25/03/2026
জার্মানিতে আসার দুই বছর শেষমেশ হয়েই গেলো।
দুই বছর খুব বেশি সময় না। কিন্তু আমার মনের ভিতর এই দুই বছরটাকে পাঁচ বছরের সমান লাগে। মনে হয় আমি জার্মানির সবকিছুতেই অনেক অভ্যস্ত। মানুষকে আর আগের মতো নতুন লাগে না। সব কাজ কর্মেই বেশ confident feel করি।দুর্বলতার মধ্যে যেটা আছে সেটা হলো ভাষা আর financial security.
কিন্তু তাও আলহামদুলিল্লাহ সব কিছু চলে যাচ্ছে সুন্দর।
এই বছর ইনশাআল্লাহ পড়াশোনা শেষ হয়ে যাবে। তারপর চাকরি, ভিসা, বাসা ইত্যাদির নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। আল্লাহ আল্লাহ করে এগুলো পার হয়ে গেলেই হয়।
জার্মানিতে এই দুই বছরে অভিজ্ঞতা কেমন জিজ্ঞেস করলে আমি বিরাট কিছু বলে বড় কিছু সাজার নাটক করতে চাই না। কিন্তু প্রথম দিকের জার্নি বেশ কঠিন। এটা majority এর জন্য বলা যায়। আমার কাছে মনে হয় আমি এই কঠিন সময়টা এতটা কঠিনভাবে নেই নাই কারন আমার মনের মধ্যে বিদেশ আসার high টা খুব কাজ করতেসিলো। বিশেষ করে প্রথম ৬ মাস। আমার বিদেশে ঘোরার অভিজ্ঞতা খুব কম। শুধু India গেসি দুইবার জার্মানি আসার আগে। তাই প্রথম সবকিছুই খুব ভালো লাগতো। It was kind of like feeling alive for the first time.
আমি দেশ থেকে আসার আগে সবাইকে বলে আসতে পারিনি। কারন প্লেনে উঠার দুইদিন আগেও আমার হাতে অনেক কাজ আর সাথে টাকা শর্ট। হাতে প্লেনের টিকেট থাকার পরেও বাকি অনেক কিছুই ম্যানেজ হয় নাই যার কারনে সেগুলো নিয়ে ব্যাস্ত ছিলাম।
আমার জার্মানি আসার পেছনে সবচেয়ে বড় factor ছিলো financial situation. যার কারনে জার্মানি আসার আগে আমার ভিসা পেতে অপেক্ষা করা লাগসে দুই বছর। কারন ভিসার waiting period দুই বছর। এই দুই বছরে জার্মানি বাদেও ফিনল্যান্ড আর ইটালির offer letter পাই। ফিনল্যান্ডে ছিলো partial scholarship কিন্তু সেটাও আমার expense cover করতো না।
তো এই যে দুই বছর অপেক্ষা করলাম, প্রতিটা রাত বিশেষ করে মনে হতো অনেক লম্বা। মনে হতো আমার জীবন শুরুই হবে বিদেশ যেতে পারার পর। এত আকাঙ্খার এই জীবন শুরু করতে পারছি না এই ব্যাপারটা ভাবলেই খুব suffocated লাগতো। এই দুইটা বছরে যে পরিমান ধৈর্য আমার ধরা লাগসে তা ছিলো অনেক কঠিন। তার উপযুক্ত ফল আল্লাহ আমাকে দিসেন আলহামদুলিল্লাহ। সবচেয়ে বড় যে রিযিকটা আমি পাইসি তা হল মানসিক শক্তি।
দেশের থেকে আসার আগে তেমন কারো সাথে যোগাযোগ না করতে পারলেও ছোট ছোট কিছু জায়গা থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম। আমার এলাকার প্রিয় কেকের দোকানের ভাইকে বা চটপটিওয়ালা মামাকে বা দারোয়ান চাচাকে বলে নিচ্ছিলাম, আমি কিন্তু চলে যাচ্ছি, আর দেখা হবে না বা হলেও অনেকদিন পরে হবে। প্রতিদিনের অভ্যাসে দেখে আসা এই মানুষগুলোকে অল্প করে হলেও বিদায় দিয়ে আসলে নিজেকে বার বার মনে করাচ্ছিলাম, সময় শেষ হচ্ছে।
বিদেশে আসার আগের রাতটা নাকি অনেক মনে রাখার মতো হয়। অদ্ভুতভাবে শেষ রাতটা কোনো ভাবেই মনে করতে পারছি না। মনে হয় আমার brain আমাকে সেটা ভুলায় দিয়ে কোনোভাবে protect করার চেষ্টা করতেসে 😂 তাও এই দুই বছরে অনেক মানুষ আল্লাহর কাছে চলে গেসেন যাদের জন্মের পর থেকে দেখে আসতেসি। তিন তিন ছয়টা ঈদ, পহেলা বৈশাখ, অনেকগুলো কাছে মানুষের বিয়ে, বাচ্চা দেখা মিস হয়ে গেলো।
শেষের দুই বছর আমি এক দিক দিয়ে খুব ভালো ছিলাম। আমি অনেক me time কাটাতে পারসি।আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটা খুব ভালো ছিলো। আমার সময় বিশেষ করে কেটে যেত বিড়াল, ইদুর আর গাছের যত্ন করে। এখানে এসেও অনেক গাছ হইসে কিন্তু একটা pet না রাখার আফসোসটা প্রতিদিন একবার হলেও লাগে। আব্বু আম্মু আর বিড়ালদেরকে রেখে আসছি আর খালি দোয়া করসি আল্লাহর কাছে, সব যেনো ঠিক থাকে। কিছু ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও আলহামদুলিল্লাহ সব ঠিক আছে।আমার পাতা, ভুতু, পিচ্চি আর তোত্তো এখন আর নাই 💔
এখানে আসার পর খুব বড় রকমের aspiration নিয়ে জীবন শুরু করলাম। এর মাঝে পরিচয় হয়েছে অনেক দেশের মানুষের সাথে। আমার পড়াশোনা ছাড়াও কাজের কারনেও অনেক দেশের মানুষের সাথে দেখা হয়েছে, বন্ধুত্ব হয়েছে। একটা দেশের সম্পর্কে কিছু পড়ার তুলনায় সেই দেশের মানুষের সাথে দেখা হওয়া আর তাদের সাথে মেশা আরো বেশি effective. দেশ সম্পর্কে ধারনা আরো স্পষ্ট হয় তখন। আরও ভালো লাগে যখন সেই মানুষগুলোও আমার প্রতি একই পরিমান আগ্রহ প্রকাশ করে।
অভিজ্ঞতা আছে অনেক রকমেরই। সিমকার্ড কিনতে গিয়ে জার্মান ভাষায় গালি খাওয়া কিংবা সালাদের factory বা plastic bottle এর factory তে worker হিসেবে দিনে আট ঘন্টা দাঁড়িয়ে কাজ করা অথবা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কাজ খোঁজার কঠিন অভিজ্ঞতা যেমন আছে। তেমন আছে প্রতিদিন মানুষের কাছ থেকে একটা না একটা ভালো কথা শোনা, বিভিন্ন দেশের অনেক অনেক মানুষের সাথে culture share করা কিংবা একটা international travelling environment এ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা অথবা classical artist দের সাথে কাজ করা বা নিজের academic validation পাওয়ার অভিজ্ঞতা। এই দুই বছরে অনেক কিছু করতে পেরেছি যেগুলো অনেক সুন্দর সুন্দর অভিজ্ঞতা। I had the chance to realise I can be a good student, a good employee and a good person. Also I actually do have leadership quality and I can do very good things.
এই জিনিসগুলো realise করার জন্য হলেও আমার এখানে আসার দরকার ছিলো। I also realised Staying sharp is a matter of practice not something you’re always born with.
এগুলো ছাড়াও অনেক অনেক মানুষের কাছে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। আম্মু আর আব্বু, আমাদের পরিবারের আরেক সদস্য দ্যুতি, আমার বন্ধুরা আর আমার আত্মীয়রা। সবাই আমাকে শুধু morally support দেয়নি। যখন আমার financial support এর দরকার ছিলো, সবাই এগিয়ে আসছিলো আমার জন্য। এই মানুষগুলো কাছে আমি সব সময় কৃতজ্ঞ থাকবো।
এখানে আসার পরেও আমি শুধু ভালো মানুষই পেয়েছি। অধরা আপু, যার guidence এর কারনে আমি এখন এই masters program এ আছি, এমনকি আমার প্রতিটা step এ আজকে পর্যন্ত আপুর কোনো না কোনো সহযোগীতা আছে। আমাকে জার্মানির appointment নিয়ে দেয়া প্রীতি। কীর্তি ভাইয়া, যিনি আমার অনেকগুলো কঠিন কাজ সহজ করে দিয়েছেন, সপ্নীল ভাইয়া যিনি আমাকে এয়ারপোর্টে নিতে গিয়েছিলেন, সুশান্ত ভাইয়া আর পুস্পিতা আপু, যাদের বাসায় আমি জার্মানির প্রথম রাত কাটাই। উল্কা, ফাইজা, মাকসুদ ভাইয়া, স্বরন ভাইয়া যাদের সব সময় পাশে পেয়েছি।
একটা journey কখনোই একা পার করা যায় না। আমার journey সহজ করে দেয়ার জন্য এই মানুষগুলার কথা এই দিনগুলাতে একটু বেশি করে মাথায় আসে। তারা যেভাবে আমার রাস্তা সহজ করে দিয়েছে, সৃষ্টিকর্তা যেনো সেভাবে তাদের রাস্তা সহজ করে দেয়।
আমি এখন আস্তে আস্তে আজাইরা লজ্জা শরম পাওয়া কমায় ফেলতে পারতেসি। আমার নিজের financial, social, caeer situation নিয়ে কথা বলতে আগে অনেক লজ্জা লাগতো। ইদানিং আর লাগেনা। বরং খারাপটাই আগে বলি যেনো মানুষ একটা ভুল ধারনা নিয়ে বসে না থাকে। যেনো না ভাবে আমি খুব মজায় আছি। অসম্ভব খাটা লাগে ভাই বিদেশে, কামলার মতো। কিন্তু এটায় লজ্জার কিছু নাই। এটা আমার ইচ্ছা ছিলো। I own my choice.
আমার বিদেশ আসার যাত্রাটা খুব ফাটাফাটি, glamour এ যেমন ভরপুর না, তেমন দুঃখ, দুর্দশা, হতাশায়ও পরিপূর্ন না। পুরাটা যাত্রা আসলে ভালো আর খারাপ মিলায় খুব সুন্দর। এই mixture টাই আসলে indicate করে যে ভালো খারাপ মিলিয়েই জীবন। and life, just by the act of living is beautiful. মাঝে মাঝে নিজেই নিজের philosophy ভুলে যাই, বার বার মনে করায় দেয়া লাগে নিজেকে।
এক সময় মনে হইতো আমার জীবনে নতুন করে experience করার তেমন কিছু নাই। আমি সব রকম emotion experience করে ফেলসি।কিন্ত এখানে আসার পর নতুন করে, প্রথমবারের মতো কত কিছু যে করলাম তার হিসাব নাই। প্রথম সাইকেল চালানো শেখা, প্রথম কিছু একটা রান্না করা, প্রথম ঈদের নামাজে যাওয়া, প্রথম অন্য দেশের, কালচারের, ধর্মের একটা অনুষ্ঠানে যাওয়া, প্রথম orchestra দেখা, প্রথম solo travel to Paris. এই প্রথমের কোনো শেষ নাই। there is so much to experience! গতকাল যেমন জীবনে প্রথম কেক বানাইলাম। খুব ভালো হইসে খেতে ❤️
There is also so much to think about and feel. Thank god I had the chance to feel that!
এত সুন্দর অনেক মানুষের মাঝেও অনেক রকম চেহারা দেখা লাগসে মানুষের। ব্যাপারটা আমার নিজের থেকে তাদের জন্য বেশি দুঃখজনক। Because having me as a friend is never a loss ❤️
নিজেকে অনেকটা চিনসি, আরও চিনতেসি। এটা মনে হয় একটা ongoing process. এটার কোনো শেষ নাই। maybe thats what makes it more interesting.
এখানে আসার আগে দিয়ে হুট করে BTS এর গান শুনা শুরু করসিলাম। প্রথমের দিকে খুব কঠিন কিছু সময়ে বিরাট motivation দিয়ে গেসে গ্রুপটা। তার মধ্যে একটা গানের লাইন ছিলো 'Future's gonna be okay'. এই লাইনটা আমার wall paper ফোনে। এই লাইনের উপর ভরসা করেই টিকে গেসি অনেক দিন।
সবারকে কাছে শুধু দোয়া চাই। জীবন যেনো সহজ থাকে। আমার ভালো গুনগুলো যেনো মানুষের কাজে লাগে। আল্লাহ যেনো আমাকে সব সময় একটা protection এর ভিতর রাখে। আমার আম্মু আব্বু, পরিবার আর বিড়ালরা যেনো ভালো থাকে। আমিন।।