18/05/2025
গল্প: "নিদয়ের নীলা"
নিদয়—নামটা তার চরিত্রের মতোই। কঠোর, রূঢ়, আর অনভিপ্রেত। ভালোবাসার অনুভূতিকে সে সবসময় দূর্বলতা মনে করত। জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে যুক্তি আর বাস্তবতা ছিল তার প্রথম ও শেষ কথা। ভালোবাসা, আবেগ—এসব তার জন্য ছিল সময়ের অপচয়।
অন্যদিকে, নিলা ছিল একদম বিপরীত। নরম, স্নিগ্ধ আর হৃদয় ছোঁয়া হাসির মেয়ে। সে বিশ্বাস করত, ভালোবাসা হল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী অনুভূতি, যা মানুষকে বদলে দিতে পারে।
নিলা একদিন নিদয়ের অফিসে নতুন সহকর্মী হিসেবে যোগ দিল। প্রথম দিনেই নিদয়ের মুখভঙ্গি দেখে সে বুঝেছিল, এই মানুষটা সহজে কাউকে আপন করে না। কিন্তু নিলা হাল ছাড়ার মানুষ ছিল না। সে ধীরে ধীরে নিদয়ের চারপাশে এক মায়ার জাল বুনে ফেলল—একটি বন্ধুত্বের, যত্নের আর হাসির জাল।
নিদয় প্রথমে বিরক্ত হত, তারপর হতবাক, আর শেষে—আস্তে আস্তে গলে গেল। সে নিজেই টের পায়নি কখন যেন নিলার হাসি তার জীবনের সবচেয়ে আরামদায়ক শব্দ হয়ে উঠেছে।
একদিন নিলা অসুস্থ হয়ে অফিসে আসেনি। নিদয় সারাদিন অস্থির হয়ে বসেছিল। তখনই সে বুঝল—সে ভালোবেসে ফেলেছে। সেই রাত্রে, এক কাপ চায়ের সঙ্গে সে নিলার সামনে বলেছিল:
—"তুমি আমার সব হিসেব ভুলিয়ে দিয়েছ, নিলা। আমি তোমায় ভালোবাসি।"
নিলা হাসতে হাসতে বলেছিল,
—"তোমার ভালোবাসা পাওয়া তো এক বিজয়! কিন্তু তুমি কথা দাও, কখনো নিদয় থেকেও ‘নরম’ নিদয় হয়ে যাবে আমার জন্য।"
দুই বছর পর তারা বিয়ে করল। তাদের সংসার ছিল এক রঙিন স্বপ্নের মতো।
তারপর এল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার—তাদের মেয়ে, যার নাম তারা রাখে "নিমি"। নিদয়, যে একসময় ভালোবাসাকে দুর্বলতা ভাবত, সেই নিদয় এখন নিজের মেয়ের মুখে হাসি আনতে সব কিছু ত্যাগ করতে পারে।
নিলা মাঝে মাঝে ঠাট্টা করে বলে,
—"তোমার নামটা বদলে ফেলতে হবে এখন। নিদয় আর নেই, তুমি এখন শুধু 'নিলা আর নিমির নিদয়'।"
নিদয় হেসে মেয়েকে কোলে তুলে নেয়।
—"তোমরাই তো আমার পৃথিবী।"
এভাবেই, এক নিদয় পুরুষের জীবনে নিলা হয়ে এসেছিল প্রেম, আর নিমি হয়ে এসেছিল ভালোবাসার চূড়ান্ত পূর্ণতা