17/02/2026
তিনটা ছানার কিচিরমিচির ময় জীবন,
পাখির মতো হালকা মিষ্টি স্বরে সারাদিন সারাক্ষণ
বড়পুত্র ডাকে মা...
ছোটজন ডাকে আম্মু...
কুট্টুসটা চোখ গোলগোল করে
ঠোঁট গোলগোল করে তারপর ডাকবে মোম্মাম আম্মাম ওম্মাম....!!
এই মধুময় জীবনটা অনুভব করা যায় যদি সুস্থতা থাকে,
ছোট্টজনের একবছর পূর্ণ হলো,এতো কঠিন একটা বছর আল্লাহ আমাকে পার করিয়ে নিলেন বলার ভাষা নাই।।
আমার পুরো জীবনটা একপাশে রাখলে আর গত দেরটা বছর আরেক পাশে রাখলেও সমান হবে না।।।
তিনটা বেবির মা হওয়া+একলা সামাল দেয়া+তিনটা সিজার হওয়া ভিষন কঠিন বিষয়।।
আজকে নিজের কথা একটু লিখবো তাদের জন্য যারা এখনও মা হননি
কিংবা বেবি আসছে অল্প কদিন বাকি।।
যতক্ষণ সম্ভব চেষ্টা করা,প্রথম সন্তান কিছুতেই সিজার নয়।।
আবারও বলি প্রথম সন্তান কিছুতেই সিজার নয়।।
বাচ্চাদের জন্য একটা সুস্থ সবল মা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।।
ছোট্ট বেবিটার তিনমাস বয়স থেকে শুরু হয়,একটু একটু করে বাড়ছে।।
পুরো মেরুদণ্ডের হাড় জুড়ে ভয়ংকর ব্যাথা,সাথে হাঁটু পায়ের গোড়ালি এতটা বাজে অবস্থা একটুখানি হাঁটাচলা কাজ বেশি করলেই কান্না করে দিতে মন চাইতো।। জানা নেই এর চেয়ে বেশি ব্যাথা সহ্য করে চলা যায় কিনা।।
এভাবেই চলছে, একটু চলার মতন থাকে তো আবার সহ্যের বাইরে চলে যায় পিঠের ব্যাথাটা......সোজা পুরোটা মেরুদন্ড দিয়ে।।
ক্যালসিয়াম ভিটামিন-ডি খাওয়ারও নির্দিষ্ট মাত্রা আছে,
এরচেয়ে বেশি তো খাওয়া যায় না..... ছোট ছোট বাচ্চা ফেলে শুয়েও থাকা যায় না।। কোলের বাচ্চা মাটিতে নামায় দেয়া যায় না।। ভার টানার জন্য আবার সেলাইয়ে ব্যাথা!!
২য় ছেলের যখন ৭/৮মাস তখন আমার সেইম সমস্যা হয়,অনেক লম্বা সময়ের চিকিৎসার পর কষ্ট গুলো কমে।।
আমার চিন্তাতেও ছিল না আরেকটা সিজারের পর আবার সেই পঙ্গুদশার আগমন ঘটবে,আল্লাহ মাফ করেন।।কয়েক বার ডাক্তার দেখানো আরও বেশি কষ্ট তিন বাচ্চা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি।।
নরম মানুষ আমি, বাচ্চাদের প্রচন্ড ভালোবাসি।।
অনেক অনেক আদরের বাবুরা আমার।।
অসুস্থ মানুষেরা যখন জোর করে চলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাচ্চাদের সাথে হইচই রাগারাগি করে, এদিকে যেদিন আমি আর কুলাতে পারি না কান্না করি কেন আমি আরও শক্তিশালি হলাম না আমার বাচ্চাদের না জানি কম যত্ন হচ্ছে!! ওদের যদি আরও যত্ন করতে পারতাম!!
মায়ের মন,কখনও যদি আরেকটা ছোট্ট বেবি পাওয়ার জন্য আকুলতা আসেও আরেকটা সিজারের সাহস হয়তো হবে না।।।
বেঁচে থাকতে হবে বাঁচার মতন,বাচ্চাদের আগলে রাখার শক্তি নিয়ে।।
আপনি ভেঙে পরলে আসলে কেউ কি সাহায্য করে??
তাই নিজের শক্তির সাথে জেদ করা ছেড়ে দিতে হবে... জোর করে বেশিদিন শরীর চালায়ে নেয়া যায় না।।
আবারও বলি নিজেকে সারা জীবনের জন্য হাড় ভাঙ্গা বানাতে না চাইলে প্রথম সন্তান সিজার না।
অন্তত সর্বোচ্চ চেষ্টা করা!!
একটু শক্ত থাকা।।