10/04/2026
জুমার দিনের ১০টি দোয়া — কোন সময়ে কোনটা পড়বেন
জুমার দিন শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিন না।
এটা রহমতের দিন।
দোয়ার দিন।
মাগফিরাতের দিন।
বরকতের দিন।
এই দিনে অনেক মানুষ গোসল করেন, সুন্দর কাপড় পরেন, সুগন্ধি ব্যবহার করেন, মসজিদে যান। কিন্তু খুব কম মানুষ জানেন—জুমার দিনটা দোয়া দিয়ে কীভাবে সাজাতে হয়।
অনেক সময় আমরা দোয়া করতে চাই, কিন্তু বুঝতে পারি না—কখন কোন দোয়া পড়ব?
সকাল থেকে মাগরিব পর্যন্ত যদি জুমার দিনটা দোয়া দিয়ে ভরতে পারেন, তাহলে একই দিন আপনার জন্য হয়ে যেতে পারে নতুন শুরু, গুনাহ মাফের দরজা, রিজিকের আবেদন, পরিবারের জন্য কান্না, আর নিজের অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিশেষ সুযোগ।
১. জুমার সকাল শুরু করুন এই দোয়া দিয়ে
জুমার সকালটা সাধারণ সকাল না।
এই দিনটা কল্যাণ দিয়ে শুরু করা উচিত।
দোয়া:
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ:
রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া ক্বিনা আযাবান্নার।
অর্থ:
হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন, আর জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
জুমার সকালটা যদি এই দোয়া দিয়ে শুরু হয়, তাহলে মনে থাকে—আজকের দিনটা শুধু দুনিয়ার কাজের জন্য না, আখিরাতের জন্যও।
২. ঘর থেকে বের হওয়ার আগে এই দোয়া পড়ুন
জুমার উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন—মানে আপনি শুধু এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছেন না; আপনি রহমতের দরজার দিকে যাচ্ছেন।
দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুকা ওয়াল আফাফা ওয়াল গিনা।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে হেদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও অভাবমুক্তি চাই।
জুমা শুধু উপস্থিতির বিষয় না—হেদায়াত নিয়েও ফিরতে হবে।
৩. খুতবার আগে ইস্তিগফারে জিহ্বা ভিজিয়ে রাখুন
মসজিদে গিয়ে খুতবার আগে অপেক্ষার সময়টুকু নষ্ট করবেন না।
এই সময় নীরবে ইস্তিগফার করতে থাকুন।
দোয়া:
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ:
আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি।
অর্থ:
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছেই তাওবা করি।
জুমার দিনের সবচেয়ে সুন্দর প্রস্তুতি হলো—পরিষ্কার কাপড়ের আগে পরিষ্কার হৃদয়।
৪. জুমার দিনে দরূদ শরীফ বেশি পড়ুন
জুমার দিনের একটা আমল কখনোই হালকা করে দেখবেন না—দরূদ শরীফ।
দরূদ:
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ ﷺ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপর রহমত ও সালাম নাযিল করুন।
সারাদিন যত বেশি পারেন পড়ুন।
জুমার দিন দরূদে জিহ্বা ভিজে থাকলে দিনটা অন্য নূর পায়।
৫. রিজিকের কষ্টে থাকলে এই দোয়া পড়ুন
অনেকেই জুমার দিন নিজের রিজিক, কাজ, আয়, বরকত—এসবের জন্য দোয়া করতে ভুলে যান।
অথচ এই দিনটা চাওয়ার দিন।
দোয়া:
رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنْزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ:
রব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির।
অর্থ:
হে আমার রব, আপনি যে কল্যাণই আমার দিকে পাঠাবেন, আমি তারই মুখাপেক্ষী।
এই দোয়াটা মনে করিয়ে দেয়—
রিজিক শুধু টাকার নাম না।
হালাল, বরকত, শান্তি, স্বস্তি—সবই রিজিক।
৬. পরিবারের জন্য এই দোয়া করুন
জুমার দিনে শুধু নিজের জন্য না, ঘর-সংসার, স্ত্রী, সন্তান—সবাইকে নিয়েও দোয়া করুন।
কারণ ঘরের শান্তি বড় নেয়ামত।
দোয়া:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ:
রব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন ওয়াজআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।
অর্থ:
হে আমাদের রব, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আমাদের চোখের শীতলতা করো এবং আমাদের মুত্তাকীদের নেতা বানাও।
জুমার দিনের দোয়া যদি ঘরকে ছুঁয়ে যায়,
ঘরের অশান্তিও একদিন বদলে যেতে পারে।
৭. শিফার জন্য এই দোয়া পড়ুন
অসুস্থ নিজের জন্য, মা-বাবার জন্য, সন্তানদের জন্য, পরিবারের কারও জন্য—জুমার দিনে শিফার দোয়া করতে ভুলবেন না।
দোয়া:
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা রব্বান্নাস, আযহিবিল বা’স, ইশফি আনতাশ শাফি, লা শিফা’আ ইল্লা শিফাউক।
অর্থ:
হে আল্লাহ, মানুষের রব, কষ্ট দূর করুন, শিফা দিন। আপনিই শিফাদাতা। আপনার শিফা ছাড়া কোনো শিফা নেই।
অনেক সময় জুমার দিনের এক ফোঁটা দোয়াই দীর্ঘ অসুস্থতার মাঝে আশা ফিরিয়ে আনে।
৮. আসরের পর এই দোয়া বেশি পড়ুন
জুমার দিনের সবচেয়ে আলোচিত সময়গুলোর একটি হলো—আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত।
এই সময়কে অনেক আলেম দোয়া কবুলের বিশেষ সময় বলেছেন।
দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নি।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আমাকে ক্ষমা করুন।
জুমার দিনের এই সময়টুকু হেলাফেলা করবেন না।
অনেক মানুষের জীবন বদলানোর শুরু হয় এখান থেকেই।
৯. কী চাইবেন বুঝতে না পারলে এই দোয়া পড়ুন
অনেক সময় মানুষ কাঁদে, কিন্তু বুঝতে পারে না—কী চাইবে।
তখন এই পূর্ণাঙ্গ দোয়াটা পড়ুন।
দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহি আজিলিহি ওয়া আজিলিহি মা আলিমতু মিনহু ওয়া মা লাম আ‘লাম।
অর্থ:
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সব কল্যাণ চাই—তা তাৎক্ষণিক হোক বা পরবর্তী, যা আমি জানি আর যা আমি জানি না।
আপনি সবকিছু ভাষায় বলতে না পারলেও,
আল্লাহ আপনার না-বলা চাওয়াগুলোও জানেন।
১০. জুমার দিনটাকে হৃদয় দিয়ে কাটান
মনে রাখবেন—জুমা শুধু একটা দিন না।
এটা সপ্তাহের এমন একটা দরজা, যেখানে আপনি নতুন করে শুরু করতে পারেন।
গুনাহ মাফ চাইতে পারেন।
রিজিক চাইতে পারেন।
পরিবারের জন্য কাঁদতে পারেন।
অসুস্থতার জন্য শিফা চাইতে পারেন।
আর আসরের পর সেই বিশেষ সময়ে হাত তুলে বলতে পারেন—
ইয়া আল্লাহ, আমাকে ফিরিয়ে নিন।
মনে রাখবেন: জুমার দিনের দোয়া শুধু মুখে না—হৃদয় দিয়েও করতে হয়।
সাওয়াবের নিয়তে পৌঁছে দিন সবার কাছে।
©️