14/06/2026
গৌরিপুরের আওয়ামিলীগের এমপি ছিলেন নাজিম উদ্দিন আহমেদ। দুইবার এমপি ছিলেন। সেখানে ফিশারিজ অফিসার ছিলেন আমাদের এক বোন।
শুনেছি নাজিম উদ্দিন বোরকা, হিজাব, নেকাব পরার কারণে উপজেলার মিটিংয়ে উপস্থিত থাকলেও কটাক্ষ করে বলত, 'কই ফিশারিজ অফিসাররে দেখি না তো'।
সেই নাজিম উদ্দিন আহমেদের ভিডিও এমপি থাকার সময়েই লিক হয়েছিল। বুড়া নাজিম উদ্দিন আহমেদের সেই ভিডিও ফেসবুকে দেখে নাই এমন কেউ বাকি ছিল না!
ফেসবুকে এখনকার মত অত রেস্ট্রিকশন ছিল না তখন। নাজিম উদ্দিন মুখ দেখাতেন কিভাবে জানি না!
আজকে অনেকদিন পর সেই নাজিম উদ্দিন আহমেদের কথা মনে পড়লো। জাতীয় সংসদে বিএনপির কুমিল্লা - ৬ এর এমপি আজকে দুজন নারী এমপিকে লক্ষ্য করে বলেছেন,
'দুইজনের বক্তব্য শুনলাম কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা…ভিতরে তো'। হিজাব ও নিকাব পরিহিত নারী এমপিদের উদ্দেশ্য করে এই বক্তব্য অবমাননাকর, অসম্মানজনক।
সংসদে বিএনপির নারী এমপিরা টেবিল চাপড়ে, অট্টহেসে সমর্থন জানালেন, এই দৃশ্যটাও খারাপ। বাংলাদেশের মত দেশে বোরকা হিজাবের কারণে সংসদের ভেতরে বিদ্রুপ, তামাশার পাত্র হতে হবে! এটা অকল্পনীয়।
বাংলাদেশে সংসদে নারীরা নিকাব পরায় মার্জিনালাইজড ফিল করবে, মকারির পাত্র হতে হবে এটা খুবই খারাপ ব্যাপার।
এ সময় স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ইন্টারফেয়ার করেছেন। তিনি নির্দেশ দেন পার্সোনাল ফ্রিডমকে কোনরকম অ্যাটাক যেন না করা হয়।
অনেকে বলবেন এমপি মনিরুল হক ঠাট্টা করেছেন, কিন্তু ব্যাপারটা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণত সংসদীয় কার্যক্রমে প্রতি মিনিটে ব্যয় হয় গড়ে প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা।
এই ব্যায় এখন আগেরচে' বাড়ারই কথা। প্রতি মিনিটে জনগণের পৌনে তিন লাখ/তিন লাখ টাকা খরচ করে নারী এমপিদের বোরকা নিয়ে কটাক্ষ করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয় নাই।
বিএনপি'র উচিত তার নেতাকর্মীদের কথাবার্তায় সংযত হতে বলা। উল্টো তারা বিরোধীদের সেই ট্রাম্পকার্ড তুলে দিচ্ছে। মনিরুল হক মুখে সুন্নতি দাড়ি আর মাথায় টুপি রেখে ইসলামবিদ্বেষী মনোভাব রাখেন, এটা বিশ্বাস করা কঠিনই।
তাই আমি সেভাবে দেখতে চাই না। বরং এটা অতি কথন আর বেশি তামাশাপনার সমস্যাই বোধ হয় বেশি। এই বক্তব্যের পর এমপি মনিরুল হকের বিরুদ্ধে আরও শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নারীদের টিজ করাকে নিন্দা জানাই। সংসদে লাগামহীন কথা হচ্ছে। সংসদে বিএনপির বহু নেতাই লাগামহীন কথা বলছেন।
সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রীকে এক এমপি প্রশ্ন করতে এক এমপি বলেছেন 'বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গত দুই মাসে ১০ থেকে ১১ জন মানুষ মারা গেছে। প্রত্যন্ত গ্রামে লোডশেডিং ও রয়েছে। আমি আসলে খুব নাজুক অবস্থায় আছি। মানুষজন আমাকে রাস্তায় ধরে।"
জবাবে মন্ত্রী বলেছিলেন, 'উনি বললেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মানুষ মারা গেছে। আবার উনি বললেন লোডশেডিং হচ্ছে। তো বিদ্যুৎ থাকে বলেই তো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। তাইলে লোডশেডিং আসলো কোথা থেকে?'
এসময় সরকারদলীয় এমপিরা টেবিল চাপড়ে হাসতে থাকেন। আমার মনে হয়, আমাদের এমপিমন্ত্রী ও ক্ষমতাবানদের সবার আগে সেনসিটিভিটির ট্রেইনিং দেওয়া উচিত।
-আরজু আহমেদ