06/06/2026
যারা ভালো একটা খাদ্য তালিকা চান ফলো করতে পারেন। বাচ্চা সুস্থ থাকবে।
১২–২৪ মাস বয়সী শিশুর পারফেক্ট খাবার রুটিন💁♀️
এই রুটিনের প্রধান উদ্দেশ্য গাট হেলথ ভালো রাখা, রুচি বাড়ানো এবং অল্প খাবারে বেশি পুষ্টি নিশ্চিত করার জন্য।
১–২ বছর বয়সে শিশুর পেট ছোট থাকে। তাই একসাথে বেশি খাওয়ানোর চেষ্টা না করে, অল্প অল্প করে কিন্তু পুষ্টিকর খাবার বারবার দেওয়া সবচেয়ে ভালো। এই বয়সে শিশুর মস্তিষ্ক, হাড়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অন্ত্রের (Gut) দ্রুত বিকাশ হয়। তাই খাবারের মান পরিমাণের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গাট হেলথ ভালো রাখতে যা জরুরি তা একটু জেনে নিন:
১। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি
২।পর্যাপ্ত পানি
৩। প্রিবায়োটিক খাবার (কলা, ওটস, রসুন, পেঁয়াজ)
৪। প্রোবায়োটিক খাবার (দই)
৫। অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার কমানো
৬। জোর করে খাওয়ানো বন্ধ করা
৭। নিয়মিত শারীরিক খেলাধুলা
একটি আদর্শ দৈনিক রুটিন দিচ্ছি💁♀️ আপনার সন্তানের সময় অনুযায়ী রুটিন ফিক্স করে নেবেন।
সকাল ঘুম থেকে ওঠার পর (৬:৩০–৭:০০)
মায়ের দুধ / পূর্ণ ফ্যাটযুক্ত দুধ (বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী)
সাথে কিছু পানি। চাইলে সাথে একফোটা লেবু দিতে পারেন।
সকালের নাস্তা (৮:০০)
অপশন ১: ওটস + কলা + খেজুর + সামান্য ঘি/ বাটার
অপশন ২: সবজি ওমলেট + কলা /আম
অপশন ৩: চিড়া + দই + ফল/ নিউট্রিমিক্স বা রাগী সিরিয়াল
অপশন ৪:সুজি + ডিম + কলা / আয়রন সুজি / হেলদি ব্রেকফাস্ট
এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ফাইবার একসাথে পাওয়া যায়।
মিড-মর্নিং স্ন্যাক (১০:৩০)
একটি ফল:কলা, পাকা পেঁপে, নাশপাতি, আম, আপেল কুড়িয়ে দিন। সাথে পানি।
দুপুরের খাবার (১:০০)
প্লেটে ৪টি অংশ রাখুন:
১. কার্বোহাইড্রেট: ভাত / আলু / মিষ্টি আলু
২. প্রোটিন: মাছ / ডিম / মুরগি / ডাল
৩. সবজি: কুমড়া, গাজর, লাউ, পালং, শিম বা অন্য কিছু, যা আপনার হাতের কাছে আছে।
৪. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: ১ চা চামচ ঘি বা বাটার বা অলিভ অয়েল। অন্য কিছু নয়।
বিকেলের স্ন্যাক (৪:০০)
অপশন: টক দই( সাথে সামান্য মধু দিয়ে), কলা ও মিষ্টি দই, ঘরে তৈরি স্মুদি, সিদ্ধ ভুট্টা বা বুট, মাখনা ভাজা, ওটস প্যানকেক, আাটার বিস্কুট বা ওটসের বিস্কুট, গ্রানোলাও দিতে পারেন, বা হোমমেড কোনো ফুড আইটেম খেয়াল রাখবেন যাতে কোনো প্রিজারভেটিভ, চিনি না থাকে।, বা ফল।
রাতের খাবার (৭:০০)
দুপুরের মতোই ব্যালেন্সড খাবার হবে: খিচুড়ি, মাছ-ভাত, ডাল-ভাত-সবজি, চিকেন স্ট্যু, সবজি পাস্তা বা নুডুলস।
ঘুমানোর আগে: মায়ের দুধ বা দুধ( cowhead এর দুধ ট্রাই করতে পারেন)।
অল্প খাবারে বেশি পুষ্টি পাওয়ার কৌশল
সাধারণ খিচুড়ি নয় খিচুড়িতে যোগ করুন: ডাল/ ডিম/ মাছ/ মুরগি। কুমড়া/ গাজর/ পালং শাক
, ঘি এতে এক বাটিতেই অনেক পুষ্টি চলে আসে।
ওটসকে পুষ্টিবোমা বানান
ওটসের সাথে:চিজ, খেজুর, বাদাম গুঁড়া (যদি অ্যালার্জি না থাকে), চিয়া সিড (বয়স উপযোগীভাবে) যোগ করতে পারেন সামান্য বাটার বা ঘি।
রুচি বাড়ানোর বৈজ্ঞানিক উপায় জেনে নিন।
১ । জোর করে খাওয়াবেন না।
২। খাবারের সময় মোবাইল দেবেন না।
৩। সারাদিন কিছু না কিছু মুখে দেবেন না।
৪। খাবারের মাঝে ২–৩ ঘণ্টা বিরতি রাখুন।
৫। বাইরে খেলতে দিন, ঘাম ঝরানো খেলা।
৬। নিজে খেতে উৎসাহ দিন।
৭। পরিবারের সাথে বসে খেতে দিন
৮। খাবারের রং ও বৈচিত্র্য বাড়ান, প্লেট ও সুন্দর মামপট ব্যাবহার করুন এতে নিজের জিনিসের প্রতি দারুন আগ্রহ আসে।
সপ্তাহে অবশ্যই রাখবেন
প্রতিদিন
১। ১–২ রকম ফল
২। ২–৩ রকম সবজি
৩। প্রোটিন
সপ্তাহে ৩–৪ দিন
১। মাছ
২। ডিম( সুট করলে প্রতিদিন)
৩।টক দই
সপ্তাহে ১–২ দিন: মুরগি, খাসি বা গরুর কলিজা (পরিমাণমতো)
কিছু"সুপারফুড" তালিকা (১২–২৪ মাস) দিচ্ছি: ডিম ( ওমেগা টা হলে বেশি ভালো হয়),ছোট মাছ
অ্যাভোকাডো ( যদি পান), কলা, ওটস, টক দই,
মিষ্টি আলু, ডাল, পালং শাক, কুমড়া, বাদাম গুঁড়া (নিরাপদভাবে, Sanaya's Shop এর ব্রেইনফুড টা ট্রাই করতে পারেন বা এখানের বেবিফুড গুলো দেখতে পারেন), বিভিন্ন মৌসুমি ফল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশু প্রতিদিন কতটুকু খেল, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এক সপ্তাহে মোট কী কী পুষ্টিকর খাবার খেল। কিছুদিন কম খাওয়া এই বয়সে স্বাভাবিক। শিশুর ক্ষুধা-তৃপ্তির সংকেতকে সম্মান করা, বৈচিত্র্যময় খাবার দেওয়া এবং খাওয়ার সময়কে আনন্দময় রাখা দীর্ঘমেয়াদে রুচি, গাট হেলথ ও সুস্থ বিকাশের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
ধন্যবাদ 🙏
পরবর্তী পোস্টে অন্য বয়সী শিশুদের খাদ্য তালিকা দেয়া হবে। শিশুর বয়স লিখে কমেন্ট করুন। মোবাইল দেখিয়ে খাওয়া বন্ধ করুন।
ShebikAmit