11/05/2026
বদ নজর কতোটা খারাপ সেটা একমাত্র ভুক্তভোগী রাই জানে
আর যাদের ছোট বাচ্চা আছে তাদের এগুলো নিয়ে বেশি ভুগতে হয়।
বাচ্চাদের রুকাইয়া এর ডিটেইলস এর সাথে শর্ট আকারে আমি ছবি সাজিয়ে নিয়েছি নিজের জন্য।
সবার সাথে শেয়ার করলাম
যেনো অন্যদেরও উপকার হয়।
উপকারি মনে হলে শেয়ার করতে পারেন......
🌸শিশুদের চোখ লাগা বা নজর লাগা ও হিংসা (হাসদ) লাগলে যে ভাবে নিজে নিজে ঝাড়ফুক করবেন।
প্রথমে সম্পূর্ণ লিখাটা একবার পড়ে নিবেন তাহলে বুঝতে সহজ হবে তারপর সেই অনুযায়ী রুকইয়াহ করবেন
রুকইয়াহ করতে প্রথমে আপনাকে অলিভ ওয়েল, পিংকসল্ট ও পানি জোগার করে নিতে হবে। এবং সেগুলোর উপরেই মূলত রুকইয়াহ করতে হবে।
(১) বাচ্চাকে রুকইয়াহ করা পানি পান করানো।
যেই ভাবে সহজে পানি পড়া বানাবেন
প্রথমে এক ঝগ পানি নিন (জমজম বা বৃষ্টির পানিও মিশাতে পারেন) এবং এতে সূরা ফাতিহা,আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস এবং সূরা ফালাক-নাস প্রত্যেকটি ৩ বার করে পড়ে পানিতে ফুঁ দিন।
পড়ার সময় বাচ্চার সুস্থতার জন্যে দোয়া করলে পানির আধ্যাত্মিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। পড়াপানি খুব স্টং হয়।
(২) এবার রুকইয়া করা পানি দিয়ে গোসল করানো।
পূর্বের পানি যেটা পানি যেটা আপনি পড়েছেন সেখান থেকে কিছু পানি দিয়ে শিশুর শরীর ধুয়ে দিন। বা সেই পানি দিয়ে বাচ্চার গা মুছিয়ে দিন
যেসব জায়গায় ব্যথা বা দুর্বলতা বুঝতে পারেন সেখানে বিশেষভাবে পানি লাগান এতে ব্যথা বা দূর্বলতা কেটে যাবে।
(৩) নিজের দু হাতে রুকইয়াহ করে ফুঁ দিয়ে বাচ্চার শরীরে মালিশ করা।
আপনার দুই হাত একত্র করুন যেমনটা আমরা দোয়া করার সময় একত্রিত করি,তারপর সূরা ফাতিহা,আয়াতুল কুরসি,সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রত্যেকটি ৩ বার করে পড়ুন, তারপর হাতে হালকা থুতু মিশ্রিত ফুঁ দিন।এরপর শিশুর পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে দিন, বিশেষ করে যেসব স্থানে ব্যথা বা সমস্যা রয়েছে যেমন বুক, পেট, পিঠ,ঘাড়,বাহু,রানে,পায়ে ইত্যাদি সব জাইগায় এতে বাচ্চার সেসব স্থানের ব্যথা সেরর যাবে ইনশাআল্লাহ।
(৪) যে সব বাচ্চারা বড় তাদের জন্য রুকইয়াহ করা পানি ও লবণ ব্যবহার।
যে শিশুরা বসতে পারে, তাদের জন্য পানি ও মোটা লবণ (পিংক সল্ট) একটি পাত্রে মিশিয়ে উপরোক্ত নিয়মে আয়াত ও সূরা গুলো পড়ে ফু দিয়ে কিছুক্ষণ সেই পানিতে বসিয়ে রাখুন।
এতে চিকিৎসার প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং নজর হিংসা গুলো দ্রুত রিলিজ হয়ে যায়।
(৫) রুকইয়াহ করা অলিভ অয়েল তেল বাচ্চার গায়ে মালিশ করা।
উপরোক্ত নিয়মে আয়াত ও সূরা গুলো পড়ে তেলের উপর ফু দিয়ে সেই তেল পড়া শিশুর শরীরে লাগান বা মালিশ করুন। যদি শিশুর জ্বর না থাকে, তা হলে এটি খুব উপকারী দেহের জন্যে। এতে দ্রুত ব্যথা উপশম হয় এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।
(৬) নিয়মিত রুকইয়াহ ও দোয়ার মাধ্যমে বাচ্চার জন্যে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা প্রার্থনা করা।
সম্ভব হলে আপনার শিশুকে প্রতিদিন রুকইয়াহ করুন বা সাপ্তাহে দু বার করা এবং সুরক্ষার দোয়া পড়া খুবিই জরুরি।
দোয়া গুলো:
بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ حَاسِدٍ، اللّٰهُ يَشْفِيكَ، بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيكَ.
উচ্চারণঃ বিসমিল্লাহি আরকীক, মিন কুল্লি শাই’ইন ইউ’যীক, ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিঁ আও ‘আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীক, বিসমিল্লাহি আরকীক।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ.
উচ্চারণঃ আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত্ তাম্মাহ মিন কুল্লি ‘আইনিল্লাম্মাহ।
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ، وَأَنْ يَحْضُرُونِ.
উচ্চারণঃ আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত্ তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ‘ইকাবিহি, ওয়া মিন শাররি ‘ইবাদিহি, ওয়া মিন হামাজাতিশ শাইয়াতীন, ওয়ান ইয়াহতুরূন।
দোয়া গুলো বাচ্চাকে কানে কানে পড়ে শুনাতে পারেন প্রতিদিন রাত্রে ঘুমানোর সময়।
(৭) বিশেভাবে বাচ্চাদের মায়েদের চিকিৎসা করে নেয়া।
আমরা যেটা আপনাদের খুবিই গুরুত্বের সঙ্গে বলে থাকি বাচ্চার মা যদি নিজেই আক্রান্ত থাকেন,অর্থাৎ (বদনজর,হিংসা,জ্বীন,যাদুতে) তাহলে অবশ্য যেনো খুব দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে নেন কেননা বাচ্চাদের সমস্যাটা মায়ের তরফ থেকেই হয়ে থাকে।মায়ের চিকিৎসা করালে বাচ্চাও সুস্থ হয়ে যায়, এজন্যে বাচ্চার মায়েদের চিকিৎসা নেয়াটা অত্যন্ত জরুরি।
কতদিন পর্যন্ত ব্যবহার করবেন এমন প্রশ্ন রাখবেন তাই বাচ্চাকে প্রতি মাসে মাসে এমন ভাবে রুকইয়াহ করে যাবেন এতে বাচ্চার তেলাওয়াত শুনাও হবে আদব আখলাক সুন্দর থাকবে, কখনো বিপদগামী হবে না ইনশাআল্লাহ।
(৮) যেই কাজ গুলো বাচ্চার মা-বাবা ভুলেও করবেন না।
লোকজনের সামনে কখনোই নিজের শিশুর বুদ্ধিমত্তা,বিচক্ষণতা, মেধাশক্তি,সৌন্দর্যতা,কথার স্মাটতা,খাবার দাবার,পোষাক, পড়াশোনা বা বিশেষ কোন গুণ নিয়ে বেশি আলোচনা কখনোই করবেন না বরং এর থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন কারণ এতে বাচ্চার উপর নজর বা হিংসা লাগতে পারে। সুতরাং বদনজর হিংসা বাহির থেকে কিনে আনবেন না।
জাযাকাল্লাহ উপকারী মনে হলে শেয়ার করে দিন।
©