02/05/2026
তিন নক্ষত্র: সত্যি গর্বের বিষয়!
একই গর্ভে জন্ম, একই লক্ষ্য আর আজ একই বৃত্তে সাফল্য! বগুড়ার ধুনটের মাফিউল, সাফিউল আর রাফিউল—এই তিন যমজ ভাই আজ শুধু তিন সহোদর নন, তারা অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। অভাব যাদের দুয়ারে বাধা হতে চেয়েছিল, মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে তারা আজ সেই বাধা গুঁড়িয়ে দেশের তিনটি সরকারি মেডিকেল কলেজে জায়গা করে নিয়েছেন।
সাফল্যের আড়ালের সেই সংগ্রাম:
বাবার শূন্যতা ও শৈশবের সংকল্প: মাত্র ৫ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর ক্ষত তারা বয়ে বেড়িয়েছেন আজন্ম। সেই শোককেই তারা শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন। লক্ষ্য স্থির ছিল একটাই—বাবার মতো আর কাউকে যেন বিনা চিকিৎসায় চলে যেতে না হয়।
মায়ের ত্যাগের মহিমা: মা আরজিনা বেগম একাই সামলেছেন ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সংসার। ছেলেদের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজের সম্বলটুকুও বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেননি। তার সেই নিরলস ত্যাগই আজ এই তিন নক্ষত্রকে আলোর পথ দেখিয়েছে।
মেধার জয়জয়কার: শুরু থেকেই পড়াশোনায় আপসহীন এই তিন ভাই এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন। এবার তারা পা রাখছেন স্বপ্নজয়ের চূড়ান্ত মঞ্চে—শহীদ সোহরাওয়ার্দী, দিনাজপুর ও নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে।
অসাধ্য সাধনের গল্প
বাংলাদেশে একই পরিবারের তিন যমজ ভাইয়ের একসঙ্গে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাওয়া যেমন বিরল, তেমনি তাদের এই যাত্রাটি এক রূপকথার চেয়ে কম নয়। দারিদ্র্য যে কখনো স্বপ্নের দেয়াল হতে পারে না, এই তিন ভাই আর তাদের জননী তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন।
পরিশ্রম আর পাহাড়সম ধৈর্য থাকলে কি সত্যিই অসম্ভবকে জয় করা যায়? এই তিন লড়াকু ভাইয়ের গল্প সম্পর্কে আপনার অনুভূতি কী? আমাদের জানান। আর অন্যদেরকে জানার সুযোগ করে শে*য়া/র করে দিন।