27/08/2026
সংসদে প্রশ্ন করলেই যদি ‘পল্টনের বক্তৃতা’ হয়, তাহলে সংসদে জবাবদিহি করবে কে?
হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছেন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। প্রশ্ন করেছেন গত ছয় মাসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কতটা সফল হয়েছে। প্রশ্ন করেছেন অপরাধ, হত্যা ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে।
এটাই তো একজন সংসদ সদস্যের কাজ!
কিন্তু প্রশ্নের জবাব দেওয়ার বদলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য, “এটা প্রশ্ন হলো, না পল্টনের বক্তৃতা হলো; বুঝতে পারিনি।”
বাহ!
অর্থাৎ প্রশ্ন কঠিন হলে সেটা আর প্রশ্ন থাকে না, হয়ে যায় ‘পল্টনের বক্তৃতা’!
তাহলে সংসদে কী হবে? শুধু সরকারের প্রশংসা? শুধু টেবিল চাপড়ানো? শুধু “সব ঠিক আছে” শুনতে হবে?
দেশে আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকলে তথ্য দিয়ে জবাব দিন। খারাপ থাকলে কেন খারাপ, সেটার ব্যাখ্যা দিন।
হাসনাত যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তার উৎস ভুল হলে সংসদেই সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে ভুল প্রমাণ করুন। এটাই গণতন্ত্র। এটাই জবাবদিহি।
কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে প্রশ্নকর্তার ভাষাকে ‘পল্টনের বক্তৃতা’ বলা আসলে কী? এটা কি যুক্তির অভাব, নাকি জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল?
আর একটা কথা মনে রাখা দরকার।
পল্টন, শাহবাগ, রাজপথের আন্দোলন থেকেই তো বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক কণ্ঠ উঠে এসেছে। যারা একসময় রাজপথে কথা বলেছে, তারাই আজ সংসদে বসে প্রশ্ন করছে। রাজপথ থেকে সংসদে আসাটাই তো গণতন্ত্রের স্বাভাবিক যাত্রা।
তাই পল্টনকে গালি দেওয়ার আগে মনে রাখা ভালো, আজকের সংসদে বসে প্রশ্ন করার অধিকারটাও একদিন রাজপথের লড়াই থেকেই অর্জিত হয়েছে।
আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিনীত প্রশ্ন :
আপনি কি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জবাব দেবেন, নাকি প্রশ্নকর্তার রাজনৈতিক অতীতের হিসাব দেবেন?
কারণ জনগণ পল্টনের বক্তৃতা শুনতে সংসদে পাঠায়নি কাউকে।
জনগণ পাঠিয়েছে প্রশ্ন করতে। আর মন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে সেই প্রশ্নের জবাব দিতে।
সংসদ কোনো প্রশংসা সভা নয়।
সংসদ মানে প্রশ্ন।
সংসদ মানে জবাবদিহি।
সংসদ মানে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার অধিকার।
আর প্রশ্ন শুনে যদি মন্ত্রীর এত অস্বস্তি হয়, তাহলে সমস্যা প্রশ্নে নয়, সম্ভবত জবাবের জায়গাটাতেই।
#সংসদ #হাসনাতআবদুল্লাহ #স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী #আইনশৃঙ্খলা #জবাবদিহি #গণতন্ত্র