Sabha-সাবহা

Sabha-সাবহা লেডিস পর্দা সামগ্রী,নামাজের হিজাব ,থ্রিপিস, বিছানার চাদর,ও দেশের বাহির থেকে সরাসরি আমদানিকৃত প্রসাধনী

মি'রাজ বিষয়ক কয়েকটি প্রশ্ন ও ভুল ধারণাপ্রশ্নআমাদের দেশে রজবের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ পালন করা হয়। বইপুস্তুকেও ২৭...
08/02/2024

মি'রাজ বিষয়ক কয়েকটি প্রশ্ন ও ভুল ধারণা
প্রশ্ন
আমাদের দেশে রজবের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে শবে মেরাজ পালন করা হয়। বইপুস্তুকেও ২৭ তারিখকেই মেরাজ রজনী বলে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। কিন্তু ইদানীং কিছু মৌলভী সাহেব থেকে এ ব্যাপারে কিছু সংশয়ের কথা শুনলাম। বাস্তব বিষয়টি কি?
উত্তর
মেরাজের ঘটনা রজবের ২৭ তারিখে হয়েছিল-একথা প্রমাণিত নয়। এই তারিখটি শুধু এমন একটি রেওয়ায়েতে পাওয়া যায়, যার সনদ সহীহ নয়। কোনো নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা এটি প্রমাণিত নয়। মেরাজ কখন হয়েছিল সে সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সনদে শুধু এটুকু পাওয়া যায় যে, তা হিজরতের এক বা দেড় বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু কোন দিন, মাস বা তারিখে সংঘটিত হয়েছে এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কিছুই নেই। তাই এই তারিখকে মেরাজ-রজনী হিসাবে ধরে নেওয়া যেমন ভুল তেমনি তা উদযাপন করাও ভুল। সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন কেউ কখনো মেরাজ রজনী উদযাপন করেছেন এমন কোনো প্রমাণ নেই। এটি একটি কুসংস্কারও বিদআত।

আলমাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ ও শরহুল মাওয়াহিব ৮/১৮-১৯; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া ২/৪৭১; লাতায়িফুল মাআরিফ পৃ. ১৩৪
***
প্রশ্ন
লোকমুখে শোনা যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছলেন তখন হযরত জিবরাঈল আ. এই বলে সামনে অগ্রসর হতে অক্ষমতা প্রকাশ করেন যে, আমি আর এক কদম অথবা আর এক চুল পরিমাণ অগ্রসর হলে আমার ডানাসমূহ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে-একথা সহীহ কি না?

উত্তর
: একথা ভিত্তিহীন। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনে সিদ্দীক আলগুমারী রাহ. বলেন, ‘‘এরূপ ধারণা করা নিকৃষ্টতম বাড়াবাড়ি যে, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছলেন তখন জিবরাঈল আ. পিছনে সরে গেলেন এবং বললেন, যদি আমি আর এক পা অগ্রসর হই তাহলে জ্বলে যাব। এটি একটি মিথ্যা ও বাজে কথা। বস্তুত সে রাতে জিবরাঈল আ. এক মুহূর্তের জন্যও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গ ত্যাগ করেননি। সিদরাতুল মুনতাহা এবং অন্যান্য স্থানেও তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন। শরহুল মাওয়াহেবে এই বর্ণনা সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এগুলো নিঃসন্দেহে মিথ্যা।

শরহুল মাওয়াহিব ৮/২০০
***
প্রশ্ন
মেরাজের ঘটনা কি কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? মেরাজ অস্বীকার করলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে? মেরাজ স্বপ্নে হয়েছিল এমন আকীদা রাখা কেমন? হযরত আয়েশা রা. নাকি স্বশরীরে মেরাজ স্বীকার করতেন না?
উত্তর
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেরাজ কুরআন-হাদীস ও ইজমায়ে উম্মত-এর অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। মেরাজ সত্য-এই বিশ্বাস রাখা ফরয। অস্বীকার করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। আর মেরাজ যে সশরীরে ও জাগ্রত অবস্থায় হয়েছিল তা যে শুধু রূহানী বিষয় ছিল না এ বিষয়টির উপরও ঈমান রাখা জরুরি। সকল সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের বিশ্বাসও এটিই। আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.-এর থেকে যে কথা বর্ণনা করা হয় তা ঠিক নয়। একে তো সেটির সনদ দুর্বল। আর ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ বলেছেন, এ উক্তিটি হযরত আয়েশা রা.-এর উপর আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি তা বলেননি অথচ তার নামে একথা চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। (শরহুল মাওয়াহিব, যুরকানী ৮/৭) রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত সফরের কথা সূরা বনী ইসরাঈলের শুরুতে এবং উর্ধ্ব জগতের সফরের কথা সূরা নাজমের ১৩ থেকে ১৮ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন মজীদের আয়াত, সহীহ হাদীস ও উম্মতের ইজমা দ্বার প্রমাণিত বিষয়ের বিপরীত ঐ ধরনের যয়ীফ বর্ণনার কোনো স্থান নেই তা বলাই বাহুল্য। এ প্রসঙ্গে ইমাম আবুল খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া বলেন, ইসরার হাদীসের উপর মুসলিমদের ইজমা রয়েছে এবং বেদ্বীন ও মুলহিদরা তা থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা ফুঁৎকারে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়। আর আল্লাহ তার নূরকে পূর্ণ করবেন। যদিও কাফেররা অপছন্দ করে। বিস্তারিত জানার জন্য আলকাউসারে (আগস্ট ’০৬) প্রকাশিত হযরত মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব দামাত বারাকাতুহুমের প্রবন্ধটি পড়া যেতে পারে।
***
এটি হাদীস নয় : মেরাজে নবীজীর সাতাশ বছর সময় লেগেছিল
মেরাজ সম্পর্কে এক ওয়ায়েজকে বলতে শুনেছি যে, তাতে নাকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাতাশ বছর সময় ব্যয় হয়েছিল। আরেক ওয়ায়েজ এই কথাটি বললেন আরো চটকদার করে। তার ভাষায়, ইন্তেকালের সময় যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিবরীল ও মালাকুল মাওত হাজির হল, তখন তিনি মালাকুল মাওতকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এত তাড়াতাড়ি কেন এলে? আল্লাহ তো আমাকে নববই বছর হায়াত দিয়েছিলেন। তখন জিবরীল বললেন, আপনার জীবনের সাতাশ বছর তো মেরাজের রাতেই অতিবাহিত হয়ে গেছে!
উপরোক্ত বর্ণনার কোনো ভিত্তি আমরা পাইনি। মেরাজের সহীহ ও নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতগুলোর কোথাও বলা হয়নি যে, মেরাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কত সময় অতিবাহিত হয়েছিল। কুরআন মজীদ এবং সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনাটি একটি রাতে সংঘটিত হয়েছিল। তাতে পুরো রাত লেগেছিল নাকি রাতের কিছু অংশ, না চোখের পলকেই ঘটে গিয়েছিল তা সহীহ হাদীসে নেই। হাদীসে এই কথাও নেই যে, আল্লাহ তাআলা তখন সময় ও সৃষ্টিজগতকে স্থির রেখেছিলেন কি না।
অতএব মিরাজের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তার রহস্য ও তাৎপর্য আলোচনার সময় এই সব অমূলক কথাবার্তার আশ্রয় নেওয়া খুবই নিন্দনীয় ও সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য। কোনো দায়িত্বশীল ও আমানতদার ব্যক্তি এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। আল্লাহ তাআলার পরিষ্কার আদেশ-
ولا تقف ما ليس لك به علم
‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই এর পিছনে পড়ো না।’ এরপরও শুধু অনুমান ও ধারণার উপর ভিত্তি করে বলা, বিশেষত মানুষের সামনে বর্ণনা করা বড়ই অন্যায়। উপরন্তু তা যখন হয় আল্লাহ ও রাসূলের সাথে সম্পর্কিত তখন তো এর ভয়াবহতা বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাযত করুন। আমীন।
[ মাসিক আলকাউসার » রজব ১৪৩২ . জুন ২০১১ ]
***
এটি হাদীস নয় : আপনার জুতায় আরশ ধন্য হয়েছে
লোকমুখে মেরাজ সম্পর্কে একটি কথা প্রসিদ্ধ আছে যে, মেরাজ রজনীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরশে মুআল্লায় প্রবেশের পূর্বেজুতা খুলতে চাইলে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
يا محمد! لا تخلع نعليك، فإن العرش يتشرف بقدومك متنعلا ويفتخر على غيره متبركا.
হে মুহাম্মাদ! আপনি জুতা খুলবেন না। (জুতা নিয়েই আরোহন করুন) কেননা, আপনার জুতা নিয়ে আগমনে আরশ ধন্য হবে। এটি বরকত লাভের কারণে অন্যের উপর গর্ববোধ করবে।
কথাগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ তো আছেই, কোন কোন বক্তার মুখেও শোনা যায়। কিন্তু তা প্রমাণিত নয়। সবগুলোই মনগড়া ও বানানো কথা।
ইমাম রযীউদ্দীন আল-কায্ভীনী (রহ.)কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জুতা নিয়ে আরশ গমন এবং আল্লাহ তাআলার সম্বোধন (হে মুহাম্মাদ! আপনার জুতায় আরশ ধন্য হয়েছে) ইত্যাদি প্রমাণিত কি না। তিনি উত্তরে বলেছিলেন-
أما حديث وطئ النبي صلى الله عليه وسلم العرش بنعله فليس بصحيح ولا ثابت، بل وصوله إلى ذروة العرش لم يثبت في خبر صحيح ولا حسن ولا ثابت أصلا، إنما صح في الأخبار انتهاؤه إلى سدرة المنتهى فحسب.
জুতা পায়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরশ গমনের হাদীস প্রমাণিত নয়। এমনকিক তিনি (খালি পায়ে) আরশে পৌঁছেছেন এমন কথাও কোন নির্ভরযোগ্যসূত্রে বর্ণিত নেই। সহীহ বর্ণনা মতে তিনি শুধু সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গমন করেছেন।-সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ-শরহুল মাওয়াহেব ৮/২২৩
অপর এক মুহাদ্দিসের ভাষ্য-
আল্লাহ তাআলা তাকে ধ্বংস করুন, যে বলে তিনি জুতা নিয়ে আরশে আরোহণ করেছেন। কত ঔদ্ধত্য! কত বড় স্পর্ধা!! যিনি শিষ্টাচারীদের সরদার, যিনি আরেফবিল্লাহগণের মধ্যমণি, তাঁর ব্যাপারে এমন কথা! তিনি আরো বলেন যে, রযীউদ্দীন আল-কাযভীনীর উত্তরই সঠিক। প্রায় চল্লিশজন সাহাবী থেকে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিতভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেরাজ তথা উর্ধ্ব জগতে গমনের ঘটনা বর্ণিত আছে। এঁদের কারো হাদীসে এ কথা উল্লেখ নেই যে, সে রাতে তাঁর পায়ে জুতা ছিল। এ কথা কতক গন্ডমূর্খ কিসসা-কাহিনীকারদের কাব্যে এসেছে। ... কোন নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত হাদীসে বা দুর্বলসূত্রে বর্ণিত হাদীসেও এ কথা নেই যে, তিনি আরশে আরোহন করেছেন। এটি কারো বানানো কথা, এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যায় না।-শরহুল মাওয়াহেব ৮/২২৩
আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ মাক্কারী (রহ.) স্বরচিত গ্রন্থ ফাতহুল মুতাআল ফী মাদহি খাইরিন নিআল-এ উপরোক্ত কথাটিকে জাল বলে জানিয়েছেন।-আল আসারুল মারফুআ ৩৭
আরো দ্রষ্টব্য : গায়াতুল মাকাল ফীমা ইয়াতাআল্লাকু বিন্নিআল : আল্লামা লাখনোভী (রহ.)
[ মাসিক আলকাউসার » জুমাদাল উখরা ১৪৩৪ . এপ্রিল ২০১৩ ]
***
একটি অলীক কাহিনী : স্ত্রীকে মাছ কাটতে দিয়ে গোসল করতে যায়...
লোকমুখে শোনা যায়- এক ব্যক্তি মেরাজের ঘটনা অস্বীকার করল। একদিন সে স্ত্রীকে মাছ কাটতে দিয়ে নদীতে গোসল করতে যায়। ডুব দিয়ে উঠে দেখে সে মহিলা হয়ে গেছে। সেদিক দিয়ে যাচ্ছিল এক সওদাগর। সে তাকে দেখে বিবাহ করে। তাদের সন্তান-সন্ততি হয় এবং তারা বড় হয়ে যায়। পরবর্তীতে একদিন সে নদীতে গোসল করতে যায়। ডুব দেওয়ার পর দেখে আবার সে আগের পুরুষ ব্যক্তি হয়ে গেছে। তখন সে বাড়িতে ফিরে দেখে তার স্ত্রী এখনো মাছ কাটছে। স্ত্রীকে সব ঘটনা খুলে বলে এবং তার ভুল বুঝতে পারে। এভাবে তার মেরাজের ঘটনা বুঝে আসে।
এটি একটি অলীক কাহিনী, যা আরেক অসার কথার উপর ভিত্তি করে আবিষ্কার করা হয়েছে। তা হল, কিছু মানুষ মনে করে, মিরাজে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাতাশ বছর অতিবাহিত হয়েছে। অর্থাৎ মিরাজে তো নবীজী গিয়েছেন এক রাতে, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তখন সময় ও সৃষ্টিজগৎকে স্থির করে রেখেছেন। মাঝখান দিয়ে মেরাজে নবীজীর সাতাশ বছর সময় কেটে গেছে।
আবার এই সাতাশ বছর কেন্দ্রিক আরেক অলীক কাহিনীরও আবিষ্কার করা হয়েছে। সেটি হল, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সময় জিবরীল আমীন ও মালাকুল মাউত হাজির হল। তখন নবীজী মালাকুল মাউতকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি এত তাড়াতাড়ি কেন এলেন? আল্লাহ তো আমাকে নব্বই বছর হায়াত দিয়েছিলেন। তখন জিবরীল আমীন বললেন, আপনার জীবনের সাতাশ বছর তো মেরাজের রাতেই অতিবাহিত হয়ে গেছে!
তো আমরা দেখতে পাচ্ছি, একটি ভিত্তিহীন কথাকে প্রমাণ করার জন্য আরেকটি অলীক কাহিনীর আবিষ্কার করা হচ্ছে।
এসকল বর্ণনার কোনো ভিত্তি আমরা পাইনি।মেরাজের সহীহ ও নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতগুলোর কোথাও বলা হয়নি যে, মেরাজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কত সময় অতিবাহিত হয়েছিল। কুরআন মজীদ এবং সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, এই ঘটনাটি রাতের কোনো একটি অংশে সংঘটিত হয়েছিল। তাতে পুরো রাত লেগেছিল নাকি রাতের কিছু অংশ, না চোখের পলকেই ঘটে গিয়েছিল তা সহীহ হাদীসে নেই। হাদীসে এই কথাও নেই যে, আল্লাহ তাআলা তখন সময় ও সৃষ্টিজগতকে স্থির রেখেছিলেন কি না।
অতএব মিরাজের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তার রহস্য ও তাৎপর্য আলোচনার সময় এইসব অমূলক কথাবার্তার আশ্রয় নেওয়া খুবই নিন্দনীয় ও সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য। আল্লাহ তাআলার পরিষ্কার আদেশ-
وَ لَا تَقْفُ مَا لَیْسَ لَكَ بِهٖ عِلْمٌ
‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই এর পিছনে পড়ো না।’এরপরও শুধু অনুমান ও ধারণার উপর ভিত্তি করে বলা বড়ই অন্যায়।
[ মাসিক আলকাউসার » রবিউস সানি ১৪৩৮ . জানুয়ারি ২০১৭ ]
***
এটি কি হাদীস : আসসালাতু মি’রাজুল মু’মিনীন
‘নামায মুমিনের মেরাজ’ কথাটা একটা প্রসিদ্ধ উক্তি। কেউ কেউ একে হাদীস মনে করে থাকেন। কিন্তু হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে এটা পাওয়া যায় না। তবে এ কথাটার মর্ম বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকে আহরণ করা যায়। এ জন্য একথাটা একটি প্রসিদ্ধ উক্তি হিসেবেই বলা উচিত, হাদীস হিসেবে নয়। হাদীস বলতে হলে নিম্নোক্ত কোনো সহীহ হাদীস উল্লেখ করা যায়- ‘মুমিন যখন নামাযে দাড়ায় তখন সে তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে।’ সহীহ বুখারী, হাদীস ৪১৩
‘তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাড়ায় তখন সে আল্লাহর সঙ্গে একান্তে কথা বলে, যতক্ষণ সে তার জায়নামাযে থাকে।’-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৪২৬
[ মাসিক আলকাউসার » শাবান-রমযান ১৪২৯ . আগস্ট ২০০৮ ]
***
একটি কাহিনীঃ ‘দুআয়ে কদ্হ’ সম্পর্কিত বর্ণনার কোনো ভিত্তি নেই
কোনো কোনো অযীফার কিতাবে ‘দুআয়ে কদ্হ’ নামে একটি দীর্ঘ দুআ পাওয়া যায়, যার সম্পর্কে দাবি করা হয়েছে যে, মি’রাজের রাতে হযরত জিব্রীল আ. তা নবীজীকে দান করেছেন এবং তার বহু ফযীলত উল্লেখ করেছেন! প্রকৃত বিষয় এই যে, এটা মাছূর দুআ নয়, কেউ তা তৈরি করেছে। আর এর যে ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে তা একটি অলিক কাহিনী। বাস-বতার সঙ্গে এর দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। মোল্লা আলী ক্বারী রাহ. ‘আলহিযবুল আ’যম’ কিতাবের শুরুতে এই ‘মওযূ’ বর্ণনাগুলির দিকে ইঙ্গিত করে কঠোর সমালোচনা করেছেন। শরহে নুখবার ভাষ্যগ্রনে'ও ‘মওযূ’ অধ্যায়ে এর সমালোচনা করেছেন।
[ মাসিক আলকাউসার » শাবান-রমজান ১৪৩০ . আগষ্ট-সেপ্টেম্বর ২০০৯ ]
একটি ভুল বিশ্বাস : মি’রাজের উদ্দেশ্য কী ছিল
মিরাজের আলোচনা করতে গিয়ে কেউ কেউ স্পষ্টভাবে কিংবা ইশারা ইঙ্গিতে এমন সব কথা বলে থাকেন যা থেকে বোঝা যায় যে, তাদের ধারণায় মি’রাজের উদ্দেশ্য ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর ঘরে মেহমান হিসেবে দাওয়াত দেওয়া। অথচ আল্লাহ তাআলার ঘর-বাড়ি প্রয়োজন হয় না। স্থান ও কাল তাঁরই সৃষ্টি, তিনি স্থান ও কালের গণ্ডির ঊর্ধ্বে।

কুরআন কারীমে সূরা ইসরা ও সূরা নামলে মিরাজের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখিত হয়েছে। তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঊর্ধ্ব-জগতের সফর করানো এবং আল্লাহ তাআলার কুদরতের বড় বড় অনেক নিদর্শন তাঁকে দেখানো।
[ মাসিক আলকাউসার || রজব ১৪২৮ || আগস্ট ২০০৭ ]
কুরআন-হাদীসে ইসরা ও মিরাজ : বর্ণনা ও শিক্ষা
মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর
https://www.alkawsar.com/bn/article/2912/
সহীহ হাদীসের আলোকে মিরাজুন্নবীর ঘটনা
https://www.alkawsar.com/bn/article/2542/

ইসরা ও মি’রাজ বিষয়ে একটি উত্তম ও প্রাচীন রচনা
http://www.alkawsar.com/article/1565
মিরাজ বিষয়ক আলোচনা : কিছু অসতর্কতা
http://www.alkawsar.com/article/657
#মিরাজ_মাসিক_আলকাউসার

ইসরা ও মিরাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। মুমিনের...

23/01/2024

একটি ভিত্তিহীন কথা
কিয়ামতের দিন কি আলেমদের হিসাব-নিকাশ হবে পর্দার আড়ালে?
কিছু কিছু মানুষকে বলতে শোনা যায়- কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা আলেমদের হিসাব-নিকাশ সকলের সামনে নিবেন না; বরং তাদের সম্মানের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাদের হিসাব নিবেন পর্দার আড়ালে।

আলেমদের সম্মান বোঝাতে কিছু মানুষ এ কথাটি বলে থাকেন। কিন্তু এটি একটি মনগড়া কথা; এর কোনো ভিত্তি নেই। কুরআন-হাদীসে এমন কোনো কথা পাওয়া যায় না।

আলেমদের মর্যাদার বিষয়ে এর চেয়ে বড় কথা আর কী হতে পারে যে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলেমদেরকে নবীগণের ওয়ারিস বলেছেন! এছাড়া আলেমদের মর্যাদার বিষয়ে তো কুরআনের বহু আয়াত ও সহীহ হাদীস রয়েছে, সেগুলোই যথেষ্ট; এ ধরনের মনগড়া কথা বলা সমীচীন নয়।

আর বিভিন্ন সহীহ হাদীস থেকেও একথা বোঝা যায় যে, আলেমদের হিসাব পর্দার আড়ালে হবে- একথা ঠিক নয়। (দ্র. জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯০৫)

সুতরাং আমরা এমন কথা বলব না। আলেমদের মর্যাদার বিষয়ে কুরআনের আয়াত এবং বহু সহীহ হাদীস রয়েছে, সেগুলোই বলব, কোনো মনগড়া কথা বলব না।
[ মাসিক আলকাউসার || জুমাদাল আখিরাহ-রজব ১৪৪০ || মার্চ ২০১৯ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

20/01/2024

একটি ভুল রসম : দাফনের পরপর মৃতের বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা
কোনো কোনো এলাকায় প্রচলন আছে, মৃতের বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা হয় এবং জানাযার পর এলান করা হয় যে, খাবার না খেয়ে কেউ যাবেন না।

এটিও একটি ভুল রসম ও বিদআত। দাওয়াতের আয়োজন তো করা হয় কোনো আনন্দ-উৎসবের সময়, কোনো বেদনার মুহূর্তে নয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত তো হল মৃতের পরিবার-পরিজনদের জন্য প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা। প্রশ্নোক্ত কাজটি এর সম্পূর্ণ উল্টো ও বিপরীত। তাই অবশ্যই এ থেকে বিরত থাকতে হবে।

সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই এটিকে নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ বলে গণ্য করা হত। হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রা. বলেন-

كُنّا نَعُدّ الِاجْتِمَاعَ إِلَى أَهْلِ الْمَيِّتِ وَصَنِيعَةَ الطّعَامِ بَعْدَ دَفْنِهِ مِنَ النِّيَاحَةِ.

আমরা মৃতের দাফনকার্য শেষ হওয়ার পর তার বাড়িতে একত্রিত হওয়া এবং (আগতদের জন্য) খাবারের আয়োজন করাকে নিয়াহা (নিষিদ্ধ পন্থায় শোক পালন)-এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৯০৫
[ মাসিক আলকাউসার, জুমাদাল উলা ১৪৪০ || ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

20/01/2024

একটি ভুল বিশ্বাস : ঘরে মাকড়সার জাল থাকলে কি অভাব-অনটন দেখা দেয়?
কিছু মানুষের মাঝে একথা প্রচলিত আছে যে, ঘরে মাকড়সার জাল থাকলে অভাব-অনটন দেখা দেয়। এটি একটি অলীক বিশ্বাস।

অভাব-অনটনের সাথে মাকড়সার জালের কী সম্পর্ক? স্বচ্ছলতা বা অভাব-অনটনের মালিক আল্লাহ তাআলা। তিনি চাইলে কাউকে অভাব-অনটনে রাখেন, চাইলে স্বচ্ছলতা দান করেন।

তবে একথা স্মরণ রাখা দরকার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সুতরাং মাকড়সার জাল বা অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা থেকে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কর্তব্য। এ ব্যাপারে প্রতিটি মুসলিমেরই সচেতন থাকা উচিত।
[ মাসিক আলকাউসার || জুমাদাল উলা ১৪৪০ || ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

18/01/2024

একটি জাহেলী কথা : নামায না পড়লে কী হয়েছে, ঈমান ঠিক আছে!
কোনো মুমিন নামায তরক করতে পারে না। নামায পরিত্যাগ করা কবীরা গুনাহ। কিছু মানুষ নিজের এ অন্যায় ঢাকতে একটি বাক্যের আশ্রয় নেয়- নামায না পড়লে কী হয়েছে, ঈমান ঠিক আছে!

এটি একটি জাহেলী বাক্য; শয়তানের বানানো বাক্য, যা দ্বারা সে মুমিনকে ধোঁকায় ফেলে রাখে। কোনো মুমিন এমন কথা বলতে পারে না। যার ঈমান ঠিক আছে সে কি নামায তরক করতে পারে?

ঈমানের প্রধান আলামতই তো হল নামায। নামাযই ঈমান-কুফরের পার্থক্যরেখা। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

بَيْنَ الرّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالْكُفْرِ تَرْكُ الصّلَاةِ

ব্যক্তি ও শিরক-কুফরের মাঝের পার্থক্যরেখা হল, নামায। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮২

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল-

مَا كَانَ يُفَرِّقُ بَيْنَ الْكُفْرِ وَالْإِيمَانِ عِنْدَكُمْ مِنَ الْأَعْمَالِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ؟ قَالَ: الصّلَاةُ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আপনাদের কাছে কোন্ জিনিস ঈমান ও কুফরের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী ছিল? তিনি বললেন, নামায। -শারহু উসূলি ই‘তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ, বর্ণনা ১৫৩৮

সুতরাং আমরা নামাযের প্রতি যত্নবান হব; কখনো নামায পরিত্যাগ করব না এবং এজাতীয় শয়তানী ধোঁকার বাক্য মুখে আনব না।
[ মাসিক আলকাউসার || রবিউল আখির ১৪৪০ || জানুয়ারি ২০১৯ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

18/01/2024

একটি বানোয়াট কিসসা
নবীজীকে হুসাইন রা.-এর প্রশ্ন- নানাজী! আপনি বড় না আমি বড়?
একবার হাসান-হুসাইন নবীজীর সাথে খেলা করছিল। হঠাৎ হুসাইন নবীজীর কোলে বসে বলল, নানাজী! বলুন তো, আপনি বড় না আমি বড়! ছোট্ট নাতীর এমন প্রশ্ন শুনে নবীজী আশ্চর্য হলেন। বললেন, আমি বড়! হুসাইন বলল, না, আমি বড়! নবীজী বললেন, বুঝলাম তুমি বড়; কিন্তু কীভাবে?

হুসাইন তখন প্রশ্ন করল, বলুন তো আপনার পিতার নাম কী? নবীজী বললেন, আব্দুল্লাহ। হুসাইন বলল, আর আমার পিতার নাম জানেন? আমার পিতা হলেন, আসাদুল্লাহিল গালিব আলী ইবনে আবি তালিব।

হুসাইন আবার প্রশ্ন করল, আপনার মায়ের নাম কী? নবীজী বললেন, আমেনা। হুসাইন তখন বলল, আর আমার মায়ের নাম জানেন? আমার মা হলেন, সায়্যিদাতু নিসা-ই আহলিল জান্নাহ-জান্নাতের রমনীদের সরদার ফাতিমাতুয যাহরা।

হুসাইন আবার প্রশ্ন করল, আপনার নানীর নাম বলেন। নবীজী তাঁর নানীর নাম বললে হুসাইন বলল, আর আমার নানীকে চিনেন? আমার নানী হলেন ঐ নারী, যাকে আল্লাহ সালাম পাঠিয়েছেন। খাদিজাতুল কুবরা।

এবার প্রশ্ন করল, বলুন তো আপনার নানার নাম কী? নবীজী নিজের নানার নাম বললে হুসাইন বলল, আর আমার নানা কে জানেন? আমার নানা হলেন, দোজাহানের সরদার, সায়্যিদুল মুরসালীন, খাতামুন্নাবিয়্যীন মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

কিছু কিছু অসতর্ক বক্তার মুখে খুব চটকদার উপস্থাপনায় এ কিসসাটি শোনা যায়। কিন্তু এর নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র নেই। এটি একটি বানোয়াট কিসসা। সুতরাং আমরা এটা বলা থেকে বিরত থাকব।
[ মাসিক আলকাউসার || রবিউল আউয়াল ১৪৪০ || ডিসেম্বর ২০১৮ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

17/01/2024

একটি ভুল প্রথা
বিবাহের দিন-তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে পঞ্জিকা দেখে শুভ-অশুভ দিন-তারিখ নির্ণয় করা
এক ব্যক্তিকে পঞ্জিকা খোঁজ করতে দেখা গেল। কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, একটি বিবাহের দিন-তারিখ নির্ধারণ করতে হবে, তাই পঞ্জিকা দেখে তিনি একটি শুভ দিন-তারিখ নির্ধারণ করবেন। এটি একটি ভুল প্রথা। পঞ্জিকায় উল্লেখিত শুভ-অশুভ দিন-তারিখ হিন্দুধর্মের বিভিন্ন অলীক ও শিরকী বিশ্বাস এবং কুসংস্কারের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা। এর সাথে মুসলিমের কী সম্পর্ক! ইসলামে অশুভ দিন-তারিখ বলে কিছু নেই।

কোনো মাস, দিন বা রাতকে অশুভ মনে করা, বিশেষ কোনো সময়কে বিশেষ কাজের জন্য অশুভ ও অলক্ষুণে মনে করা- সবই জাহেলিয়াতের কুসংস্কার। এর সাথে মুসলিমের কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন ইসলামপূর্ব যুগের কোনো কোনো লোকের এই ধারণা ছিল যে, শাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদির অনুষ্ঠান অশুভ ও অকল্যাণকর। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. এই ভিত্তিহীন ধারণাকে এই বলে খ-ন করেছেন-

تَزَوّجَنِي رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فِي شَوّالٍ، وَبَنَى بِي فِي شَوّالٍ، فَأَيّ نِسَاءِ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ كَانَ أَحْظَى عِنْدَهُ مِنِّي؟

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসেই বিবাহ করেছেন এবং শাওয়াল মাসেই আমার রুখসতি হয়েছে। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪২৩

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব ধরনের কুসংস্কার থেকে হেফাজত করুন। সহীহ আকীদার উপর রাখুন এবং দ্বীনের সহীহ সমঝ নসীব করুন।
[ মাসিক আলকাউসার || রবিউল আউয়াল ১৪৪০ || ডিসেম্বর ২০১৮ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

16/01/2024

একটি ভুল প্রথা : বদনযর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যানবাহনে, ফসলের ক্ষেতে, বাছুরের গলায় জুতা-স্যান্ডেল ঝুলিয়ে রাখা
বিভিন্ন যানবাহনের পেছনে দেখা যায়, একটি পুরনো জুতা/স্যান্ডেল ঝুলছে। তেমনি গ্রামে দেখা যায়, বাছুরের গলায় জুতা-স্যান্ডেলের টুকরা ঝুলছে কিংবা ফসলের ক্ষেতে জুতা ঝুলানো রয়েছে। এটি করা হয় বদনযর থেকে হেফাযতের জন্য। মনে করা হয়, এগুলো বদনযর থেকে রক্ষা করে। এমনটি করলে মানুষের বদনযর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

এটি একটি ভুল প্রথা। এমনটি করা যাবে না। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আব্বাদ ইবনে তামীম রাহ. বলেন, আবু বশীর আনসারী রা. তাকে বলেছেন, তিনি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে কোনো এক সফরে ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করলেন-

لَا يَبْقَيَنّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلَادَةٌ مِنْ وَتَرٍ أَوْ قِلَادَةٌ إِلّا قُطِعَتْ

قَالَ مَالِكٌ: أُرَى ذَلِكَ مِنَ الْعَيْنِ

কোনো উটের গলায় (ধনুকের) তারের ‘কিলাদা’ (মালা) থাকলে তা যেন কেটে ফেলা হয়।

বর্ণনাকারী বলেন, অথবা নবীজী শুধু ‘কিলাদা’ শব্দ বলেছেন।

মালেক রাহ. বলেন, আমার ধারণা, এখানে ‘কিলাদা’ দ্বারা উদ্দেশ্য, বদনযর থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যে কিলাদা পরানো হয়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১৫

জাহেলী যুগে মানুষের বিশ্বাস ছিল, এসকল কিলাদা বদনযর বা ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে নবীজী এগুলো ছিঁড়ে ফেলতে বলেছেন। কারণ, এটি একটি শিরকী বিশ্বাস।
[ মাসিক আলকাউসার || সফর ১৪৪০ || নভেম্বর ২০১৮ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

08/01/2024

একটি অসচেতনতা : কোনো মজমা থেকে বের হওয়ার সময় অন্যের জুতা-সেন্ডেল মাড়ানো
কিছু মানুষকে দেখা যায়, কোনো মজমা থেকে বের হওয়ার সময়; বিশেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় বা প্রবেশের সময় নিজের জুতা দিয়ে অন্যের জুতা মাড়িয়ে চলে যায়। ফলে অন্যের জুতায় কাদা-মাটি লেগে যায়। তিনি কষ্ট পান। এ কাজটি যে ঠিক নয়- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, এ বিষয়টি যখন আমার সাথে ঘটে তখন আমি কষ্ট পাই এবং খুব সহজে বুঝতে পারি- এ কাজটি ঠিক নয়। অথচ একটু সচেতন হলেই এ থেকে বাঁচতে পারি। অন্যকে কষ্ট দেয়া হারাম। এ কথা কে না জানে। এখন এটি যদি হয় সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আমল নামায আদায় করতে গিয়ে! দেখুন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়াজ-রশুন খেয়ে মসজিদে যেতে নিষেধ করেছেন; যতক্ষণ না এর গন্ধ দূর করা হয়। তেমনি অন্যের কাঁধ ডিঙিয়ে সামনের কাতারে যেতে নিষেধ করেছেন। এ সবই অন্যকে কষ্ট দেয়া থেকে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য, মুসল্লীদের উচিত সিঁড়ির কোনো স্থান খালি রেখে জুতা খোলা, যাতে অন্য ভাই সিঁড়ির কাছে জুতা খুলে ভেতরে নিতে পারেন। হাঁ, অন্যদের জুতার কারণে যদি এ সুযোগ না থাকে তখন দূরে জুতা খুলে হাতে নিয়ে নেওয়া চাই। তাহলে অন্যের জুতার উপর দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও অন্তত কাদা-মাটি লাগবে না। আল্লাহ আমাদের অন্যকে কষ্ট দেয়া থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দিন- আমীন।
[ মাসিক আলকাউসার || যিলক্বদ ১৪৩৮ || আগস্ট ২০১৭ ]

06/01/2024

একটি ভুল আমল : সিজদার আয়াত বাদ দিয়ে তিলাওয়াত করা
কোনো কোনো মানুষকে দেখা যায়, তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত এলে তা বাদ দিয়ে তিলাওয়াত করে; যাতে সিজদায়ে তিলাওয়াত করতে না হয়। এটি একটি ভুল পদ্ধতি। তাছাড়া তিলাওয়াতের মাঝে এভাবে আয়াত বাদ দিয়ে পড়া কুরআনের আদব পরিপন্থী। আল্লাহর কালাম ধারাবাহিকভাবেই পড়ে যাওয়া কর্তব্য।

সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার সাথে সাথে যদি সিজদা করা না যায়, পরেও তা আদায় করা যাবে। সেজন্য সিজদার আয়াত বাদ দিবে না। এটা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৪
[ মাসিক আলকাউসার » রজব ১৪৩৮ . এপ্রিল ২০১৭ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

06/01/2024

একটি ভুল মাসআলা : কেরসিন তেল কি নাপাক?
কেরসিন তেল একটি খনিজ তেল এবং তা বেশ দুর্গন্ধযুক্ত। আর দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া তা মসজিদে নেওয়া মাকরূহ। একান্ত প্রয়োজনে মসজিদে তা ব্যবহার করতে হলে খেয়াল রাখতে হবে, তা যেন মসজিদের ফ্লোরে বা জায়ানামাযে না পড়ে। তেমনি দুর্গন্ধের কারণে কাপড়ে লাগলে সেই কাপড়ে নামায পড়াও অনুত্তম। এ থেকে হয়ত অনেক মানুষ মনে করেন, কেরসিন তেল নাপাক।

তাদের এ ধারণা ঠিক নয়। কেরসিন তেল নাপাক নয়। কিন্তু দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে একান্ত ওযর ছাড়া তা মসজিদে নেওয়া মাকরূহ; নাপাক হওয়ার কারণে নয়। যেমনটি অনেকে মনে করেন। (ফাতাওয়া উসমানী ১/৩৫১)
[ মাসিক আলকাউসার » শাবান-রমযান ১৪৩৭ . মে-জুন ২০১৭ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

05/01/2024

একটি নামের ভুল উচ্চারণ : ফাতিমাতুয যুহরা
‘যাহরা’ (الزَّهْرَاءُ ) নবীকন্যা ফাতেমা রা.-এর উপাধি হিসেবে প্রসিদ্ধ। সে হিসেবে এ উপাধিসহ তাঁর নাম উচ্চারণ করা হয় এভাবে- ফাতিমাতুয যাহরা। যাহরা অর্থ- উজ্জ্বল, ফর্সা, উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, লাবণ্যময়ী ইত্যাদি। তারিখ ও তারাজিমের (ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থ) বিভিন্ন কিতাবে ফাতেমা রা.-এর নামের সাথে সাথে তাঁর এই লকব (উপাধি) উল্লেখ করা হয়েছে।



কিন্তু কিছু মানুষ এটি উচ্চারণ করে এভাবে- ফাতিমাতুয যুহরা। যাহরা (الزَّهْرَاءُ) শব্দের ‘ز’-এ যবরের স্থলে পেশ দিয়ে। এটি ভুল উচ্চারণ। সঠিক উচ্চারণ, যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যাহরা (الزَّهْرَاءُ), যুহরা নয়।
[ মাসিক আলকাউসার || রজব ১৪৩৮ || এপ্রিল ২০১৭ ]
#প্রচলিত_ভুল_মাসিক_আলকাউসার

Address

Mymensingh
MOYMONSHINGH

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sabha-সাবহা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sabha-সাবহা:

Shortcuts

Share