22/05/2022
পাশাপাশি তিনটা চায়ের দোকান ছিল। দুটোতে সারাক্ষণ টিভি চলত। নাটক, সিনেমা, নাচগানে সরগরম ছিল। কাস্টমার থাকত ভরপুর। মনে হত যেন মৌচাকে মৌমাছি আঠার মতো বসে আছে। পেটালেও নড়াচড়ার নাম নেবে না।
তৃতীয় দোকানটা ছিল একজন নামাজি লোকের। দোকানে টিভি ছিল না। তাই কাস্টমারও তেমন ঢুকত না। দু'চারজন যারাই ঢুকত চা খেয়ে দেরি করত না; ঝটপট বেরিয়ে পড়ত। টিভিই নাই, বসে থেকে কী করবে!
লোকটাকে প্রায়ই দেখতাম বসে বসে জিকির করছে অথবা ওয়াজ শুনছে।
একে তো কাস্টমার কম, তার ওপর নামাজের সময় থাকত বন্ধ। মায়া লাগত এই ভেবে, দোকানটা ঠিকঠাক চালাতে পারবে তো? না কি লস খাবে? অবশ্য, মন বলত—'নিশ্চই পারবে। আল্লাহ নিশ্চই বরকত দেবেন।'
দীর্ঘদিন পর ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ লক্ষ করলাম তিনটার মধ্যে মাত্র একটা দোকান আছে। বাকিগুলো তল্পিতল্পা গুটিয়ে ডেরায় ফিরে গেছে। পাঠকমাত্রই বুঝতে পারছেন কোন দোকানটা টিকে আছে! জি হ্যাঁ, সেই নামাজি লোকের দোকানটা। আল্লাহর রহমতে এখন এত ভালো চলছে, এত কাস্টমার, দোকানদারকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে!
রিজিক আসলে আল্লাহর হাতে। টিভিওয়ালা দোকানগুলোতে ভিড় থাকত মূলত টিভি দেখার জন্য। এক কাপ চা খেয়ে কাস্টমাররা ঘন্টার পর ঘন্টা চাতক পাখির মতো ওই একটা জিনিসেই বুঁদ হয়ে থাকত। বাইরে থেকে মনে হত খুব বুঝি বেচাকেনা হচ্ছে! আসলে যেই লাউ সেই কদু। কিছুই হত না।
যা হ'ত, হয়তো দোকান ভাড়া, ডিশ বিল, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস খরচ—এইসব দিতে দিতেই শেষ! বরকত তো ছিল না। একজন নামাজি ব্যবসায়ি আর বেনামাজির মধ্যে পার্থক্য এটাই। বরকত বনাম বে-বরকতি।
রিজিকদাতার আদেশ মেনে ব্যবসা করা হবে, অথচ ব্যবসায় বরকত হবে না তা কী করে হয়।
অবশ্য দ্বীনদার ব্যবসায়িদের কোনোদিকেই লস নেই। এপারে যেমনই হোক; ওপারের ব্যাংকে তো জমা হচ্ছে প্রচুর!
✍️মাহিন মাহমুদ
বিষয়টা বর্তমান যে লাইভ গুলো নেচে, গেয়ে এবং খেয়ে খেয়ে করা হয় তার সাথে প্রচুর মিল। কি আপনারা কি একমত!? তাহলে একটা কমেন্ট করে যাবেন প্লিজ।