03/03/2026
Same same but different but বিচ্ছেদ যে কোন সময়ে, যে কোন পরিস্থিতিতে এবং যেকোন সময় হতে পারে।
বাবা-মায়েদের বলছি,
দয়া করে তোমাদের মেয়েদের শেখাও যে, ব্যর্থ বিবাহ থেকে ঘরে ফিরে আসা কফিনে বন্দী হয়ে ঘরে ফিরে আসার চেয়ে অঢেল ভালো।
যদি কোন সঙ্গী প্রতারণা করে দিনের পর দিন, তাহলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ দেওয়া স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।
সমাজকে বলি,
যখন কেউ বিবাহবিচ্ছেদ বেছে নেয়, তখন তাদের বিচার করতে যেয়েন না। সংসার কেউ হুট করে ছাড়তে পারে না। বিশেষ করে যখন সন্তান থাকে। কোন মেয়ে যদি খুব হতাশা নিয়ে, মনে বুক ভরা কষ্ট নিয়ে একটা বার বলে, "আমি আর পারছি না ধৈর্য্য ধরতে" তাহলে তাকে একটু বোঝার চেষ্টা করেন সাথে সাপোর্ট করেন। একটি বার মাথায় হাত রেখে বলেন, চিন্তা করো না। আমরা আছি।
সন্তানদের বলছি,
সন্তানরা ভালো বাবা - মা ডিজার্ভ করে যেমনটা বাবা- মা ডিজার্ভ করে একজন সুস্থ সন্তান। একটা সন্তানের মানসিক চাপ কতোটা হয় যখন কোন জঘন্য পরিবার ভাগ্যে জোটে সেটা যারা ভুক্তভোগী শুধু তারাই উপলব্ধি করতে পারে। জঘন্য সামাজিক পরিবেশ ভাগ্যে জোটে সন্তানদের সারাজীবন নামের সাথে। সবচাইতে বেশি কষ্টের। বাবা - মা যদি তোমাদের জন্য সংসার করতে যেয়ে দুজন দুজনের প্রতি একটা সময় সম্মান হারিয়ে ফেলে তাহলে তাদের আলাদা হতে দেখে কষ্ট পেও না। কারণ প্রতিটা মানুষের জীবনে সুস্থ ভাবে বাঁচার অধিকার আছে।
নারীদের বলছি,
মূল্যহীন লোকদের জন্য নিজের জীবন নষ্ট করো না। চেষ্টা করো তোমার দাম্পত্য সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করতে যদি না পারো তবে আলাদা হয়ে যাও। নিজেকে সাবলম্বী করো প্লিজ। নিজেই যদি নিজের খরচা বহন করতে পারো তাহলে কোন কাপুরুষের সংসার বাধ্য হয়ে করতে হবে না। অনন্ত সন্তানদের ভবিষ্যত প্রজন্ম নষ্ট হওয়া থেকে বেঁচে যাবে। বিশ্বাস করো।
সরকারের প্রতি দাবী,
এমন কোন আইন হওয়া উচিত সমাজে যে আইনে লেখা থাকবে চাইলেই যে কেউ বাবা - মা হতে পারবে না। বাবা- মা হবার জন্য উপযুক্ত কাইটেরিয়া ফিলআপ করতে হবে। সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য এবং মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি করতে সহযোগিতা করবে। প্রয়োজনে টার্ম এন্ড ক'ন্ডিশন রাখতে হবে যেখানে কেউ কোন প্রকার টাকা দিতে চাইলে বা ঘুষ দিয়ে চাইলেও দ'ন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে আইনের চোখে।
যে ব্যক্তি প্রতারণা করে বাড়ির বউ থাকতেও বারবার সে কখনো শোধরাবে না। পর'কীয়া সামাজিক ব্যাধি এবং অন্যায়। দুজন মানুষের মাঝে মিল নাই থাকতে পারে এবং উচিত মিউচুয়াল ভাবে আলাদা হয়ে যাওয়া। বৈবাহিক সম্পর্ক নিজের জীবনের চাইতেও অধিক সম্মানের নয়। নিজেকে নিজের সম্মান দেয়া নারীদের অধিকার।
কঠিন থেকে কঠিনতম ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সমাজের দৃষ্টিতে। যথাযথ শাস্তি দেওয়া এবং প্রয়োজনে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো কখনো কখনো। সমাজ এবং পরিবার এবং দুটো মানুষের জীবন টস্কিসিটি থেকে অনন্ত রেহাই পাবে এবং সন্তানদের দূর্বিসহ জীবন পার করতে হবে না।
শেষে বলতে চাই, দাম্পত্য জীবনটা বড্ড কঠিন। ক্যালকুলেটিভ ভাবে চলতে হয়। প্রতিটা সম্পর্কের একটা আলাদা সমীকরণ রাখতে হয়। বন্ধু হতে হয়, একে অপরের প্রতি সম্মান রাখতে হয়, বিশ্বাস রাখা দুটো মানুষের জৈবিক চাহিদার মতোন। বিশ্বাস করুণ, যে সম্পর্কে সম্মান নাই সে সম্পর্ক বছরের পর বছর বয়ে বেড়ানো মানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এক নতুন মোড়কে পুরোনো অন্যায়কে সাপোর্ট দেয়া।
সময় পরিবর্তন হয়েছে এবং এই মানসিকতা পরিবর্তন করা ভীষণ প্রয়োজন। নারী বা পুরুষ সংসার জীবনে সুখ খুঁজে পাবে একে অন্যের সাথে সেটা বলা মুশকিল তবে আলাদা থেকেই একে অন্যের সম্মান রক্ষা করা যেতে পারে।
©Afsananipa