17/10/2026
হযরত সুলাইমান (আ.) একবার সমুদ্রের তীরে গেলেন। সেখানে তিনি দেখলেন, একটি ছোট পিঁপড়ে মুখে একটি সবুজ পাতা নিয়ে পানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
পিঁপড়েটি যখন পানির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন হঠাৎ পানি থেকে একটি ব্যাঙ উঠে এল।
পিঁপড়েটি ব্যাঙের পিঠে চড়ে বসল এবং ব্যাঙটি তাকে নিয়ে সমুদ্রের গভীর পানিতে ডুব দিল।
অনেকক্ষণ পর ব্যাঙটি আবার ফিরে এল এবং পিঁপড়েটি তার পিঠ থেকে ডাঙায় নেমে এল। কিন্তু তখন পিঁপড়েটির মুখে সেই সবুজ পাতাটি ছিল না।
এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখে হযরত সুলাইমান (আ.) পিঁপড়েটিকে ডাকলেন এবং এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন।
পিঁপড়েটি জবাব দিল,
"হে আল্লাহর নবী! এই সমুদ্রের গভীর তলদেশে একটি বিশাল ও শক্ত পাথর আছে। সেই পাথরের ভেতরে একটি পোকা বাস করে।
আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রতিদিন দুইবার করে ওই পোকাটিকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাআলা এই ব্যাঙটিকে নির্দেশ দিয়েছেন আমাকে সমুদ্রের তলদেশে সেই পাথর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে।
আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন পাথরটি অলৌকিকভাবে ফেটে যায় এবং আমি ভেতরে ঢুকে পোকাটিকে পাতাটি দিয়ে আসি।"
হযরত সুলাইমান (আ.) অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "খাবার পেয়ে পোকাটি কি কিছু বলে?"
পিঁপড়েটি বলল, "হ্যাঁ! পোকাটি খাবার পেয়ে বলে,
'পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমাকে এই অন্ধকার সমুদ্রের তলদেশে পাথরের ভেতর আশ্রয় দিয়েছেন এবং এখানেও আমার রিজিকের কথা ভুলে যাননি!
হে আল্লাহ! আপনি যেমন আমার রিজিকের কথা ভুলে যাননি, তেমনি আপনি উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি আপনার ক্ষমা ও রহমতের কথাও ভুলে যাবেন না!'"
সুবহানাল্লাহ!
আল্লাহর রিজিক বণ্টনের ব্যবস্থা কতই না বিস্ময়কর! অন্ধকার সমুদ্রের তলদেশে, একটি নিরেট পাথরের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র পোকাটির কথাও তিনি ভুলে যান না।
মানুষের জীবনে যতই সংকট আসুক না কেন, আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল (ভরসা) রাখলে তিনি এমন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
Salman Farsi
(তথ্যসূত্র: নুযহাতুল মাজালিস।
ঐতিহাসিক নির্ভরযোগ্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও, প্রসিদ্ধ এই কাহিনিটি অন্তর্নিহিত বার্তার কারণে অত্যন্ত শিক্ষণীয়।)