17/05/2025
গৃহিণী-প্রজন্ম গড়ার মহা প্রকৌশলী
ঘরই নারীর শোভা, সৌন্দর্যের অমল ধারা,
যেখানে ভালোবাসা গড়ে তোলে সংসারপাড়া।
তবু একদিন তাকে বোঝানো হল ভুল–
“তোমার গৃহই যেন শৃঙ্খল, বেঁধে রাখে কুল।”
বলেছে কেউ, সফলতা বেতনের হিসাব,
চেয়ারে বসা মানেই বুঝি জীবনের স্বপ্নসাধ।
ঘরের চার দেয়াল নাকি সীমা আর হার,
সেবা নাকি ছোট কাজ—এই ছিল বারবার।
কিন্তু কে দেয় শৈশবে বীজ, মাটিতে পবিত্রতা?
কে গড়ে তোলে আত্মা, ঢালে ঈমান-নৈতিকতা?
সে তো মা—প্রজন্ম গড়ার প্রকৌশলী,
ঘরে থাকা তার কাজ নয়, বরং তা ইবাদতের ঢালি।
ঘরের কোণেই লুকায় জীবন গঠনের চাবি,
তোমার থাকা মানে নয়—স্বপ্ন থেকে হাবুডুবি।
সন্তান লালন কোনো দুর্বলতার পরিচয় নয়,
তা তো ভালোবাসার বিজয়, এক শক্তির অগ্নিশিখা রয়।
আধুনিকতা ছিনিয়ে নেয় স্বাভাবিক সে রূপ,
ভিন্ন ভূমিকায় ছুটে নারী, খোঁজে অচেনা স্নেহসূত্র।
তার মাতৃত্বের মর্ম আজ অনেকে রাখে না মনে,
তবু সে খুঁজে ফেরে নিজেকে অলীক স্বপ্নখানে।
তবুও রয়েছেন অনেকে, হৃদয়ে যাঁদের দীপ্তি,
ঘরকে মানেন কর্মভূমি, সন্তানই যাঁদের সম্পদ নিত্য।
সোনার গয়না নয় যাঁদের চোখে ধন,
বরং সন্তানই তাঁর অহংকার, তাঁর চিরচেনা মন।
সালাম তাঁদের প্রতি, যাঁরা বেছে নেন হৃদয়ের কাজ,
দেয়াল গড়ার আগেই গড়েন মূল্যবোধের রাজ।
ডিগ্রি নয়, চরিত্রে দেন আলোকবর্তিকা,
গৃহিণী—অবিরাম ঝরনাধারা, ক্লান্তিহীন এক সঙ্গিকা।
শ্রদ্ধা রইলো সেই সকল নারীদের প্রতি—
যাঁরা ঘরে থেকেও গড়েন জাতির ভবিষ্যৎ গাথা।
লেখিকার নাম গোপন রাখা হলো।