20/05/2025
যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা পোশাকে এগিয়ে চীন, বৈচিত্র্যে পিছিয়ে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এককভাবে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে চীন। চীনের বড় শক্তি সস্তা পোশাক আর পোশাকের বৈচিত্র্য। চীনের চেয়ে দামি পোশাক রপ্তানি করলেও শুধু বৈচিত্র্যের কারণে দ্বিতীয় অবস্থানে ভিয়েতনাম। যদিও চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটি চীনকে টপকে গেছে। বাংলাদেশের বড় শক্তি সুতার কাপড়ের পোশাক রপ্তানি। তবে তুলাবিহীন পোশাকে বৈচিত্র্য কম। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় বাজারে বাংলাদেশ ঘুরেফিরে তৃতীয় অবস্থানে আটকে আছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত বছর বিশ্বের ২০০ দেশ থেকে ৮ হাজার ১৩২ কোটি ডলারের ৬৩৯ ক্যাটাগরি বা ধরনের পোশাক আমদানি করেছে। এর মধ্যে চীন সবচেয়ে কম দামে অর্থাৎ প্রতি পিস ২ দশমিক ৬২ মার্কিন ডলার দামে তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তারপরই রয়েছে বাংলাদেশ, ৩ দশমিক ৯১ ডলার। সস্তা পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও বৈচিত্র্যের ধরনে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। চীন ৬২৮টি, ভিয়েতনাম ৫২১ ও ভারত ৫৫৯ ধরনের পোশাক রপ্তানি করলেও বাংলাদেশ করেছে ৪৬১ ধরনের তৈরি পোশাক। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের তথ্যভান্ডার থেকে এমন তথ্য মিলেছে।
বাণিজ্য–ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে, সেসব দেশের ওপর গত ২ এপ্রিল ন্যূনতম ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৫৭ দেশের ওপর বিভিন্ন হারে বাড়তি পাল্টা শুল্ক বসানো হয়। ৯ এপ্রিল পাল্টা শুল্ক কার্যকরের দিন অনেকটা ‘ইউটার্ন’ করে তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন ট্রাম্প। যদিও সব দেশের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা হয়।
সস্তা পোশাকে শীর্ষে চীন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্যভান্ডারের সংরক্ষিত শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখা যায়, গত বছর চীন গড়ে প্রতি পিস পোশাক ২ ডলার ৬২ সেন্টে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। ভিয়েতনাম প্রতি পিস পোশাক রপ্তানি করেছে ৪ ডলার ৬২ সেন্টে। বাংলাদেশের প্রতি পিসের রপ্তানি মূল্য ছিল ৩ ডলার ৬৩ সেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ পাঁচ রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে বেশি দরে পোশাক রপ্তানি করেছে ইন্দোনেশিয়া। তারা প্রতি পিস পোশাক রপ্তানি করেছে ৫ ডলার ৪৬ সেন্ট। মোজা ও গ্লাভস ছাড়া এই হিসাব করা হয়েছে।
চার ধরনের পোশাকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চীন গড়ে প্রতি পিস ট্রাউজার বা প্যান্টজাতীয় পোশাক রপ্তানি করছে ৩ ডলার ৭৮ সেন্টে। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতি পিস ৫ ডলার ১৮ সেন্ট। এ ক্ষেত্রে চীন গত বছর ২২৯ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করেছে, বাংলাদেশের রপ্তানি ৩০৭ কোটি ডলারের। অবশ্য ভিয়েতনাম প্রতি পিস ট্রাউজার ৫ ডলার ৮৪ সেন্টে রপ্তানি করেছে। দেশটি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৩৮৯ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি করেছে।
শার্ট রপ্তানিতেও চীনের চেয়ে বেশি দাম পাচ্ছে বাংলাদেশ। গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৮০ কোটি ডলারের শার্ট রপ্তানি করে। প্রতি পিস শার্টের গড় রপ্তানি মূল্য ছিল ৪ ডলার ৮৮ সেন্ট। চীন গড়ে ৪ ডলার ৬২ সেন্টে প্রতি পিস শার্ট রপ্তানি করেছে। অবশ্য ভিয়েতনাম বেশি দামে শার্ট রপ্তানি করেছে, প্রতি পিস ৬ ডলার ৮৯ সেন্ট। আর ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি করা শার্টের গড় মূল্য ছিল ৬ ডলার ৯০ সেন্ট।
টি-শার্ট ও সোয়েটার রপ্তানিতে দামের ক্ষেত্রে চীনের চেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে সস্তা টি-শার্ট রপ্তানি করে বাংলাদেশ। প্রতি পিসের গড় রপ্তানি মূল্য ১ ডলার ৬৬ সেন্ট। চীনের রপ্তানি করা টি–শার্টের গড় মূল্য ১ ডলার ৭৬ সেন্ট। ভিয়েতনাম প্রতি পিস টি–শার্ট ২ ডলার ৭৪ সেন্টে রপ্তানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া প্রতি পিস সোয়েটারের গড় মূল্য ৩ ডলার ৯৪ সেন্ট। বাংলাদেশের প্রধান দুই প্রতিযোগী চীন ও ভিয়েতনাম সোয়েটারে এগিয়ে।