22/05/2026
দিনাজপুরের পাঁপড় কন্যারা...
পাঁপড় খান, আর দিনাজপুরী পাঁপড় চেনেন না, এমন রসনাবিলাসী আছে নাকি?
৬০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দিনাজপুরের মুগের পাঁপড় রসনা মিটিয়ে চলেছে বাংলাদেশের। এই ঐতিহ্যের কান্ডারীদের চেনেন তো?
জলখাবার বা স্ট্রিট ফুড, গ্রাম্য মেলায় বা আপ্যায়নে গোটা দেশে দিনাজপুরের গোলাকৃতির হলদে মুগের পাপড় জনপ্রিয়৷ ২০১১ সালে রপ্তানিও হয়েছিল ইংল্যান্ডে। মজার ব্যাপার হলো, এই বিশাল চাহিদার যোগান কিন্তু দেন নিরক্ষর কিছু আটপৌরে গ্রাম্য নারী!
রাজপরিবারের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকায় দক্ষিণ ভারতীয় পাঁপড়ের কারিগর গড়ে উঠতে শুরু করেছিল এ অঞ্চলে৷ এখন চকবাজার, বাসুনিয়াপট্টি, রাজবাটী, বড়বন্দরসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে পাঁপড়পল্লী।
পাঁপড় তৈরির আদ্যোপান্ত কাজ করেন গেরস্ত ঘরের গিন্নীরা। সংসার সামলানোর পর নিপুণ কারিগরি দক্ষতায় তাঁদের হাতে আকৃতি পায় পাঁপড়। এটি তৈরির মূল কাঁচামাল মুগ, খেসারি, বেসন, সয়াবিন। বিশেষত্ব হিসেবে কালোজিরাও দেয়া হয়। খুমির ডলে রোদে শুকানো হয়। ঘরোয়া পরিচর্যায় তৈরি বলে একেবারে স্বাস্থ্যসম্মত মচমচে ও সুস্বাদু এই খাবারটি ৷
দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই শিল্পীদের কিন্তু কদর নেই। "ফুড ভ্লগাররা" এসব কমদামি দুঃস্থপাড়ায় আসেনও না। পাঁপড়ের এক কারিগর পত্রিকায় জানান, প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে পাঁপড় তৈরির কাজ করছেন তিনি৷ আগে ১০০ পাঁপড় ডললে ১০ টাকা দিতো, এখন ২৫ টাকা দেয়। তবু দিন চলে না৷ টানাপোড়েনের সংসারে বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে পাপড়ের দাম বাড়লেও বাড়েনি এই শিল্পীদের জীবনের দাম৷
চকবাজারের জনৈক ব্যবসায়ী বলছেন, এখানেই জেলার সবচেয়ে বেশি পাঁপড় তৈরি হয়। তাঁরা প্রায় ৩০ জন পাঁপড় ব্যবসায়ী সারাদেশে পাঁপড় সাপ্লাই দিয়ে থাকেন। বিদেশেও রপ্তানির চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা হয়নি। বর্তমানে দিনাজপুরে পাঁপড় তৈরির সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৫-৩০ হাজার।
প্রতিবন্ধকতা বাড়লেও পাঁপড়শিল্পে সরকারি সহযোগিতার হদিস মিলল না আজও। আমরা চাই, ঐতিহ্য আর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এই শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়েই শুরু হোক দিনাজপুরের নতুন শিল্পসমৃদ্ধি।
চেখে দেখেছেন তো দিনাজপুরের পাঁপড়?