18/02/2026
রমাদানে কেন লক্ষ্য নির্ধারণ করব?
আচ্ছা, রামাদানে লক্ষ্য নির্ধারণ করব না-ই বা কেন? রামাদানে যে এত এত সওয়াবের হাতছানি আমাদের সামনে তার কি হিসাব আছে?
নবীজি বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে এই মাসে একটি নফল আমল করবে সে ওই ব্যক্তির সমান সওয়াব লাভ করবে যে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান সওয়াব পাবে, যে অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করলো।" [১]
এখন চিন্তা করুন, রামাদানে সাধারণ একটি আমল করেও আপনি অন্য সময়ের আমলের চেয়ে সত্তর গুণ বেশি সওয়াব পেয়ে যাবেন। আর রোজা রাখার সওয়াব তো আল্লাহর কাছে সারপ্রাইজ হিসেবে রয়েছে, কারণ আল্লাহ রোজা রাখার পুরস্কার ঘোষণা না করে সারপ্রাইজ হিসেবে আমাদের জন্য লুকিয়ে রেখেছেন যা আমরা পরকালে দেখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
হাদিসে কদসিতে এসেছে, আল্লাহ পাক বলেন, "বান্দার সকল নেক আমলের সওয়াব দানের জন্য একটি নিয়ম বা স্কেল থাকে। প্রত্যেক নেক আমলের সওয়াব সেই অনুসারে দেয়া হয়। দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত। কিন্তু রোযার বিষয়টি সাধারণ স্কেল ও নীতির উর্ধ্বে। বান্দা আমার জন্যই খাদ্য-পানীয় বিসর্জন দিয়েছে, কামক্রিয়া বর্জন করেছে, সুতরাং সরাসরি আমি নিজে তাকে বিশেষ আজর ও সওয়াব দান করবো।"(২)
উপরের হাদিসে কুদসি থেকে লক্ষ্যণীয়
প্রত্যেক নেক আমলের সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে
রোজার পুরস্কার আল্লাহ নিজে দিবেন
ইখলাস ও খুশুর উপর ভিত্তি করে আপনার ইবাদাতের সওয়াব সাতশ গুণ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। আর রামাদানে এই সম্ভাবনা আরো বেশি। কারণ, শয়তানকে এ মাসে শিকলবদ্ধ করে রাখা হয়। রাসূলুল্লাহ বলেন, "যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।” [৩]
আরেকটি হাদিসে এসেছে, "জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়কারী একাকী নামাজ পড়া অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদার অধিকারী।" [৪]
এখন রামাদানে তিন রাকাত মাগরিবের সালাত জামাতের সাথে পড়লে কয়গুণ সওয়াব হবে হিসাব করে দেখি। তিন রাকাত নামাজ জামাতে পড়লে তা একাকী নামাজ অপেক্ষা সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদা পাবে। যেহেতু রামাদানের ফরয নামাজ তাই অন্য সময়ের ফরয নামাজ অপেক্ষা সত্তর গুণ বেশি সওয়াব নিয়ে আসবে। আর রামাদানে যেহেতু খুশু অর্জন করা অপেক্ষাকৃত সহজ, তাই সাতশত গুণ সওয়াব বোনাস পাওয়ার ব্যাপারটিও ভুলে যাবেন না।
তাহলে রামাদানে ৩ রাকাত নামাজ পড়ে আপনি পেতে পারেন = ৭০*৭০০*২৭= ১৩,২৩,০০০! অর্থাৎ, তের লক্ষেরও অধিক পরিমাণ সওয়াব আপনি শুধুমাত্র রামাদানে ৩ রাকাত মাগরিবের নামাজ জামাতের সাথে পড়েই পেয়ে যেতে পারেন।
আর উদাহারণ দিতে চাচ্ছি না। আশা করি বুঝতে পেরেছেন, কেন রামাদানের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করব। আল্লাহর রাসূলের সাহাবীগণ রামাদানের জন্য ছয় মাস প্রস্তুতি নিতেন আর রামাদানের পরের ছয় মাস এর সুফল ভোগ করতেন। তাদের সমগ্র বছরই থাকত রামাদানকেন্দ্রিক। আমাদেরও রামাদানের জন্য প্রাক-প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।
[১] আত তারগিব ওয়াত তারহিব, ২/১১৫
[২] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ১১৫১
[৩] বুখারি, হাদিস-ক্রম। ১৮৯৯; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ১০৭৯
[৪] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৬৪৫; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৬৫০
[বই : প্রোডাক্টিভ রামাদান, পৃ. ২৯-৩১]
#সীরাহ