29/06/2022
১৯জুন,২০১৭
আজ সকালে পাশের বাসা থেকে চিৎকারের শব্দে চোখ চলে গেলো জানালার বাইরে।
একটা ৮/১০ বছরের বাচ্চাকে ননস্টপ মেরে যাচ্ছে তার মা।
মাকে জিজ্ঞেস করলাম,'মা,এভাবে মারছে কেনো?'
মা বললো,বাচ্চাটা খুব দুষ্ট।ওর বাবাও ওকে সবসময় মারে।
সন্ধ্যায় সেই ছেলেটা আমার ছোট ভাইয়ের কাছে পড়তে এলো।
একটু পর আবার চিৎকার শুনলাম।
আমার ভাই ওকে মারছে।
রুম থেকে বেরিয়ে ওখানে গেলাম।
-কি হয়েছে?
-পড়া শেখেনা,এজন্য মার দিচ্ছি।ওকে মার ছাড়া কাজ হয়না।
ভাইকে বললাম,আমি একটু পড়াই?তুই যা।
একটা ইংরেজি রচনার অর্ধেকটা শিখলো মাত্র ১৫ মিনিটে!
বললাম, "তুমি তো অনেক লক্ষ্মী ছেলে! দারুন পড়া পারো!"
নিষ্পাপ এক হাসি ফুটে উঠলো চোখে মুখে।
আমার ভাই এসে দেখে অবাক!
"ও পড়াটা শিখে ফেলেছে!এই পড়াটা আজ তিনদিন।"
"তুই যা,আজ আমি পড়াবো।"
-আচ্ছা শান্তু,তোমাকে কে বেশি ভালোবাসে?
-কেউ না দিদি,শুধু ভগবান ভালোবাসে।
সবাই শুধু মারে।
ভেবে পাচ্ছিলাম না,কি বলবো ওকে।
নিজেকে একটু সামলে নিয়ে বললাম,"তুমি তো অনেক ভালো পারো!কেনো মারবে!চলোতো,আমরা বাকিটুকু পড়ে ফেলি!"
লক্ষ্য করলাম,আগের চেয়ে দ্রুত সে পড়াটা শেষ করলো।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,যাও,ভালোভাবে পড়বে কেমন। Good boy..
এরপর.......
আমার ভাই- কি করে হলো এটা!
আমার মা- অন্তু তো কোনদিন এতো সুন্দর করে পড়ে না!তোর কাছে তো চুপচাপ পড়লো!
এরপর ইচ্ছেমত ঝারি দিচ্ছিলাম ভাইকে।
কষ্টে....
একটা শিশুর বুকে জমে থাকা কষ্টে নীল হয়ে ছিলাম আমি তখন।..............
সকল মা বাবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি...
শিশুদের খুব ভালো মানুষ করতে মেরে শাসন করতে হয়,ভয় দেখাতে হয়,তবে সেটা যেন চরম পর্যায়ে চলে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।
একটা শিশুর মানসিক বিকাশ তীব্রভাবেই বাধাগ্রস্থ হয় এতে।শিশুর মতে ইতিবাচক দিকগুলো বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় খুব কম।
ভালোবাসতে,সম্মান করতে শেখে কম।
কোনদিন একটাও মার না দিয়েও সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায়।বোঝানোর মাধ্যমেই,তার প্রমাণ আমি নিজেই।
:)
আমার স্পষ্টভাবে মনে আছে,আমি সর্বোচ্চ পরিমাণ যন্ত্রনা দেওয়ার পরও আমার মা বাবা আমাকে কোনদিন একটুও আঘাত করেন নি।বরং বুঝিয়ে বলেছেন,নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বুঝিয়েছেন এটা ঠিক নয়।
হ্যাঁ,ভয় দেখিয়েছেন ইতিবাচকভাবে।এটা করলে কিন্তু এমন হবে,তুমি করবে এটা? ভেবে দেখো তো মা!
আমিও ভয় পেয়ে সরে এসেছি।
স্কুলের কোনো শিক্ষকের কাছ থেকেও কখনো মার খাইনি। (আমার সৌভাগ্য )
শিশুরা কাঁদামাটির মতন!
গড়ুন না তাদের কোমল নদী করে,পাহাড় করে নয়।
ওদের কোমল হাত দুটো দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কাউকে মারতে নয়,ভালোবাসতে শেখান,কলম ধরতে শেখান হাসিখুশি মন নিয়ে।
ওদের সম্মান দিয়ে সম্মান দিতে শেখান।
ওরাই তো বছরের পর বছরের গন্ডি পার করে আপনারই মা বাবা হবে।
আপনার শেষ মুহূর্তের সহায় হবে,সাথে সমাজের,দেশেরও!
লিখাটা পাঁচ বছর আগের।ব্যাপারগুলো এখনও মাঝে মাঝে চোখে পড়ে আমার। তাই শেয়ার করলাম সবার সাথে।
collected