25/06/2026
একদম শূন্য হাতে শুরু করেছিলাম বিজনেসটা।😄
নিজের একক প্রচেষ্টায় টুকটুক করে ব্যবসাটাকে আজ এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছি, আলহামদুলিল্লাহ। কাউকে দেখে ব্যবসা শিখিনি। বিষয়টা এমনও না যে ব্যবসা আমার রক্তে মিশে ছিল। ব্যবসার 'ব' সম্পর্কেও কোনো ধারণা ছিল না আমার। এমনকি একটা ফেসবুক পেজ কীভাবে খুলতে হয়, সেটাও জানা ছিল না। ইউটিউবে ভিডিও দেখে দেখে পেজ খোলা থেকে শুরু করে কুরিয়ার অফিস খুঁজে বের করা, পার্সেল প্যাকেজিং শেখা, কুরিয়ার কোম্পানির সাথে লেনদেনের হিসাব বোঝা—সবকিছুই একদম একা হাতে, ঠেকে ঠেকে শিখেছি।
স্টুডেন্ট হিসেবে খুব একটা মন্দ ছিলাম না, তাই স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একটা ভালো চাকরি করব। কিন্তু ওই যে—ওপরে একজন আছেন, যাঁর সূক্ষ্ম পরিকল্পনার বাইরে আসলে কিছুই হয় না। পছন্দের কিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন চান্স হলো না, ব্যর্থতার সেই হতাশাজনক দিনগুলোতে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে প্রথমে টিউশনি শুরু করি। পাশাপাশি মনের ভেতর একটা তাগিদ অনুভব করছিলাম—নিজের চেষ্টায় বাড়তি কিছু একটা করা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই কীভাবে যেন আমি ব্যবসার সাথে জড়িয়ে গেলাম।
দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। অনেক কঠিন রাস্তা পাড়ি দিয়ে আজ এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি।
আজ পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, আল্লাহ তায়ালা যা করেন সত্যিই ভালোর জন্যই করেন। আমাদের আসলে একটা জায়গায় হোঁচট খেয়ে হতাশ হয়ে বসে থাকা উচিত নয়। একটা রাস্তা বন্ধ হলে, অন্য কিছু একটা শুরু করে দেওয়া উচিত। এক কাজে ব্যর্থ হলে অন্য কাজে চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
নিজের এই ছোট্ট জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলি—মেয়ে মানুষের জীবনের আসলে কোনো নিশ্চয়তা থাকে না, সমস্যারও কোনো অভাব হয় না। তাই মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়ানো, নিজের একটা অর্থনৈতিক পরিচয় থাকাটা অনেক বেশি জরুরি। অনেক বেশি! টাকা কামানোটা যখন নিজের আয়ত্তে চলে আসে, তখন দেখবেন জীবনের কঠিন পথটাও অর্ধেক সহজ হয়ে যায়। 🫰🫰
আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ 🥹🌸