Gypsy-জিপ্সি

Gypsy-জিপ্সি Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Gypsy-জিপ্সি, Fulbaria.

জার্মানিতে আসার দুই বছর শেষমেশ হয়েই গেলো। দুই বছর খুব বেশি সময় না। কিন্তু আমার মনের ভিতর এই দুই বছরটাকে পাঁচ বছরের সমান ...
25/03/2026

জার্মানিতে আসার দুই বছর শেষমেশ হয়েই গেলো।
দুই বছর খুব বেশি সময় না। কিন্তু আমার মনের ভিতর এই দুই বছরটাকে পাঁচ বছরের সমান লাগে। মনে হয় আমি জার্মানির সবকিছুতেই অনেক অভ্যস্ত। মানুষকে আর আগের মতো নতুন লাগে না। সব কাজ কর্মেই বেশ confident feel করি।দুর্বলতার মধ্যে যেটা আছে সেটা হলো ভাষা আর financial security.
কিন্তু তাও আলহামদুলিল্লাহ সব কিছু চলে যাচ্ছে সুন্দর।
এই বছর ইনশাআল্লাহ পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে। তারপর চাকরি, ভিসা, বাসা ইত্যাদির নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। আল্লাহ আল্লাহ করে এগুলো পার হয়ে গেলেই হয়।

জার্মানিতে এই দুই বছরে অভিজ্ঞতা কেমন জিজ্ঞেস করলে আমি বিরাট কিছু বলে বড় কিছু সাজার নাটক করতে চাই না। কিন্তু প্রথম দিকের জার্নি বেশ কঠিন। এটা majority এর জন্য বলা যায়। আমার কাছে মনে হয় আমি এই কঠিন সময়টা এতটা কঠিনভাবে নেই নাই কারন আমার মনের মধ্যে বিদেশ আসার high টা খুব কাজ করতেসিলো। বিশেষ করে প্রথম ৬ মাস। আমার বিদেশে ঘোরার অভিজ্ঞতা খুব কম। শুধু India গেসি দুইবার জার্মানি আসার আগে। তাই প্রথম সবকিছুই খুব ভালো লাগতো। It was kind of like feeling alive for the first time.

আমি দেশ থেকে আসার আগে সবাইকে বলে আসতে পারিনি। কারন প্লেনে উঠার দুইদিন আগেও আমার হাতে অনেক কাজ আর সাথে টাকা শর্ট। হাতে প্লেনের টিকেট থাকার পরেও বাকি অনেক কিছুই ম্যানেজ হয় নাই যার কারনে সেগুলো নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম।
আমার জার্মানি আসার পেছনে সবচেয়ে বড় factor ছিলো financial situation. যার কারনে জার্মানি আসার আগে আমার ভিসা পেতে অপেক্ষা করা লাগসে দুই বছর। কারন ভিসার waiting period দুই বছর। এই দুই বছরে জার্মানি বাদেও ফিনল্যান্ড আর ইটালির offer letter পাই। ফিনল্যান্ডে ছিলো partial scholarship কিন্তু সেটাও আমার expense cover করতো না।
তো এই যে দুই বছর অপেক্ষা করলাম, প্রতিটা রাত বিশেষ করে মনে হতো অনেক লম্বা। মনে হতো আমার জীবন শুরুই হবে বিদেশ যেতে পারার পর। এত আকাঙ্খার এই জীবন শুরু করতে পারছি না এই ব্যাপারটা ভাবলেই খুব suffocated লাগতো। এই দুইটা বছরে যে পরিমান ধৈর্য আমার ধরা লাগসে তা ছিলো অনেক কঠিন। তার উপযুক্ত ফল আল্লাহ আমাকে দিসেন আলহামদুলিল্লাহ। সবচেয়ে বড় যে রিযিকটা আমি পাইসি তা হল মানসিক শক্তি।

দেশের থেকে আসার আগে তেমন কারো সাথে যোগাযোগ না করতে পারলেও ছোট ছোট কিছু জায়গা থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম। আমার এলাকার প্রিয় কেকের দোকানের ভাইকে বা চটপটিওয়ালা মামাকে বা দারোয়ান চাচাকে বলে নিচ্ছিলাম, আমি কিন্তু চলে যাচ্ছি, আর দেখা হবে না বা হলেও অনেকদিন পরে হবে। প্রতিদিনের অভ্যাসে দেখে আসা এই মানুষগুলোকে অল্প করে হলেও বিদায় দিয়ে আসলে নিজেকে বার বার মনে করাচ্ছিলাম, সময় শেষ হচ্ছে।
বিদেশে আসার আগের রাতটা নাকি অনেক মনে রাখার মতো হয়। অদ্ভুতভাবে শেষ রাতটা কোনো ভাবেই মনে করতে পারছি না। মনে হয় আমার brain আমাকে সেটা ভুলায় দিয়ে কোনোভাবে protect করার চেষ্টা করতেসে 😂 তাও এই দুই বছরে অনেক মানুষ আল্লাহর কাছে চলে গেসেন যাদের জন্মের পর থেকে দেখে আসতেসি। তিন তিন ছয়টা ঈদ, পহেলা বৈশাখ, অনেকগুলো কাছে মানুষের বিয়ে, বাচ্চা দেখা মিস হয়ে গেলো।

শেষের দুই বছর আমি এক দিক দিয়ে খুব ভালো ছিলাম। আমি অনেক me time কাটাতে পারসি।আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটা খুব ভালো ছিলো। আমার সময় বিশেষ করে কেটে যেত বিড়াল, ইদুর আর গাছের যত্ন করে। এখানে এসেও অনেক গাছ হইসে কিন্তু একটা pet না রাখার আফসোসটা প্রতিদিন একবার হলেও লাগে। আব্বু আম্মু আর বিড়ালদেরকে রেখে আসছি আর খালি দোয়া করসি আল্লাহর কাছে, সব যেনো ঠিক থাকে। কিছু ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও আলহামদুলিল্লাহ সব ঠিক আছে।আমার পাতা, ভুতু, পিচ্চি আর তোত্তো এখন আর নাই 💔

এখানে আসার পর খুব বড় রকমের aspiration নিয়ে জীবন শুরু করলাম। এর মাঝে পরিচয় হয়েছে অনেক দেশের মানুষের সাথে। আমার পড়াশোনা ছাড়াও কাজের কারনেও অনেক দেশের মানুষের সাথে দেখা হয়েছে, বন্ধুত্ব হয়েছে। একটা দেশের সম্পর্কে কিছু পড়ার তুলনায় সেই দেশের মানুষের সাথে দেখা হওয়া আর তাদের সাথে মেশা আরো বেশি effective. দেশ সম্পর্কে ধারনা আরো স্পষ্ট হয় তখন। আরও ভালো লাগে যখন সেই মানুষগুলোও আমার প্রতি একই পরিমান আগ্রহ প্রকাশ করে।

অভিজ্ঞতা আছে অনেক রকমেরই। সিমকার্ড কিনতে গিয়ে জার্মান ভাষায় গালি খাওয়া কিংবা সালাদের factory বা plastic bottle এর factory তে worker হিসেবে দিনে আট ঘন্টা দাঁড়িয়ে কাজ করা অথবা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কাজ খোঁজার কঠিন অভিজ্ঞতা যেমন আছে। তেমন আছে প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে একটা না একটা ভালো কথা শোনা, বিভিন্ন দেশের অনেক অনেক মানুষের সাথে culture share করা কিংবা একটা international travelling environment এ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা অথবা classical artist দের সাথে কাজ করা বা নিজের academic validation পাওয়ার অভিজ্ঞতা। এই দুই বছরে অনেক কিছু করতে পেরেছি যেগুলো অনেক সুন্দর সুন্দর অভিজ্ঞতা। I had the chance to realise I can be a good student, a good employee and a good person. Also I actually do have leadership quality and I can do very good things.
এই জিনিসগুলো realise করার জন্য হলেও আমার এখানে আসার দরকার ছিলো। I also realised Staying sharp is a matter of practice not something you’re always born with.

এগুলো ছাড়াও অনেক অনেক মানুষের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আম্মু আর আব্বু, আমাদের পরিবারের আরেক সদস্য দ্যুতি, আমার বন্ধুরা আর আমার আত্মীয়রা। সবাই আমাকে শুধু morally support দেয়নি। যখন আমার financial support এর দরকার ছিলো, সবাই এগিয়ে আসছিলো আমার জন্য। এই মানুষগুলো কাছে আমি সব সময় কৃতজ্ঞ থাকবো।
এখানে আসার পরেও আমি শুধু ভালো মানুষই পেয়েছি। অধরা আপু, যার guidence এর কারনে আমি এখন এই masters program এ আছি, এমনকি আমার প্রতিটা step এ আজকে পর্যন্ত আপুর কোনো না কোনো সহযোগীতা আছে। আমাকে জার্মানির appointment নিয়ে দেয়া প্রীতি। কীর্তি ভাইয়া, যিনি আমার অনেকগুলো কঠিন কাজ সহজ করে দিয়েছেন, সপ্নীল ভাইয়া যিনি আমাকে এয়ারপোর্টে নিতে গিয়েছিলেন, সুশান্ত ভাইয়া আর পুস্পিতা আপু, যাদের বাসায় আমি জার্মানির প্রথম রাত কাটাই। উল্কা, ফাইজা, মাকসুদ ভাইয়া, স্বরন ভাইয়া যাদের সব সময় পাশে পেয়েছি।
একটা journey কখনোই একা পার করা যায় না। আমার journey সহজ করে দেয়ার জন্য এই মানুষগুলার কথা এই দিনগুলাতে একটু বেশি করে মাথায় আসে। তারা যেভাবে আমার রাস্তা সহজ করে দিয়েছে, সৃষ্টিকর্তা যেনো সেভাবে তাদের রাস্তা সহজ করে দেয়।

আমি এখন আস্তে আস্তে আজাইরা লজ্জা শরম পাওয়া কমায় ফেলতে পারতেসি। আমার নিজের financial, social, caeer situation নিয়ে কথা বলতে আগে অনেক লজ্জা লাগতো। ইদানিং আর লাগেনা। বরং খারাপটাই আগে বলি যেনো মানুষ একটা ভুল ধারনা নিয়ে বসে না থাকে। যেনো না ভাবে আমি খুব মজায় আছি। অসম্ভব খাটা লাগে ভাই বিদেশে, কামলার মতো। কিন্তু এটায় লজ্জার কিছু নাই। এটা আমার ইচ্ছা ছিলো। I own my choice.
আমার বিদেশ আসার যাত্রাটা খুব ফাটাফাটি, glamour এ যেমন ভরপুর না, তেমন দুঃখ, দুর্দশা, হতাশায়ও পরিপূর্ন না। পুরাটা যাত্রা আসলে ভালো আর খারাপ মিলায় খুব সুন্দর। এই mixture টাই আসলে indicate করে যে ভালো খারাপ মিলিয়েই জীবন। and life, just by the act of living is beautiful. মাঝে মাঝে নিজেই নিজের philosophy ভুলে যাই, বার বার মনে করায় দেয়া লাগে নিজেকে।
এক সময় মনে হইতো আমার জীবনে নতুন করে experience করার তেমন কিছু নাই। আমি সব রকম emotion experience করে ফেলসি।কিন্ত এখানে আসার পর নতুন করে, প্রথমবারের মতো কত কিছু যে করলাম তার হিসাব নাই। প্রথম সাইকেল চালানো শেখা, প্রথম কিছু একটা রান্না করা, প্রথম ঈদের নামাজে যাওয়া, প্রথম অন্য দেশের, কালচারের, ধর্মের একটা অনুষ্ঠানে যাওয়া, প্রথম orchestra দেখা, প্রথম solo travel to Paris. এই প্রথমের কোনো শেষ নাই। there is so much to experience! গতকাল যেমন জীবনে প্রথম কেক বানাইলাম। খুব ভালো হইসে খেতে ❤️
There is also so much to think about and feel. Thank god I had the chance to feel that!

এত সুন্দর অনেক মানুষের মাঝেও অনেক রকম চেহারা দেখা লাগসে মানুষের। ব্যাপারটা আমার নিজের থেকে তাদের জন্য বেশি দুঃখজনক। Because having me as a friend is never a loss ❤️
নিজেকে অনেকটা চিনসি, আরও চিনতেসি। এটা মনে হয় একটা ongoing process. এটার কোনো শেষ নাই। maybe thats what makes it more interesting.

এখানে আসার আগে দিয়ে হুট করে BTS এর গান শুনা শুরু করসিলাম। প্রথমের দিকে খুব কঠিন কিছু সময়ে বিরাট motivation দিয়ে গেসে গ্রুপটা। তার মধ্যে একটা গানের লাইন ছিলো 'Future's gonna be okay'. এই লাইনটা আমার wall paper ফোনে। এই লাইনের উপর ভরসা করেই টিকে গেসি অনেক দিন।

সবারকে কাছে শুধু দোয়া চাই। জীবন যেনো সহজ থাকে। আমার ভালো গুনগুলো যেনো মানুষের কাজে লাগে। আল্লাহ যেনো আমাকে সব সময় একটা protection এর ভিতর রাখে। আমার আম্মু আব্বু, পরিবার আর বিড়ালরা যেনো ভালো থাকে। আমিন।।

জার্মানিতে অদ্ভুত timeline ওয়ালা এক রোজা পার করলাম। ঈদ শুরু হলো বাংলাদেশের সাথে আর শেষ হচ্ছে সৌদির সাথে 🫠 তার মানে কোনো ...
19/03/2026

জার্মানিতে অদ্ভুত timeline ওয়ালা এক রোজা পার করলাম। ঈদ শুরু হলো বাংলাদেশের সাথে আর শেষ হচ্ছে সৌদির সাথে 🫠 তার মানে কোনো এক ফাঁকে একটা রোজা লস 🥲
আর এই ছিলো আমার শেষ ইফতার ❤️ আলহামদুলিল্লাহ।
যাই হোক, সবাইকে ঈদ মোবারক 🌙

আজকে বাজার করতে গিয়ে এটা চোখে পড়লো। আমি ছোট থাকতে আমাদের বাসায় এমন একটা কৌটা ভর্তি সুই সুতা থাকতো।  খুব পছন্দ ছিলো আমাদে...
17/03/2026

আজকে বাজার করতে গিয়ে এটা চোখে পড়লো। আমি ছোট থাকতে আমাদের বাসায় এমন একটা কৌটা ভর্তি সুই সুতা থাকতো।
খুব পছন্দ ছিলো আমাদের এই কৌটাটা। এই কৌটা দেখে বাটার কুকিজ খাওয়ার খুব সখ ছিলো আর সাথে এই কৌটার গায়ে ছবি দেখে মনে হতো, কতো সুন্দর সব কিছু।
This brought back a lot of good feelings ❤️✨

আমার নতুন অফিসে আমাকে জার্মান ভাষায় কথা বলতে হয়। জিনিসটা কঠিন কিন্তু আমার কলিগরা সবাই খুবই understanding এই ব্যাপারে। তা...
15/03/2026

আমার নতুন অফিসে আমাকে জার্মান ভাষায় কথা বলতে হয়। জিনিসটা কঠিন কিন্তু আমার কলিগরা সবাই খুবই understanding এই ব্যাপারে। তারা হালকা ইংলিশ বলার চেষ্টা করে আর আমি জার্মান যতটুকু পারি বলি। কিন্তু কাজ হয়ে যায় মোটামুটি।

আমার নতুন কলিগ আমাকে একদিন বই পড়তে দেখে জিজ্ঞেস করলেন কি বই পড়ছি। বইটা ছিলো 'For whom the bell tolls' by Ernest Hemmingway. বইটা একটা উপহার ছিলো আমার আগের বসের থেকে।
উনি দেখার পর বললেন, এটা আমিও পড়েছি জার্মান ভাষায়। খুব ভালো বই।
তারপর বই পড়া নিয়ে কিছু আলাপ হল। উনি অনেক বই পড়েন।উনার বয়স হবে ৫৫-৬০ এর মধ্যে। খুবই cool একটা মানুষ। rockstar biker দের মত পোশাক। বিশাল লম্বা দাঁড়ি। আর খুবই খুবই friendly.
আমি বললাম আমি কঠিন করে লেখা বই পড়তে পারিনা। আমার সহজ লেখা ভালো লাগে। আমি নিজেও সহজ করে লিখতে পছন্দ করি। কবিতাও ভালো লাগে এজন্য।অল্প সময়ে পড়া যায়। তারপর অমুক তমুক লেখককে নিয়ে কথা হল, আমি বাংলা লেখকদের মধ্যে রবিন্দ্রনাথকে দেখালাম। বললাম আমাদের জাতীয় সংগীত উনার লেখা।

তার দুইদিন পর উনার সাথে আবার দেখা। উনি ইংরেজিতে বললেন, I have two poems for you.
আমি ভেবেছি উনি দুইটা কবিতা দিবেন আমাকে, হয়তো উনার লেখা। কিছুক্ষন পরে আবার টেবিলে এসে দেখি এই দুইটা কবিতার বই রেখে গেছেন। জার্মান ভাষায় কবিতা পড়ার চেষ্টা করতেসি এখন কয়দিন ধরে। খুবই সাবলিল ভাষার কবিতা সব। কিছুটা রুপি কর এর মত কিন্তু আরেকটু ভাবওয়ালা।
উনার সাথে দেখা হওয়ার পর অনেক ধন্যবাদ দিলাম। উনি বললেন এগুলা কোনো ব্যাপার না। আমার অনেক বই আছে, নিয়ে নিয়ে পড়তে পারো।
আমার জার্মানের অবস্থা একটু খারাপ, তার সাথে বই পড়ার বা লম্বা কিছু পড়ার অবস্থাও খারাপ। রিল দেখতে দেখতে attention span একটু drain এ আছে 😂
তাও চেষ্টা করতেসি translator দিয়ে কবিতার বই গুলো পড়া শেষ করতে যেনো তাড়াতাড়ি উনার সাথে এগুলো নিয়ে গল্প করতে পারি। 😅

সারা জীবনে যদি অনেক সময় অনেকে আপনাকে mature, understanding, giving or strong এই উপাধি গুলো দিয়ে থাকে, তাহলে এসব মানুষের ...
16/02/2026

সারা জীবনে যদি অনেক সময় অনেকে আপনাকে mature, understanding, giving or strong এই উপাধি গুলো দিয়ে থাকে, তাহলে এসব মানুষের থেকে একটু সাবধানে থাকবেন। এসব মানুষের সাথে এই উপাধিগুলোর বিপরীত আচরন করে দেইখেন একবার। দেখবেন এরা কতটা আশ্চর্য হয়।

আপনাকে ভালো ভালো যে বলতে থাকে সারাদিন তার কোনো একটা ফায়দা করার উদ্দেশ্য আছে আপনাকে নিয়ে। আপনি ভালো ,কারন আপনি তার কোনো উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ভালো, তার কোনো একটা কাজ করে দেয়ার জন্য ভালো।

আপনি strong তার মানে আপনাকে দিয়ে কঠিন কিছু করানো যাবে।
আপনি understanding বা mature তার মানে আপনার কাছ থেকে এমন কিছু দাবি করা হবে যেটা আপনি ধৈর্য নিয়ে সহ্য করবেন। এসব মানুষদের সব সময় চেনা যায় না। চিনতে সময় লাগে, কিন্তু চিনতে পারলে সাবধান হয়ে boundary create করা ভালো।
আর boundary টা দিয়ে দেয়ার পরে যদি দেখেন সেই মানুষের গায়ে লেগে গেসে, তার মানে তার উদ্দেশ্য সাধনে বিঘ্ন ঘটসে।

আপনার যদি giving personality থাকে, তাহলে দেয়ার সময় হিসেব করে দিবেন, যেনো আপনার নিজের বেলায় কিছু কম না পড়ে। care করতে মন চাইলে করবেন, কিন্তু নিজেরটা বুঝে তারপর বাকিদের care করবেন। আপনি নিজের বেলায় সব সামলায় নিচ্ছেন তার মানে এই না যে আরেকজনেরটাও নিবেন। it can either be a physical load or mental or both.

খেয়াল করে দেখবেন, যে কিছু পারে না, জানে না, তাকে কেউ কোনো দায়িত্বও দেয় না। কারন যার mess up করার tendency বেশি তাকে কেউ ভরসা করবে না। কিন্তু যে পারে বা জানে তাকে সবাই সব কিছু চাপায় দেয়। পারলে নিজের কাজও তাকে দিয়ে করায়।

যারা মানুষের থেকে খালি নিতে জানে, তারা কখন নেয়া থামাতে হবে তা জানেনা। এসব entitled মানুষ থেকে সাবধান। এরা জাল বিছায় খুব ভালো করে আপনার মন জয়ের মাধ্যমে।এরপর একটা পর্যায়ে গিয়ে দেখবেন যেই মানুষগুলোর সাথে সময় কাটাতে আপনার ভালো লাগছিলো তাদেরকে এখন মোটামুটি সহ্য করা লাগতেসে।
অনেক মানুষ অনেক রকম উদ্দ্যেশ্য নিয়ে জীবনে আসে। কেউ চায় আপনি তাদের জীবনের সব ব্যাপারে সাহায্য করবেন আর কেউ মানসিক labour খাটানোর জন্য আপনাকে ব্যাবহার করবেন। এজন্য দেখা যায় কিছু মানুষের সাথে থাকলে খুব drained লাগে। কারন তারা তাদের mental load আর negative energy আপনার উপর ঢালতেসে। এসব ব্যাপারে নিজেকে উদ্ধার করেন আগে, এরপর মানুষকে।

আমাকে অনেক মানুষ strong strong বলতে থাকে। আর তাদের expectation থাকে, যেহেতু আমি strong তাই তাদের কোনো ঝামেলার বেলায় বা কোনো কাজের বেলায় আমি থাকবো, বা আমাকে স্বরন করে সবার আগে। একটা সময়ের পর এসব জিনিস আস্তে আস্তে একটা pattern এ পরিনত হয়। pattern টা দেখার পর আমি যখন কারো বেলায় boundary create করি বা distance বাড়াই তখন যাদের আমাকে দিয়ে কাম করানোর বা আমাকে তাদের সব mental or physical load দেয়ার ধান্দা তাদের গায়ে লেগে যায়।

এসব জিনিস খুব আস্তে আস্তে শেখার জিনিস, এগুলো হল মানুষ চেনার শিক্ষা। এই জিনিস কেউ অতি বুদ্ধিমান না হলে একদিনে শিখে না।

আমি সারা জীবন যেসব মানুষকে অনেক বেশি সাহায্য করসি, তারাই পরবর্তীতে আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অশান্তিগুলো করসে। কিন্তু আমার কোনো regret নাই কারন তাদের জীবনের ওই সময়গুলোতে সাহায্যের দরকার ছিলো আর আল্লাহ আমাকে সেখানে থাকার সুযোগ দিসে।এরপর আমার শান্তির জন্য বা কষ্ট পেয়ে হলেও আমি দূরে সরে আসছি। মানুষ হয়ত মনে করে দূরে সরে যাওয়া বা সম্পর্ক নষ্ট করা মনে হয় খুব অশান্তির।
আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি এটার সাময়িক ফল অশান্তি হলেও পরে গিয়ে অনেক শান্তির। অনেক অনেক শান্তির। খালি খারাপের মধ্যে খারাপ যেটা হইসে, কারো জন্য কিছু করতে গেলে এখন অনেক চিন্তা করা লাগে। যেটা আমি কখনো চাই নাই, কেউ কিছু চাইলে সেটা আমার কাছে থাকলে সাথে সাথে আমার দিয়ে দিতে ইচ্ছা করে।

শেষ করি একটা ছোটো উদাহরণ দিয়ে, আমাকে যারা জানতো আমি অনেক strong আর unemotional. এমন না আমি চাইসি কেউ আমাকে এভাবে দেখুক বা তার জন্য আমি এমন কিছু করসি।
কিন্তু যখনই কেউ আমাকে emotional হতে দেখতো বা কখনো কাঁদতে দেখসে, তারা খুব অবাক হয়ে গেসে। বা এটাকে আমার momentary weakness ভাবসে, ভাবসে আমি তো পারিই। আমি ঠিক হয়ে যাবো। আমাকে নিয়ে এত না ভাবলেও হবে। এসব জিনিস খুবই dangerous. অনেক বেলায় আপনাকে বাকি মানুষের সমান করে দেখাই হবে না। ভালো গুন থাকা খুবই ভালো ,কিন্তু এগুলো খরচ কিভাবে করতে হবে সেটা জানাও একটা ভালো গুন।

Zero degree তাপমাত্রা, তাও আমার খুব ভালো লাগতেসে। মনে হচ্ছে বেঁচে থাকা worth it. এর পিছনে কারন একটাই, আজকে সূর্য উঠসে। ...
15/02/2026

Zero degree তাপমাত্রা, তাও আমার খুব ভালো লাগতেসে। মনে হচ্ছে বেঁচে থাকা worth it.
এর পিছনে কারন একটাই, আজকে সূর্য উঠসে।

নভেম্বর থেকে ফে্ব্রুয়ারী মাস তেমন একটা সূর্য দেখা যায় না। বেশিরভাগ মেঘলা থাকে, হুট হাট একদিন সূর্য দেখা যায়। তা না হলে পুরো সময় লাগে সন্ধ্যা হওয়ার আগের মতো বা বৃষ্টি নামার আগের মত একটা পরিবেশ।আর না হলে থাকে কুয়াশা। ওইটা সবচেয়ে বিশ্রি।

আজকে রবিবার। মেঘলা আর অন্ধকার নাই দেখে অনেকেই ছুটির দিনে একটু হাঁটতে বের হইসে।আমার ছুটি নাই আজকে। কিন্তু কাজে আসার আগে হেঁটে যে বিশ মিনিট রাস্তাটা পার করলাম, পুরো সময় মনে হচ্ছিলো, আমি কত সুখি একটা মানুষ , দুনিয়া কত সুন্দর।

সূর্য যে আমাদের সাইকোলোজির উপর কতটা প্রভাব ফেলে সেটা শীতকালে আসলে হাড়ে হাড়ে টের পাই। 😂

প্রথম যখন আসি, এই ৮/৯ ডিগ্রি তাপমাত্রাও খুব ঠান্ডা লাগতো। ঠান্ডা এত বেশি লাগতো, যে এটা একটা বিরক্তির পর্যায়ে চলে যেত। আর...
15/02/2026

প্রথম যখন আসি, এই ৮/৯ ডিগ্রি তাপমাত্রাও খুব ঠান্ডা লাগতো। ঠান্ডা এত বেশি লাগতো, যে এটা একটা বিরক্তির পর্যায়ে চলে যেত।
আর এখন এই তাপমাত্রাটাই খুব ভালো লাগে। মনে হয় এটাই একটা সুন্দর তাপমাত্রা বাইরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য।আর একটা অদ্ভুত Nostalgia কাজ করে।প্রথম জার্মানি আসার পর যে ফিলিংটা কাজ করতো, সেটা মনে পড়ে।
এই weather টা আমার অনেক পছন্দের।

অনেকদিন মাইনাস ৫/৬ বা সর্বোচ্চ ০ ডিগ্রিতে থাকার পর হুট করে যেদিন তাপমাত্রা এরকম ৯ এ চলে আসে, তখন মাথার মধ্যে একটা অন্যরকম ফিলিং কাজ করে।
মনে হয় যেনো , আমি একটা বাক্সের মধ্যে ছিলাম। আজকে সেই বাক্স থেকে বের হতে পারসি।
এবং বের হয়ে খুব ভালো লাগতেসে। খুব grateful লাগতেসে। রোদ দেখে খুব ভালো লাগে, বাতাসও খারাপ লাগেনা।

10/02/2026

নির্বাচনের আগে ইরান নিয়ে একটু গল্প করি।

আমি দেশে থাকতে ইরান নিয়ে টুকটাক জানাশোনা ছিলো। বিশেষ করে মাহসা আমিনির ঘটনার পর থেকে। অনেক জ্বালাও পোড়াও হয়ে, মানুষ মরে গিয়ে আন্দোলন থেমে গেছে।
ইরানের ইসলামিক রেজিম দিন কে দিন চরম থেকে চরমপন্থি হইসে।আর জিনিসটা একদিনে হয় নাই। আমি ছোটবেলায় পেপারে মেয়েদের উপর পর্দা আরোপ করার নিউজও পড়তাম। দিন যত গেছে , সরকার আরো কঠিন হইসে মেয়েদের বেলায়। মানুষ এদের জ্বালায় হয়ে গেসে অতিষ্ট। আমার জানা অতটুকুই।

এরপর আসলাম জার্মানি। প্রথম কয়দিন ক্লাস করে দেখি ক্লাসের অর্ধেকের বেশি পোলাপান ইরানি, আর বেশিরভাগই মেয়ে। সেই থেকে ইরানিদের সাথে আমার পরিচয় একদম সামনা সামনি থেকে। আস্তে আস্তে ওদের সাথে সখ্যতা বাড়লো, জানতে পারলাম তারা মুসলিম দেশ থেকে আসছে ঠিকই কিন্তু কেউই আর মুসলিম নাই। তাদের পরিবার মুসলিম,প্র‍্যাকটিসও করে। কিন্তু young generation এর কেউই মুসলিম না। কেউ না। তার মানে আমার আশেপাশের বয়সের বা বেশি বয়সেরও ছেলে মেয়ে তারা কিন্তু এই পুরো জেনারেশনটাই ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টা আমার মাথায় ঢুকতে সময় লাগলো না যখন তাদের এক একজনের কাহিনী শুনতে লাগলাম। একজন জেলে গেসিলো মাহসা আমিনির আন্দোলনের সময়। একজন হিজাব না পরার কারনে অ্যারেস্ট হইতে নিসিলো তারপর পালায় বাঁচসে।এক একজনের এক এক কাহিনী।
আর সবচেয়ে বড় কথা এসব পোলাপান ছাপড়ি বা কিছু না বুঝে রাস্তায় নেমে পড়সি টোকাই টাইপ পোলাপান না। এদের এক একজনের নিজেদের দেশ নিয়ে, রাজনীতি নিয়ে অনেক পড়াশোনা, এদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও বেশ ভালো মতই করা, জানে অনেক কিছু, বেশ ব্রিলিয়ান্ট বলা যায় এবং বেশ পরিশ্রমি। এদের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড যে কয়জনের দেখলাম মোটামুটি well off জায়গা থেকে আসছে। একদিক দিয়ে চিন্তা করলে তাদের অনেকের হয়তো বিদেশে আসার দরকারই ছিলো না। চলে আসছে কেনো জিজ্ঞেস করলে অনেক রকম উত্তর আসে, ইরানে অনেক স্যাংশন, অনিরাপদ, আর সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা, স্বাধীনতা নাই। এই ব্যাপারে ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে সবাই agree করে।এটা খালি আমার শহরের ইরানি না, অন্য জায়গার ইরানিরাও এই জায়গাটায় agree করে। বিশেষ করে মেয়েদের স্বাধীনতা নাই। হিজাব না পরলে বা পরলেও অনেক ক্ষেত্রে কিছু একটা বলে ফাসায় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। সরকারের বিপক্ষে কোনো কথা বলা যায় না, বিদেশে বসেও কেউ যদি কিছু বলে, এয়ারপোর্ট থেকে তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্ন কারনে কেউ অ্যারেস্ট হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়না। এমন করে গায়েব করে দিসে অনেক মানুষকে।
তাই আস্তে আস্তে মানুষ যখন বুঝতে পারলো এখানে আর থাকা সম্ভব না তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া শুরু করলো। বিশেষ করে মাহসা আমিনির ঘটনার পর থেকে প্রচুর মানুষ ইরান ছাড়সে। এদের মধ্যে ২০ থেকে ৪০-৪৫ বছরের মানুষও আছে। বিবাহিত বা বাচ্চা আছে যাদের তারা কষ্ট করে হলেও এখানে এসে থাকতেসে। আমার ক্লাসের এক মেয়ে ওর বাচ্চা রেখে আসছিলো দেখে সারাদিন মন খারাপ করে থাকতো, পরের সেমিস্টারে আবার ইরান ফেরত গেসে সে, তার বাচ্চাকে ছাড়া সে থাকতে পারতেসে না।তার পরের সেমিস্টারে সে তার বাচ্চাকে নিয়ে ফেরত আসছে। যেই মেয়ের মুখে জীবনে হাসি দেখি নাই সেই মেয়ে এখন হাসিমুখ ছাড়া কথাই বলেনা। এখন সে তার মেয়েকে নিয়ে এসে মাস্টার্স শেষ করতেসে।

কিন্তু এই যে এত অত্যাচার তাদের সরকার তাদের করলো, এজন্য তাদের বিদেশে চলে আসা লাগলো, তারা কি ইরানকে ঘৃনা করে? উত্তর হলো ,একদমই না। প্রথম যখন আসছি তখন একজনের জন্মদিনে দাওয়াত দিলো, আমি একা বাংলাদেশী বাকি সবাই ইরানি। পুরা রাত তারা তাদের দেশের গল্প করলো, কালচারের গল্প করলো। তাদের ফারসি ভাষা কবি ফেরদৌসীর কারনে কিভাবে টিকে ছিলো, তাদের কোন কোন ফারসি শব্দ আমাদের বাংলা শব্দে আছে, আমার মুখে ফারসি উচ্চারণ এত accurate কিভাবে এটা নিয়ে পুরা রাত গল্প চললো। আমার হালকা ধারণা ছিলো এরা যেহেতু ইসলাম পছন্দ করেনা তাহলে হয়তো এরা কালচারালি অনেক westernized হবে। এমন কোনো কিছু চোখে পড়লো না। সারারাত বিভিন্ন ইরানি নাচ গান চললো, তাও খুব পুরান আমলের। তখন প্রথম দেখলাম sword/knife dance. একটা ছুরি হাতে নিয়ে ফারসি গানের সাথে নাচ দেখাইলো একজন, সাথে উলুধ্বনির মতো একটা আওয়াজ করলো। হিন্দু কালচার ভেবে যদি কেউ একটু ধাক্কা খায়া থাকেন তাহলে একটু থামেন। এই উলুধ্বনির মতো আওয়াজটা বিয়ে, জন্মদিনে অনেক আরবদেশের মানুষও দেয় যেমন আলজেরিয়া বা মরক্কো। এটা তাদের কালচার। তারা খালি ইসলামিক দেশই না, তাদের মানুষও ইসলামকে ধারন করে।

কিন্তু ইরানিদের সাথে আমার পরিচয় হওয়ার পর সেই প্রথম দেখলাম, একটা দেশের মানুষ তাদের দেশকে এতো ভালোবাসে, এতটা ধারণ করে। কিন্তু তাদের সরকারের কারনে তারা দেশে থাকতে পারতেসে না। তাদের মাইগ্রেশান এত বেশি হতো না যদি না তাদের সরকার ভালো হত। এটা ছিলো একটা দুঃখ। আরেকটা জিনিস খারাপ লাগে এটা ভেবে, এই যে একটা জেনারেশন যারা ইসলামকে ঘৃনা করে এটা হইসে কেবল তাদের এই অত্যাচারী স্বৈরশাসকের কারনে। তারা ইসলামের নামে যা খুশি তাই করতেসে। এই সরকার আসার পর শুধু সরকার না, এই অত্যাচার নেমে আসছে সমাজের মোরাল পুলিশ দ্বারাও। বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে যেখানে কয়জন মোরল মিলে তাদের মতো করে ইসলাম তারা বানায় নিসে। বহুবিবাহ, বাল্যবিবাহ , ধর্ষন, খুন সব হয়ে আসছে ইসলামের নামে। আমাদের দেশে যেমন পাশের বাসার আন্টি আছে, রাস্তায় নামলে মোরাল পুলিশ আছে, ইরানেও তাই আছে।যার যেমন ইচ্ছা তেমন করে বিচার করে ফেলে। একজনের আরেকটা বিয়ে করার ইচ্ছা হইসে, আগের বউকে অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলসে গ্রামের শালিস বসায়ে।
আর এই সরকার অপরাধ করে যাচ্ছে এখনো। ইরানের এই মুহুর্তে আন্দোলন চলতেসে। মারা গেছে হয়তো প্রায় তিরিশ হাজার মানুষ। পুরুষের লাশ পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু মহিলা আন্দোলনকারিদের লাশ খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের লাশটা পর্যন্ত নিয়েও চলতেসে ভয়ানক কার্যকলাপ।

এই এতটুকু যে বললাম তার মাঝেও আছে অনেক কিছু যেটা discuss করার মত। শুধু বাংলাদেশের অনেক মানুষ না, আরব দেশের অনেক মানুষ ইরানকে মনে করে পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে এক কঠিন দেয়াল।তারা মনে করে ইরান সরকার আমেরিকার বিরুদ্ধে ইসলামিক পাওয়ার হিসেবে দাড়িয়ে আছে। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। ইরানের সরকারের পক্ষে তার জনগনই দাঁড়িয়ে নাই। ইরানের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের পথে। একটা জিনিসের দাম বাড়ে প্রতিদিন করে।
আমাকে বলেন তো, একটা দেশের সরকারের বিশ্ব রাজনীতি করা বেশি জরুরী না আগে নিজের দেশের মানুষকে খাদ্য সংস্থান করা জরুরী? ইসলামের ঢাল হয়ে আরব দেশের ঢাল হয়ে দাঁড়ানো বেশি জরুরী নাকি নিজের দেশের মানুষের সমর্থন পাওয়া বেশি জরুরী?
আমি বলবো সবগুলাই জরুরী কিন্তু ইরান একটা দেশ হিসেবে নিজের মানুষের কাছে ব্যার্থ। একটা দেশের সরকার হিসেবে শুধু ব্যার্থ না অত্যাচারীও। একটা দেশ নিজের মানুষের অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। ইসলাম ধর্মের ন্যায্য বিচারটা কিভাবে দিবে?
আমার খুব খারাপ লাগে একটা দেশ ইসলামের মত ন্যায় একটা ধর্মকে বেচে খাইতেসে, তাদের দেশের মানুষের সাথে ইসলামের সাথে নামে অন্যায় করে আসতেসে। অত্যাচারের মাত্রা এতই বেশি যে কেউ আর ইসলাম ধর্মেই থাকতেসে না। তাদের কাছে লাগে ইসলাম ধর্ম অত্যাচারের ধর্ম। তাদের উপর ধর্ম চাপায় দেয়া হচ্ছে আর নাম দেয়া হচ্ছে ইসলাম, অন্যায় করা হচ্ছে , অধিকার ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে আর নাম দেয়া হচ্ছে ইসলাম। ইরান কি তাহলে আসলেই ইসলাম প্র‍্যাকটিস করে? ইসলামিক রেজিমের নামে যে দোকান বসায় রাখসে সেটা আসলেই কি ইসলাম?
এবার তুলনায় আসি আমার নিজের দেশের দিকে। আমার দেশের সরকার কোনো কালে ইসলামিক সরকার ছিলো না। কিন্তু বাংলাদেশে ইসলাম চর্চা হয় সামাজিক লেভেলে। এটার মানে হইলো আপনি রাস্তায় নামলে
আপনাকে ইসলামিক জ্ঞান দেয়ার অনেক লোক পাবেন। আত্নীয় অনেকে আছে জ্ঞান দিবে। বাচ্চারা স্কুলে গেলে ধর্ম বই পড়বে, তাদেরকে বাকি সবগুলো বিষয় পড়ানোর মত করেই পড়ানো হবে।
আমাদের দেশে আমরা যারা ইসলাম ধর্মে আছি তারা আল্লাহকে ভালোবেসেই আছি। আমাদেরকে ইসলামের নামে হয়রানি করা হয় প্রায়ই কিন্তু আমাদের ধর্ম চর্চা এখনো একটা ব্যাক্তিগত ব্যাপার বা সামাজিক ব্যাপার। আমরা জুম্মার নামাজ খুশি মনে পড়তে যাই, আমরা আনন্দ নিয়ে রোজা রাখি। আমাদের মাঝে আল্লাহকে ভালোবাসার জন্য যে স্পেসটা দরকার সেই স্পেসটা আমরা পাইসি। আমরা এখনো ইসলামের নামে সরকারের পক্ষ থেকে অত্যাচার দেখি নাই, সেচ্ছাচারিতা দেখি নাই, অন্যায় দেখি নাই। আমাদের দেশে ধর্মের চর্চা যেমন হইসে তেমন হইসে যার যার কালচারের চর্চা। এজন্য দুইটা গালি খায়া হইলেও মুসলিম পোলাপান যেমন ঈদ করে তেমন সুযোগ পাইলে সাকরাইন দেখতে যায়। এখনো আমরা পহেলা বৈশাখ বা ফ্লাগুন করি। আমাদের আনন্দ করার সুযোগ অনেক কম, স্পেস কম।মানুষ অনেক, বিচিত্রতাও অনেক। আমি যখন ছোট ছিলাম তখনও এত 'অমুক জিনিস হিন্দু তমুক জিনিস কাফেররা করে' টাইপ এত আলাপ ছিলো না।
আমাদের ইসলাম এখনো ব্যাক্তিগত আর সামাজিকগত পর্যায়ে আছে। আমাদের এখনো ইসলামকে নিজের মতো ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নেয়ার সুযোগ আছে। আমরা মুসলমানরা আল্লাহকে যার যার মত করে ধারন করিও।
কিন্তু যখন এটা রাজনৈতিক লেভেল যাবে, এবং যেই দলের হাত ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, তখন সামাজিক ভাবে একটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। মানুষকে গাছে ঝুলায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়াটা আরো জায়েজ হবে। minority দের থাকা লাগবে ভয়ে ভয়ে। দেশ ছাড়বে আরো অনেক অনেক মানুষ। আর এটাএ পরিনতি এই জেনারেশনের থেকে পরের জেনারেশনে আরও প্রকট ভাবে দেখা যাবে যখন জামাত তাদের আসল চেহারা দেখাইতে আরও বেশি কম্ফোর্টেবল ফিল করবে।
নিজের সুখ বা দুঃখ সৃষ্টিকর্তার সাথে ভাগ করে নেয়ার মত একটা সুন্দর ব্যাপারে যখন চরমপন্থিতা ঢুকে যাবে তখন আর সুন্দর ব্যাপারটা সুন্দর করে অনুভব করা যায় না।
আমরা বাংলাদেশে রকমের যন্ত্রনার মধ্যে দিয়ে যাই। দুর্নীতি , অন্যায়, অবিচার। বাসা থেকে বের হলেই মনে হয় জাহান্নাম, বিশেষ করে যদি মেয়ে মানুষ হয়ে থাকেন। সেখানে আরও এক চরমপন্থি দলকে এনে দেশে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে পারবেন এটা কি করে মনে হয়?
ইরানেও তাদের বর্তমান সরকারকে তারা এমন নেচে গেয়ে নিয়ে আসছিলো। ভেবেছিলো, এই ইসলামিক সরকার হয়তো সব দুর্নীতি শেষ করে দিবে।তারা শেষ করসে ইরানের কালচার, স্বাধীনতা আর অনেক গুলা মানুষের জীবন।
আমার দেশ ইরান না হোক। মানুষের চোখ খুলে যাক। আলো আসুক। আল্লাহ আমার দেশটাকে জালিমদের হাত থেকে রক্ষা করুক।

ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ। আমার জার্মানির ভিসা পাওয়ার দুই বছর। এই দুই বছর জার্মানিতে থাকার জন্য অপেক্ষাও করা লাগসে দুই বছর। সব...
05/02/2026

ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ।
আমার জার্মানির ভিসা পাওয়ার দুই বছর।

এই দুই বছর জার্মানিতে থাকার জন্য অপেক্ষাও করা লাগসে দুই বছর। সবাই ভিসা পাওয়া, বিদেশে জীবন কাটানো, বিদেশে জীবন কত কঠিন এগুলা নিয়ে কথা বলে, কিন্তু বিদেশে আসার আগে পুরা process টাও যে কতটা অসম্ভব কঠিন তা নিয়ে খুব একটা কথা বলেনা।
আমার মনে হয় কঠিন একটা কাজ করার পর ফলটা পেয়ে গেলে সবাই কঠিন সময়টা আস্তে আস্তে ভুলে যায়। যাওয়াটা স্বাভাবিক, because you now have more important things to worry about.

তাও একটু বলি, বিদেশে আসার জন্য সবচেয়ে কঠিন যে ব্যাপারটা আমার কাছে লাগসে তা হলো অপেক্ষা করা আর ধৈর্যের অসীম একটা পরীক্ষা দেয়া। জার্মান ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সময় অপেক্ষা করা লাগে ঠিক কিন্তু যে কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই অপেক্ষা করাটা একটা আবশ্যিক ব্যাপার। এই সময়টার মধ্যে অফার লেটার পাওয়া, ভর্তি হওয়া, ভিসার আবেদন করা, কাগজ গুছানো, বাসা খোঁজা ইত্যাদি ইত্যাদি ম্যানেজ করার অনেক কাহিনী থাকে। আর বাংলাদেশে যে কোনো কাগজ ম্যানেজ করার কাহিনী মানেই দৌড়াদৌড়ি। হোক সেটা পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র।

এই সময়টায় একটা খুবই awkward ব্যাপার হচ্ছে মানুষজনের একশোটা প্রশ্নের উত্তর দেয়া। কবে যাচ্ছি, কোথায় যাচ্ছি।যেখানে যাচ্ছি সেটা কি scholarship কিনা। অনেকে থাকবে আবার এই বিদেশে যাওয়ার পিছনে যেই কষ্টটা আপনি করবেন সেটাকে বেশ স্পষ্ট ভাবে downplay করার চেষ্টায়। as if এটা কোনো ব্যাপারই না, আপনি যেটা করতেসেন সেটা আসলে তেমন কিছু না এটা বাকি সবাইকে বুঝানোর চেষ্টা। অনেকে আবার আমাকে হালকা guilt trip দেয়ার চেষ্টা করসে আমি আমার বাপ মা কে ছাড়া কিভাবে এত দূরে থাকবো। যেখানে আমার বাপ মা-ই আমাকে সবচেয়ে খুশি মনে বিদায় দিসে সেখানে এগুলা আসলে একটু দৃষ্টিকটু। আমার যদি বিয়ে হইতো দেশে থাকতে, তাহলে আমার বাপ মা কে ছেড়েই থাকা লাগতো। বাকি সব মেয়ে যেভাবে থাকে সেভাবেই।

আমার ভিসার ইন্টারভিউ দেয়ার পর আমি এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম। আস্তে আস্তে আমি দেখতে পাচ্ছিলাম আমার দিন শেষ হয়ে আসতেসে। মানুষের এসব অদ্ভুত আচরন বা কথাগুলাও এই দিনগুলায় আস্তে আস্তে খুব ছোটো হয়ে আসতেসিল।এগুলা আর গায়েও লাগতেসিলো না। মনের মধ্যে তখন অন্যরকম একটা অদ্ভুত বিষন্নতা কাজ করতেসিলো। বিশেষ করে জানুয়ারি মাসে। কাওকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য বা দেশ ছেড়ে যাওয়ার জন্যও না। বরং আমি দেখতে পাচ্ছিলাম আমার বাংলাদেশের জীবনের চ্যাপ্টার একদম শেষের দিকে। জীবনের নতুন সিজনের বদলে আরেকটা নতুন জীবনই শুরু হতে যাচ্ছে। আর কোনো সীজন বাকি নাই। চ্যাপ্টার ক্লোজ হচ্ছে এখানেই।এবং বেশ সুন্দর ভাবেই। বেশ happy একটা ending. কিন্তু এই শেষ হয়ে যাওয়ার দুঃখটাই খুব অদ্ভুত একটা চিন্তায় ফেলে দিসিলো। এই সময়টায় আমি আল্লাহকে নিয়ে অনেক চিন্তা করসি, মনের সব কথা আল্লাহর সাথেই বলসি। somehow religiously I strongly felt connected.
এই feelings টাও ছিলো খুবই special. এখনো যখন আমি আল্লাহর কথা চিন্তা করি বা আল্লাহর সাথে কথা বলি, আমি ঠিক এই সময়টার মত connection টা feel করার খুব চেষ্টা করি।

আমি বলবো আমি খুবই ভাগ্যবতী আলহামদুলিল্লাহ। আমার ভিসা কোনো ঝামেলা ছাড়াই হয়ে গেছে।আমি খুব ভয়ে ছিলাম যে কোনো কুফা লেগে যাবে কিছুতে। আলহামদুলিল্লাহ এমন কিছু হয় নাই, বেশ সুন্দর এবং safely আমি চলে আসছি এখানে। ভিসা পাওয়ার দেড় মাস পরে আমি জার্মানিতে আসি। এই দেড় মাস কেটে গেছে অনেক দ্রুত। আমি মনে করার প্রায় চেষ্টা করি আমার দেশে থাকতে শেষ রাতটা কেমন ছিল। আমার মনে পড়ে না, কারন খুবই সাধারণ একটা রাত ছিল। আমি খুব স্বাভাবিক ছিলাম সব কিছু নিয়ে। খালি ভয় কাজ করতেসিলো সব ঠিক যাওয়া নিয়ে কিন্তু এতো বেশিও না। somehow i felt powerful and humble.

আমার socio economic background এর মানুষের জন্য বিদেশে আসা অসম্ভব না হলেও খুব একটা সহজ কোনো কথা না। আমি দেশে আমার background নিয়ে খুব একটা easy feel করতাম না। এখন আমি খুব স্বাভাবিক ভাবে সবাইকে বলি আমার পরিবার খুবই middle class. আমাদের টাকার অনেক সমস্যা ছিল, আমি জার্মানিতে আসছিও আমার আত্মীয়দের সহযোগিতা থাকার কারনে, না হলে আমার আসা সম্ভব ছিলো না। আমি কোনো privileged background থেকে আসছি এই মিথ্যা ভান ধরার আমার কোনো ইচ্ছা নাই।বরং আমি struggle করে আসছি এবং এখানে এসেও আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি এটা বলতেই আমার বেশি সাচ্ছন্দ্য লাগে। I guess I can never pretend again to be someone else. এই দেশের independent চিন্তাভাবনা আমাকে একটা ব্যাপক confidence দিসে। আল্লাহ যেনো আমাকে এই গুনটা সারাজীবন রাখতে দেয় আমি নিজের জন্য এটা দোয়া করি।

দিনকাল অনেক খারাপ, পুরা পৃথিবীর অবস্থাই বেশ খারাপ। সেই সাথে খারাপ economy আর সাথে আছে limited opportunity. আমার মত যারা আছে যারা একটু স্বাধীন ভাবে বাচতে চায় কিন্তু অনেক কারনে struggle করে আর এগুলা নিয়ে লজ্জায় কথাও বলতে পারে না তাদের একটু দেখে রাইখো আল্লাহ।

ভাত খাওয়ার যে মজা সেটা ধরতে অনেক সময় লাগসে আমার ছোটবেলায়। আর এই বড় বেলায় জার্মানদের রুটি খাওয়ার মজাটা বুঝতে অনেক সময় লাগ...
31/01/2026

ভাত খাওয়ার যে মজা সেটা ধরতে অনেক সময় লাগসে আমার ছোটবেলায়। আর এই বড় বেলায় জার্মানদের রুটি খাওয়ার মজাটা বুঝতে অনেক সময় লাগতেসে। এখন এক মহিলা আমার সামনে বসে খালি একটা শক্ত রুটি খাইতেসে সসেজ দিয়ে, কি মজা পাইতেসে সেই জানে 🙂

ছোট থাকতে কিছুই তেমন খেতে ভালো লাগতো না কেবল দুইটা জিনিস ছাড়া। এক হচ্ছে মুরগির রান আরেকটা হলো চিনি বা মিষ্টি কিছু। এই রুচি নিয়ে একটা বাচ্চারে খাওয়ানো খুব কঠিন। কিন্তু যেহেতু আমার মিষ্টি খাবার খেতে খুব ভালো লাগতো তাই ধুমায় রাস্তার আইসক্রিম খাইসি। বিকালে আইসক্রিমওয়ালা আসতো, একটা বুড়া চাচা। হাতে এক দুই টাকা থাকলে সেটা দিয়ে খাইতাম। আর না হলে নানুর কাছে, মামির কাছে বা বাসায় বড় যেই আছে তার মাথা খাইতাম এক বা দুই টাকা দেয়ার জন্য। তখনও এক দুই টাকায় ভালোই জিনিস কিনতে পারতাম। আর মাঝে মাঝে মিষ্টি খাওয়ার craving এত বেশি থাকতো যে বাসায় চিনির ডিব্বা থেকে চিনি নিয়ে খাইতাম।

এসব রাস্তার জিনিস খেতে যতটা ভালো লাগতো, বাসায় ভাত খাইতে ততটাই প্যারা লাগতো, আমি ক্লাস ফোর ফাইভে উঠেও ডেইলি ভাত ফেলে দিসি দুপুর বেলা। এক প্লেট ভাত খাওয়া আর অংক হোমওয়ার্ক করা আমার কাছে একই জিনিস ছিল। অসম্ভব প্যারা। so i took a shortcut 🙂

ক্লাস ফাইভে উঠার পর একদিন সন্ধ্যাবেলা আম্মু শুটকি ভূনা করতেসিলো, ওইদিন প্রথম গন্ধটা আমার নাকে লাগে। পুরা আমার বিড়ালগুলার মতো আমিও শুটকি খাওয়ার জন্য পাগল হইলাম। সেদিন আবিষ্কার করলাম আমার বাসার খাবার এই প্রথম ভালো লাগতেসে। এরপর আরেকটু বড় হওয়ার পরও দেখলাম আমার ইদানিং মাছ খাইতে ভালো লাগতেসে। আমার পছন্দের মাছও আবিস্কার করে ফেললাম। কই মাছ। সবার কাছে এই কাটাওয়ালা মাছ বিরক্ত লাগে, আমার কাছে সেটা হয়ে গেলো অমৃত। এদিকে মিষ্টি জিনিস আর ভালো লাগে না, এক রকম বমি আসে মিষ্টি কিছু খেলে এমন অবস্থা।
কিন্তু এরকম টুকটাক তরকারি আবিষ্কারের কারনে ভাত খাওয়াটা আস্তে আস্তে একটু সহ্যসীমার ভেতর আসলো। তাও মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগতো। কোনো এক বেলায় খাবার প্লেটে নেয়ার পর লাগতো কেন খাইতেসি?
আমার মনে হয় পুরাপুরি ভাতের প্রতি আগ্রহ আসছে ভার্সিটিতে পড়ার শেষের দিকে বা তারও পরে। তার মানে এই না যে আমি কোনো বেলায় খাওয়া মিস দিসি বা ফেলে দিসি। কিন্তু ভাত না খাইলে পেট ভরে না এই ব্যাপারটা বুঝতে অনেক সময় লাগসে।

জার্মানি আসার পর আমি বেশিরভাগ দিনেই ভাতই রান্না করসি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একটা চায়নিজ বা ফিউশন কারি আর ভাত।ইদানিং একটু কম ভাত রান্না করতেসি কিন্তু রুটির প্রতি আগ্রহ এখনো তৈরি হয় নাই। খালি সাদা পাউরুটি খাই এছাড়া কিছু না, যেটা দেশেও খাইতাম। আর মাঝে দিয়ে ক্রোসন্ট আর ওয়াফল অনেক খাইতাম কিন্তু এখন আর অতোও না।
এখানে অনেক রকমের রুটি আছে, ডার্ক ব্রেড , বিভিন্ন তিল বা শস্যওয়ালা ব্রেড। খেয়ে দেখার চেষ্টা করসি কিন্তু ভালো লাগে নাই। সেই ছোট বেলায় ভাত খাওয়ার মত অবস্থা।
দেশি যার সাথেই কথা বলি ওরা বলে ভাত না খাইলে মনে হয় না একটা proper meal হইসে।আমি agree করি এই ব্যাপারটায় যদিও আমি অন্য জিনিস খেয়েও কাটায় দিতে পারি ভালো মতই। কিন্তু বাইরে খেতে গেলে আমি বেশিরভাগই ভাতের আইটেম নেই। এখানের সবাই আমার ভাত রান্না খুব পছন্দ করে। আমার ভাত রান্নার consistency নাকি খুব ভালো 😂 কিন্তু এখানে আসার পর আবার মিষ্টির প্রতি আগ্রহ বেড়ে গেছে। চকোলেট বা চকোলেটওয়ালা জিনিস খুব ভালো লাগে। আর চিনিওয়ালা সফট ড্রিংকস তো আছেই। অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যাচ্ছে দেখে ইদানিং আর কিনিই না এগুলা। কিন্তু craving টা খুবই কঠিন 😂

মোটকথা, জার্মানিতে intigrated হতে খুব একটা প্যারা হইতেসে না। কিন্তু এই রুটি খাওয়ার আনন্দটা ধরতে পারতেসি না। মানুষ নাকি জার্মানির বাইরে গেলে রুটি খুব মিস করে। কি অদ্ভুত ব্যাপার। এই মজা বুঝতে বুঝতে মনে হয় আমার রিটায়ারমেন্টের বয়স হয়ে যাবে 😂

Address

Fulbaria

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Gypsy-জিপ্সি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Gypsy-জিপ্সি:

Shortcuts

Share