13/05/2023
ঘূর্ণিঝড়ের সময় করনীয় আমল :-
*******************************
হাদিসে বর্ণিত আছে, প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে মশগুল হতেন। সাহাবাদের জীবনেও দেখা যায়, তারা বিপদে-মুসিবতে নামাজে দাঁড়াতেন ও ধৈর্য ধারণ করতেন। আল্লাহ তায়ালা মূলত কিছু কিছু বিপদাপদ ও বালা-মুসিবত দিয়ে মানুষকে সতর্ক করেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে-
------------------------------------------------------------
‘'আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফলফলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। যারা নিজেদের বিপদ-মুসিবতের সময় বলে, “নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী”, তাদের ওপরই রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও রহমত এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৭)
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কিছু করণীয় সুন্নত আমল রয়েছে। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, যখন কোথাও ভূমিকম্প, সূর্যগ্রহণ, ঝড়ো হাওয়া বা বন্যা হয়, তখন সবার উচিত মহান আল্লাহর কাছে তওবা করা, নিরাপত্তার দোয়া করা, মহান আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
★★ এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,
‘'দ্রুততার সঙ্গে মহান আল্লাহর জিকির করো, তাঁর কাছে তওবা করো।’'
(বুখারি : ২/৩০; মুসলিম: ২/৬২৮)
বুখারির আরেক বর্ণনায় ঝড়-তুফানে ছোট একটি দোয়ার উল্লেখ আছে, তা হলো-
'‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা।’'
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের থেকে ফিরিয়ে নাও, আমাদের ওপর দিয়ো না।’
তা ছাড়া বৃষ্টিপাত বেশি হলে মহানবী (সা.) পড়তেন-
'‘আল্লাহুম্মা হাওয়া-লাইনা, ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আ-কাম ওয়াজ জিরাব ওয়া বুতুনিল আওদিআ; ওয়া মানাবিতিস শাজার।’'
অর্থ- ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ! পাহাড়-টিলা, খাল-নালা এবং গাছ-উদ্ভিদ গজানোর স্থানগুলোতে বৃষ্টি দিন।’
এরপর যখন বৃষ্টি হতো, তখন মহানবী (সা.) শান্ত হতেন। (বুখারি: ১০১৪)
আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে ঘূর্ণিঝড়সহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদাপদ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।