20/07/2026
পুরো বিশ্বকাপে গোল ৮ টা , এসিস্ট চারটা ।
চান্স ক্রিয়েট করছে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ২৬ টা ।
সাকসেসফুলি ড্রিবল করেছে ২৬ বার ।
অন টার্গেট, অফ টার্গেট ও ব্লক শট মিলিয়ে টোটাল শট ৩৪ টা - যা এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ।
Expected Goal পয়েন্ট আবার ৬.১৬ , রীতিমত অবিশ্বাস্য ।
একটা বিশ্বকাপে এরকম পারফরম্যান্স করা স্বপ্নের মতো , মেসি তা করেছে । তাও ৩৯ বছর বয়সেই।
একটা দলের ম্যাচ বের করতে যা যা প্রয়োজন , পুরো বিশ্বকাপেই মেসি সে সব একা করেছে ।
অথচ অন্য দলগুলোতে দেখেন...
এই একই জিনিসগুলা সব আলাদা প্লেয়ারে করে দলের সমন্বয় করছে ।
আমি যা লিখছি , তা কেবলই পরিসংখ্যান ।
কিন্তু বিশ্বকাপ তো পুরোটা যারা দেখেছে , তারা জানবে অবশ্যই হারতে থাকা ম্যাচগুলো মেসির পা'য়ের জাদুতেই কিভাবে বের হয়ে এসেছে ।
মিশরের সাথে ম্যাচের পর আমি লিখেছিলাম,
মেসি হইলো সেই হালের বলদ যার কাঁধে জোয়াল তুলে দিয়ে আর্জেন্টিনা সামনে আগাইতেছে ।
ম্যাচের পর ম্যাচ কামব্যাক দিয়ে জেতায় আর্জেন্টিনার ফ্যানরা নিজের দলের সমালোচনা করার সময় পায় নি হয়তো ।
কিন্তু তারা আজ সমালোচনা করবে ।
কি নিদারুণভাবে আজ আর্জেন্টিনা এক্সপোজ হইলো ।
স্পেন গোল করার পর এমি মার্টিনেজ জাস্ট বলটা হাতে নিয়ে কান্না কইরা দিছে মনে হইলো ।
অথচ গত বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনারে পরপর দুই গোল খাওয়ার পর এমিরে এই অবস্থায় দেখি নাই ।
কারণ আর্জেন্টিনার এই বেহাল দশা দেইখা এমির মনে হয় নাই এই গোল আর পরিশোধ হবে!
তখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা একটা সিঙ্গেল শট নিতে পারে নাই বা'রে ।
জাস্ট অবিশ্বাস্য।
এরকমটা কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখে নাই বিশ্ব!
তারপর আজকে এই টিমের এই জঘন্য খেলার ছায়া থেকে মেসিও বের হয়ে আসতে পারে নাই ।
কোনো সাপোর্ট নেই । কোনো চান্স ক্রিয়েট করার পসবলিটি নেই । সবাই মিলে গিয়ে ডিফেন্স করছে।
ম্যাচ শেষে মেসির এই মাঠের এক কোণায় নিঃসঙ্গ বসে থাকা দেখে মনে হইলো ,
এটা এই বিশ্বকাপের তার প্রতীকি ছবিই বটে ।
এই যে এতদূর আসা , একটা দলের রূপকথার কাছাকাছি পৌঁছে হার্ট ব্রোকেন করা , সেই দায়িত্বের জোয়াল মেসি অনেকটা "একা " কাঁধে টেনেই এতদূর এনেছে...
মেসিকে মাঠে একা কাঁদতে দেখে আমার ওকে নিঃসঙ্গ মনে হয় নি । দুর্বল মনে হয় নি ।
একটা দলরে একা নিজের ডানায় উড়ানোর মতো যে শক্তিশালী , সে দুর্বল না ।
কিন্তু এই এক্সপোজ হওয়া আর্জেন্টিনার নিজের দিকে তাকানোর সময় এসেছে ।
একটা প্রশ্ন প্রায় করা হয় , প্রশ্ন না । শঙ্কা...
মেসি ছাড়া আর্জেন্টিনা কি তাদের অন্ধকার যুগে প্রবেশ করবে?