22/07/2026
বাচ্চার জ্বর হলেই সবচেয়ে বেশি যে ভয়টা পাই, সেটা হলো টাইফয়েড! মাসের পর মাস ভোগান্তি, কড়া অ্যান্টিবায়োটিক আর বাচ্চার শুকিয়ে যাওয়া চেহারা—ভাবলেই বুক কেঁপে ওঠে। এই ভয়ংকর পানিবাহিত রোগটা থেকে আমাদের বাচ্চাদের বাঁচাতে এবার সত্যিই একটা বিশাল স্বস্তির খবর এসেছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের শিশুদের জাতীয় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) স্থায়ীভাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)! আগে এই টিকা প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে বেশ টাকা খরচ করে দিতে হতো, এখন সরকারিভাবেই একদম সহজে এই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো নতুন এই নির্দেশনার সবচেয়ে জরুরি তথ্যগুলো আপনাদের জন্য একটু সহজ করে গুছিয়ে দিচ্ছি:
১. কাদের দেওয়া হবে?
এই টিকাটি রুটিন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ মাস বয়সী সব শিশুকে দেওয়া হবে। এটি হবে এক ডোজের একটি টিকা, যা টাইফয়েড থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
২. কীভাবে দেওয়া হবে?
এর জন্য আলাদা কোনো ঝক্কি নেই! ১৫ মাস বয়সে বাচ্চাকে যখন আমরা নিয়মিত এমআর-২ (হাম-রুবেলার দ্বিতীয় ডোজ) টিকা দিতে নিয়ে যাই, ঠিক ওই দিনই একই সাথে এই টাইফয়েডের টিকাটিও দেওয়া যাবে। আপনার কাছের ইপিআইয়ের স্থায়ী বা অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র থেকেই এটি পাওয়া যাবে।
৩. করণীয় কী?
টিকা দেওয়ার আগে 'ভ্যাক্স: ইপিআই (Vax: EPI)' অ্যাপে বাচ্চার নিবন্ধন করে টিকার কার্ডটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। তবে চিন্তার কিছু নেই, স্বাস্থ্যকর্মীরাও এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের শনাক্ত করে টিকার চাহিদা নির্ধারণ করবেন এবং জন্মনিবন্ধন সহজ করার ব্যাপারে সাহায্য করবেন।
সরকার এই ক্যাম্পেইন সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সবাইকে নিয়ে উঠান বৈঠক ও মাইকিংয়েরও ব্যবস্থা করেছে, যাতে কোনো শিশুই বাদ না পড়ে।
বাচ্চার একটুখানি সর্দিতেই কত চিন্তায় পড়ে যাই, সেখানে টাইফয়েডের মতো এমন ভয়ানক একটা রোগ থেকে বাঁচার এত সহজ উপায় যখন আমাদের রুটিন টিকাতেই চলে এসেছে, তখন এটা কোনোভাবেই মিস করা যাবে না!
আপনাদের বাবুদের কার কার বয়স এখন ১৫ মাসের কাছাকাছি?
#টাইফয়েড #টিকা