Tex Search International Bangladesh Apparel Sourcing

Tex Search International Bangladesh Apparel Sourcing TSI is All kinds of Fabrics Manufacturer and Suppler Around the world , We supply good quality fa

13/11/2021

অর্থনীতির গেম চেঞ্জার-২
পোশাক রপ্তানিকে পথ দেখান রিয়াজউদ্দিন
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য এখন অর্থনীতিতে। ৫০ বছরে বাংলাদেশ নামের কথিত ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হয়ে উঠেছে চমকেভরা জাদুর বাক্স। সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশ এখন বাণিজ্যনির্ভর দেশে পরিণত। তবে যাত্রাপথটা সহজ ছিল না। বড় বড় ঝুঁকি নিয়ে অভিনব পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আমাদের সাহসী উদ্যোক্তারা। এই সাফল্যের পেছনে আরও যাঁরা ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অর্থনীতিবিদ যেমন ছিলেন, আছেন নীতিনির্ধারকেরাও। মূলত অর্থনীতির এসব অগ্রনায়ক, পথরচয়িতা ও স্বপ্নদ্রষ্টারাই ৫০ বছরে বিশ্বে বাংলাদেশকে বসিয়েছেন মর্যাদার আসনে।
আমরা বেছে নিয়েছি সেই নায়কদের মধ্যে ৫০ জনকে। আমাদের কাছে তাঁরাই অর্থনীতির ‘গেম চেঞ্জার’।

শুভংকর কর্মকারঢাকা
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২১, ১৮: ৪১
অ+
অ-
পোশাক রপ্তানিকে পথ দেখান রিয়াজউদ্দিন
দেশ স্বাধীনের পর পাঁচ দশকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল শিল্প খাত হচ্ছে তৈরি পোশাক। বর্তমানে মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এই খাতটি থেকেই আসে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে বর্তমানে তৃতীয়। করোনার আগে অবশ্য দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। সেই পোশাক রপ্তানিকে পথ দেখিয়েছিলেন রিয়াজ গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন।

১৯৭৮ সালের ২৮ জুলাই মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন ১০ হাজার শার্ট ফরাসি ক্রেতা হলান্ডার ফ্রঁসের কাছে রপ্তানি করেন। শার্টের ওই চালানের ফরাসি মুদ্রায় দাম ছিল ১৩ মিলিয়ন ফ্রাঁ, বাংলাদেশি টাকায় যা ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা। সেটিই ছিল বাংলাদেশ থেকে প্রথম পোশাক রপ্তানি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি টিকে না থাকলেও পোশাকশিল্পের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন ও তাঁর রিয়াজ গার্মেন্টসের নাম।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রিয়াজ গার্মেন্টস
রিয়াজ গার্মেন্টসছবি–সংগৃহীত
মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন প্রথম পোশাক রপ্তানি করলেও প্রথম শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা গড়েছিলেন মোহাম্মদ নূরুল কাদের। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘দাইয়ু’–এর সঙ্গে যৌথভাবে চট্টগ্রামে দেশ গার্মেন্টস নামে কারখানা গড়ে তোলেন তিনি। ১৩০ জনকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়ে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেন। তাঁদের অনেকেই পরে পোশাকশিল্পের বড় উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

আবার মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিনের বিষয়ে ফেরা যাক। ১৯৫৮ সালে তিনি পারিবারিক গার্মেন্টস ব্যবসায়ে যোগ দেন। করাচি থেকে কাপড় ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র এনে তাঁরা বিক্রি করতেন। বছর দুয়েক পর রিয়াজউদ্দিন ও তাঁর ভাগিনা মো. মাইজুদ্দিন মিলে চকবাজারে ‘রিয়াজ স্টোর’ চালু করেন। সেখানে শার্টসহ নারী ও পুরুষের অন্যান্য পোশাক বিক্রি হয়। পাশেই ছোট্ট কারখানায় আটটি সেলাই মেশিনে ক্রয়াদেশের পোশাক তৈরি করতেন শ্রমিকেরা। রিয়াজ স্টোরে তখন উন্নত মানের শার্ট তৈরি হতো। সেই শার্ট তৈরির জন্য মারওয়াড়ী বণিকদের কাছ থেকে জাপানি কাপড় সংগ্রহ করতেন রিয়াজউদ্দিন। কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় রিয়াজ স্টোরের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ষাটের দশকে একটি রিয়াজ শার্টের সর্বোচ্চ দাম ছিল ১০০ টাকা। সমাজের উচ্চবিত্তেরা সেই শার্ট পরতেন। চাহিদা মেটাতে কারখানার সেলাই মেশিনের সংখ্যা ২০টিতে উন্নীত করতে হয়েছিল।

তিন নভোচারীর প্রশংসাসূচক চিঠি
তিন নভোচারীর প্রশংসাসূচক চিঠিছবি–সংগৃহীত
সেই সময় একটি দারুণ ঘটনা ঘটে। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই চাঁদের বুকে পা রাখেন অ্যাপোলো-১১–এর তিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং, মাইকেল কলিন্স ও এডউইন অলড্রিন। তাঁরা পৃথিবীতে ফিরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন সেই বিজয়ের আনন্দ বিশ্ববাসীর সঙ্গে ভাগাভাগি করে দিতে তিন নভোচারীকে বিশ্বভ্রমণে পাঠান। ওই বছরের ২৭ অক্টোবর ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিন নভোচারী। সেদিন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তাঁদের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছিল। শত শত মানুষের মধ্যে রিয়াজউদ্দিন সেই অনুষ্ঠানে নিজের রিয়াজ স্টোরের তিনটি শার্ট নভোচারীদের উপহার দেন। নভোচারীরা সেই শার্ট উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁদের কাছ থেকে ধন্যবাদ ও প্রশংসাসূচক একটি চিঠিও পান রিয়াজউদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

রিয়াজউদ্দিন শার্ট রপ্তানির উপায় খুঁজছিলেন। সে জন্য বেশ কয়েকবার করাচি ঘুরে এলেন। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কারণে সেই পরিকল্পনায় ছেদ পড়ে। তখন চকবাজারের অন্য সব দোকানপাটের সঙ্গে রিয়াজউদ্দিনের রিয়াজ স্টোর ও কারখানা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পুড়িয়ে দেয়। দেশ স্বাধীনের পর নতুন করে শুরু করলেন রিয়াজউদ্দিন। চকবাজারের পাশেই উর্দু রোডে কারখানা দিলেন। ১৯৭৩ সালে সেই প্রতিষ্ঠানের নাম দেন রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন। পরিচালক ছিলেন মো. মাইজুদ্দিন।

রিয়াজ শার্টকে জনপ্রিয় করতে নানামুখী উদ্যোগ নেন রিয়াজউদ্দিন। নিজের প্রতিষ্ঠানের ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান ছড়িয়ে দিতে একটি বাইসাইকেল রেসে অর্থায়ন করলেন। কলকাতার মোহনবাগান ক্লাবের খেলোয়াড়েরা যখন বাংলাদেশে আসেন, তাঁদের শার্ট উপহার দিলেন। মোহনবাগানের তখনকার জনপ্রিয় খেলোয়াড় চুনি গোস্বামির ছবি দিয়ে তৈরি করা বিজ্ঞাপনও পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপনে চুনি গোস্বামির বরাত দিয়ে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশে খেলতে এসে আমরা খুব খুশি হয়েছি রিয়াজ গার্মেন্টসের শার্ট পরতে পেরে...।’

প্রথম পোশাক রপ্তানি
প্রথম পোশাক রপ্তানিছবি–সংগৃহীত
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম কৃষি ও শিল্প মেলায় রিয়াজ গার্মেন্টসের একটি প্যাভিলিয়ন দেন রিয়াজউদ্দিন। পরের বছর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কর্মকর্তাদের রিয়াজ শার্ট রপ্তানি করার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেন রিয়াজউদ্দিন। বেশির ভাগ কর্মকর্তাই নিরাশ করলেন। তবে আশার আলো দেখালেন বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব। তাঁর চেষ্টায় রিয়াজ গার্মেন্টসের শার্টের নমুনা ফ্রান্সে পাঠানো হলো। সেই শার্টের মান দেখেই ক্রয়াদেশ আসে। ১৯৭৮ সালে ১০ হাজার শার্ট ফরাসি ক্রেতা হলান্ডার ফ্রঁসের কাছে রপ্তানি করেন রিয়াজউদ্দিন। পরের দুই বছর আরও ২ লাখ ৮০ হাজার শার্ট রপ্তানির তিনটি ক্রয়াদেশ পায় তাঁর প্রতিষ্ঠান।

দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত রপ্তানির সংবাদ
দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত রপ্তানির সংবাদছবি–সংগৃহীত
পুরান ঢাকায় ১৯৩৪ সালের ৩ অক্টোবর রিয়াজউদ্দিনের জন্ম। স্ত্রী মমতাজ বেগম, দুই মেয়ে ফাতেমা বেগম ও মরিয়ম ইসলাম এবং চার ছেলে মো. গিয়াসউদ্দিন, মো. আযাজউদ্দিন, মো. নিয়াজউদ্দিন ও মো. সালাউদ্দিনকে নিয়ে মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিনের সংসার ছিল। পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকদের কাজ করার পরিকল্পনাটিও রিয়াজউদ্দিনই প্রথম করেছিলেন। শুরুতে সফল হলেন না, কারণ কারখানায় কাজ করলে পরিবারের সুনাম নষ্ট হতে পারে এই ভয়ে কেউ আসছিল না। তখন ১৯৭৭ সাল। নিজেই উপায় বের করলেন। নিজের বড় মেয়ে ফাতেমা বেগমকে বুঝিয়ে–শুনিয়ে মাসিক ১০০ টাকা বেতনে কারখানায় নিয়োগ দিলেন। তাঁকে দেখে আশপাশের নারীরা আগ্রহ দেখালেন। প্রথম দিকে ৫ জন নারীশ্রমিক রিয়াজ গার্মেন্টসে যোগ দেন।

১৯৯৮ সালে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে নতুন কারখানা করলেন রিয়াজউদ্দিন। সেই কারখানার নাম রিয়াজ এক্সপোর্ট অ্যাপারেল। সেখানে দিনে পাঁচ হাজার শার্ট তৈরি হতো। আর উর্দু রোডের কারখানায় দিনে তৈরি হতো ৩ হাজার শার্ট। কারখানা দুটিতে তখন কাজ করতেন ৭৫০-৮০০ পোশাকশ্রমিক। তবে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যাংকঋণে বোর্ডবাজারের কারখানাটি করার বছর তিনেক পর থেকেই নানামুখী সমস্যা শুরু হয়। ২০০৩ সালে ইতালির এক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের ৮-৯ লাখ ডলারের শার্টের ক্রয়াদেশ পায় রিয়াজ গার্মেন্টস। ৩-৪ লাখ ডলারের শার্ট ঠিকঠাক রপ্তানিও হয়। তারপর হঠাৎ ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হলে বাকি শার্ট স্টক লটে বিক্রি করতে হয়। তখন ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যায়। তারপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি রিয়াজ গার্মেন্টস।

বিজ্ঞাপনে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড
বিজ্ঞাপনে স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডছবি–সংগৃহীত
২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল রিয়াজউদ্দিন মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর রিয়াজ গার্মেন্টস ও রিয়াজ এক্সপোর্ট অ্যাপারেল তিন বছর টিকে ছিল। মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিনের ব্যবসায় তাঁর বড় ছেলে মো. গিয়াসউদ্দিন ১৯৮৩ সালে যোগ দেন। ১৯৯০ সালে আযাজউদ্দিন এবং ১৯৯৪ সালে নিয়াজউদ্দিন ও সালাউদ্দিন যোগ দেন। ২০১২ সালে আযাজউদ্দিন মারা যান। অন্য দুই ভাইও বর্তমানে পোশাকের ব্যবসায় নেই। ছোট ছেলে মো. সালাউদ্দিন বর্তমানে বায়িং হাউসের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আছেন।

রিয়াজ গার্মেন্টস–এ তৈরি হচ্ছে পোশাক
রিয়াজ গার্মেন্টস–এ তৈরি হচ্ছে পোশাকছবি–সংগৃহীত
মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন সম্পর্কে জানতে তাঁর ছেলে মো. সালাউদ্দিনের সঙ্গে গত মঙ্গলবার রাতে কথা হয়। বাংলাদেশের প্রথম পোশাক রপ্তানিকারক সম্পর্কে জানতে চাই বলার পরপরই আন্তরিকতার সঙ্গে স্মৃতির ঝাঁপি খুলে দিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন ও তাঁর রিয়াজ গার্মেন্টসের বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত ও কয়েক দশকের পুরোনো স্থিরচিত্র দিলেন। নিজের বাবা সম্পর্কে মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার বাবা একজন সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। তবে ব্যাংকের ঋণ কিংবা দায়দেনাকে ভীষণভাবে ভয় পেতেন। সে জন্য সুযোগ থাকার পরও ব্যবসা বড় করেননি।’ তিনি বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর ঋণের বোঝা নিয়ে কারখানা চালাতে সায় দিলেন না আমার মা। তাঁর ইচ্ছেমতোই আমরা সবকিছু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করলাম।’

সালাউদ্দিন বলেন, ‘বাবার প্রতিষ্ঠানে আমি ১৯৯৪ সাল থেকে কাজ করেছি। ঐতিহাসিক সেই প্রতিষ্ঠান আর নেই। তবে সব স্মৃতি আমরা আগলে রেখেছি। রপ্তানির অনুমতিপত্র থেকে শুরু করে বন্ড লাইসেন্স সবই আছে আমাদের কাছে।’ আরও বলেন, ‘আমার বাবা ও রিয়াজ গার্মেন্টসকে নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। দেশের ইতিহাসের সঙ্গে নামগুলো জড়িয়ে আছে। বাবাকে যেন দেশের মানুষ সব সময় শ্রদ্ধার সঙ্গে সম্মান করেন, সে জন্য আমরা রিয়াজ গার্মেন্টস নামে আর কোনো পোশাক কারখানা করতে চাই না।’

08/08/2021

ভিয়েতনামকে পোশাক রপ্তানিতে পেছনে ফেলব কীভাবে
মামুন রশীদ
মামুন রশীদ
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২১, ০৮: ৩০
অ+
অ-
ভিয়েতনামকে পোশাক রপ্তানিতে পেছনে ফেলব কীভাবে
বিশ্ববিদ্যালয় পাঠের প্রথম দিকে পড়েছিলাম মোরশেদ শফিউল হাসানের বই ‘অবাক নাম ভিয়েতনাম’। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের ব্রডওয়েতে দেখেছিলাম থিয়েটার ‘লে সায়গন’। পেশাগত কাজেও অনেকবার ভিয়েতনাম যেতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে, বিশেষ করে রপ্তানিবাণিজ্যে ভিয়েতনামের নাম বেশ প্রশংসিত। আমাকে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ানের কর্ণধার কিহাক সুং বলেছিলেন, সেখানকার এক মেয়রের সঙ্গে যখন তাঁর কারখানার যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছিলেন, কীভাবে সেই মেয়র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেই অঞ্চলের রাস্তাটিকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে দিয়েছেন। অনেকে বলেন, রাজনৈতিক কারণ তথা নিয়ন্ত্রিত শাসনব্যবস্থা, দক্ষ জনবলের সহজলভ্যতা, রপ্তানিপণ্যের বৈচিত্র্য, চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রিয় দেশ (মোস্ট ফেবারড নেশন) হিসেবেও ভিয়েতনাম বেশ সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে।

পত্রিকান্তরে আমরা জেনেছি, দীর্ঘদিনের বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানের তৈরি পোশাক রপ্তানির দেশের গর্বের মুকুট হারিয়ে বসেছে আমাদের তৈরি পোশাক খাত। চীনের পরে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানটি বাংলাদেশের কাছ থেকে সম্প্রতি ছিনিয়ে নিয়েছে ভিয়েতনাম। অবশ্য বেশ কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার দৌড়ে ক্রমান্বয়ে পিছিয়ে পড়ছিল বাংলাদেশ। করোনাকালে সেটি দ্রুত ত্বরান্বিত হয়েছে। গত বছরই দ্বিতীয় স্থানটি নিজের করে নেয় ভিয়েতনাম।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) পরিসংখ্যান বলছে, ভিয়েতনাম গত দুই দশকে বাংলাদেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে ব্যবধান গড়ে নিয়েছে। ২০০০ সালে বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে দেশটির হিস্যা ছিল দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। সে সময় বাংলাদেশের হাতে ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ বাজার। পরের এক দশকে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা তিন গুণ বাড়লেও বাংলাদেশের মাত্র দেড় গুণের একটু বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক তৈরি পোশাকের বাজারে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হিস্যা ভিয়েতনামের দখলে। বাংলাদেশের হাতে রয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। গত বছর ভিয়েতনাম ২ হাজার ৯০০ কোটি, আর বাংলাদেশ ২ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত ১০ বছরে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনাম গড়ে ১১ শতাংশ ও বাংলাদেশ ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।

বছর বছর সরকারের প্রণোদনা ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ (ইইউ) অন্য অনেক বাজারে শুল্কমুক্ত বাজার-সুবিধা পাওয়ার পরও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অনেক কারণের বড়টি হচ্ছে, দশকের পর দশক ধরে বেসিক বা সস্তা পোশাকই রপ্তানি করে আসছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উদ্যোক্তারা। মোট পোশাক রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই টি-শার্ট, ট্রাউজার, শার্ট, সোয়েটার ও জ্যাকেট—এই পাঁচ পণ্য থেকে আসছে।

বিজ্ঞাপন

তা ছাড়া বিশ্বজুড়ে বর্তমানে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের চাহিদা থাকলেও এই জায়গায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। বিশ্বে বিক্রি হওয়া ৭৮ শতাংশ পোশাকই কৃত্রিম তন্তুর। আর বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির ৭৪ শতাংশ তুলার। এই জায়গায় অনেক এগিয়ে রয়েছে ভিয়েতনাম। যেটি আগেই বলেছি, তারা বাংলাদেশের মতো পাঁচ পণ্যে আটকে না থেকে বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক প্রস্তুত করছে। সেসব পণ্যের মধ্যে আবার কৃত্রিম তন্তুর পোশাকই বেশি।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারাই বলছেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের অনেকেই চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছেন। সরে আসা এসব ক্রয়াদেশের কিছু অংশ বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ পেয়েছে। তবে বড় অংশ গেছে ভিয়েতনামে। কারণ, চীন থেকে যেসব ভ্যালু অ্যাডেড বা বেশি দামের বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাকের ক্রয়াদেশ সরেছে, তা করার সক্ষমতা কেবল ভিয়েতনামেরই রয়েছে। গত বছর করোনাকালে ভিয়েতনামের রপ্তানি মাত্র ৭ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশের কমেছে ১৫ শতাংশের মতো। গুজব আছে, চীনের উদ্যোক্তারাই ‘সাবমেরিন ট্রেডের’ (চীনে তৈরি করা শার্টের শুধু কলারটি ভিয়েতনামে তৈরি করে মেড ইন ভিয়েতনাম বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে) আড়ালে চীনের তৈরি পণ্যও ভিয়েতনাম থেকে রপ্তানি করছে।

পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও পর্যালোচকদের অনেকেই মনে করেন, ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে, সেটিই স্বাভাবিক। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না থাকাই এর জন্য দায়ী।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের নেতৃত্ব বরাবরই এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে আসছে। যদিও কয়েক বছর ধরে বস্ত্র খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আনার কথা বলছে তারা, তবে সেটিও দ্রুতলয়ে এগোচ্ছে না। ফলে কম দামি পোশাকের বাইরে বড় আকারে নতুন পণ্য উৎপাদনে যেতে পারছে না বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। তাদের পোশাক ও বস্ত্র খাতের অধিকাংশ বিনিয়োগই বিদেশি।

ভিয়েতনামের ম্যাগাজিন ভিয়েতনাম ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের প্রথম ১১ মাসে সেই দেশে ১৮৪টি পোশাক ও বস্ত্র কারখানায় ১৫৫ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ আসে। এর তিন ভাগের এক ভাগ বিনিয়োগ হংকং থেকে এসেছে। সরাসরি চীন থেকে এসেছে ২৭ কোটি ডলারের বিনিয়োগ। ওই বছর দেশটির মোট পোশাক ও বস্ত্র খাতের রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই আয় করছে বিদেশি কোম্পানিগুলো। সব মিলিয়ে তাদের পোশাক ও বস্ত্র কারখানার সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি।

করোনার কারণে গত বছর বাংলাদেশের পোশাক কারখানাভেদে তিন থেকে চার সপ্তাহ বন্ধ ছিল। সে কারণে রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন সমস্যায় পড়েননি ভিয়েতনামের উদ্যোক্তারা। তবে চলতি বছর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন আমাদের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। এদিকে করোনা চলে যাওয়ার পরও প্রায় জ্ঞাত এক নতুন বিপদ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তখন একে একে শুল্কমুক্ত সুবিধা উঠে যেতে থাকবে। অন্যদিকে গত বছর ভিয়েতনাম ইইউর সঙ্গে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করেছে। ফলে ইইউর বড় বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশকে, যদি না আমরা জিএসপি প্লাস সুবিধা পাই।

পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও পর্যালোচকদের অনেকেই মনে করেন, ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে, সেটিই স্বাভাবিক। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা না থাকাই এর জন্য দায়ী। আবারও দ্বিতীয় স্থানে ফিরতে হলে বেশি দামের পোশাক উৎপাদনে যেতে হবে, যা ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোক্তা শুরুও করছেন। তবে দ্রুত এগোতে হলে সংযোগশিল্প, বিশেষ করে কৃত্রিম তন্তুর কাপড় উৎপাদনে বিপুল বিনিয়োগ লাগবে। এ জন্য চীনসহ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানাতে হবে। এমনকি বাংলাদেশ থেকেও ভিয়েতনামের পোশাকশিল্পে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করা যায় কি না, তার কথাও বিশ্লেষকেরা বেশ কিছুদিন ধরে বলাবলি করছেন। আমরা অবশ্যই আমাদের হারানো স্থান ফিরে পেতে চাই, তবে এর জন্য সরকার, উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক বন্ধুমহলকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে।

মামুন রশীদ অর্থনীতি বিশ্লেষক

24/05/2021

Today Yarn price for 100% Cotton and Organic Yarn (GOTS)
Pls see below Carder and combed Yarn price as per count :
1. 24s/1 *& 26s/1=$4.25/Kg
2. 28s/1 *& 30s/1=$4.28/Kg
3. 32s/1 =$4.48/Kg
4.34s/1=$4.67/Kg
5.36s/1=$4.87/Kg
6.40s/1=$5.20/Kg

NB: Add $.40/kg for Combed Yarn and $3 /Kg for Organic Yarn

20/04/2021

Dear Sir/Madam ,
We are export all types of ready made garments , if you have any query pls feel free contract with us

We are committed to export good quality product .

Best regards
Tex Search International ltd

05/10/2020
TSI  is All kinds of  Fabrics Manufacturer and Suppler  Around the world , We supply good quality fabric as per customer...
05/10/2020

TSI is All kinds of Fabrics Manufacturer and Suppler Around the world , We supply good quality fabric as per customer requirement with minimum price as well as Best Service to the Customer .

05/10/2020

>Knitting Marketing for Knitting Factory

Address

Akash Plaza , House # 21 , 3rd Floor, Road:7/D, Sector/09, Uttara
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tex Search International Bangladesh Apparel Sourcing posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share