09/08/2026
বিগত ৭ আগস্ট ভারতে ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ডে পালিত হয়েছে, দুজন মানুষ যারা এর সাথে জড়িত তাদের দেওয়া হয়েছে সম্মাননা। তাদের দেশে অসংখ্য হস্তশিল্পের মানুষ রয়েছে , তবে বাংলাদেশ কি তার থেকে অনেক পিছিয়ে¿
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুম জামদানি শিল্পের সাথে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ৩৫ হাজার এর বেশি মানুষ জড়িত, এর মধ্যে শুধু নারায়ণগঞ্জ এর রূপগঞ্জ, সোনারগাঁ এবং ডেমরা অঞ্চলেই ১০ হাজারের বেশি তাঁতী পরিবার বংশপরম্পরায় সরাসরি জামদানি বুননের মূল কাজের সাথে সম্পৃক্ত । শুধু মাত্র নোয়াপাড়া বিসিকে ৩৫০ টি এর মতো কারখানা বা তাঁত বাংলা আছে।
এরপর টাঙ্গাইল হ্যান্ডলুম , এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার মানুষ জড়িত, টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ এর মতো সক্রিয় হ্যান্ডলুম রয়েছে। সারা পৃথিবীতে এই হ্যান্ডলুম এর চাহিদা ব্যাপক।এর সাথে জড়িত অসংখ্য তাতি পরিবার।
বাংলাদেশের আরেকটি ঐতিয্যবাহী হ্যান্ডলুম শিল্প মণিপুরী। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ এই শিল্পের সাথে জড়িত। সিলেট, রংপুর কেন্দ্রিক এই হ্যান্ডলুম শিল্প ১০০% নারী কেন্দ্রিক অর্থাৎ তাঁতিরা নারী। এটি বুনতেও কষ্টসাধ্য ।
খাদি বা খদ্দর হ্যান্ডলুমের সবচে প্রাকৃতিক ও মৌলিক রুপ, কুমিল্লার খাদি হারিয়ে যাওয়ার পথে হলেও ২০-৫০ জন তাঁতী এখনও ধরে রেখেছেন এই ঐতিহ্যকে , প্রায় ২ হাজার লোক নানান ভাবে এই পেশার সাথে জড়িত।
শুধুমাত্র এই হ্যান্ডলুম শিল্প থেকে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এর তথ্যমতে, ১০,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্য সংযোজন ঘটে, এসব পণ্য বর্তমানে আমেরিকা, ইউরোপ , ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে রপ্তানি হচ্ছে । জামদানি , টাঙ্গাইল , খাদি, রাজশাহী সিল্ক ইতোমধ্যে GI ( Geographical Identity) স্বীকৃতি পেয়েছে। এই বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেশের ভাবমূর্তি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও প্রিমিয়াম রপ্তানি বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করছে।
এই হ্যান্ডলুম শিল্প বর্তমানে ১৫-২০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করছে, নারীদের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অংশগ্রহণে সাবলম্বী করে তুলছে, বার্ষিক বস্ত্রের ৬০- ৬২ কোটি মিটার উৎপন্ন করছে শুধু হাতের মাধ্যমে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সাথে এই হ্যান্ডলুম শিল্পের এমন সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কোনও সরকারই হ্যান্ডলুম শিল্পকে খুব বেশি প্রাধান্য দেন নি , বছরে একদিন বস্ত্র শিল্প দিবস , বস্ত্র মেলা ছাড়া আহামরি কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনা যদি না কেও ব্যক্তি উদ্যোগে করে থাকেন। বিসিক শিল্প নগরীর যে এলাকা সেটি শুধু নামেই, চোখে পড়ার মতো উদ্যোগ বছরে আসে না একটিও। নেই কোনও ভর্তুকি , প্রণোদনা বা স্বীকৃতি। এই শিল্প নিয়ে যারা কাজ করেন তাদেরও শর্তবিহীন কিস্তি বা সুযোগসুবিধা দেওয়া হয় না। তাহলে ঠিক কিভাবে একটা দেশের এতবড় একটি সেক্টর মাথা উঁচু করে দাড়াবে …….