23/04/2026
হুমায়ূন আহমেদ তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্র, পাশাপাশি একটি কোচিং সেন্টারে পড়ান। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁর নাতনি গুলতেকিন খানের সাথে। গুলতেকিন তখন স্কুলের ছাত্রী, কিশোরী মাত্র। কিন্তু তাঁর বুদ্ধিমত্তা আর শান্ত স্বভাব হুমায়ূনকে মুগ্ধ করল।
হুমায়ূন আহমেদ তখন থেকেই ছিলেন শব্দের জাদুকর। তিনি গুলতেকিনকে চিঠি লিখতে শুরু করলেন। সেই চিঠিগুলো সাধারণ কোনো প্রেমপত্র ছিল না; তাতে থাকত জীবনবোধ, দর্শন আর এক অদ্ভুত মায়া। তিনি গুলতেকিনকে নিজের মনের মতো করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন। গুলতেকিনও সেই তরুণ শিক্ষককে ভালোবেসে ফেলেছিলেন তাঁর অসামান্য ব্যক্তিত্বের কারণে।
সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্কটি খুব একটা সহজ ছিল না। গুলতেকিন ছিলেন বনেদী পরিবারের মেয়ে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন ভীষণ সাহসী। তিনি কোনো লুকোচুরি না করে সরাসরি গুলতেকিনের দাদা ইব্রাহিম খাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি জানতেন, সরাসরি না বললে এই প্রেমের পরিণতি পাওয়া কঠিন।
হুমায়ূন আহমেদ ইব্রাহিম খাঁ সাহেবের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। তিনি জানতেন এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তিনি সোজাসুজি বললেন যে তিনি গুলতেকিনকে পছন্দ করেন এবং বিয়ে করতে চান। প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ তরুণ হুমায়ূনের আত্মবিশ্বাস আর সততা দেখে অবাক হলেন। তবে তিনি একটি শর্ত দিলেন— হুমায়ূনকে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি জোগাড় করতে হবে।
শুরু হলো প্রতীক্ষার পালা। হুমায়ূন আহমেদ নিজের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হলেন। রসায়নের কঠিন সব সমীকরণ মেলাতেন আর মনে মনে গুলতেকিনের সাথে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৭৩ সালে তাঁদের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
হুমায়ূন আহমেদের জীবনের শুরুর দিকের এই প্রেমই তাঁকে পরবর্তীতে 'নন্দিত নরকে' বা 'শঙ্খনীল কারাগার'-এর মতো পারিবারিক গল্পের রসদ দিয়েছিল। তাঁদের এই সম্পর্কের শুরুটা ছিল ভীষণ মার্জিত এবং সাহসিকতায় ভরা।