26/01/2021
মৌমাছি সমাজবদ্ধভাবে বাস করে।তিন প্রকার মৌমাছি নিয়ে একটা মৌ কলোনী তৈরি হয়।
আসুন এ বিষয়ে আমরা জানার চেষ্টা করি -
রাণী মৌমাছি:
রাণী মৌমাছি আকারে সবচেয়ে বড় । এর পেট বেশ লম্বা ও প্রশস্ত এবং ডানা দুটো ছোট। একটি চাকে একটি মাত্র রাণী মৌমাছি থাকে এর একমাত্র কাজ ডিম পাড়া। রাণী মৌমাছি জীবনে একবারই মাত্র একটি পুরুষ মৌমাছির সঙ্গে মিলিত হয়। জন্ম নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন রাণী কিছু পুরুষ ও শ্রমিক মৌমাছি নিয়ে আকাশে উড়ে যায়। মিলন শেষে রাণী শ্রমিকসহ চাকে ফিরে আসে। জীবনে একবার মিলিত হলে ও রাণী পর্যাপ্ত শুক্রাণু জমা রাখে তার দেহের ভিতর শুক্রাধাণীতে। রাণী দু,ধরনের ডিম পাড়ে-নিষিক্ত ডিম (শুক্রাণু মিশানো) ও অনিষিক্ত ডিম (শুক্রাণু অমিশানো)। রাণী কোন ধরনের ডিম পাড়বে তা তার ইচ্ছাধীন। নতুন রাণী তৈরী হবে নিষিক্ত ডিম থেকে। শ্রমিক মৌমাছির তত্ত্ববধানে এক বিশেষ ধরনের খাবার (রয়াল জেলী বা রাজসুধা) খেয়ে নতুন রাণী তৈরী হয়। এ খাবারের জন্য সে পরবর্তীতে ডিম পাড়তে সক্ষম হয় ও আয়ুষ্কাল বেড়ে যায়। একটি রাণী মৌমাছির আয়ুষ্কাল প্রায় ২/৩ বছর।
পুরুষ মৌমাছি:
এরা মধ্যম আকৃতির । এদের চোখ বড়। কিন্তু এদের হুল নেই। এদের একমাত্র কাজ রাণীর সাথে মিলিত হওয়া । এরা খুব অলস প্রকৃতির । এমনকি এরা অনেক সময় নিজের খাবার নিজেরা গ্রহণ করে না। শ্রমিকেরা খাইয়ে দেয়। রাণীর সঙ্গে শুধুমাত্র একটি পুরুষ মৌমাছি মিলিত হতে সম্ক্ষম । তবে মিলিত হওয়ার পর সেই পুরুষটি মারা যায়। পুরুষ মৌমাছির আয়ুষ্কাল প্রায় দেড়মাস।
শ্রমিক মৌমাছি:
এরা সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির। এদের চোখ ছোট, কিন্তু হুল আছে। রাণী ও পুরুষ বাদে অবশিষ্ট সকল সদস্যই শ্রমিক মৌমাছি। এরা নানা দলে ভাগ হয়ে চাকের যাবতীয় কাজ (যথা চাক নির্মাণ করা, ফুলের মিষ্টি রস ও পরাগরেণু সংগ্রহ করা, মধু তৈরী করা , চাকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, চাকে বাতাস দেওয়া চাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি ) সম্পন্ন করে। এদের জন্ম নিষিক্ত ডিম থেকে এদের আয়ুষ্কাল প্রায় একমাস।
অন্য দিন আরও কিছু নতুন তথ্য নিয়ে হাজির হবো ইনশাআল্লাহ।