06/08/2026
ইরফান হুসাইন নামে বুয়েটের এক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ডে নিজ বাসার কিচেনে ফাঁস দিয়ে সু ই সা ই ড এটেম্পট করেছে ২২ জুলাই।এবং নয়দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে তিনি মৃত্যুবরণ করেছে।
উনার মৃত্যুকে ঘিরে কিছু ধোঁয়াশা এবং প্যাথেটিক ব্যাপার সামনে আসছে।
প্রথমত, টাইমিং নিয়ে-
২২ জুলাই সকালে ইরফান হুসাইনের একটা প্রেজেন্টেশন ছিল।যা সকাল ৯টার দিকে শেষ হয়।এবং এর কিছুক্ষণ পরে তিনি টিমের গ্রুপ চ্যাটে টেক্সট দেন-"Athe" অসুস্থ বোধ করছে,তাই আমি আজ সারাদিন ছুটি নিবো।"
এবং পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী,ইরফানের ঠিকানা থেকে সকাল ১০:৩০টায় একটি ৯১১ কল করা হয়।সেদিন সকালে উনার স্ত্রী অ্যাথেনা বাসায় ছিলেন।চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, মস্তিষ্কে প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে ইরফানের irreversible brain damage হয়।
অর্থাৎ আরেকটু আগে হাসপাতালে নিলে হয়ত বাঁচানো যেত উনাকে।
এখানে টাইমলাইনটা দেখেন।সকাল ৯ টায় তিনি গ্রুপে টেক্সট করেন, ১০.৩০ এ পুলিশে জানানো হয়। ডাক্তার বলেছে এক ঘন্টা আগে তিনি হ্যাং করেছেন।মানে সে গ্রুপে টেক্সট টা দেয়ার ত্রিশ মিনিটের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে।এবং তা যদি হয়েই থাকে, তাহলে উনার ওয়াইফ এথেনা বাসায় থেকেও এতো দেরী করে ৯১১ এ কল করলো কেন?
দ্বিতীয় কথা হলো, এটা যদি সু ই সা ই ড হয়েই থাকে, তাহলে তার কারণ কি?
একজন মানুষ প্রেজেন্টেশন দিয়ে বাসায় গিয়ে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে কেন ঝুলে যাবে? কি নিয়ে তিনি ডিপ্রেশনে বা প্রেশারে ছিলেন?
উনার কলিগ এবং বন্ধুদের ভাষ্যমতে তিনি এবং তার ওয়াইফ দুইজনই উনাদের রেসপেক্টিভ ক্যারিয়ারে সাকসেসফুল। উনি বর্তমানে যেখানে আছেন, সেখানকার বস উনাকে নির্ভরশীল দায়িত্ব দিচ্ছিলেন, উনাকে হেড করে নতুন একটা টিম করে দিয়েছেন, মানে বলা যায় প্রফেশনাল লাইফ নিয়ে উনার কোনো ড্র-ব্যাক ছিলোনা। এমনকি উনার ওয়াইফ ও বেশ সাকসেসফুল। Forbes 30 under 30 তে উনার নাম এসেছিল- এই লেভেলের সাকসেসফুল।
তাহলে প্রফেশনাল -ফাইনান্সিয়াল দিক থেকে কোনো সমস্যা ছিল না।সমস্যা ছিল পারসোনাল লাইফে।কি সমস্যা?
ঠিক কি সমস্যার কারণে তিনি সুই সা ই ড করেছিলেন,এটা তো আসলে উনি ছাড়া আর কেউ বলতে পারবেনা। তবে উনার ওয়াইফ এথেনার সাথে উনার সম্পর্কের কথা বলি।
২০২১ সালে উনারা বিয়ে করেন। এবং বিয়ের আগে ইরফান চাচ্ছিলেন দ্বিতীয়বার ইকটু চিন্তা করতে সবকিছু নিয়ে। এতেই এথেনা রাগ করে সু ই সা ই ডের থ্রেট দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে নিজেকে এক রুমে আটকে ফেলেছিলেন। ইরফান আর কোনো উপায় না পেয়ে পুলিশ ডেকে এথেনার দরজা খোলাতে হয়েছিল।
এই এক ঘটনায়ই বুঝা যাচ্ছে এথেনা ম্যানিপুলেটিভ, টক্সিক। এবং সে সময়ই এথেনার তার এক সিনিয়র আপুর কাছে বলেছিলো যে সে এখনো তার এক্সকে মিস করে, এক্স থেকে মুভ অন করতে পারছেনা।
এবং এথেনার সাথে সম্পর্কের পরেই এথেনা ইরফানের ছোটকাল থেকে বড়কালের সব বন্ধুদের থেকে ইরফানকে দূরে সরাচ্ছিল। বিয়ের পরে খোদ ইরফানের ফ্যামিলির থেকেও তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল।গত দুই বছরে ইরফান তার পরিবার থেকে এক রকম বিচ্ছিন হয়েই ছিল।
এমনকি ইরফানের পিএইচডির কাজের মাঝে ইরফানকে এথেনার পিএইচডির কাজ দৈনিক ছয়-সাত ঘন্টা লাগিয়ে করে দিতে হতো।ইরফান তা করতে না চাইলে চলতো ম্যানিপুলেশন, কান্নাকাটি,মেন্টাল টর্চার!
এবং এথেনার মন মত কিছু না পেলে, কিছু না হলে এথেনা সু ই সা ই ডে র থ্রেট দিত।ব্রেকাপ কিংবা ডিভোর্সের তো প্রশ্নই আসেনা!সেই থ্রেট নিশ্চয়ই যেন তেন থ্রেট না, থ্রেট গুলো এমন হতো যে "আমি ম র লে তোমাকে ফাঁসিয়ে ই যাবো!"
প্যাটার্নটা কি হেলদি মনে হচ্ছে আপনাদের? এটা টিপিক্যাল নার্সিসিস্টিক বিহেভিয়ার।তাদের বন্ধুরা বলছে এথেনার বর্ডারলাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারও ছিল।ওহ হ্যা! ভার্বাল এবিউজের পাশাপাশি এথেনা ইরফানকে ফিজিক্যালি ও এবিউজ করতো।
সব শুনে আমার নিজেরই দমবন্ধ লাগছে।ইরফান কিভাবে এতো গুলো বছর সার্ভাইভ করে গেছে তা ভেবেই কষ্ট লাগছে। এটা যদি আসলেই সু ই সা ই ড হয়ে থাকে, তাহলেও এতে এথেনার প্ররোচনা ছিল,ছিল দীর্ঘদিনের মেন্টাল টর্চার, ম্যানিপুলেশন,ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল।
ওহ হ্যা! শুনেছি এথেনা শুরুতে ইরফানের মৃত্যুর কারণ বলেছিলো Blunt trauma। পরবর্তীতে স্টেটমেন্ট পরিবর্তন করে Hanging দিয়েছে। এমন স্টেটমেন্ট পরিবর্তনের কারণই বা কি হতে পারে?
ইরফানের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত হোক।এবং যারা এমন এবিউসিভ, নার্সিসিস্ট পার্টনারের সাথে আছেন, ইরফানের মৃত্যুটা আপনাদের জন্য wake up call।এই ধরনের সম্পর্ক থেকে বের হওয়া কঠিন জানি, তবে অসম্ভব না।
Collected