25/02/2026
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরি হয়ে গেল একজন কর্মকর্তাও টুঁশব্দ করলেন না, কিন্তু সেই কর্মকর্তাদের স্পর্ধা এতো বেড়ে গেল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ক্রান্তিকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে দক্ষতার সহিত নেতৃত্ব দিয়ে আসা মানুষটিকে মব করে বের দিল।
হাসিনা শুধু ক্ষমতার চেয়ার ছেড়ে পালায়নি, পুরো দেশকে পঙ্গু বানিয়ে দিয়ে গেছে। দেশের প্রত্যেকটি ইনস্টিটিউটের কোমর ভেঙে দিয়ে গেছে।
রিজার্ভ ছিল তলানিতে। তারল্যসংকটে ম্যাক্সিমাম ব্যাংকই বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এইরকম একটা সিচুয়েশনে যে মানুষটি প্রফেসর ইউনূসের আহ্বানে ও পূর্ণ সহযোগিতায় দেশের অর্থনীতিকে গর্ত থেকে টেনে তুলতে নেতৃত্ব দিলেন, তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর আহসান এইচ মনসুর।
আজ তার কপালে জুটল ব্যাংক কর্মীদের মবে অসম্মানের প্রস্থান। কারণ, তিনি দায়িত্ব থাকতে এদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ডিসিপ্লিনে স্ট্রিক্ট ছিলেন।
তাই আজ তারা সুযোগে প্রতিশোধ নিল। স্তব্ধ হয়ে গেলাম তাদের স্পর্ধা দেখে। সারাদিন গেল সরকার কোনো দুঃখ প্রকাশ করল না, কোনো স্টেটমেন্টও দিতে দেখলাম না।
বিদায় যদি করতেই হয়, এই মানুষটিকে কী সম্মানের সঙ্গে বিদায় করা যেত না?
এমনকি তাকে পদত্যাগ পেপারও পাঠালো না। এ অসম্মান কেন করতে হবে ধ্বংসপ্রাপ্ত থেকে ইকোনমিক রিকভারিতে সফলভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে রোল প্লে করা যাওয়া ব্যক্তিটিকে!
প্রফেসর ইউনূস আর দশটি সেক্টরে আশানুরূপ ফল তেমন একটা দেখাতে না পারলেও এই একটি সেক্টর যেভাবে ডিল করে ইকোনমিকে রিভাইভ করেছেন, তা অসাধ্য। নিজে এই ফিল্ডের প্লেয়ার এবং যাদেরকে এখানে রিক্রুট করেছিলেন তারাও ফিল্ডে জেম। তাই এখানে ভালো ফল এসেছে।
গভর্নর হিসেবে মনসুর সাহেব বেতন পেতেন দেড় লাখের মতো, অথচ আগের প্রতিষ্ঠানে বেতন ছিল তিনগুণ।
এরপরও তিনি কেন আসলেন বাংলাদেশ ব্যাংকে?
ক্রুশিয়াল মুহুর্তে দেশের জন্য কন্ট্রিবিউট করতে পারাটা নিশ্চিতভাবে যেকারো জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তিনি নিশ্চয়ই প্রফেসর ইউনূসের ডাকে সেকারণে দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের হাল ধরেছেন।
ইন্টেরিমের পুরো সময়ে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। আইএমএফ সামনে মাথা উঁচু করে টাকা ছাড় করিয়ে আনার বিষয়টি ছিল পুরোই অসাধ্য একটি কাজ। দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের রিজার্ভ ছিলো ২০ বিলিয়নে ডলারে, এখন রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
উনাকে আজ যেভাবে অপদস্থ ও অপমান করল বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা, নাগরিক হিসেবে লজ্জিত হলাম সেই দৃশ্য দেখে।
এদেশে গুণী মানুষের কদর নাই। এই কথা চিরন্তন সত্য।