07/05/2026
আমার স্বামী যে দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন, বিষয়টি অনেকেই জানেন। ব্যক্তিগত মর্যাদার কারণে সব কথা প্রকাশ না করলেও এটুকু বলতে চাই,এই জায়েজ বিষয়টিকে মেনে নেওয়ার পথে আমি তেমন ইহসান দেখিনি, আর ইনসাফও সহজভাবে পাইনি। আর এটা অনেক বেশি কঠিন যখন আমি নিজেই মেনে নিয়েছি, তবুও। হ্যাঁ এটা আমার স্ট্রেইট রিভিউ।
তবে আমি দোয়া করি আল্লাহ উনার জন্য সব সহজ করুন।
নিঃসন্দেহে ইসলামে একাধিক বিবাহ জায়েজ। তবে প্রতিটি জায়েজ বিষয় সব পরিস্থিতিতে সবার জন্য কল্যাণকর হয়ে ওঠে না। কারণ ইসলাম শুধু হালাল-হারামের সীমাবদ্ধ শিক্ষা নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে তাকওয়া, দায়িত্ববোধ, ইনসাফ ও ইহসানের মতো গভীর মূল্যবোধ।
একজন পুরুষ যখন দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন বিষয়টি শুধু তার অধিকার বা ব্যক্তিগত ইচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সাথে জড়িয়ে থাকে একজন স্ত্রীর অনুভূতি, তার মানসিক নিরাপত্তা, বহু বছরের সংসার, সন্তানের ভবিষ্যৎ ও একটি পরিবারের স্থিতি। তাই শরীয়ত যেখানে অনুমতি দিয়েছে, সেখানে ইনসাফের কঠিন দায়িত্বও আরোপ করেছে। আর ইনসাফ শুধু সময় বা খরচ সমান ভাগ করার নাম নয়; মানসিক দায়িত্ব ও উত্তম আচরণও এর অন্তর্ভুক্ত।
প্রায়ই নারীদের বলা হয়, স্বামীর প্রতি ইহসান করুন, কম মোহর নির্ধারণ করুন, সহজ হোন। অথচ পুরুষদের খুব কমই বলা হয়,স্ত্রীর প্রতিও ইহসান করুন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না যা তাকে অকারণে ভেঙে দেয়। অথচ কুরআনের নির্দেশ স্পষ্ট,“তোমরা তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করো।” এই সদ্ব্যবহারই তো প্রকৃত ইহসান।
মূল কথা হলো, কোনো কিছু জায়েজ হলেই তা প্রয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্র উত্তম হয়ে যায় না। এর জন্য প্রয়োজন প্রজ্ঞা, চরিত্র, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা। কারণ ইসলাম শুধু অধিকার দেয় না, সেই অধিকার সুন্দরভাবে প্রয়োগ করার শিক্ষাও দেয়।
আর এটাও সত্য, একাধিক বিবাহ ফরজ নয়। উম্মাহর এই নাজুক সময়ে এটিকে অতিরিক্ত প্রচার করারও প্রয়োজন নেই। ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য অনেক সময় ধৈর্য ও আত্মসংযমের পরীক্ষাও দেওয়া যায়। কারণ একাধিক বিবাহের পর ইনসাফ রাখতে না পারার অভিযোগও কম শোনা যায় না।
কেয়ামতের দিনের সেই হাদিসটিও স্মরণ রাখা প্রয়োজন যেখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হবে, সে কেয়ামতের ময়দানে অসম অবস্থায় উপস্থিত হবে।
বিঃদ্র: আমি জানি এই পোস্ট টা পুরুষদের ভালো লাগবেনা,তারা এখন আমাকে বেদ্বীন,ঈমানহীন, স্বামীর আদর্শ স্ত্রী না এসব তকমা দিবে.. অথচ আমি স্বামীকে লিস্টে রেখেই এই পোস্ট করেছি। নিঃসন্দেহে আমি শুধু বাস্তবতা ও অসুস্থ চিন্তাকে তুলে ধরেছি। একাধিক বিবাহকে নাজায়েজ বা মানছিনা এরকম কিছু বলিনি। আরনা রফিকুল ইসলাম মাদানী সাহেবের প্রাসঙ্গিক কিছু্ ।
বুদ্ধিমান ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা নিশ্চয় লিখার বিষয়বস্তু বুঝবে।
ধন্যবাদ।
ইভা_