10/01/2024
মানুষের সাথে পশু পাখির একটা স্পষ্ট তফাৎ হল পশু তার অশান্তি বা অসুখী বেচে থাকা নিজে ডেকে আনে না, কিন্তু মানুষ নিজে ডেকে আনে।
এই দেশের সামাজিক এবং পারিবারিক শ্রদ্ধা সম্মান সম্পর্ক সব কিছুতেই পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং ফেসবুক ও অন্যান্য অনলাইন ভিত্তিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলির অনেক ভাল কিছুর সাথে অনেক অনেক খারাপ প্রভাব ছেয়ে গেছে। আর তা এতটাই সূক্ষ্মভাবে করা হয়েছে যে খুব স্পষ্ট করে অল্প কোথায় তা ব্যাখ্যা করা প্রায় অসম্ভব।
যেমন একক পরিবারের ধারনা আর ধর্মীয় অনুশাসনের অভাব। এরকম আরও অনেক কিছু থাকলে আপাতত প্রথমে এই ২ টা বেপার একটু বিশ্লেষণ করা যাক।
পশ্চিমা বিশ্বের সমাজে অন্যতম প্রধান একটা রীতি হল ১৮ বছর হলেই প্রাপ্ত বয়স্ক যে কোন মানুষ হোক সে ছেলে বা মেয়ে। এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের আলাদাকরেও দেয়া হয়। আর এদের সমাজে ধর্মিয় বিধি নিষেধের অনেক কিছুই আধুনিকতার উঁচু মঞ্চে পৌছুতে পারে না অধিকাংশ ক্ষেত্রে। তাই সাধারনত ওদের সামাজিক সম্পর্ক অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়স্ক হবার আগেই ছেলে মেয়ের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক শুরু হয়ে যায়। বিষয়টা অবশ্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে পারবারিক এবং সামাজিক উভয় ক্ষেত্রেই। শারীরিক সম্পর্ক তাদের কাছে এতটাই সহজলভ্য আর অনিয়মতান্ত্রিক একটা নির্দিষ্ট এবং আজীবন সম্পর্ক স্থাপনের সুন্দর পারিবারিক জীবন সংখ্যায় তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। এইসব অনুশীলনের এবং অন্যান্য আরও কিছু রীতি নীতির কারণে তাই একক এবং আধা পরিবার ধুলাবালির মত সমাজের প্রায় সকল স্তরেই ছড়িয়ে পরে। আরেকটা খারাপ ফলাফল হল একক মায়ের অস্তিত্ব। যাকে অতি পরিচিত সিঙ্গেল মাদার বললে সহজেই বুঝা যায়। প্রভাবটা স্বাভাবিক ভাবেই নারীর প্রতি সম্মান, বা নারী পুরুষের সম্পর্কের প্রতি আস্থা শ্রদ্ধা সততা তরুণদের মনে যথেষ্ট ভাল ভাবে জায়গা করে দিতে বা নিতে পারে না। আর তাদের সমাজ তাই বাবার পরিচয়ের চাইতে মায়ের পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে সমাজের সকল কাজ কর্ম করতে পারার ব্যবস্থা করে রাখছে রাষ্ট্রীয় ভাবেই।
আধুনিকতার নামে যখন বাংলাদেশের মত একটা দেশের সমাজের অল্প শিক্ষিত অল্প জ্ঞানী নারী পুরুষের মধ্যে এই পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসরণ শুরু হয় তখন সেটা বুমেরাং হয়ে যায় মুহূর্তে। কারণ পশ্চিমা বিশ্বের বাবার গুরুত্ব বাদ দিয়ে সমাজে টিকে থাকার ব্যবস্থা এই দেশে নাই, এই দেশের লম্বা ইতিহাসে যে ইতিহাস হিন্দু ধর্মালম্বি সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে শুরু সেখান থেকে আজ অবধি তৈরি হয় নাই এবং তা এই ভৌগলিক অঞ্চলে হয়তো আদৌ সম্ভব না। অথচ এই একাবিংশ শতাব্দীতে এসে আধুনিক হবার নামে এই দেশের মানুষগুলি সেই অপ্রযোজ্য পথেই আগাচ্ছে এক মোহ মায়ার জালে পরে যার পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করছে স্যাটেলাইট এবং অনলাইন ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক। অথচ এই দেশের ইতিহাসের প্রায় পুরোটাই যৌথ পরিবারের ইতিহাস, বেশ প্রভাব আছে একাধিক স্ত্রী নিয়ে অনেক ছেলে মেয়ে নিয়ে জীবন যাপন করার ইতিহাস এবং বর্তমান সময়ের চেয়ে তুলনামূলক সুখী জীবনের ইতিহাস। জানি অনেকেই এই একাধিক স্ত্রীর বিষয়টা নিয়ে খুব খারাপভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে এবং খারাপ ভাবেই নিবে বেপারটাকে, সেটা নিয়ে আরেকদিন লিখব। এমন না যে সেই সময়ে পারিবারিক কলহ ছিল না, অশান্তি ছিল না, বিবাদ হত না। তারপরেও সব কিছু মিলায়ে একটা পারস্পরিক সহমর্মিতা গ্রহণযোগ্যতা ছিল অনেক বেশি।
অথচ যেই পশ্চিমা বিশ্বের নারীর সম অধিকার আর নারীবাদ নিয়ে এত হইচই তারাই আবার ধর্ষন, শিশুদের উপড়ে যৌন নির্যাতন, সমকামিতা, অস্বাভাবিক সব অনুশীলনের প্রতিযোগিতায় প্রথম।আমাদের দেশের সমাজে এই নেতিবাচক ঘটনাগুলো ছিল অনেক কম। আর তাদের সেই প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিয়ে এই দেশের নারী সমাজ এগিয়ে চলছে দেদারছে। আর তাদের সমর্থনে আছে অজস্র লোভী লম্পট পুরুষের সরাসরি সমর্থন নিজেদের হীন স্বার্থ উদ্ধার করতে। তাই আজ এই দেশে ধর্মিয় অনুশাসনের অভাব, পারিবারিক শান্তির অভাব, সম্পর্কের প্রতি সম্মানের অভাব যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবারের বিস্ফোরক উত্থান সব কিছু লেজে গুবরে পাকিয়ে গেছে। আর সংক্রামক জীবাণুর মত মানুষের মনে গেঁথে যাচ্ছে লোভ, অহংকার, হিংসা, ইর্ষা, প্রতিহিংসা, পরশ্রীকাতরতা, সন্দেহবাতিকতা, নিজেদেরকে প্রতিযোগিতায় ডুবিয়ে দেয়া বিশেষ করে নারীদের মধ্যে বেশি। আর এই বেপারগুলি জীবনের সুখ শান্তি বিনষ্ট করার প্রধান ভূমিকা পালন করে যা পশুদের সমাজে নাই বলেই চলে।
সুখী হবার জন্যে এই দেশের প্রতিটা মানুষের উচিৎ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবন পরিচালনা করা। নেতিবাচক অপ্রযোজ্য অনুসরণ গুলি বাদ দেয়া আর ধর্মিয় অনুশাসনের দিকে মনযোগী হয়ে ওঠা।
খুব অল্প লিখলাম। আগের মত লিখতে অত ধৈর্য থাকে না। অথচ অনেক অনেক সহজ সুন্দর সাবলীল ব্যাখ্যা ছিল লেখার মত, তার প্রায় কিছুই লিখতে পারলাম না।
এই বিশ্লেষণ সম্পুর্ন আমার ব্যক্তিগত মতামত।