24/04/2026
১. দুরুদটি ও আমলের বর্ণনা
ছবিতে উল্লেখিত আমলটি হলো— জুম্মার দিন আসরের নামাজের পর নিজের জায়গা থেকে না উঠে ৮০ বার এই দুরুদটি পাঠ করা:
আরবি: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَعَلَى آلِهِ وَسَلِّمْ تَسْلِيمَا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লিম তাসলিমা।
বর্ণিত ফজিলত: বলা হয়, এটি পাঠ করলে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয় এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব আমলনামায় লেখা হয়।
২. হাদিসের সত্যতা ও মান
এই আমলটি বিভিন্ন হাদিসের কিতাবে (যেমন: তাবরানি, তারিখে বাগদাদ, আফজালুস সালাওয়াত) বর্ণিত হয়েছে। তবে এর সনদ বা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের বিশ্লেষণ নিম্নরূপ:
জাল বা বানোয়াট (Fabricated): অনেক বড় বড় হাদিস বিশারদ এবং বর্তমান সময়ের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস (যেমন: ইমাম আলবানী, ইবনুল জাওযী) এই হাদিসটিকে জাল বা অত্যন্ত দুর্বল হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁদের মতে, এই নির্দিষ্ট সংখ্যার (৮০ বার) এবং নির্দিষ্ট সময়ের (আসরের পর) সওয়াবের বর্ণনাটি নির্ভরযোগ্য নয়।
হাসান বা গ্রহণযোগ্য (Sound/Accepted): কোনো কোনো আলেম আবার বিভিন্ন সূত্রের সমষ্টিকরণের ভিত্তিতে এই আমলটিকে 'হাসান' বা আমলযোগ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। তাঁদের মতে, ফজিলত বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করা যেতে পারে।
৩. জুম্মার দিনের সহিহ আমল
নির্দিষ্ট এই আমলটির সনদ দুর্বল হলেও, জুম্মার দিন এবং দুরুদ শরীফের গুরুত্ব সম্পর্কে বহু সহিহ হাদিস রয়েছে। সঠিক আমলের জন্য আপনি নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:
বেশি বেশি দুরুদ পাঠ: রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।" (সুনানে আবু দাউদ)
দোয়া কবুলের সময়: জুম্মার দিনে আসরের পরের সময়টুকু দোয়া কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত বা 'সাআতুল ইজাবাহ' হিসেবে পরিচিত। এই সময়ে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে নিজের জন্য বা উম্মাহর জন্য দোয়া ও জিকির করা সর্বোত্তম।