19/02/2026
তারাবীহ নামাজের নিয়ম 🍀
একটু কস্ট করে পুরোটা পড়লে ইনশাআল্লাহ কোন সংশয় থাকবেনা।
🔲 তারাবীহ নামাজের সময়ঃ
অধিকাংশ ফকিহদের মতে তারাবীহ নামাজের সময় হলো ইশার পরে বিতরের আগে। আর তা ফজর পর্যন্ত পড়া যায়।
সাহাবাদের আমল দ্বারা তা প্রমানিত।
আর যদি কেও এশা ও বিতর পড়ে ফেলে তারপর তারাবীহ পড়ে তাইলে সহীহ মতানুসারে তা আদায় হয়ে যাবে। (শামী ২/৪৩৯-৯৪,
মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যা ২৭/১৪৭-৪৮)
বিতরের নামাজ তারাবীহ এর নামাজের পর আদায় করা উত্তম, তবে কেও যদি আগে আদায় করে নেয়, তাও সহিহ আছে
(মারাকিল ফালাহ, পৃঃ ২২৫)
🔲 তারাবীহ নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা।
বুখারীর হাদিসে আছে রমাদ্বনে (তারাবীহ) নামাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কয়েকদিন জামাতে পড়ে আর জামাতে পড়েন নি।
যাতে তা উম্মাহের জন্য ফরজ হয়ে না যায়।
সুতরাং বুঝা যায় যে তার গুরুত্ব ফরজের মত না। তবে তা অবশ্য ই পালনীয় সুন্নত।
দেখুন_ আল মুগনী ২/১৬৬,
বাহরুর রায়েক ১/১১৭।
মোল্লা আলী কারী রহঃ লিখেন।
বিশুদ্ধতম মত হলো তারাবীহ এর নামাজ সুন্নতে মোয়াক্কাদাহ।
(শরহুন নিকায়া ১/৩৪১)
অনেক ফুকাহায়ে কিরামের মতে সুন্নতে মোয়াক্কাদার স্তর ওয়াজিবের কাছাকাছি।
এটা ছেড়ে দেওয়া নিন্দনীয়।
নিয়মিত ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে।
(রদ্দুল মুহতার)
🔲 তারাবীহ নামাজ দুই দুই রাকআত করে পড়বেন। এক সালামে দুই রাকআত এভাবে ১০ সালামে ২০ রাকআত নামাজ পড়া সুন্নত। অর্থাৎ দুই রাকআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে আবার দুই রাকআত পড়া এভাবে ২০ রাকআত।
(সুত্র- ইমাম নববীর আল আযকার পৃ ৮৩, ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম খঃ১ পৃঃ ২৬৭)
🔲 তারাবী ২০ রাকাত পড়াই মূলত সুন্নত।
৮ রাকআত নয়! সাহাবা তাবেয়ী সহ সালাফদের হতে ২০ রাকাতের কম তারাবী হবার মত প্রমাণিত নয়। ২০ রাকআত তারাবীহ সুন্নত সাব্যস্ত হবার ব্যাপারে বিস্তারিত দলীল প্রমান
জানতে হলে প্লে স্টোরে সার্চ দিয়ে 'মারকাযুল কুরআন ' এপ্সটা নামিয়ে পড়বেন।
এতে দলীলসহ নামাজের মাসায়েল বইয়ে বিস্তারিত পাবেন এছাড়াও এতে ২০ রাকআত তারাবীর হাদিস সহীহ হবার ব্যাপারে আলাদা একটা বই ও আছে যার লেখক- শাইখ ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আনসারী
(সাবেক গবেষক ও মুহাদ্দিস, কেন্দ্রীয় দারুল ইফতা, সৌদি আরব)
🔲 সহজ হিসাব -
যারা মনে করেন তারাবী ৮ রাকআত সুন্নত তারা ২০ রাকআত পড়লে ৮ রাকআত সুন্নত হলে সুন্নত আদায় হবে। আর বাকিগুলো নফল হিসেবে আদায় হবে। এতে সাওয়াব ই হবে।
লসের কিছু নেই..
কিন্তু যদি ৮ রাকআত পড়েন
তাইলে ২০ রাকআত সুন্নত হলে আমাদের অনেক আলেমের মতে তারাবীর সুন্নত আদায় হবেনা।
বরং সে নামাজ নফল হবে।
তাছাড়া বাকি এত রাকাত সুন্নত বাদ যাবে।
২০ এর মাঝে ৮ ও অন্তর্ভুক্ত
কিন্তু ৮ এর মাঝে ২০ অন্তর্ভুক্ত না।
তাই সুস্থ থাকাকালীন ২০ রাকআত পড়ে সংশয় মুক্ত থাকা উচিত।
নেকীর পাল্লা ভারী করা উচিত 🍀
তাছাড়া কম নয় যত বেশি পড়া যায় তত ই সাওয়াব হবে আর শেষ দশকে শবে কদর এর রাতে তো ইবাদতের সাওয়াব হাজারগুন বেড়ে যায় তাই নামাজ কমিয়ে পড়ে লস কার তাও ভাবা উচিত।
তবে অবশ্য ই ধীরেসুস্থে নামাজ পড়তে হবে।
তাড়াহুড়া করে উঠবস করলেই হবেনা।
টাইম নিয়ে বিশ্রাম নিয়ে নিয়ে সুন্দরভাবে
নামাজ পড়বেন।
আর অসুস্থ হলে বসে পড়তে পারেন।
বিনা কারনে বসে পড়া অপছন্দনীয়।
#মাসআলা হলো- বিনা উজরে বসে বসে তারাবীহর নামাজ আদায় করলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু অর্ধেক সাওয়াব হবে।
এবং যদি কেও দূর্বল হয় কিংবা অলস হয় এবং দীর্ঘ সময় নামাজ বরদাশত করতে না পারে তাইলে প্রত্যেক তাশাহুদ অর্থাৎ আত্তাহিয়াতু পড়ার পর সালাম ফিরানো জায়েজ। তবে যথাসম্ভব দরুদ না ছাড়া উচিত। তবে দুয়া মাসুরা ছেড়ে দিলে অসুবিধা নেই। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী, খঃ ১ পৃঃ ৬১, সংগ্রহীত ফাতওয়া)
সুতরাং তারাবী পড়তে পড়তে হাঁপিয়ে উঠলে/ কস্টকর মনে হলে বাকি নামাজ বসে পড়তে পারেন। এতে সাওয়াব অর্ধেক পাবেন।
তবু পুরোটাই পড়ার চেষ্টা করবেন।
যাদের বাচ্চা আছে তারা রাতে বাচ্চা ঘুমানোর পর পড়তে পারেন। সারা রাত ই তো পড়ার সুযোগ আছে। আর কখনো বাচ্চা রাখার কেও না থাকা এবং বাচ্চার কান্নাকাটির কারনে বা অসুস্থতা বা অন্য কোন বড় অসুবিধার কারনে কম পড়লে বা পড়তেই না পারলে ভিন্ন কথা। যথাযথ ওজরের কারনেই কোন দিন না পড়লে গুনাহ হবেনা ইনশাআল্লাহ।
#তারাবী না পড়লে রোজা হবেনা এমন কিন্তু নয়। কেও কখনো তারাবী না পড়লেও রোজা হবে। এবং কেও শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য যথাযথ কারনে রোজা না রাখলেও সামর্থ্য থাকলে তারাবী পড়তে হবে। অর্থাৎ রোজা রাখা এবং তারাবী পড়া দুটো দুই আমল। একটার জন্য আরেকটা ছাড়া যাবেনা।
🔲 নামাজে দাঁড়িয়ে প্রথমেই নিয়ত করা জরুরি।
আর তা অন্তর এর সাথে সম্পর্কিত
সুতরাং দুই রাকআত তারাবীহের সুন্নত সালাত আদায়ের নিয়ত করছি মনে মনে এরুপ নিয়ত করাই যথেষ্ট। আর "একবার নিয়ত করার পর বাকি সব রাকআত এর জন্য আবার এভাবে নিয়ত করার ও জরুরত নেই। দাঁড়িয়েই আল্ল-হু আকবার বলে নামাজ শুরু করলেই হবে। "
(সুত্রঃ ফাতওয়ায়ে আলমগীরী)
🔲 যারা বাসায় নামাজ পড়েন এবং সুরা তারাবীহ পড়েন তারা সূরা ফাতেহার পর
সিরিয়াল ঠিক রেখে সূরা মিলাতে পারেন
বা চাইলে সুবিধামত যে কোন সূরাই
মিলাতে পারেন। কোন সূরা নির্দিষ্ট না।
বড় সূরা মুখস্থ না থাকলে সুরা ফাতিহার পর সুরা আলাম তারা হতে সূরা নাস পর্যন্ত ছোট দশ সুরা হতে একটা সুরা মিলিয়ে পড়তে পারেন।
চাইলে দুই তিন টাও একসাথে পড়া যায়।
এ ক্ষেত্রে তারতীব (ধারাবাহিকতা) রক্ষা না করে পড়া মাকরুহ না। আপনি যে কয়টি সূরা পারেন
তা দিয়েই পড়তে পারেন।
মোট কথা সূরা মিলানোর ব্যাপারেও
চিন্তিত হবার কিছু নেই।
কোন সূরা বা তিন আয়াত পড়লেই হবে।
🔲 তারাবীহ শব্দ টি তারবীহাতুন শব্দের বহু বচন অর্থ ক্ষনিক বিশ্রাম।
রমজানের এই নামাজে প্রতি চার রাকআত পর পর বিশ্রাম বা আরাম গ্রহণ করা মুস্তাহাব।
তাই তাকে তারাবীহ বলে অভিহিত করা হয়।
চার রাকআত পর পর চার রাকআত পরিমান সময় বিশ্রাম নেওয়া উত্তম।
এই সময়ে যে কোন আমল করা যায়
যেমন কুরআন তিলাওয়াত করা, জিকির করা, দরুদ পড়া। কিংবা একাকী নফল নামাজ পড়া বা দোয়া করা। বা কেও চাইলে চুপ থাকতেও পারে।
এ সময়ে পড়ার কোন নির্দিষ্ট দোয়া হাদিসে বর্নিত না। উচ্চস্বরে কিছু পড়া যাবেনা।
সম্মিলিতভাবে দুয়া করা যাবেনা।
সবাই নিজের ইচ্ছেমত আমল বা দুয়া করবে।
[চাইলে যে কোন আরবি দোয়া পড়া যায়।
আর নিজ ভাষায় তো করা যায় ই]
(সুত্র- বাদায়ে ১/৬৪৮, দুররে মুখতার,শামী ২/৪৯৬-৯৭)
(তারাবী সংক্রান্ত আলিমদের লিখিত কিতাব এর সাহায্যে মাসআলা উল্লেখ করে বিস্তারিত ভাবে বুঝিয়ে লিখার চেষ্টা করেছি। আশা করি বুঝতে কস্ট হবেনা )
◼ কিছু বিষয় আরো স্পষ্ট করি-
#নামাজের নিয়ত নিয়ে কখনোই চিন্তিত হবেন না।
নিয়ত মানেই মনের সংকল্প।
আপনি জানেন যে তারাবীহ সুন্নত।
তো আপনি যে রামাদ্বনের তারাবীহ নামাজ পড়তে
দাঁড়িয়েছেন এটা তো মাথায় আছে?
এই ইচ্ছে সংকল্প নিয়ে যখন দুই রাকআত নামাজ পড়ার জন্য দাড়াবেন তখন আলাদা মুখে আরবিতে নিয়ত পড়ার তো প্রয়োজন নেই।
যেসব আরবি নিয়ত বইতে আছে তা
হাদিসে আসেনি। কোন নামাজেই নিয়ত আরবীতে পড়া জরুরী না, সুন্নত ও না। পড়ায় কোন সাওয়াব ও নেই। উলটা আরবিতে ভুল পড়তে পারেন।
কেন নামাজ পড়াকে নিজের জন্য অযথাই কঠিন করবেন! আগে যেভাবে পড়েছেন
পড়েছেন এখনো কঠিনভাবে পড়ার দরকার নেইত।
সুন্নাত না ভেবে, সাওয়াব এর আশা না করে এম্নিতে পড়াও বিদআত এমন নাহ।
তাই যদি মনের সাথে সাথে নিয়তের ব্যাপারে শিউর হবার সুবিধার্থে মুখেও বাংলায় নিয়ত পড়েন তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু এ ব্যাপারে মতভেদ তো দেখতেই পাচ্ছেন সুতরাং নিয়ত পড়া বিদআত নাকি না এসব নিয়ে কনফিউশন বাদ দিয়ে নিয়তের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে যে নামাজ পড়ছেন যত রাকআত পড়ছেন এবং তা ফরজ নাকি সুন্নত নাকি বিতর তা মনে মনে বাংলায় বললেই পারেন অর্থাৎ ভাবলেই পারেন।
আর ২০ রাকাত তারাবীর নিয়ত সুন্নতের করবেন নাকি নফলের এ নিয়েও কনফিউজড হবেন না।
যাদের মতে নফল নামাজ সেক্ষেত্রেও নফলের অপর নাম সুন্নতে গাইরে মুয়াক্কাদা।
সুতরাং সুন্নত ভেবে পড়তে সংশয়ের কিছু নেই।
#দুই রাকআত পর পর নির্দিষ্ট দোয়া
-সুবহানা যিল মুলকি.. বা চার রাকআত পরপর মুনাজাতে আল্লহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাহ...
পড়ার কথা অনেকে কোন বই এ পেয়েছেন।
কথা হলো তারাবীর পরে পড়ার কোন নির্দিষ্ট দোয়া মুনাজাত হাদিসে নেই।
কোন বুযুর্গ হয়ত আরবিতে কোন দোয়া বা মুনাজাত পড়েছেন আর তা পরবর্তীতে প্রচলিত হয়ে যায় তারাবীহ সালাতের দোয়া/মুনাজাত হিসেবে। এসব আরবি দোয়া মুনাজাত না পড়াতে তারাবীর কোন ক্ষতি নেই।
এগুলা পড়া জরুরী নয়, সুন্নত ও নয়।
দোয়ার অর্থ ভালো তাই মুখস্থ থাকলে কেও চাইলে পড়তে পারে, এই দোয়া গুলা পড়া জায়েজ
কিন্তু তা সুন্নত ভেবে বা পড়া জরুরী
ভেবে পড়লে বিদআত হবে।
#চার রাকআত পর পর কিছুক্ষন বিরতি নিয়ে যে কোন দোয়া জিকির আমল করতে পারেন। নির্দিষ্ট কিছু পড়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এবং বিশ্রাম নিতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা ও নেই।
কেও বিশ্রাম না নিয়ে একটানা তারাবীহ পড়লেও কোন গুনাহ নেই।
#মুনাজাত তো নামাজের অংশ না।
দুই চার রাকআত পরে মুনাজাত করবেন নাকি একেবারে ২০ রাকআত পর মুনাজাত করবেন এসব নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
আপনার যখন ইচ্ছে মুনাজাত করতে পারেন।
আবার না ও করতে পারেন।
#মূল কথা তারাবীহ নামাজের আলাদা বিশেষ কোন নিয়ম নেই। নফল বা সুন্নত নামাজ যেভাবে পড়া হয় সেভাবেই পড়বেন।
নামাজকে নিজের জন্য কঠিন না বানিয়ে
সহজভাবে পড়ুন।
◼ শেষ করবো হাদিস নিয়ে
#আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমাযানে ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় কিয়ামে রমাদ্বন (অর্থাৎ তারাবীহর সালাতে) দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী (সগীরা)
গোনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে। 🍀
(সহীহ বুখারী )
والله اعلم بالصواب
✍ Jumana puspo
(দাওরায়ে হাদীস)
[الجامعة الاهلية للبنات برامبورا داكا]
[আগের লিখা]
■ কপি করে অন্যদের জানার সুযোগ করে দিতে পারেন।