16/04/2023
#যদি_চোখ_সয়ে_যায়_
ছোটোবেলায় বিটিভির কোনো টকশোতে শুনেছিলাম, প্রথম বিশ্বের দেশগুলো তাদের খারাপ খবর খুব বেশি প্রকাশ করে না। এর প্রধান কারণ, দেশের ইমেজ যেনো নষ্ট হয়ে না যায়। উপস্থাপক দ্বিতীয় কারণটি বলেছিলেন, যাতে করে খারাপ জিনিস দেখতে দেখতে চোখ সয়ে না যায়।
কথাটি মনে গেঁথে গেলেও খুব একটা বুঝি নি তখন, কিন্তু এখন বুঝি।
আপনার সন্তানকে আপনি যদি অল্প কিছুতেই বকতে, মারতে থাকেন, সেটা তার গা সওয়া হয়ে যাবে৷
দ্বিতীয় বার ভুল করার সময়, সে ভাববে, "মাইরের চেয়ে বেশি কিছু তো আর দিতে পারবে না।"
চিন্তা করা যায়, মাইর জিনিসটা তার জন্য কতোটা সহজ পাচ্য???
শুধু তাই নয়, বাচ্চাটা যদি তার পরিবারে নিত্য কলহ দেখে, তাহলে বহু আগেই তার চোখ সয়ে যাবে। বকাবকি, মারামারি তার কাছে কিছু মনেই হবে না। ভাববে, সবাই করলে আমার করতে দোষ কি?
এমনকি অনেক পরিবারে যদি কারো ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, যেমন, স্বামী স্ত্রীর তালাক, বাবা-ছেলের দূরত্ব, মা-মেয়ের অভিমান.... তাহলে দেখা যাবে, পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে ও ব্যপার টা সহজলভ্য হয়ে যাবে। অন্যের দেখাদেখি সেও এটা করতে পেছপা হবে না,পরিণতি যাই থাকুক না কেনো। ইভেন, এমনো অনেক সময় হয়, বাবা মা এক সন্তানের সংসার ভাঙতে দেখলে, অন্য সন্তানের সংসার ভাঙার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ছোট ছোট সমাধানযোগ্য পারিবারিক সমস্যা কে বড় বড় ইস্যু বানাতে শুরু করে। বলতে শুরু করে, অন্যেরা আরো ছোট বিষয়ে আলাদা হয়ে যায়, আর তোরা? ভাবা যায়, বাবা মাও এমন হতে পারে? পারে। কারণ, সেও এখন অভ্যস্ত। তার চোখ সয়ে গেছে।
একটা খুনি যদি একবার খুন করে ফেলে অথবা কেউ যদি বড় কোনো ক্রাইম করে, দেখা যাবে, দ্বিতীয় বার এক ই কাজ করতে হয়তো বিবেকে বাঁধবে, কিন্তু হাত কাঁপবে না।
শুধু তাই নয়, কেউ যদি নিয়মিত টিভিতে কোনো ক্রাইম সিরিয়াল দেখে, আস্তে আস্তে তার ব্রেইন সেটাতে এতোটা অভ্যস্ত হয়ে যাবে যে সে নিজে করতে গেলেও হাত কাঁপবে না।
ইদানীং সেক্স এডুকেশন কে বাধ্যতামূলক করেছে। এটা খুব ই পজিটিভ দিক। কারণ খারাপ মিডিয়ার ভীড়ে এটা খুব ই প্রয়োজনীয় একটা বিষয়।
কিন্তু কি বলেন তো, আমাদের শৈশবে আমরা যখন ভালো খারাপ কোনোটাই জানতাম না, তখন কিন্তু খারাপ ঘটনা এতোটা ঘটতো না।
আর যারা জানতো,যাদের চারিত্রিক ত্রুটি থাকতো, সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম থাকতো, তারাও অনেকে চক্ষুলজ্জায় অনেক কিছু করতে পারতো না।
অন্যের কথা কি বলবো, আমি নিজেও আগে কোনো খারাপ খবর শুনলে যতোটা শিউরে যেতাম, এখন আর এতটা শিহরিত হই না। অই যে বললাম না, চোখ সয়ে গেছে।
আসলে destruction ব্যপারটাই খুব ইন্টারেস্টিং। ভালো কাজে মানুষের নেশা হয় না, মানুষকে টানে না, খারাপ কাজেই নেশা হয়। ভাঙ্গন যদি একবার চোখ সওয়া হয়ে যায়, তখন ভাঙতে খুব বেশি একটা কষ্ট হয় না। অথচ ভাঙনের পর দুর্দশার অভাব হয় না।
লেখাঃ Fatama Tus Sauda
শিশুদের দিনলিপি 👨👩👧👦