ফলে উটের পিঠে আরোহন করতে কষ্ট হতো। তাই রাসূল (ﷺ) তাঁকে সাহায্য করার জন্যে নিজের হাঁটু পেতে দিতেন। সাফিয়্যা (রাদিআল্লাহু আনহা) সেই হাঁটুতে পা রেখে উটের হাওদায় উঠে বসতেন। [সহীহ বুখারী, ৪২১১]
সাফিয়্যা (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন — ‘একবার রাসূল (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের সাথে হজ্জে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে আমার উট বসে পড়লো। কারণ ওটা ছিলো সবচেয়ে দুর্বল উট, তাই আমি কেঁদে ফেললাম। নবী (ﷺ) আমার কাছে আসলেন এবং আমার চোখের পানি নিজের জামা ও হাত দিয়ে মুছে দিলেন।’ [মুসনাদ আহমাদ, ৬/৩৩৭]
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ হয়েও নবীজি (ﷺ) তাঁর স্ত্রীকে সাহায্য করতে নিজের হাঁটু বিছিয়ে দিয়েছেন আর সেই হাঁটুতে পা দিয়ে ভর করে স্ত্রী উটের পিঠে চড়ে বসেছেন! আবার স্ত্রীর চোখের পানি নিজের জামা ও হাত দিয়ে পরম মমতায় মুছে দিয়েছেন।
অন্য হাদিসে এসেছে, সাফিয়্যাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) উঠের পিঠে থাকা অবস্থায় ঘুম চলে আসতো, তাই কিছুটা তন্দ্রালু হয়ে যেতেন। তখন নবীজি (ﷺ) তাঁর মাথা ধরে রাখতেন!
এভাবেই নবীজি (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের গুরুত্ব দিতেন।
পক্ষান্তরে, একজন স্ত্রী হিসেবে সাফিয়্যা (রাদিআল্লাহু আনহা) নিজ স্বামী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কীভাবে মূল্যায়ন করতেন? কতটুকু ভালবাসতেন? এটি বুঝতে একটি হাদিসই যথেষ্ট হতে পারে।
হাদিসে এসেছে, রাসূল (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে মৃত্যুশয্যায় কষ্টকর অবস্থায় ছিলেন, তাঁর স্ত্রীরা তাঁর চারপাশে জড়ো হলেন। তখন সাফিয়্যা (রাদিআল্লাহু আনহা) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহর শপথ! আপনার জায়গায় যদি আমি থাকতে পারতাম!’ (অর্থাৎ, আপনার কষ্টটা আপনার না হয়ে যদি আমার হতো!) তাঁর কথা শুনে অন্য স্ত্রীগণ ঈর্ষান্বিত হয়ে মুখটিপে হাসলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁদের দেখে ফেললেন এবং বললেন, ‘‘তোমাদের মুখ ধুয়ে ফেলো।’’ তাঁরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কেনো?’ তিনি জবাবে বললেন, ‘‘কারণ তোমরা তাঁকে বিদ্রুপ করেছো। আল্লাহর শপথ! সে সত্য বলেছে।’’ [আত-ত্ববাকাতুল কুবরা, ৮/১০১]
এটিই বাস্তবতা। জ্ঞানীগণ বলেন, নারীকে আপনি যেটুকু ভালবাসা ও সম্মান দেবেন, সে বিনিময়ে তারচেয়ে বেশি ভালবাসা ও সম্মান আপনাকে ফিরিয়ে দেবে। আবার তাকে যতটুকু ঘৃণা দেবেন, বিনিময়ে সে তারচেয়েও বেশি ঘৃনা ছড়িয়ে দেবে।( এই বিষয়টি আপেক্ষিক এবং পর্যবেক্ষন মাত্র)!
তাই,স্ত্রীকে ভালবাসুন,সম্মান দিন ।বিনিময়ে সে ও সমান ভাবে বা তার চেয়ে বেশি সম্মান দিবে, তাকে রানীর মত ট্রিট করলে সে ও রাজার মত ট্রিট করবে ,যেমনটি আমরা দেখেছি সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লামের জীবনে ।