'ফ্যাশন উদ্যোগ, ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস্ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (FEAB)' নামে পরিচিত একটি সংগঠন।
বাংলাদেশে অবস্থিত সর্বপ্রকার দেশীয় ফ্যাশন শিল্প ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত দল-মত-গোত্রের উর্দ্ধে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এই সংগঠন । আমাদের ফ্যাশন-ইতিহাস প্রাচীন। শিল্প খাত হিসেবে অভিযাত স্বাধীনতা-পরবতীকালে ৷ স্বাধীনতার নতুন দেশ গড়ার প্রক্রিয়া সবে শুরু হয়েছে। এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফ্
যাশন হাউস প্রতিষ্ঠার ভাবনাকে বাতুল্য বলা হলে বাহুল্য হবে না। কিন্তু দুঃসাহসী এই পদক্ষেপ, দূরদর্শী এই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, এই স্বপ্ন সাফল্যই গড়ে দিয়েছে দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির মহাসড়ক। অধিকন্তু এই উদ্যোগ বিবেচিত হয়েছে দেশ গঠনের অংশ হিসেবে। এরপর অপরিচিত এ পথে অনেকেই হেঁটেছেন। সফল হয়েছেন। এসব দৃষ্টান্ত হয়েছে নিরন্তর প্রেরণার উৎস। পাঁচ দশক পেরিয়ে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি আজ দৃঢ় অবস্থানে। অসংখ্য পরিসংখ্যান আমাদের আশা জাগায়। ফ্যাশন হাউজের বিচরণ এখন কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক নয়; বরং দেশজুড়ে। সংখ্যা ছোট-বড় মিলিয়ে নিদেনপক্ষে ৪৫০০। টার্নওভার কম করে ৬০০০ কোটি টাকা। জোর দিয়েই বলা যায়, এই শিল্প খাত উল্লেখযোগ্যভাবে নারীবান্ধব। সফল অভিযাত্রায় তাদের অংশগ্রহণ অন্তত ৭০ শতাংশ। বিভিন্ন স্তরে কর্মসংস্থান হচ্ছে ৫০ লক্ষ মানুষের। কমপক্ষে ১০ লাখ তাঁতি এই শিল্পের সঙ্গে রয়েছেন। এ ছাড়া তাঁতশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য পেশাজীবী অন্তত আরও ২০ লাখ। বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কারণে সরাসরি উপকৃত হচ্ছে বস্ত্রশিল্প, অনুষঙ্গশিল্প, রঞ্জনশিল্প, ছাপশিল্প, সূচিশিল্প, তৈরি পোশাকশিল্প। এই ইন্ডাস্ট্রি দেশের বিভিন্ন কারুশিল্প মাধ্যম টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। অলংকারশিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশ ও বেতশিল্প, শতরঞ্চিশিল্প, পাটশিল্প, চামড়াশিল্প, নকশি কাঁথাশিল্প, কাঁসা ও পিতলশিল্প, পাটিশিল্প এর অন্যতম। উপরন্তু আমাদের উৎসব সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আর দেশজ শিল্প অবলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। এই শিল্পের সম্ভাবনায় প্রাণিত হয়ে নতুন পরিচয়ে সম্পৃক্ত হচ্ছে অনেক তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠান।
তার পরও বলতেই হয়, আশু প্রয়োজন শিল্প খাত হিসেবে সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও প্রয়োজনীয় নীতিমালা। উপরন্তু ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে উন্নয়নের ক্ষেত্র রয়েছে অবারিত। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা, বিদেশি আগ্রাসন মোকাবিলা এবং দৃঢ় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হলে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। পাশাপাশি আরও রয়েছে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা। এসবই সম্ভব যূথবদ্ধ প্রয়াসে। ফ্যাশন উদ্যোগ তারই নামান্তর। দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে ফ্যাশন উদ্যোগের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডেও সেই প্রমাণ মিলবে বলে আশা করা যায়। অবশ্য প্রতিশ্রুতির সঠিক প্রতিফলন ঘটানোর জন্য উদ্যোক্তাদের সচ্ছিদা, চেষ্টা এবং ঐকান্তিকতার পাশাপাশি সরকার, গণমাধ্যমসহ এই ইন্ডাস্ট্রি-সহযোগীদের উত্তরোত্তর সহায়তা এবং স্বতঃস্ফূ্ত সমর্থন দরকার। তবেই সুনিশ্চিত হবে বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির নিটোল ভবিষ্যৎ।
“ফ্যাশন উদ্যোগ, ফ্যাশন এন্টারপ্রেনারস্ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ” নামে পরিচিত এই সংগঠন, বাংলাদেশে অবস্থিত সর্বপ্রকার দেশীয় ফ্যাশন শিল্প ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন এবং দল, মত গোত্রের উর্দ্ধে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর আত্মপ্রকাশ যা দেশীয় পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত সকলের জন্য এমন একটি অভিন্ন ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা যা দেশীয় পোশাক শিল্পের উন্নয়নে এবং এ খাতের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকরী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সচেষ্ট।