07/02/2025
মানুষ
#জাতীয়_কবি_কাজী_নজরুল_ইসলাম
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই,নহে কিছু মহীয়ান
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ,অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
‘পূজারী,দুয়ার খোলো,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হল!
’স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়, দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয়!
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র,ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ-
ডাকিল পান্থ‘দ্বার খোল বাবা,খাইনি কো সাতদিন!’
সহসা বন্ধ হল মন্দির;ভুখারী ফিরিয়া চলে,
তিমিররাত্রি,পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে!
ভুখারী ফুকারি কয়,
‘ঐ মন্দির পূজারীর,হায় দেবতা, তোমার নয়!’
মসজিদে কাল র্শিনী আছিল- অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি,
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন্
বলে ‘বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!
তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা-‘ভ্যালা হল দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে!
নামাজ পড়িস বেটা?
ভুখারী কহিল ‘না বাবা!
মোল্লা হাঁকিল-‘তাহলে শালা সোজা পথ দেখ!
গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা।
ভুখারী ফিরিয়া চলে,চলিতে চলিতে বলে-
‘আশিটা বছর কেটে গেল,আমি ডাকিনি তোমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা বলে বন্ধ করনি প্রভু।
তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী।
মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী!’
কোথা চেঙ্গিস, গজনী মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়,
কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা র’বে,চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!
হায়রে ভজনালয়,তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়!
মানুষেরে ঘৃণা করি
ও’ কারা কোরান, বেদ, বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি!
ও’ মুখ হইতে কেতাব গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে
যাহারা আনিল গ্রন্থ-কিতাব সেই মানুষেরে মেরে।
পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল!-মূর্খরা সব শোনো,
মানুষ এনেছে গ্রন্থ;-গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো ।
আদম,দাউদ,ঈসা,মুসা,ইব্রাহিম,মোহাম্মদ,
কৃষ্ণ,বুদ্ধ, নানক,কবির,-বিশ্বের সম্পদ,
আমাদেরি এঁরা পিতা-পিতামহ,এই আমাদের মাঝে
তাঁদেরি রক্ত কম-বেশী করে প্রতি ধমনীতে বাজে।
আমরা তাদেরি সন্তান, জ্ঞাতি, তাঁদেরি মতন দেহ।
কে জানে কখন মোরাও অমনি হয়ে যেতে পারি কেহ
হেসো না বন্ধু!আমার আমি সে কত অতল অসীম,
আমিই কি জানি কে জানে কে আছে
আমাতে মহামহিম।
হয়তো আমাতে আসিছে কল্কি,তোমাতে মেহেদী ঈশা,
কে জানে কাহার অন্ত ও আদি,
কে পায় কাহার দিশা,