23/05/2026
মাঝরাতের প্যাসেঞ্জারতখন রাত প্রায় একটা। ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। রাইড শেয়ারিং অ্যাপের চালক রাশেদ গাড়ি নিয়ে বনানীর একটা নির্জন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল। মোবাইলের স্ক্রিনটা জ্বলে উঠল—একটা রিকোয়েস্ট এসেছে। গন্তব্য: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পেছনের রাস্তা।এত রাতে ওই এলাকায় যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না রাশেডের। কিন্তু ভাড়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ দেখাচ্ছিল। লোভ সামলাতে না পেরে সে ট্রিপটা গ্রহণ করল।লোকেশন অনুযায়ী গাড়ি থামাতেই এক তরুণী এসে পেছনের সিটে বসল। মেয়েটির পরনে ছিল সাদা শাড়ি, চুলগুলো বৃষ্টিতে ভেজা। রাশেদ লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "ম্যাডাম, মিরপুর যাব তো?"মেয়েটি কোনো কথা না বলে শুধু মাথা নাড়ল। তার মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে আর চোখের মণি দুটো অস্বাভাবিক কালো।গাড়ি চলতে শুরু করল। পুরো রাস্তায় মেয়েটি একদম নিশ্চুপ। গাড়ির ভেতরের এসি বন্ধ থাকা সত্ত্বেও রাশেদ অনুভব করল, ভেতরের বাতাস ধীরে ধীরে বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। তার গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠল।মিরপুর মাজার রোড পার হওয়ার পর রাস্তা পুরো অন্ধকার হয়ে গেল। স্ট্রিট লাইটগুলো সব নষ্ট। রাশেদ পরিস্থিতি হালকা করতে বলল, "রাস্তাটা বড্ড অন্ধকার, তাই না ম্যাডাম?"পেছন থেকে কোনো জবাব এলো না।হঠাৎ একটা তীব্র পচা গন্ধ গাড়ির ভেতর ছড়িয়ে পড়ল। যেন অনেক দিনের পুরনো কোনো পচা মাংসের গন্ধ। রাশেদ অস্বস্তি নিয়ে লুকিং গ্লাসে তাকাল। পেছনের সিট ফাঁকা! কেউ নেই!রাশেদের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। সে ব্রেক চেপে গাড়ি থামাল। পেছনে তাকিয়ে দেখল, সত্যিই কেউ নেই। তবে কি মেয়েটি চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে গেছে? কিন্তু দরজা খোলার তো কোনো শব্দ হয়নি!ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে রাশেদ যেমনই আবার সামনে তাকাল, অমনি তার চিৎকার আটকে গেল।তার পাশের সিটে, একদম গা ঘেঁষে বসে আছে সেই মেয়েটি। তার ভেজা চুল দিয়ে টপটপ করে রক্ত ঝরছে। মেয়েটি রাশেদের দিকে ঘুরে একদম কান ফাটানো হাসিতে হেসে উঠল। তার চোয়ালটা ঝুলে পড়েছে, আর চোখ দুটো দিয়ে তখন শুধুই অন্ধকার গর্ত দেখা যাচ্ছে।মেয়েটি ফিসফিস করে বলল, "তিন বছর আগে ঠিক এই বৃষ্টিতেই একটা গাড়ি আমাকে এখানে পিষে দিয়ে চলে গিয়েছিল... তুমিও কি পালাবে?"পরদিন সকালে মিরপুর বেরিব midwives রাস্তার পাশে রাশেদের গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ। গাড়ির ভেতরে রাশেদকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ডাক্তাররা জানান, হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, রাশেদের পুরো শরীরটা বরফের মতো জমে শক্ত হয়ে গিয়েছিল, আর তার দুই চোখে জমা হয়েছিল চরম এক আতঙ্কের ছাপ। ♥️👍বিদ্র: শাড়ি টি ভালো লাগলে ইনবক্সে নক করুন। ঈদ অফার চলছে।