02/04/2026
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সকল ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ। সংবিধান বা আইনের আইনি সূক্ষ্মতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু জনমতের প্রতিফলনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংবিধান বিশেষজ্ঞও যদি কোনো প্রক্রিয়ার আইনি ত্রুটি খুঁজে পান, তবুও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর (যেমন ৬৮% ভোটার) সম্মিলিত রায়কে অগ্রাহ্য করা কঠিন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক দর্শন হলো—জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান ও আইন তৈরি হয়, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। যখন আইনের অক্ষর আর জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন জনমতই চূড়ান্ত বৈধতা পায়।
ইতিহাস থেকে আমরা নৈতিক দায়বদ্ধতার উদাহরণ পেতে পারি। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আইনিভাবে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জনআকাঙ্ক্ষা বুঝতে পেরেছিলেন। জনগণের দাবিকে সম্মান জানিয়ে তিনি ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ বিল পাস করেন এবং পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করেন। এটি প্রমাণ করে যে, কেবল আইনি বৈধতা নয়, বরং রাজনৈতিক ও নৈতিক বৈধতাই একটি টেকসই গণতন্ত্রের প্রাণ।
যদি কোনো দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জনসমক্ষে কোনো প্রক্রিয়ার (যেমন গণভোট) পক্ষে রায় চান এবং জনগণ তাতে সাড়া দেয়, তবে পরবর্তী সময়ে সেই রায় অস্বীকার করা রাজনৈতিক সততার পরিপন্থী। জনরায়ের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা কেবল অগণতান্ত্রিক নয়, বরং তা জনগণের আস্থার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও গণ্য হতে পারে।
ব্যক্তিগত বা দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের জাতীয় বিবেককে জাগ্রত করা প্রয়োজন। আইনের মারপ্যাঁচে জনমতকে বন্দী না করে, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াই প্রকৃত গণতন্ত্রের পরিচয়। দলকানা মানসিকতা পরিহার করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলাই এখন সময়ের দাবি।