25/07/2025
ডা. সামন্ত লাল সেন বেরিয়ে আসুন!
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অন্যতম কারিগর ডা. সামন্ত লাল সেন। এই হাসপাতাল তৈরির কাহিনীটা অনেকেই জানে। একজন ডাক্তার কতটা ডেডিকেটেড হলে ১৯৮৬ সাল থেকে লেগে থাকার পর ২০০১ সালে এই ইউনিটটি করতে পারে। দেশের শত শত পোড়া রোগীদের চিকিৎসাত্রাতা এই চিকিৎসক আমাদের জাতীয় সম্পদ। আমরা জানি তার চিকিৎসাজ্ঞানের কথা। হরতাল অবরোধে বাসে পুড়ে যাওয়া রোগী থেকে শুরু করে করকারখানায় দগ্ধ রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অন্যতম এই কারিগর আজ এই সংকটকালিন সময়ে তার লব্ধ জ্ঞান শেয়ার করতে পারছেন না। হাসপাতালের বিছানায় ছোট ছোট বাচ্চারা যখন কাতরাচ্ছে, তখন তিনি 'আত্মগোপনে'। কি পাপে তিনি এই দেশে জন্ম নিয়েছিলেন জানি না, তবে একজন সামন্ত লাল সেন হতে যে সংগ্রাম, ত্যাগ স্বীকার করে আজ তিনি এই অবস্থানে, সেই মানুষটিকে আজ দেশের প্রয়োজনে সরকার কাজে লাগাতে পারছে না। গ্রেপ্তার আতংক আজ তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এই নোংরা রাজনীতির কলা-কৌশলে জাতির সংকটকালিন সময়ে সেবা প্রদান থেকে বঞ্চিত তিনি।
কি অপরাধ করেছে ডা. সামন্ত লাল সেন? শেখ হাসিনার ছয় মাসের মন্ত্রী ছিলেন এই তো? তো মন্ত্রী থেকে তিনি কতটা দুর্নীতি, অপকর্মে জড়িয়ে ছিলেন? যদি সেটাও করেন, এরপরও সরকার এই মানুষটিকে তাড়া করতে পারেন না। অন্তত জাতির এই সম্পদ আপনাদের চেয়ে অনেক মূল্যবান।
আজ যদি এই ডাক্তার অন্তত ২ জন শিশুর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দিতে পারেন, তাহলে আমি মনে করি একজন চিকিৎসক হিসেবে এটাই তার বড় সফলতা। অন্তত ওই দুই শিশুর জন্য তিনি সারাজীবন নিষ্পাপ ডাক্তার হিসেবে থাকবেন। যা আপনারা এই ক্ষমতার মসনদে থেকে পারবেন না। মনে রাখবেন, আজকে ক্ষমতায় আছেন বিধায়, আপনি বড়ই ক্ষমতাধর। কিন্তু কাল যখন ক্ষমতা হারাবেন, যখন এই বাচ্চাগুলো উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মারা যাবে কিংবা সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করবেন, তখন আপনার বিবেককে কেউ ক্ষমা করবে না। বিশেষ করে আপনাদের প্রতিশোধ পরায়ণ রাজনীতি আপনাদের চোখে অশ্রু ফিরাবে।
আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ডা. সামন্ত লাল সেনের সন্তানতূল্য। একজন সন্তানের বিপদে কোন বাবাই আত্মগোপনে থাকতে পারেন না। যদি তিনি সত্যি বাচ্চাগুলোর আত্মনাদ শুনতে পান, তাহলে বেরিয়ে আসুন। তিনি যদি দেশে থাকেন, তাহলে আপনি এখনই আপনার কর্মস্থলে যান, বাচ্চাগুলোর চিকিৎসা করুন, তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করুন। এখন এই অবস্থায়ও যদি সরকার আপনাকে গ্রেপ্তার করে, আপনাকে হেনেস্তা করে, জেনে রাখুন যে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার বিদায় হয়েছে, সেই গণ-অভ্যুত্থানের মানুষগুলো আপনার মুক্তির জন্য লড়াই করবে, আপনাকে এই নোংরা প্রতিশোধ পরায়নের হাত থেকে রক্ষা করবে। আর সরকারের উচিত, এই সংকটে নিজেদের বিবেককে মূল্যায়িত করা। মেরে ফেলা বিবেবকে কাজে লাগানোর বড় সুযোগ এটি। ডাকুন, ডা. সামন্ত লাল সেনকে।