16/05/2026
গ্রামের নাম ছিল শালবন। ছোট, শান্ত একটা গ্রাম। কিন্তু গ্রামের এক কোণায় একটা পুরোনো টিনের বাড়ি ছিল, যেটার কাছে সন্ধ্যার পর কেউ যেত না।
লোকজন বলত, বাড়িটার মালিক কাশেম আলী বহু বছর আগে নিজের ঘরের ভেতর গলায় দড়ি দিয়েছিল। তারপর থেকে রাত হলেই ওই বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শোনা যেত।
এক রাতে সাহস দেখানোর জন্য গ্রামের তিন বন্ধু — সোহেল, মিলন আর রাব্বি — ঠিক করল তারা ওই বাড়িতে রাত কাটাবে।
রাত দশটার দিকে তারা টর্চ আর মোবাইল নিয়ে বাড়িটায় ঢুকল। ঘরের ভেতর পুরোনো স্যাঁতসেঁতে গন্ধ। দেয়ালের রং উঠে গেছে। কোথাও কেউ নেই, তবু মনে হচ্ছিল কেউ যেন তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ উপরের টিনের চাল থেকে “ধুপ… ধুপ…” শব্দ আসতে লাগল।
মিলন ভয় পেয়ে বলল,
“বিড়াল হবে…”
কিন্তু শব্দটা ধীরে ধীরে মানুষের হাঁটার মতো হয়ে গেল।
ধুপ… ধুপ… ধুপ…
তারপর একসময় পুরো বাড়ি নিস্তব্ধ।
ঠিক তখন রান্নাঘরের দিক থেকে একটা মেয়ের কান্না শোনা গেল। খুব আস্তে… কিন্তু স্পষ্ট।
রাব্বি টর্চ জ্বালিয়ে এগোতেই দেখল, রান্নাঘরের কোণায় কেউ বসে আছে। লম্বা চুল মাটিতে ছড়িয়ে আছে।
সোহেল কাঁপা গলায় বলল,
“কে… কে আপনি?”
মহিলাটা ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
তার চোখ নেই। শুধু কালো ফাঁকা গর্ত। আর ঠোঁট কাটা।
তিনজনই চিৎকার দিয়ে পিছিয়ে গেল।
ঠিক তখন দরজাটা নিজে থেকেই “দড়াম!” করে বন্ধ হয়ে গেল।
মোবাইলের আলো একসাথে নিভে গেল। পুরো ঘর অন্ধকার।
অন্ধকারের ভেতর হঠাৎ একটা কর্কশ গলা ভেসে এলো—
“এত রাতে… আমার ঘরে কেন এসেছ?”
এরপর টিনের চালের ওপর যেন শত মানুষ একসাথে দৌড়াতে শুরু করল।
ধুপ! ধাপ! ধুপ! ধাপ!
মিলন কাঁদতে কাঁদতে দরজা খুলতে গেল, কিন্তু দরজার ওপাশ থেকে কেউ যেন শক্ত করে ধরে রেখেছে।
হঠাৎ রাব্বি চিৎকার দিয়ে উঠল।
টর্চ এক সেকেন্ডের জন্য জ্বলে উঠতেই তারা দেখল—
ঘরের আড়ার সাথে একটা মানুষ ঝুলছে।
আর সেটা কাশেম আলীর লাশ না…
ওটা ছিল রাব্বি।
কিন্তু রাব্বি তো তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল।
সোহেল আর মিলন পিছনে তাকাতেই দেখল, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা “রাব্বি” ধীরে ধীরে হাসছে।
তার মুখ ফেটে কান পর্যন্ত চলে গেছে।
আর চোখ দুটো সম্পূর্ণ সাদা।
পরদিন সকালে গ্রামের মানুষ শুধু সোহেলকে খুঁজে পায়।
সে রাস্তার পাশে বসে ছিল।
চোখ ফাঁকা। মুখ শুকনো।
আর সে শুধু একটাই কথা বারবার বলছিল—
“রাব্বি এখনও ওই বাড়ির ভেতরে আছে…