Royal Bengle

Royal Bengle আমরা মানসম্মত পন্য আপনার দোরগোড়ায় পৌ?

😂
16/10/2019

😂

ঢাকা থেকে সড়কপথে ২ ঘণ্টার দূরত্বে নরসিংদী। এখানেই প্রথম গড়ে ওঠে মুনাফাবিহীন সামাজিক উদ্যোগ ‘হাতে বুনানো’র প্রথম প্রডাকশন...
03/03/2019

ঢাকা থেকে সড়কপথে ২ ঘণ্টার দূরত্বে নরসিংদী। এখানেই প্রথম গড়ে ওঠে মুনাফাবিহীন সামাজিক উদ্যোগ ‘হাতে বুনানো’র প্রথম প্রডাকশন ইউনিট। মাত্র ১২ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা করা হাতে বুনানোয় এখন কাজ করছেন প্রায় ১২ হাজার নারী। তাদের ভাগ্য ফিরেছে হাতে বোনা কম্বল, শিশুদের জুতা, ঝুমঝুমি, খেলনা ও বর্ণিল সামগ্রী উৎপাদনের মাধ্যমে। সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পল্লী নারীর ক্ষমতায়নে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটি।
নরসিংদী জেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রামের নাম শীলমান্দি। সদর উপজেলার এ গ্রাম শহরের কাছাকাছি হলেও এটি কৃষিসমৃদ্ধ এলাকা। এখানকার নারীদের কিছু অংশ শহরের গার্মেন্টস বা আশপাশের কারখানায় কাজ করে। অন্যদের মধ্যে অনেকেই আগে বাড়িতে বসে অলস সময় কাটাতেন। হাতে বুনানো থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা জড়িয়ে পড়েছেন কুটির শিল্পে। হাতে তৈরি খেলনা ও বর্ণিল বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করছেন তারা, যা রফতানি হচ্ছে বিদেশে। আর এসব নারীও হয়ে উঠেছেন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম দৃষ্টান্ত। নিজস্ব রোজগার আর পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য অন্য কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে না তাদের। নিজেদের ভাগ্য ফিরিয়েছেন নিজেরাই।
শীলমান্দির আছমা বেগম কুটির শিল্প বিষয়ে ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণ নেন ১১ বছর আগে। পরবর্তীতে তার সংস্পর্শে এসে প্রশিক্ষণ নেন গ্রামের আরো অনেকেই। এখন পর্যন্ত আসমা দেড় শতাধিক নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এসব নারী এখন উলের সুতা ও কুশিকাটা দিয়ে তৈরি করছেন আপেল, আইসক্রিম, ডিম, ফুলকপি, কলস বা গাজর আকৃতির খেলনাসহ ছোটদের জুতা বা টুপিজাতীয় পোশাক।
শীলমান্দির মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে ‘হাতে বুনানো প্রশিক্ষণ সমিতি’ (এইচবিপিএস)। ২০০৪ সালের এপ্রিলে অক্সফোর্ড ব্রুকসের সাবেক পদার্থবিদ্যার ছাত্রী ব্রিটিশ নাগরিক সামান্থা মোরশেদের হাত ধরে যাত্রা করে অলাভজনক সামাজিক উদ্যোগ ‘হাতে বুনানো’। পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আসার পর স্থানীয় একটি এনজিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ওই এনজিওর সহায়তায় ১২ জন নারীকে নিজ বাড়িতে হস্তবুনন শিল্পের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন সামান্থা। শিগগিরই কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় দ্বিগুণে। এক পর্যায়ে কাজের চাপ বেড়ে গেলে নরসিংদীতে স্থাপন করা হয় হাতে বুনানোর প্রথম গ্রামীণ উৎপাদনকেন্দ্র। এক পর্যায়ে তার এ উদ্যোগে যোগ দেন স্বামী গোলাম মোরশেদও।
হাতে বুনানোর লক্ষ্য ছিল— বাংলাদেশের বৃহদায়তন গার্মেন্ট শিল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র পরিসরের একটি হস্তশিল্প প্রকল্প দাঁড় করানো। পরবর্তীতে একটি বিদেশী গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে সামান্থা মোরশেদ বলেন, ‘যেখানেই নারীর জন্য সুযোগ-সুবিধা কম, সেখানেই আমরা ন্যায্য মজুরি ও নমনীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছি।’
গ্রামীণ নারীর স্বভাবজাত দক্ষতা ব্যবহার করে স্বল্প খরচে, শ্রমঘন ও বিদ্যুত্সাশ্রয়ী উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে কাজের মডেল দাঁড় করেছে হাতে বুনানো প্রশিক্ষণ সোসাইটি (এইচবিপিএস)। বিনা খরচেই গ্রামীণ নারীদের বুনন, সেলাই ও এম্ব্রয়ডারির প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংগঠনটি। প্রশিক্ষিত তত্ত্বাবধায়কের অধীনে চলে নারীদের প্রশিক্ষণ।
২০০৯ সালের দিকে দেশব্যাপী কয়েকটি গ্রামীণ উৎপাদনকেন্দ্রে হাতে বুনানোর নারী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজারে। একই সময়ের মধ্যে সংস্থার সব প্রডাকশন ইউনিটে উৎপাদিত পণ্যে ত্রুটির হার ১ শতাংশেরও নিচে নেমে আসে বলে জানানো হয় হাতে বুনানো প্রশিক্ষণ সোসাইটির বুলেটিনে। ওই বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নে ভূমিকার জন্য যুক্তরাজ্যের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে মেম্বার অব অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এমপায়ার (এমবিই) সম্মাননা পান সামান্থা মোরশেদ। একই বছরের এপ্রিলে নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের বৈঠকে এইচবিপিএসের কাজ ও অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।
এদিকে দেশজুড়ে বাড়তে থাকে হাতে বুনানোর প্রডাকশন ইউনিট ও কর্মরত নারীর সংখ্যা। কার্যক্রম সম্প্রসারণের এক পর্যায়ে ২০১০ সালে গড়ে তোলা হয় মুনাফানির্ভর প্রতিষ্ঠান ‘পেবল চাইল্ড’ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশী হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড পেবল। এরও দুই বছর পর ইউরোপ ও এশিয়া প্যাসিফিকে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথ তৈরি করতে যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় পেবল চাইল্ড ইউকে লিমিটেড ও পেবল চাইল্ড মালয়েশিয়া এসডিএন বিএইচডি। ধীরে ধীরে হাতে বুনানোর কর্মীদের তৈরি পণ্যের বাজার যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের ৩৭টি দেশে সম্প্রসারণ হয়।
জানা গেছে, সারা বিশ্বে হাতে বুনানোর পণ্য বিক্রি হয় পেবল চাইল্ডের মাধ্যমে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে হাতে বুনানোর পণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ নেই। এজন্য প্রথমে পণ্য পেবলের কাছে বিক্রি করা হয়। উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যিক বণ্টনের কাজটি মূলত পেবলই দেখে থাকে।
২০১৩ সালে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দরিদ্র, অশিক্ষিত নারীদের ক্ষমতায়নের কেস স্টাডি হিসেবে এমআইটি ইনোভেশন জার্নালে স্থান পায় এইচবিপিএস। বিশ্বব্যাপী হস্তশিল্পের আদর্শ প্রকল্পের মর্যাদা পায় প্রতিষ্ঠানটি।
হাতে বুনানোর নির্বাহী পরিচালক রায়হান কবির জানান, গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি শহরমুখিতা ঠেকানো ও স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই গড়ে তোলা হয় হাতে বুনানো প্রশিক্ষণ সোসাইটি। এজন্য গ্রামীণ প্রভাবশালীদের কাছ থেকে ধর্মীয় ও বিভিন্ন অজুহাতে বাধার সম্মুখীন হতে হলেও পরবর্তীতে তা খুব একটা ধোপে টেকেনি। বর্তমানে শীলমান্দির মতো সারা দেশের ১২৯টি স্থানে গড়ে উঠেছে হাতে বুনানোর প্রডাকশন ইউনিট। এসব প্রডাকশন ইউনিট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে পরবর্তীতে হাতে বুনানোর সঙ্গে কাজ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রশিক্ষণ পাওয়া নারীদের মধ্যে অনেকেই নিজের দক্ষতায় আত্মকর্মসংস্থান বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কাজের সুযোগ তৈরি করে নিয়েছেন।
তিনি জানান, সংস্থার উদ্যোগে প্রতি মাসে গ্রামীণ এলাকাগুলোয় মাসিক সচেতনতামূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বর্তমানে প্রতিটি প্রডাকশন ইউনিটের সঙ্গে কর্মীদের সন্তানদের জন্য স্কুল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
হাতে বুনানো প্রশিক্ষণ সোসাইটির চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ বণিক বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশে গ্রামভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগের বাস্তবায়ন বেশ কঠিন। এমনকি এ বিষয়ে আমরা কোনো সাহায্য সংস্থা বা এনজিওর কাছ থেকেও সহায়তা পাইনি। এমনকি আমরা নিজেরাও কোনো এনজিও নই। গ্রামীণ নারীদের হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দেয়াটা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। স্রেফ গ্রামীণ নারীর দক্ষতা ও মেধার ওপর ভর করে একটি হস্তশিল্পনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়িয়েছে হাতে বুনানো। অনেক ক্ষেত্রে গ্রামের অবস্থাপন্নরাই প্রশিক্ষণের জন্য কম খরচে ঘর ভাড়া দিয়ে আমাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। হাতে বুনানোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে কয়েক বছরের কঠোর পরিশ্রম।

ঠগ একটি সংস্কৃত শব্দ যা থেকে ঠগী শব্দটি উদ্ভূত। শাব্দিকভাবে এর অর্থ ধোঁকাবাজ, প্রতারক। বাংলা অভিধানে ঠগী বলতে বিশেষ শ্রে...
24/02/2019

ঠগ একটি সংস্কৃত শব্দ যা থেকে ঠগী শব্দটি উদ্ভূত। শাব্দিকভাবে এর অর্থ ধোঁকাবাজ, প্রতারক। বাংলা অভিধানে ঠগী বলতে বিশেষ শ্রেণীর এক দস্যু দলকে বোঝায় যারা পথিকের গলায় রুমাল বা কাপড় জড়িয়ে হত্যা করে। ঠগীরা ছিল ভারতবর্ষের একটি বিশেষ শ্রেণীর খুনী সম্প্রদায়। এদের মতন নিষ্ঠুর আর নিপুণ খুনীর দল পৃথিবীতে শুধু নয়, ইতিহাসেই বিরল।

ঠগীরা ১৩ থেকে ১৯ শতকে বাংলাসহ উত্তর ভারতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা যত মানুষ হত্যা করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। কেবল ১৮৩০ সালেই ঠগীরা প্রায় ৩০,০০০ মানুষ হত্যা করেছে।

১৩৫৬ সালে ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দীন বারানি লিখিত ‘ফিরোজ শাহর ইতিহাস’ গ্রন্থে ঠগীদের কথা প্রথম জানা যায়। এই ঠগী শ্রেণীর মানুষেরা উত্তর ভারতে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এরপর বহু শতাব্দী ধরে বংশ পরম্পরায় তাদের এই কর্মকান্ড চালাতে থাকে। এরা ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াতো, পথে যাত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতো। তারপর সময় সুযোগ বুঝে যাত্রীদের মেরে ফেলে সবকিছু লুট করতো। ১৭ আর ১৮ শতকের প্রথম দিকে ভারতের পথিকদের জন্য মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম এই ঠগী।

কিন্তু বাংলায় তাদের আগমন ঘটে ১২৯০ সালের দিকে। ফিরোজ শাহর ইতিহাস গ্রন্থ হতে জানা যায়, ১২৯০ এর সুলতানী শাসনের সময় প্রায় হাজার খানেক ঠগ ধরা পরে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে সুলতান তাদের কোনো রকম সাজা না দিয়ে দিল্লীতে ফিরে না আসার শর্তে, অনেকটা আপ্যায়নের সাথে নৌকায় তুলে দিয়ে ভাটির দেশে- তথা এই বাংলায় পাঠিয়ে দেয়। আর তারপর থেকেই বাংলার জলে-স্থলে, মাঠে-ঘাটে ছড়িয়ে পরে এই খুনির দল। বাংলায় ঠগীদের ইতিহাসের সূত্রপাত সম্ভবত এখান থেকেই।

শত শত বছর ধরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গায় হারিয়ে যেত অগণিত পথিক। কোথায়, কীভাবে হারাত, জানত না কেউ। কোনো এক জাদুবলে যেন তারা মুছে যেত পৃথিবীর বুক থেকে। কত মানুষ হারিয়েছিল এভাবে? গিনেস বুকের হিসাবে এই সংখ্যা ২০ লক্ষ! নিরীহ পথিকদের ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে যেয়ে হত্যা করে তাদের মালামাল লুট করত যারা- ভারতীয় কিংবদন্তীতে আমরা তাদের ঠগী বলে চিনি। সেই ঠগী, যারা ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম খুনিদের মধ্যে অন্যতম বলে চিহ্নিত। ঠগী ছিল ১৭ আর ১৮ শতকের প্রথম দিকে ভারতের পথিকদের জন্য মূর্তিমান এক আতঙ্কের নাম।

ঠগীরা সবসময় চলত দল বেঁধে। তারা ব্যবসায়ী, তীর্থযাত্রী কিংবা সৈন্যের ছদ্মবেশে ভ্রমন করত। এদেরই লোকজন গোপনে বাজার কিংবা সরাইখানা থেকে পথযাত্রীদের সম্বন্ধে যাবতীয় তথ্য যোগাড় করত। তারপর যাত্রীদের সংগে মিশে যেত। যাত্রা বিরতিতে যাত্রীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করত। সহযাত্রীদের সৌহার্দ্য, নিরাপত্তা আর বিশ্বাসের উষ্ণ আমেজে, গরম খাবার খেয়ে পথ চলতি ক্লান্ত যাত্রীরা নিশ্চিন্তে বিশ্রাম নিতে থাকেন। আর তখনেই আসতো সর্দারের হুকুম। সর্দারের নির্দেশ পাওয়া মাত্রই যাত্রীদের ওপর ঘটতো নির্মম হত্যাকাণ্ড। একজন যাত্রীকে খুন করত তিনজনের একটি দল। একজন মাথা ধরে রাখত,অন্যজন ফাঁস পরাত, আরেকজন পা চেপে ফেলে দিত। কেউ পালিয়ে গেলেও রক্ষা নেই, ঠগীদের অন্য দলটি কাছেপিঠেই ওত পেতে থাকত।

এই ঠগীরা নানা সাঙ্কেতিক ভাষায় নিজেদের মধ্যে কথা আদান প্রদান করতো। যেমন- ‘বাসন মেজে আনার কথা’ বলার মধ্য দিয়ে সর্দার তার এক সাঙেতকে কবর তৈরি করার নির্দেশ দিত। ‘ঝিরনী’ শব্দে হত্যার প্রস্তুতি আর ‘তামাকু লাও’ শব্দের মাধ্যমে হত্যার আদেশ দেয়া হতো। এই নির্দেশ পাওয়া মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে ফাঁস জড়ানো হতো শিকারের গলায়। যেকোনো সংগঠিত অপরাধী সমাজের মতোই এরূপ নিজস্ব নানা সাঙ্কেতিক ভাষায় ঠগীরা নিজেদের মধ্যে কথা আদান প্রদান করত। গোষ্ঠীভুক্ত না হলে এই সংকেতের পাঠোদ্ধার ছিল অসম্ভব।

বিভিন্ন ভূমিকা আর দক্ষতার ভিত্তিতে পেশাদারি শ্রম বিভাজনের কাঠামো তৈরি করেছিল ঠগীরা। দলের সদস্যদের খুবই নির্দিষ্ট সব দায়িত্ব ছিল। সর্বাগ্রে থাকতো ‘সোথা’রা। সম্ভাব্য শিকার চিহ্নিত করা, তার সাথে ভাব জমানোর ও শিকার সম্পর্কে নানা তথ্য যোগাড়ের দায়িত্ব থাকতো তাদের ওপর। পুলিশের গতিবিধি নজরে রাখতো যারা তাদেরকে বলা হতো ‘তিলহাই’, তারা দল থেকে খানিকটা পিছনে থাকত। নিরাপদ জায়গা দেখে তাঁবু গড়ার দায়িত্ব থাকত ‘নিসার’দের উপর।

কবর তৈরি করারে দায়িত্ব যার তাকে বলা হতো ‘বিয়াল’। শিকারকে যে ধরে রাখবে তাকে বলা হতো ‘চামোচি’। শিকার যাতে বাধা দিতে না পারে তার জন্য হাত আটকে রাখার দায়িত্ব ‘চুমোসিয়া’র। ‘চুমিয়া’ শিকারের পায়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেবে। ‘ভোজারা’ মৃতদেহগুলো কবরে নিয়ে যাবে । ‘কুথাওয়া’র দায়িত্ব হলো দেহগুলোর হাঁটু ভেঙে থুতনির সঙ্গে লাগিয়ে ভাঁজ করে কবরে দেওয়া। মৃতদেহ পাহারা দেয়া ও বিপদের গন্ধ পেলে জানান দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্তদের বলা হতো ‘ফুরকদেনা’। আর হত্যাকাণ্ডের জায়গাটা সাফসুতরো করে ফেলার দায়িত্ব ছিল ‘ফুরজানা’দের।

সদ্য মৃত মানুষদের কবরের ওপর বসত ঠগীদের অমৃতের ভোজ। সে ভোজ আর কিছু নয়, গুড়ের ভোজ। একলা পথিক পেলেই সাদরে তাকে দলের সাথে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানাত। তাদের মতে, যে একবার এই গুড় খাবে, সে ঠগী হয়ে যাবে। ঠগীদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমান-শিখ সব ধর্মের লোকই ছিল।

ঠগীদের খুনের অস্ত্রটা ছিল বেশ অবাক করার মতো। অতি সাধারণ, কিন্তু সাংঘাতিক কার্যকর। এক ফালি হলদে কাপড়ের টুকরো। দুই ভাঁজে ভাঁজ করলে মাত্র ৩০ ইঞ্চি। ১৮ ইঞ্চির মাথায় একটা গিট। তাতে একটা রুপোর টাকা বা তামার ডবল পয়সা বাঁধা। নিপুণ ঘাতকের হাতে সেটাই হয়ে উঠে অব্যর্থ মরণ ফাঁস।

ঠগীদের সম্বন্ধে ব্রিটিশ সরকার প্রথম জানতে পারে ১৮১২ সালে । সেসময় গঙ্গার ধারে একটি গণকবর পাওয়া যায়। তাতে ৫০টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। তারপরও বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছিল গণকবর। এসময় ব্রিটিশদের বদন্যতায় যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা পায়। ফলে ঠগীদের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমতে থাকে। কিন্তু পুরোপুরি তাদের মূলোৎপাটন করা যাচ্ছিল না। ব্রিটিশ সরকার ঠগীদের নিমূর্ল করার জন্য উইলিয়াম শ্লিমানকে দায়িত্ব দেয়।

বেঙ্গল আর্মির অফিসার উইলিয়াম হেনরি শ্লিমান ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ ব্যক্তি। তিনি দেখলেন, কিছুতেই অন্যান্য দুস্কৃতিকারীদের থেকে ঠগীদের পৃথক করা যাচ্ছে না। ঠগীরা নিপুণ কৌশলে অপরাধ ঢেকে রাখছিল। শ্লিমান গুপ্তচর নিয়োগ করলেন, গঠন করলেন বিশেষ পুলিশ বাহিনী ও আলাদা বিচার আদালত। পাশাপাশি ঠগীদের অপরাধস্থল বিশ্লেষণ করে তৈরি করলেন মানচিত্র এবং অপরাধের দিনক্ষণের একটি তালিকা তৈরি করলেন যাতে পরবর্তী হত্যার সময়কাল আঁচ করা যায়। নিজের লোকদের ব্যবসায়ীর ছদ্মবেশে অস্ত্রসহ সেসব স্থানে পাঠাতে থাকেন।

তারপর ১৮৩০ সালে শ্লিমানের গুপ্তচরদের দক্ষতায় ঠগীরা দলে দলে ধরা পড়তে থাকে। এদের কারো কারো মৃত্যুদণ্ড, কারো যাবজ্জীবন জেল, কারো বা দ্বীপান্তর দিয়ে এদের দমন করতে সক্ষম হন। বাকী যারা ছিল তারা ভয়ে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। ফলে ভারতবর্ষ ঠগী মুক্ত হয়।

একজন মানুশের জীবনে অনেক স্বপ্ন থাকে । কৈশোরের স্বপ্ন, যুবকের স্বপ্ন । জীবনের যাতাকলে পড়ে পিস্ট হবার আগে দেখা এই স্বপ্নগু...
28/01/2019

একজন মানুশের জীবনে অনেক স্বপ্ন থাকে । কৈশোরের স্বপ্ন, যুবকের স্বপ্ন । জীবনের যাতাকলে পড়ে পিস্ট হবার আগে দেখা এই স্বপ্নগুলো বেশিরভাগ সময়েই ঝড়ে যায় কুড়ি থেকে ফুল হবার আগেই । মধ্যবিত্ত জীবনের চাপে পরে, দায়িত্বের বেড়াজালে আটকে থেকে স্বপ্নগুলো স্বপ্নই থেকে যায় ।
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, পরিবারের চাহিদা পুরন করতে জলাঞ্জলি দিতে হয় সবকিছুকে ।

একজন যুবক স্বপ্ন দেখেছিল নায়ক হবে, অভিনয় করবে । কিন্তু তা আর করা হয়ে ওঠে না বাবার ধমকে । এইসব নিয়েই ছোট্ট একটি শর্ট ফিল্ম । এই ফিল্ম আপনাকে কাদাবে, চোখে জল নিয়ে আসবে -

অবশ্যই দেখুন - জীবনের নতুন অর্থ আপনার সামনে উদ্ভাসিত হোক ।

There are only a few things in the world that epitomize hope, dreams and magic and one of them is Indian cinema. And in life, like in Bollywood, some dreams ...

24/01/2019
24/01/2019

কাচ্চির ঘ্রাণ নাকে এলেই গানগুলোও যেন বদলে যায়...
www.earki.com

চিন্তা করেন, ভাবেন । ট্যাগ করুন আপনার চাকুরিজিবি বন্ধুদের ।
23/01/2019

চিন্তা করেন, ভাবেন ।
ট্যাগ করুন আপনার চাকুরিজিবি বন্ধুদের ।

22/01/2019

আপনাদের ডাইনি বন্ধুদের ট্যাগ করুন :D :P

:( :( :( :( আল্লাহ আপনার ভাল কাজের প্রতিদান দিন আর মন্দ কাজকে ক্ষমা করে দিন !
22/01/2019

:( :( :( :(

আল্লাহ আপনার ভাল কাজের প্রতিদান দিন আর মন্দ কাজকে ক্ষমা করে দিন !

১৯০৬ সালের কথা। জাপানের ফুজি পাহাড়ের নিচে ছোট্ট একটি গ্রামে জন্ম সইচিরো হোন্ডার। একজন সাইকেল মেরামতকারীর সন্তান হিসেবে ব...
21/01/2019

১৯০৬ সালের কথা। জাপানের ফুজি পাহাড়ের নিচে ছোট্ট একটি গ্রামে জন্ম সইচিরো হোন্ডার। একজন সাইকেল মেরামতকারীর সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠেন সইচিরো। কাপড় বোনার কাজ করতেন হোন্ডার মা। দিনটি কেমন হবে সেটি যেমন সূর্যের প্রথম কিরণই বলে দেয়, ঠিক তেমনি হোন্ডার ছেলেবেলার কাজকর্ম তার স্বপ্নের কথা জানান দেয়।
ছোটবেলা থেকেই কলকব্জা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন হোন্ডা। হোন্ডাকে যে স্কুলে পড়তে পাঠানো হয়েছিল তাতে ছাত্রছাত্রীদের রিপোর্ট কার্ড বাবা-মায়ের কাছে পাঠানো হতো এই শর্তে যে, পরিবারের যে কোনো অভিভাবক তা দেখবেন এবং দেখে প্রমাণস্বরূপ পারিবারিক সিল দিয়ে আবার ফেরত দেবেন।

ছোট্ট হোন্ডার এসব রীতিনীতি ভালো লাগত না। বাবা-মাকে নিজের দুরন্তপনার খবর থেকে দূরে রাখতে নিজেই নিজের অভিভাবক হয়ে গেলেন। সাইকেল মেরামতের সরঞ্জাম থেকে পারিবারিক সিল বানিয়ে ফেলেন। শুধু নিজের জন্যই না, সিল বানিয়েছিলেন অন্য বাচ্চাদের জন্যও। যা পরে ধরা পড়ে যায় একসময়। এমনকি এক স্মৃতিচারণে হোন্ডা বলেছিলেন, 'তখন কেবল হাঁটতে শিখেছিলেন যখন তিনি তার জীবনে প্রথম গাড়ি দেখেছিলেন। সেই গাড়ির ধোঁয়ার গন্ধ তিনি কখনও ভুলতে পারবেন না।'

১৫ বছর বয়সে, কোনো রকম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া হোন্ডা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান কাজের খোঁজে। চলে যান রাজধানী টোকিও। কাজ নেন গ্যারেজে, যেখানে কলকব্জা পরিষ্কার করা এবং মালিকের বাচ্চার দেখাশোনা করা ছিল তার কাজ। কিন্তু এই জীবন চাননি হোন্ডা।

১৯২৩ সাল। ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে প্রায় ১ লাখ মানুষ মারা যায় টোকিওতে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হোন্ডার মালিকের দোকানও। অনেক মেকানিক চাকরি ছেড়ে চলে যায়, সুযোগ আসে হোন্ডার। হয়ে যান প্রধান মেকানিক।

২১ বছর বয়সে মাত্র একজন কর্মী নিয়ে খোলেন নিজের গাড়ি মেরামতের দোকান। প্রথমে হোঁচট খেয়েছেন কিন্তু পরে তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যায়। একজন থেকে কর্মী সংখ্যা ১৫ জনে দাঁড়ায়।

জাপান, একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এখানে মজবুত গাঁথুনি ছাড়া টিকে থাকা যে অসম্ভব তা হোন্ডা বুঝতে পেরেছিলেন। তার উদ্ভাবনী সম্ভারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন লোহার ছাঁচ। আগে কাঠের ছাঁচে চাকা আটকে বিভিন্ন কাজ করা হতো, কিন্তু হোন্ডার লোহার ছাঁচটি ছিল আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য। জনপ্রিয় হয়ে ওঠে হোন্ডার উদ্ভাবন।

জাপানের জাতীয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল সম্মেলনে জয়জয়কার হয় তার। বিদেশে রফতানিও করেন হোন্ডা, কিন্তু পথ পাড়ি দিতে হবে অনেক।

১৯৩৭ সাল, টয়োটা কোম্পানি সবে যাত্রা শুরু করে। এদিকে গাড়ির পিস্টন রিং বানানোর কাজে হাত দেন হোন্ডা। উদ্দেশ্য টয়োটা কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি না হোক অন্তত তাদের সাপ্লায়ার হিসেবে যেন কাজ করার সুযোগ পান। কিন্তু তার ডিজাইন দেখে টয়োটা তাকে তাদের যোগ্য ভাবলেন না। পৃথিবীতে যারা সফল হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই নিজেদের দুর্বলতাকে স্বীকার করেছেন এবং পরবর্তীতে দুর্বলতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন।

৩০ বছর বয়সে আবার স্কুলে ভর্তি হলেন হোন্ডা। চারপাশে ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে পড়তে গিয়ে কতই না লাঞ্ছনা সইতে হয়েছে তাকে! কিন্তু থেমে যাননি। টয়োটা থেকে 'না' শুনে বানিয়েছিলেন দ্রুতগতিসম্পন্ন 'রেসিং কার'।
কিন্তু প্রতিযোগিতায় সেটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হোন্ডার কাঁধ ও মুখ। পড়ে যান অর্থকষ্টে। অর্থের জোগান দিতে বিক্রি করে দেন স্ত্রীর অলঙ্কারও। লাঞ্ছনা, দরিদ্রতা, শারীরিক কষ্ট সব কিছুর পরও হোন্ডা চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন।
নিজের বানানো ৩০ হাজার পিস্টন রিং থেকে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ৫০টি নিয়ে আবার ধরনা দেন টয়োটা অফিসে। যদি বিক্রি হয়? কিছু টাকার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু মাত্র তিনটি পিস্টন রিং প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করা হয়।

১৯৪২ সাল, সইচিরো হোন্ডা যোগ দেন টয়োটাতে। খুব দ্রুত হয়ে যান প্রধান নির্বাহী পরিচালক। কিন্তু কপালের ফের। ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে যায় পুরো জাপান। বেঁচে থাকাই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে হোন্ডা স্বপ্ন দেখেতে শুরু করেন আবারও।

পরিবারের খাবার কেনার সাধ্য ছিল না তার, কিন্তু কীভাবে সুলভ মূল্যে সবার কাছে যোগাযোগ করা যায় তা ভাবতেন তিনি। ১৯৪৬ সালে অবশেষে তৈরি করে ফেললেন মোটরচালিত সাইকেল।

এবং ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন 'হোন্ডা মোটর কোম্পানি'। যার মূলমন্ত্র 'স্বপ্নের শক্তি'। যে কোম্পানি মোটরসাইকেলের পাশাপাশি এক সময় জেট বিমান নির্মাণের কাজেও হাত দেয় এবং সফলও হয়। শ্রম ও একনিষ্ঠতার বদৌলতে এই কোম্পানিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠে বিশ্ববিখ্যাত হোন্ডা কোম্পানি।

অনেকে এখনো ‘হোন্ডা’ বলতে মোটরসাইকেলকেই বোঝান। ১৯৫৯ সাল থেকেই বিশ্বের শীর্ষ মোটরসাইকেল নির্মাতার মুকুটটা হোন্ডার দখলে।

১৯৯১ সালে এই মহানায়কের জীবনযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে। প্রতিটি গল্পের নায়ক আমাদের কিছু শিক্ষা দিয়ে যান, হোন্ডাও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি বলে গেছেন, 'যে কোনো সাফল্যের ১ শতাংশ কাজ, বাকি ৯৯ শতাংশ ব্যর্থতা।' অর্থাৎ, পরাজয়ই জয়ের একমাত্র পথ।

মীর জাফর আলী খাঁ ! বিস্বাসঘাতক !! ‘মীর জাফর’ এই নামটি বাংলার মানুষের কাছে এখন একটি গালি, বেইমানের প্রতিশব্দ। কোন বাঙালিই...
20/01/2019

মীর জাফর আলী খাঁ !
বিস্বাসঘাতক !!

‘মীর জাফর’ এই নামটি বাংলার মানুষের কাছে এখন একটি গালি, বেইমানের প্রতিশব্দ। কোন বাঙালিই আর তার সন্তানের নাম এটা রাখে না। যার কারনে এই নামটি গালিতে রূপ নিয়েছে, বেইমানের প্রতিশব্দ হয়েছে তার পুরো নাম ছিল মীর জাফর আলী খান। জন্মেছিল ১৬৯১ সালে।

এই মীর জাফর ছিলো ইরানি বংশোদ্ভূত। তার পীতার নাম সৈয়দ আহমেদ নাজাফি। ছিল বাবা-মা র দ্বিতীয় সন্তান। পারস্য থেকে একদম নিঃস্ব হয়ে তিনি বাংলায় আসে ভাগ্যান্বেষণে। এখানে এসে বিহারের নায়েব আলীবর্দী খানের অধীনে চাকুরী শুরু করে।

১৭৪১ সালের দিকে মারাঠারা বারবার বাংলায় আক্রমন করে এর ধন সম্পদ লুট শুরু করে। এদের দমনের জন্য নবাব আলীবর্দী খানকে বিরামহীন ভাবে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়েছিল। সেই সময় মীর জাফর এসব যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করে। এবং সেনানায়ক হিসেবে বিশেষ কৃতিত্ব দেখায়।

১৭৪১ সালের ডিসেম্বরের দিকে মীর জাফর মারাঠাদের পরাজিত করে উড়িষ্যার বড়বাটি দূর্গ দখল দখল করে সেখানে সপরিবারে বন্দী থাকা নায়েব নাযিম ( উড়িষ্যার নায়েব এবং আলিবর্দীর ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা) এবং সৈয়দ আহমদ খানকে মুক্ত করে।

১৭৪৬ সালে মেদিনীপুরে মারাঠাদের সাথে এক বৃহৎ যুদ্ধে পুরো মারাঠা বাহিনীকে পরাজিত করে। আর এর জন্য নবাব তাকে উড়িষ্যার নায়েব নাযিম প্রদান করেন। মারাঠাদের বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধে জয় লাভ করে মীর জাফর ধিরে ধীরে উচ্চাভিলাষী ও ক্ষমতালোভী হয়ে পড়ে।

মেদিনীপুরের যুদ্ধে হেরে মীর হাবিব এবং জানুজী ভসলের নেতৃত্বে এক বিশাল মারাঠা বাহিনী উড়িষ্যা থেকে মেদিনিপুরের দিকে অগ্রসর হয়। এতে মীর জাফর প্রথমবারের মত ভয় পেয়ে পালিয়ে বর্ধমানে আশ্রয় নেন। তাকে সাহয্য করার জন্য নবাব আলীবর্দী সৈন্যসহ আতাউল্লাহ খানকে পাঠান। কিন্তু তারা মারাঠা সৈন্যকে আক্রমণ না করে বরং আলীবর্দী কে হত্যা করে তার রাজ্য নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু করে। বাধ্য হয়ে নবাব নিজেই সৈন্য নিয়ে অগ্রসর হলে মীর জাফর নিজের কর্মের জন্য অনুতপ্ত না হয়ে বরং নবাবের সাথে উদ্ধত আচরণ করে। নবাব তাকে সাথে সাথে পদচ্যুত করেন। অবশ্য পরবর্তীতে তাকে আবার পূর্বপদে বহাল করলেও ততদিনে মীর জাফর ডুবে গিয়েছিল দুর্নীতি, লোভের অতলে।

১৭৫০ সালে মীর জাফর বিভিন্ন দুর্নীতির কারনে ধরা পরলে, তার উপর নজর রাখার জন্য তার ভাই মির্জা ইসমাইলের পরিবর্তে খাজা আব্দুল হাদীকে সহকারী প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।

সেনাপতি হওয়ার পর মীর জাফর শুরুর দিকে যে কৃতিত্ব দেখিয়েছিল শেষের দিকে এসে তা আর সে ধরে রাখতে পারে নি। বার্ধক্যজনিত কারনে নবাব অসুস্থ হয়ে গেলে মীর জাফর এবং রায় দুর্লভকে যুদ্ধে পাঠান। কিন্তু তারা অহেতুক সময়ক্ষেপ করতে থাকলে। বৃদ্ধ নবাব বাধ্য হয়েই আবার যুদ্ধে যান। যুদ্ধ বন্ধ করতে অবশেষে দশ বছর পর মারাঠাদের সাথে সন্ধী হলে তারা বাংলায় আক্রমন বন্ধ করে।

এর কিছুদিন পরেই নবাব আলীবর্দী খানের দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব হন। প্রধান সেনাপতি হয়েও মীর জাফর সিরাজউদ্দৌলাকে নবাব হিসেবে মেনে নিতে পারেননি। সে আশা ছিল আলীবর্দী খানের পর সেই হবে নবাব। কিশোর সিরাজউদ্দৌলার কাছে নিজের নবার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় সে ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লর্ড ক্লাইভের সাথে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করতে এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
আর সেই ষড়যন্ত্রে ইয়ার লতিফ, জগত শেঠ, রায় দুর্লভ, উর্মি চাঁদ প্রমুখকে যুক্ত করতে সক্ষম হয় সে। পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধে এরা নিজেরাও যোগ দেয় না এবং নিজেদের অধীনস্ত সৈন্যবাহিনীকেও যুদ্ধ থেকে দূরে রাখে। দূরে দাঁড়িয়ে উপভোগ করতে থাকে নবাবের বাহিনীর করুণ পরাজয়।
এই ষড়যন্ত্রের কারনেই সিরাজউদ্দৌলা পলাশির যুদ্ধে পরাজিত হন। এবং বাংলা বিহার উড়িষ্যা স্বাধীনতা হারিয়ে দুশো বছরের পরাধীনতার অন্ধকারে প্রবেশ করে।

ক্ষমতার লোভে মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সেটা যেমন সত্যি তেমনি অনেকের মতে মীর জাফরের মত জৈষ্ঠ, অভিজ্ঞ লোক থাকতে বালক অনভিজ্ঞ সিরাজুদ্দৌলাকে নবাব করে ভুল করেছিলেন আলীবর্দী খান। দীর্ঘদিন যুদ্ধ লড়ে একজন বালকের শাসন মানতে পারে নি মীর জাফর।

যুদ্ধের পরে কোম্পানি মীর জাফরকে নবাবের মসনদে বসায়। কিন্তু ইংরেজদের সাথে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে ব্যর্থ হলে তাকে সরিয়ে ইংরেজরা তার জামাতা মীর কাশিমকে নবাব বানায়। কিন্তু মীর কাশিম এই পরাধীনতা মেনে না নিয়ে মাথা চাড়া দিয়ে উঠলে। বক্সারের যুদ্ধে তাকে পরাজিত করে ইংরেজরা মীর জাফরকে আবার মসনদে বসায়।

ততদিনে মীর জাফর বুঝে গিয়েছিল ইংরেজদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার একটা আঙ্গুল নড়ানোর ও ক্ষমতা নেই। আর ইংরেজরাও বুঝে গিয়েছিল এই বাংলা লুটে নিতে চাইলে মীর জাফরের মত লোকই তাদের দরকার হবে।

যে মীর জাফর শুরুর দিকে আলীবর্দী খানের সেনাপতি হয়ে কৃতিত্ব দেখিয়েছিল, যুদ্ধে লড়েছিল সেই মীর জাফর ক্ষমতার লোভে আলীবর্দী খানের নাতি , বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো। ক্ষমতার লোভ মানুষকে কতটা অন্ধ করে দেয়, বেঈমান বানিয়ে দেয় তার অন্যতম উদাহরণ এই মীরজাফর।

১৭৬৫ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি মীর জাফর বিশ্বাসঘাতকতার প্রতীক হয়ে, নিমকহারামের চিরকলঙ্ক মাথায় নিয়ে মৃত্যুবরন করে। মুর্শিদাবাদে তার বসবাসের বাড়িটিকে এখনো মানুষ নিমকহারাম দেউড়ী নামেই চেনে।

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি  একজন তুর্কি সেনাপতি। তিনি ১২০৫-৬ সালের দিকে তৎকালীন বঙ্গের শাসক সেন রাজবংশের শে...
20/01/2019

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বখতিয়ার খলজি একজন তুর্কি সেনাপতি।
তিনি ১২০৫-৬ সালের দিকে তৎকালীন বঙ্গের শাসক সেন রাজবংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে সেন গৌড় দখল করেন।
লক্ষণ সেন প্রাণ নিয়ে পালিয়ে তৎকালীন বঙ্গে পালিয়ে যান এবং তার সৈন্যরা পরাজিত হয়ে নদিয়া শহর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
বখতিয়ার নদিয়া শহর অধিকার করে তা ধ্বংস করেন এবং এই শহরে রাজধানী না করে গৌড়-লক্ষণাবতীতে গিয়ে রাজধানী স্থাপন করেন।

খতিয়ার খলজি যাকে 'মালিক গাজি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, ছিলেন মুসলিম খলজি উপজাতির একজন সদস্য।
মুসলিম খলজি উপজাতি উত্তর-পূর্বের প্রায় সকল দখল-যুদ্ধে যোগদানকারী সেনাবাহিনীর অধিপতিদের কাজে নিযুক্ত ছিল।
ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি ছিলেন জাতিতে তুর্কি আর পেশায় ভাগ্যান্বেষী সৈনিক।
জীবনের প্রথম ভাগে তিনি ছিলেন আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ।
তার বাল্যজীবন সম্বন্ধে বিশেষ কিছু জানা যায় না। তবে মনে করা হয় দারিদ্রের পীড়নে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেন এবং নিজের কর্মশক্তির উপর ভর করে অন্যান্য দেশবাসীর ন্যায় ভাগ্যান্বেষণে বের হন।
প্রথমেই তিনি গজনির সুলতান মুহাম্মাদ ঘুরির সৈন্যবাহিনীতে চাকুরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। আকারে খাটো, লম্বা হাত এবং কুৎসিত চেহারার অধিকারী হওয়ায় সেনাধ্যক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হন।
গজনীতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লিতে কুতুবউদ্দীন আইবেকের দরবারে হাজির হন। এখানেও তিনি চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। অতঃপর তিনি বদাউনে যান।
সেখানকার শাসনকর্তা মালিক হিজবর-উদ্দিন বখতিয়ার খলজিকে নগদ বেতনে সেনাবাহিনীতে চাকরি প্রদান করেন।
কিন্তু উচ্চভিলাসি বখতিয়ার সামান্য বেতনভোগী সিপাহি হয়ে পরিতৃপ্ত হতে পারেন নি। অল্পকাল পর তিনি বদাউন ত্যাগ করে অযোদ্ধায় যান।
অযোদ্ধার শাসনকর্তা হুসামউদ্দিন তাকে বর্তমান মির্জাপুর জেলার পূর্ব দক্ষিণ কোণে ভগবৎ ও ভিউলি নামক দুইটি পরগনার জায়গির প্রদান করেন।
এখানেই বখতিয়ার তার ভবিষ্যৎ উন্নতির উৎস খুঁজে পান এবং এই দুটি পরগনাই পরবর্তীকালে তার শক্তির উৎস হয়ে ওঠে ।

১২০১ সালে বখতিয়ার মাত্র দু হাজার সৈন্য সংগ্রহ করে পার্শ্ববর্তী হিন্দু রাজ্যগুলো আক্রমণ করতে থাকেন।
সেই সময়ে তার বীরত্বের কথা চারিদিক ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং অনেক মুসলিম সৈনিক তার বাহিনীতে যোগদান করতে থাকে, এতে করে তার সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এভাবে চলতে থাকলে তিনি একদিন এক প্রাচীরবেষ্টিত দুর্গের মতো স্থানে আসেন এবং আক্রমণ করেন। প্রতিপক্ষ কোনো বাধাই দেয় নি।
দূর্গজয়ের পর তিনি দেখলেন যে দুর্গের অধিবাসীরা প্রত্যেকেই মুণ্ডিতমস্তক এবং দূর্গটি বইপত্র দিয়ে ভরা। জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জানতে পারলেন যে তিনি একটি বৌদ্ধ বিহার জয় করেছেন।
এটি ছিল ওদন্ত বিহার বা ওদন্তপুরী বিহার। সেই সময় থেকেই মুসলমানেরা জায়গাটিকে বিহার বা বিহার শরিফ নামে ডাকে।
বিহার জয়ের পর বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্ন সহ কুতুব-উদ্দিন আইবকের সাথে দেখা করতে যান এবং কুতুবউদ্দিন কর্তৃক সম্মানিত হয়ে ফিরে আসেন।
এর পরই তিনি বাংলা জয়ের জন্য সাহস এবং শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন।

তৎকালীন বাংলার রাজা লক্ষণ সেন বাংলার রাজধানী নদিয়ায় অবস্থান করছিলেন কারণ নদিয়া ছিল বহিঃশত্রুর কাছ থেকে সবচেয়ে সুরক্ষিত অঞ্চল।
বলা হয়ে থাকে যে নদিয়ায় আসার কিছু আগে রাজসভার কিছু দৈবজ্ঞ পণ্ডিত তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে এক তুর্কি সৈনিক তাকে পরাজিত করতে পারে।
এতে করে লক্ষণ সেনের মনে ভীতির সঞ্চার হয় এবং নদিয়ার প্রবেশপথ রাজমহল ও তেলিয়াগড়ের নিরাপত্তা জোরদার করেন।
লক্ষণ সেনের ধারণা ছিল যে ঝাড়খণ্ডের শ্বাপদশংকুল অরণ্য দিয়ে কোনো সৈন্যবাহিনীর পক্ষে নদিয়া আক্রমণ করা সম্ভব নয় কিন্তু বখতিয়ার সেইপথেই তার সৈন্যবাহিনীকে নিয়ে আসেন।
নদিয়া অভিযানকালে বখতিয়ার ঝাড়খণ্ডের মধ্য দিয়ে এত দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়েছিলেন যে তার সাথে মাত্র ১৮ জন সৈনিকই তাল মেলাতে পেরেছিলেন ।
বখতিয়ার সোজা রাজা লক্ষণ সেনের প্রাসাদদ্বারে উপস্থিত হন এবং দ্বাররক্ষী ও প্রহরীদের হত্যা করে প্রাসাদের ভিতরে প্রবেশ করেন।
এতে প্রাসাদের ভিতরে হইচই পড়ে যায় এবং লক্ষণ সেন দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলে প্রাসাদের পেছনের দরজা দিয়ে নৌপথে বিক্রমপুরে আশ্রয় নেন।

বখতিয়ারের রাজ্য পূর্বে তিস্তা নদী ও করতোয়া নদী, দক্ষিণে পদ্মা নদী, উত্তরে দিনাজপুর জেলার দেবকোট হয়ে রংপুর শহর পর্যন্ত এবং পশ্চিমে পূর্বে অধিকৃত বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
যদিও বাংলাদেশের বৃহদাংশ তার রাজ্যের বাইরে ছিল, ঐসব অঞ্চল দখল না করে তিনি তিব্বত আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। উদ্দেশ্য ছিল তুর্কিস্তানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা।
তিব্বত আক্রমণের রাস্তা আবিষ্কারের জন্য বখতিয়ার বাংলার উত্তর পূর্বাংশের উপজাতীগোষ্টির সদস্য আলী মেচকে নিয়োগ দেন।
সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর তিনি তিন জন সেনাপতি ও প্রায় দশ হাজার সৈন্য সামন্ত নিয়ে লখনৌতি থেকে তিব্বতের দিকে রওনা দেন ।
সৈন্যবাহিনী বর্ধনকোট শহরের কাছে পৌছালে তারা তিস্তা নদীর চেয়েও তিন গুন চওড়া বেগমতী নদী পার না হয়ে নদীর তীর ধরে তিন দিন দূরত্ব চলার পর একটি পাথরের সেতুর নিকটে আসেন এবং
সেখানে তার দুইজন সেনাপতিকে সেতুর সুরক্ষায় রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হন। সামনে একটি কেল্লা পরে। ঐ কেল্লার সৈন্যদের সাথে যুদ্ধে বখতিয়ার জয় করলেও সৈন্যবাহিনী ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়।
কেল্লার সৈন্যদের থেকে বখতিয়ার জানতে পারেন যে অদূরে করমবত্তন নামক শহরে কয়েক লক্ষ সৈন্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।
এই কথা শুনে বখতিয়ার সামনের দিকে অগ্রসর না হয়ে প্রত্যাবর্তন করেন। ফেরার পথে তার সৈন্যরা অসীম কষ্ট সহ্য করে।
সেতুর কাছে এসে বখতিয়ার দেখেন যে পার্বত্য লোকেরা তার দুই সেনাপতির উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের মেরে ফেলেছে এবং সেতুটি পুরোপুরি বিদ্ধস্ত করে দিয়েছে।
এরপর বখতিয়ার খুব অল্প সংখ্যক সৈন্য সহ ফিরে আসতে সক্ষন হন।
এই ঘটনার পরেই বখতিয়ার বুঝতে পারেন যে তিব্বত অভিযান বিফল হওয়ার ফলে তার শক্তি মারাত্বক ভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

তিব্বত অভিযান বিফল হলে বখতিয়ার দেবকোটে ফিরে আসেন। গৌহাটির নিকটে ব্রহ্মপুত্রের তীরে কানাই বড়শি বোয়া নামক স্থানে তুর্কি সেনাদলের বিধ্স্ত হওয়ার বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়।
তিব্বত অভিযান বিফল এবং সৈন্যবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতির ফলে লখনৌতির মুসলিম রাজ্যের প্রজারের মধ্যে বিদ্রোহ ও বিরোধ দেখা দিতে শুরু করে।
এরই ফলে বাংলার ছোট ছোট মুসলিম রাজ্যগুলো দিল্লির সাথে সম্ভাব্য বিরোধে আগে থেকেই কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এরকম নানাবিধ চিন্তা, এবং পরাজয়ের গ্লানিতে বখতিয়ার অসুস্থ এবং পরে শয্যাশায়ী হন।
এর অল্প কিছুদিন বাদে ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মিনহাজ ই সিরাজের বর্ণনানুসারে, তিনি আলী মর্দান খলজী কর্তৃক ছুরিকাঘাতে নিহত হন।

নদিয়া জয় করে পরবর্তীতে লক্ষণাবতীর (গৌড়) দিকে অগ্রসহ হন এবং সেখানেই রাজধানী স্থাপন করেন। এই লক্ষণাবতীই পরবর্তীকালে লখনৌতি নামে পরিচিত হয়।
গৌড় জয়ের পর আরও পূর্বদিকে বরেন্দ্র বা উত্তর বাংলায় নিজ অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি এলাকাগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে একজন করে সেনাপতিকে শাসণভার অর্পণ করেন।
বখতিয়ারের সেনাধ্যক্ষদের মধ্যে দুজনের নাম পাওয়া যায়। এদের মধ্যে আলি মর্দান খলজি বরসৌলে, হুসামউদ্দিন ইওজ খলজি গঙ্গতরীর শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।

ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি সংক্রান্ত সকল তথ্যই মুসলিম ঐতিহাসিক মিনহাজউদ্দিন শিরাজের তবকাৎ-ই-নাসিরী গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করা।
মিনহাজ বখতিয়ারের মৃত্যুর প্রায় চল্লিশ বছর পর বাংলায় গিয়ে বাংলা বিজয়ের যে কাহিনী শুনেছিলেন তাই মূলত লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তার উপর ভিত্তি করেই ইতিহাস রচিত হয়েছে।
তার বর্ণ‌না থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি মূলত প্রচলিত কাহিনীগুলিকেই লিপিবদ্ধ করেছিলেন যা ঐতিহাসিকদের কাছে বাংলা জয়ের একমাত্র দলিল। তাই মিনহাজের সব কথাই সঠিক তা নাও হতে পারে।
১১৯৩ সালে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য খিলজিকে দায়ী করা হয়। সেখানে থাকা সকল ছাত্রদেরকেও সে সময় হত্যা করা হয়। তবে এসম্পর্কিত মূল সূত্র থেকে জানা যায় যে খিলজি এই বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলেন যে এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়।

Address

House: T-13, Nurjahan Road, Mohammadpur
Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801713861698

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Royal Bengle posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Royal Bengle:

Share