04/12/2024
শাইখ আলি হাম্মুদা একবার বলেছিলেন, ‘অনেক মায়েরা বাসার ফ্লোরের সৌন্দর্য রক্ষাকে বাচ্চার বিকাশের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে’।
কথাটা তিক্ত হলেও সত্য।
আমাদের অনেক মায়েরা আছেন যারা বাচ্চাদেরকে ঘরের অনেক জিনিস স্পর্শ পর্যন্ত করতে দেন না।
যেমন, ধরা যাক তিনি খুব সুন্দর করে প্লেট বাটি গুছিয়ে রেখেছেন।
বাচ্চা এসে সেই প্লেট বাটি একটা একটা করে ফ্লোরে নামিয়ে, সেগুলো দিয়ে খেলতে বসলো। সে নিজের মতো করে খেলা বানিয়ে নিচ্ছে। কোনোটাকে গাড়ি বানাচ্ছে, কোনোটাকে বাড়ি, আবার কোনোটা দিয়ে হয়তো তৈরি করতে চাইছে রেলগাড়ি।
এতে করে তার বুদ্ধির বিকাশ ঘটছে। তার ব্রেইন সেলগুলো ফাংশনিং থাকছে এবং সে একটা চিন্তাপদ্ধতির মাঝে নিজেকে ব্যস্ত রাখছে।
কিন্তু, মা এসে যখন দেখেন তার সাজিয়ে রাখা থালাবাটি সব ঘরময় ছড়ানো, তিনি প্রথমে বাচ্চাকে একটা সজোরে ধমক দেন (কেউ কেউ একটা থাপ্পড়) এবং রাগে গজগজ করতে করতে বলেন, ‘খেলবার আর কিছু নেই ঘরে? এসব দিয়েই খেলতে হবে? আমি গুছিয়ে যাই, আর তুমি এসে খালি নষ্ট করো। আর পারলাম না বাপু!’
এই অ্যাপ্রোচটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল এবং বাচ্চার চিন্তাপদ্ধতি বিকাশের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
আমাদের ঘরে যখন একটা বাচ্চা আছে, তখন আমাদের প্রাথমিক মাইন্ডসেট এটা ঠিক করে নিতে হবে যে—আমার ঘরের জিনিসপত্র অধিকাংশ সময় এলোমেলোই থাকবে।
যে ঘরে বাচ্চা আছে, সে ঘর এলোমেলো থাকাই স্বাভাবিক। এলোমেলো না থাকাটাই বরং অস্বাভাবিক৷ আপনার সন্তান যদি ঘরের এটা ওটা না ধরে, না খেলে, একদম চুপচাপ থাকে, তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটা প্রশংসাযোগ্য কোনো আচরণ নয়। এ ধরণের বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ ধীরগতির হয় এবং এমতাবস্থায় বাবা-মায়ের উচিত চাইল্ড সাইকিয়াট্রিস্ট্রের দ্বারস্থ হওয়া।
যদি ইঞ্জুরড বা ম্যাসিভ কোনো অ্যাকসিডেন্ট করার সুযোগ না থাকে, বাচ্চাকে তার স্বাভাবিক খেলাধুলো থেকে নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। ঘরটা থাকলোই নাহয় একটু এলোমেলো, দিনের মধ্যে পাঁচবারই নাহয় গোছালেন ঘরটা, কিন্তু সেটা কি সন্তানের মানসিক বিকাশের চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে?
আরিফ আজাদ-