19/04/2024
ওয়াদা ভঙ্গ করা চরম খেয়ানত
প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা গুরুতর অপরাধ এবং চরম খেয়ানত। বিষয়ের বিবেচনায় সেই অপরাধের মাত্রা বাড়তেও থাকে। ওয়াদা যদি হয় আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের সঙ্গে, তো এর চেয় বড় খেয়ানত আর কী হতে পারে? আহলে কিতাবরা এমনই করেছিল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِّیْثَاقَهُمْ لَعَنّٰهُمْ وَ جَعَلْنَا قُلُوْبَهُمْ قٰسِیَةً، یُحَرِّفُوْنَ الْكَلِمَ عَنْ مَّوَاضِعِهٖ وَ نَسُوْا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوْا بِهٖ.
তারপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণেই তো আমি তাদেরকে আমার রহমত থেকে বিতাড়িত করি ও তাদের অন্তর কঠিন করে দেই। তারা (তাওরাতের) বাণীসমূহকে তার আপন স্থান থেকে সরিয়ে দেয় এবং তাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একটি বড় অংশ ভুলে যায়। -সূরা মায়িদা (৫) : ১৩
এরপর আল্লাহ বলেন-
وَ لَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلٰی خَآىِٕنَةٍ مِّنْهُمْ اِلَّا قَلِیْلًا مِّنْهُمْ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَ اصْفَحْ، اِنَّ اللهَ یُحِبُّ الْمُحْسِنِیْنَ.
(ভবিষ্যতেও) আপনি তাদের অল্পসংখ্যক ব্যতীত সকলেরই কোনো না কোনো খেয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতার কথা জানতে থাকবেন। সুতরাং (এখন) তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদেরকে পাশ কাটিয়ে চলুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইহ্সানকারীদের ভালবাসেন। -সূরা মায়িদা (৫) : ১৩
অর্থাৎ খেয়ানত তাদের পুরোনো চরিত্র। তবে এখনই আপনাকে এই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না যে, সমস্ত বনী ইসরাঈলকে সমষ্টিগতভাবে কোনো শাস্তি দেবেন। সময় যখন হবে, আল্লাহ নিজেই তাদেরকে শাস্তি দেবেন।
এই আয়াতে ওয়াদা ভঙ্গ করাসহ কয়েকটি গুরুতর গোনাহের পর ‘খায়িনা’ শব্দ উল্লেখিত হয়েছে। কারণ প্রতিশ্রুতি ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ করা নেহায়েত গাদ্দারি ও অনেক বড় খেয়ানত।
ইমাম কুরতুবী রাহ. বলেন- তাদের খেয়ানত ছিল রাসূলুল্লাহ ও তাদের মাঝে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করা আর যুদ্ধে মুশরিকদের সহযোগিতা করা। -তাফসীরে কুরতুবী ৬/১১৬