10/05/2026
“শামীম ফকির: অন্যায়ের শিকার এক নিরপরাধ মানুষ”
🔹অপরাধীর হাসি-নির্দোষের দীর্ঘশ্বাস
★সমাজের সবচেয়ে ভয়ংকর অন্যায় হয়তো তখনই ঘটে,যখন একজন প্রকৃত অপরাধী বুক ফুলিয়ে মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ায়,আর একজন নির্দোষ মানুষ লোহার শিকের আড়ালে দিন গোনে।
কারণ অপরাধীরা অপরাধ করার আগে শতবার ভাবে,পরিকল্পনা করে,প্রমাণ মুছে ফেলে,সাক্ষীকে ভয় দেখায়,আর আইনের ফাঁকফোকর খুঁজে নেয়।তারা জানে কোথায় কিভাবে নিজেদের বাঁচাতে হয়।
কিন্তু একজন সৎ মানুষ??
সে তো ষড়যন্ত্র বোঝে না।মিথ্যা নাটক সাজাতে জানে না।নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করার ভাষাটাও অনেক সময় তার জানা থাকে না।
তাই দেখা যায়-
যে সত্যিকারের চোর,সে আইনের চোখে “প্রমাণের অভাবে নির্দোষ” হয়ে যায়।
আর যে মানুষটি জীবনে অন্যায়ের পথে হাঁটেনি,সে হয়ে যায় “সন্দেহভাজন”।
একজন অপরাধী যখন আদালত থেকে হাসিমুখে বের হয়,তখন শুধু একজন মানুষ নয়-পুরো সমাজ আহত হয়।মানুষের বিশ্বাস ভেঙে যায়।সাধারণ মানুষ ভাবতে শুরু করে, “সত্যি কি আর সত্য থাকে?”
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো,জেলের অন্ধকার কক্ষে বসে থাকা সেই নির্দোষ মানুষটির কান্না কেউ শোনে না।
তার সন্তানের চোখের জল,মায়ের অপেক্ষা, স্ত্রীর নীরব দীর্ঘশ্বাস-এগুলোর কোনো সাক্ষী থাকে না।
আইনের কাজ শুধু শাস্তি দেওয়া নয়,সত্যকে রক্ষা করাও।
কারণ একজন অপরাধী ছাড়া পেলে হয়তো একটি মামলা হারে,কিন্তু একজন নির্দোষ শাস্তি পেলে পুরো মানবতা হেরে যায়।
আজ সমাজে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শুধু কঠোর বিচার নয়,ন্যায়বিচার।
কারণ বিচার দেরি হলে মানুষ কাঁদে,
আর ন্যায়বিচার হারিয়ে গেলে পুরো জাতি কাঁদে।
এটি কোনো গল্প নয়,কোনো কল্পনার শব্দচিত্র নয়-
এটি আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতার নাম।
শামীম ফকির…
একজন নিরীহ,শান্ত স্বভাবের ছেলে।
যে ছেলেটা মানুষের উপকার করতে জানতো,মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়াতে জানতো,আজ সেই ছেলেটাই ছয় মাস ধরে জেলের অন্ধকার কোনায় দিন গুনছে-নিজের আপন বড় ভাইয়ের করা একটি মিথ্যা মামলার বোঝা কাঁধে নিয়ে।
কী ভয়ংকর এই পৃথিবী!
যেখানে অপরাধ না করেও মানুষ অপরাধীর খাঁচায় বন্দি হয়,আর সত্য কথা বলার মানুষগুলো নীরব দর্শক হয়ে থাকে।
শামীম কোনো সন্ত্রাসী নয়,কোনো চাঁদাবাজ নয়,কোনো সমাজ ধ্বংসকারী নয়।
সে ছিল সাধারণ মানুষের একজন,যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতো।
কিন্তু আজ তার জন্য সমাজের কণ্ঠ নিস্তব্ধ।
হয়তো চায়ের দোকানের আড্ডায় দু’একবার তার নাম আসে,
হয়তো কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে-
“ছেলেটা নির্দোষ ছিল…”
তারপর সবাই আবার নিজের জীবনে ব্যস্ত হয়ে যায়।
স্থানীয় পত্রিকা,কনটেন্ট ক্রিয়েটর,সমাজের বড় বড় কথাবলা মানুষগুলো-
কোথাও শামীমকে নিয়ে কোনো প্রতিবাদ দেখিনি।
কারণ ভালো মানুষের কান্না আজ আর খবর হয় না।ক্ষমতাবানদের ছবি তুলে,নেতাদের পিছনে ঘুরে ঘুরে অনেকের জীবন কেটে যায়;কিন্তু বিনা অপরাধে জেলে থাকা একটি অসহায় ছেলের জন্য কলম ধরা হয় না।
আজকাল কনটেন্টের নামে নাটক হয়,
বড়লোকদের গল্প ভাইরাল হয়,
কিন্তু সমাজের হাজারো নির্যাতিত, অবহেলিত মানুষের আর্তনাদ ক্যামেরার সামনে আসে না।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় কী জানেন?
একজন নির্দোষ মানুষ ধীরে ধীরে সমাজের চোখে অপরাধীতে পরিণত হয়,শুধু কারণ সে ভালো মানুষ,অসহায় এবং তার হয়ে কথা বলার কেউ নেই।
তাই আসুন,আমরা মানবতার জায়গা থেকে অন্তত একবার ভাবি।
শামীমের জায়গায় আমাদের ভাই থাকতো?
আমাদের সন্তান থাকতো?
তাহলে কি আমরা এতটা নীরব থাকতে পারতাম?
একটি নির্দোষ ছেলের জীবন যেন অন্যায়ের অন্ধকারে শেষ না হয়ে যায়।
আসুন,আমরা সবাই একসাথে আওয়াজ তুলি-
ন্যায়ের জন্য,সত্যের জন্য,একজন নিরপরাধ মানুষের মুক্তির জন্য।
কারণ সমাজ তখনই সুন্দর হয়,
যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ একসাথে দাঁড়াতে শেখে। আর এই কঠিন সময়ে শামীমকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন আমাদেরই ছোট ভাই,
এডভোকেট মোঃ এনামুল হক।
সত্য ও ন্যায়ের পথে তার এই লড়াই মানবতার পক্ষের লড়াই হয়ে থাকুক।
_শাহিনুর আলম খান|
#ত্রিশাল #জনস্বার্থেঃ