04/09/2025
কি ব্যাবসা করবে এটা অনেক তরুণের প্রশ্ন। চাকুরী নাই, চাকুরীর জন্য কতশত আন্দোলন। কিন্তু আমার ধারণা আমাদের ইচ্ছাশক্তি আর চিন্তাশক্তি কমে গেছে। বাস্তবতা হলো দেশে টাকা দিয়েও ভালোমানের সার্ভিস পাওয়া যায় না।
গত শুক্রবার প্রিয় ছাত্র ফয়সাল আর তমা সুদূর নরসিংদী থেকে দেখা করতে এসেছিল। দুইজনই আমার সাথে পেপার পাবলিশ করেছে।চাকুরী, ব্যবসা, ক্যারিয়ার নিয়ে তাদের সাথে ইনফরমাল কিছু আলাপ করেছিলাম।ইচ্ছে হলে পড়তে পারেন।
বাংলাদেশে সমস্যার শেষ নেই। প্রতিটি সমস্যার সমাধান হতে পারে একেকটি ব্যাবসা। প্রথমে ব্যাবসা, মুনাফা এগুলো নিয়ে ভাবার দরকার নেই। ভাবতে হবে সমাজের জন্য সমস্যার সমাধান করছি। যেমন দেশে বিশুদ্ধ পানির সংকট। পিউরইট, কেন্ট এসব কোম্পানি চড়াদামে পানি পরিষ্কারক মেশিন বিক্রি করছে। দেশের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর এসব মেশিন কিনার সামর্থ নেই। যদি নিজের এলাকায় ভিন্ন প্রযুক্তি, ভিন্ন আইডিয়া কিংবা পন্থায় পানির সমাধান করা যায় এটা ভালো ব্যবসা হবে। আবার দেশের মফস্বল শহর গুলিতে ভাল মানের স্কুল কলেজ নেই। খুব ছোট পরিসরে হলেও এই সমস্যার সমাধান করলে সমাজের পাশাপাশি ব্যাক্তিগত উন্নতির জায়গা আছে।
এমন হাজারটা সমস্যা দেশে বিদ্যমান। যানবাহন, যাতায়াত, নিরাপদ আবাসন, সিকিউরিটি, ভালো মানের খাবার ইত্যাদি। এগুলো সবই ব্যবসার অপার সুযোগ। জীবিত মাছ বাজারে পাওয়াই যায় না। আমি দেখেছি শুধু ১০০ টাকার ছোট একটি মোটর দিয়ে হংকং এ কিভাবে এমনকি জীবিত মাছ বিক্রি হয়। জলবায়ু, পরিবেশ দূষণ পর্যন্ত ব্যাবসায় সুযোগ নিয়ে বসে আছে। যাদের এই দিকে দখল আছে তারা রিসার্চ ইনস্টিটিউট, প্রজেক্ট, এনজিও, পাবলিকেশন করে ভালো করার সুযোগ আছে। দেশীয় বিদেশি বিভিন্ন এনজিও, ফিলান্ত্রপিস্ট ফান্ড নিয়ে বসে আছে। বড় পর্যায়ে না হলেও খুব ছোট আকারে হলেও সমস্যা গুলোর সমাধান করা যায়। ব্যাবসা বড় করতে হলে জনসম্পৃক্ততা যত বেশি হবে তত বড়ো হবে।
আমার এক বন্ধু HR এ জব করে আজ ২০ বছর। এইদিকে বেশ ভালো দখল। তাকে বললাম হাই প্রোফাইলের ৫০০ জন CEO, CFO, CMO দের বিস্তারিত রিজিউমী কালেক্ট করতে। দেশে সামনে আরও চাইনিজ, জাপানিজ , মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আসবে। তাদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। রিজিউমি গুলো ভালো ভাবে অর্গানাইজ করে একটি পর্টফলিও বানিয়ে সার্ভিস দেওয়া যেতে পারে।
চায়না থেকে ইমপোর্ট এর চিন্তা বাদ দিয়ে এক্সপার্ট এর চিন্তা করা উচিৎ। দেশে এখন হাজার হাজার ইম্পোর্টার। যার ফেনী বাজার দোকান আছে সেও নিজে ইমপোর্ট করে। এই বাজারে ধাক্কাধাক্কি না করে এক্সপার্ট এ হাত দিন। একবছর সঠিকভাবে লাগাতার চেষ্টা করলে মাত্র এক কনটেইনার এক্সপার্ট করা যাবে না এটা আমি বিশ্বাস করি না। এক কন্টিনার তো বাদ, পার্শিয়াল শিপমেন্ট এ এক হাজার ডলার ও যদি আয় করা যায় বাংলা টাকায় ১২০০০০! কি পণ্য এক্সপার্ট করবেন? দুনিয়া অনেক বড়ো। যে কোন কিছুই এক্সপার্ট করা যায়। নিজের এলাকার কিংবা অন্য জেলার যেকোনো পণ্য যেটা লোকাল মার্কেটে চলে সেটা এক্সপার্ট এর চেষ্টা করেন। সেটা হতে পারে হান্ডিক্রাফট, মাটির বাসন কোসন, সুন্দর হাতের কারুকার্য, খেলনা যেকোনো কিছু। দুনিয়া অনেক বড়, আপনার এই ১০০০ ডলার এর জন্য।
ভালো মানের সার্ভিস প্রোভাইডার হন। দাম একটু বেশি রাখেন সমস্যা নেই। ধরেন আপনার বাড়ি রাজশাহী, অনেক আম আছে। সবচে ভালো মানের সুমিষ্ট আম যদি ১০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করেন, এক্সপার্ট করেন আমার ধারণা মার্কেট পেতে অসুবিধা হবে না। দেশের সবজায়গায় পাঠাও ইনস্ট্যান্ট সার্ভিস নেই। আপনি শুধু আপনার এলাকায় চালু করেন অন্য নামে, খুব ছোট পরিসরে যাতে সার্ভিস এর কোনো হেরফের না হয়। খাবার ডেলিভারি ও হতে পারে এমন।
দেশে মানুষের বিনোদনের খুব অভাব। পারিবারিক, বন্ধু বান্ধব, ছাদ, আঙিনা বিনোদনের ব্যবস্থা করেন। সেটা কি হবে মাথা খাটিয়ে বের করেন। আমার এক ইজরাইলি কলিগ চায়না থেকে পারিবারিক বোর্ড গেম বানিয়ে সারা দুনিয়ায় এক্সপার্ট করে। এখন চিন্তা করে করে সে নিজেই গেম বানায়। দেশে মুক্ত আঙিনায় ব্যায়াম করার, খেলার মাঠের, খুব অভাব। আমি শেঞ্চেন এ দেখেছি বাসার ছাদে আর্টিফিসিয়াল ঘাস লাগিয়ে বাস্কেটবল, ফুটবল খেলা, ব্যায়াম করার জিনিসপত্র। এগুলো সবকিছুই ব্যবসা।
যাইহোক, এগুলো সবকিছুই আমার ব্যক্তিগত ধারণা। আপনার ধ্যান ধারণা, অবস্থানের সাথে মিলতেও না পারে। আপনার কাছে কোনো আইডিয়া থাকলে কমেন্টে দিতে পারেন যাতে অন্যরা উপকৃত হয়।
লেখক: Miraz Ahmed