23/04/2022
স্ত্রী গরমে ঘেমে অনেক সময় নিয়ে চা-নাস্তা বানিয়ে নিয়ে এসেছে। শ্বশুর, শাশুড়ি সবাই বসে খাচ্ছে। স্বামী চায়ে চুমুক দিয়ে বিরক্ত হয়ে বলছে, “নাহ, এখনও তুমি মা’র মত চা বানাতে শিখলে না। কতবার বললাম মা’র কাছ থেকে দেখো কতখানি লিকার দিতে হয়। মা! ওকে দেখিয়ে দিয়েন তো কীভাবে চা বানাতে হয়।” — এ হচ্ছে #লুমাযাহ। এরা সুযোগ পেলেই মানুষের মুখের উপর তার বদনাম করে। কারও কোনো দোষ ধরার সুযোগ পেলে সহজে ছেড়ে দেয় না। সারাদিন একে ধমকানো, ওকে খোঁচা মারা, একে গালি দেওয়া, ওকে ব্যঙ্গ করা, এগুলো হচ্ছে এদের স্বভাব। এদের নিজেদের দোষের কোনো শেষ নেই। নিজের দোষ ঢাকার জন্য এরা সবসময় অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এদের জিভ হচ্ছে একটা ধারালো অস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়ে সারাদিন এরা একের পর এক মানুষের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে।
আত্মীয় বেড়াতে এসেছে। গল্প করার ফাঁকে জিজ্ঞেস করলো, “আপনার মেয়ে কেমন আছে? ওর বাচ্চাগুলো ভালো আছে?” মা উত্তর দিলেন, “গত সপ্তাহে শুনলাম ওরা অসুস্থ। দেখি শুক্রবারে ফোন করলে বুঝতে পারবো কী অবস্থা?” আত্মীয় অবাক হয়ে বললেন, “শুক্রবারে? আপনার মেয়ে প্রতিদিন আপনাকে ফোন করে না? আমার মেয়ে প্রতিদিন সকালে ফোন করে সবার আগে আমার খোঁজ নেয়। আপনি এত কষ্ট করে মেয়ে বড় করে বিয়ে দিলেন, আর মেয়েটা আপনাকে দিনে একটা ফোনও করতে পারে না?” মা আমতা আমতা করে বললেন, “না, না, ব্যাপারটা সেরকম না। ও ঘর-সংসার, চাকরি নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন কি আর ফোনে কথা বলা যায়?” আত্মীয় তার নিজের মেয়ের সাথে আরও কিছু তুলনা করে চলে গেলেন। তারপর মা সারাদিন বিষণ্ণতায় ভুগলেন আর বাবা’র কাছে অভিযোগ করতে থাকলেন, “দিনে একটা ফোনও করতে পারে না? এই মেয়ের জন্য আমি রক্ত পানি করেছি? একে আমি নয় মাস পেটে ধরেছি? নিজের বাবা-মা’র থেকে ওর সংসার আজ বেশি বড় হয়ে গেলো?”
—সেই আত্মীয় হচ্ছে #হুমাযাহ। এরা মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বিষিয়ে দিতে পেশাদারি দক্ষতা অর্জন করেছে। এদের বিষাক্ত জিভের ছোবলে সুখী পরিবারের মধ্যেও মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরে যায়।
হুমাযাতিল লুমাযাহ হচ্ছে এমন এক ধরনের মানুষ, যে অন্যকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করে। মানুষের দিকে তাচ্ছিল্য ভরে আঙ্গুল দেখায়। চোখের ইশারা করে ব্যাঙ্গ করে। কারও চরিত্রের কোনো দিক নিয়ে ব্যঙ্গ করে। কারও মুখের উপর তার বিরুদ্ধে মন্তব্য করে। কারও পেছনে তার দোষ বলে বেড়ায়। এর নামে ওর কাছে কথা লাগায়। মানুষে-মানুষে সম্পর্কে ফাটল ধরায়। —এটা তারা একবার দুইবার করে না। বরং এরকম করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এরা হচ্ছে #হুমাজাতিল_লুমাযাহ।[১৮][৭]
এদের সাথে আল্লাহ তায়ালা কী করবেন, তার ভয়ংকর বর্ণনা সামনে আসছে। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এদেরকে অভিশাপ দিচ্ছেন যে, এরা ধ্বংস হয়ে যাক। মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে অভিশাপ পাওয়া এক ভয়ংকর ব্যাপার। এর পরিণাম নিশ্চিত ধ্বংস এবং অনন্তকালের জন্য প্রচণ্ড কষ্ট। এমন কষ্ট যা কেউ কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবে না ! 😞😞😞
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,,,,,
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعَدٍ رَضِيَ اللّٰهُ تَعَلَ عَنْهُ قَلَ قَلَ رَسُوْلَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمْ مَنْ يَضْمَنْ لِيْ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ اَضْمَنْ لَهُ لْجَنَّةَ-(رواه البخاري)
হাদিসের সরল অনুবাদ: হজরত সাহল ইবনে সা'দ রা: হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন,যে ব্যক্তি আমাকে তার দু'চুআলের মধ্যেবর্তী বস্তু অর্থাৎ, জিহ্বা ও তার দু'উরুর মধ্যেবর্তী তথা লজ্জাস্থানের হেফাজতের নিশ্চিয়তা দিবে ,আমি তার জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হবো। (সুবহানাল্লাহ)
(ইমাম বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এ হাদিসে "اضمن له الجنة " -এ অংশ দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন-যদি কোন ব্যক্তি তার মুখ থেকে অশ্লীল বাক্য ,গালিমন্দ ,থেকে বিরত ও লজ্জাস্থান খারাপ কাজ জিনা,ব্যবেচার থেকে রক্ষা করবে ,আমি তার জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হবো,
কতই না উত্তম ও আনন্দদায়ক কথা আল্লাহ তাআলার রাসুল আমাদের কে বলেছেন সুবহানাল্লাহ!
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে গীবত, শেখায়েত, পরনিন্দা, ধোকাবাজ, গালি দেওয়া, এসব অশ্লীল ও গৃহীত কাছ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুক । (আমিন)
[সংগৃহীত]