23/02/2025
সম্প্রতি আমার সাথে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর এবং #ছিনতাইয়ের নতুন ভয়ংকর টেকনিক নিয়ে পোস্টটা করতেছি।
দিনে-দুপুরে #ডাকাতি #ছিনতাই ঢাকায় এখন খুবই স্বাভাবিক বিষয়।
সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি, বিকাল ৪টা। আমি একা আমার বাইকে মহাখালী ফুট ওভার ব্রিজের পাশে আমার বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করতেছিলাম। ও রক্ত দিবে, ওকে নিয়ে একটা হসপিটাল যাবো, ও বাসে আসতেছে মহাখালী।
হঠাৎ ২টা ছেলে এবং একটা নিকাব পড়া মেয়ে আমার পাশে আসলো ।
একটা ছেলে একটা ফেইসবুক আইডি দেখিয়ে আমাকে বললো এটা তুই নাহ?
ওটা আমার আইডি নাহ, স্বাভাবিক ভাবেই আমি না করলাম।
সামনে থাকা আরেকটা ছেলে বলে উঠলো, তুই আমার বউকে মেসেঞ্জারে খারাপ কথা বলছ কেন? হেলমেট খোল দেখি।
আমি হেলমেট খুললাম, কিছু বুজে ওঠার আগেই আমাকে মারতে শুরু করলো। ওরা আরো অনেক লোক ছিল। জনগণ সত্য কাহিনি ভেবে কেউ আমাকে সাহায্যও করেনি। আবার ওরা সাথে একটা মেয়েকেও নিয়ে আসছে এবংকি ওদের কিছু লোক সাধারন জনগণ সেজে আমাকে দোষ দিচ্ছিলো। আর এমনিও এসব মারধরে কেইবা ঝামেলায় পরতে চায়।
ওরা আমাকে মারতে ছিলো আর বলতেছিলো, কতো বড়ো সাহস আমার বউকে খারাপ কথা বলছ। স্বভাবিক ভাবেই রাস্তার সবাই মনে করতেছিল, আমাদের পারসোনাল সমস্যা (অথচ ওদের কাউকে আমি চিনি না)।
ওরা অটো নিয়ে আসছে আমাকে নিয়ে যাবে। বার বার অটোতে তোলার চেষ্টা করতেছিলো। যখন মারতেছিলো অনেকবার চেষ্টা করেছে আমার মোবাইল এবং মানিব্যাগ নেওয়ার।
আর ওদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার আমাকে কোথাও নিয়ে যেতে পারলে, কোন ঝামেলা ছাড়াই আমার সব কিছু নিয়ে যেতে পারতো। এতে আমার মৃত্যু ঝুঁকিও ছিলো, নির্যাতন তো হতোই।
যাইহোক, তারপর পাশেই জনসাস্থ পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ভবনের ঘেট খোলা পেয়ে দৌড়ে সেখানে ঢুকে পরি । তখন কিছু লোক আমাকে সাহায্য করে। একপর্যায়ে ওরা বুজতে পারে পুলিশ চলে আসবে তখন ওরা আস্তে আস্তে সবাই সরে যায়। ওই ভবনে ঢুকে সুযোগ পেয়ে ফটোগুলা তুলেছিলাম।
পরে আমার স্যার এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাহায্য ওখান থেকে নিরাপদে বের হয়ে আসি।
আমি সংক্ষেপে বললাম আসা করি বুজতে পারতেছেন দিনে দুপুরে কি হচ্ছে তাহলে ঢাকায়।
এই ঘটনায় বনানী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগ নামেই নিয়েছে, মনে হয়না কোনো লাভ হবে। অথচ ফটো দিয়েছি, জনসাস্থ পুষ্টি ইনস্টিটিউটের সিসি ক্যামেরায় সবার ফুটেজ আছে।
এদের না থামালে তো মানুষ কোথাও নিরাপদ নাহ।
এই ঘটনায় হয়তো আমার তেমন ক্ষতি করতে পারে নাই। কিন্তু ওরা তো আমার সব নিয়ে নিতো, আমাকে মেরে ফেলতে পারতো। আমি শারিরীক ভাবে মারধরের শিকার, মানসিক ভাবে তো বেচেই নেই।
ওই ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পর কিছু লোক আমাকে সাহায্য করে, তাদেরকে অসংক্ষ ধনবাদ।
সবাই সাবধানে থাকবেন, একে-অপরকে সাহায্য করবেন। ধন্যবাদ